মাজুলী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মাজুলী
Doriya River of Majuli.jpg
মাজুলীর দরিয়া নদী
মাজুলী আসাম-এ অবস্থিত
মাজুলী
মাজুলী
ভূগোল
অবস্থানব্রহ্মপুত্র নদ
স্থানাঙ্ক২৬°৫৭′০″ উত্তর ৯৪°১০′০″ পূর্ব / ২৬.৯৫০০০° উত্তর ৯৪.১৬৬৬৭° পূর্ব / 26.95000; 94.16667
আয়তন৮৮০ বর্গকিলোমিটার (৩৪০ বর্গমাইল)
সর্বোচ্চ উচ্চতা৮৪.৫ মিটার (২৭৭.২ ফুট)
প্রশাসন
রাজ্যআসাম
জেলামাজুলী (২০১৬ খ্রিস্টাব্দের ৮ সেপ্টেম্বর যোরহাট জেলা থেকে নবগঠিত)
জনপরিসংখ্যান
জনসংখ্যা১,৬৭,৩০৪ (২০১১)
জনঘনত্ব৩০০ /বর্গ কিমি (৮০০ /বর্গ মাইল)
জাতিগত গোষ্ঠীসমূহমিশিং, দেউরি, সোনোয়াল কাছাড়ি, কোচ, আহোম, শুতীয়া, কলিতা, ব্রাহ্মণ, কৈবর্ত, সূত, নাথ(যোগী)
অতিরিক্ত তথ্য
সময় অঞ্চল
পিন৭৮৫১০২, ৭৮৫১০৪, ৭৮৫১০৫, ৭৮৫১০৬, ৭৮৫১১০
টেলিফোন কোড০৩৭৭৫
যানবাহন নিবন্ধীকরণAS-29 (এএস-২৯)
ডেপুটি কমিশনার বিক্রম কৈরী
যোরহাট মাজুলীতে যাওয়ার পথ

মাজুলী (অসমীয়া: মাজুলী)[১][২][৩] ভারতের অসমের ব্রহ্মপুত্র নদীর মধ্যে থাকা বিশ্বের সর্ববৃহৎ নদীদ্বীপ এবং অসমের নবগঠিত জেলা। ২৭ জুন ২০১৬ সালে মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোণোয়াল মাজুলীকে জেলা ঘোষণা করায় মাজুলী ভারতের প্রথম নদীদ্বীপ জেলা হয় আর অসমের মোট জেলার সংখ্যা হয় ৩৩।[৪]

আগে এটি যোরহাট জেলার একটা মহকুমা ছিল। মহাপুরুষ শ্রীমন্ত শংকরদেব এবং মাধবদেবের উদ্যোগের সত্রসমূহ নিয়ে এটি মহাপুরুষীয়া বৈষ্ণবধর্ম ও সত্রীয়া সংস্কৃতির পীঠকেন্দ্র। মাজুলীকে 'সত্র নগরী' বলেও ডাকা হয়। আগে মাজুলীর মোট আয়তন ১২৫০ বর্গমাইল[৫] (৪৮৩ বর্গমাইল) ছিল, কিন্তু খননের ফলে ২০০১ সালে এর ক্ষেত্রফল হয় ১৬৩ বর্গমাইল। একে ঘিরে থাকা নদীর বিস্তৃতি বেড়ে আসার সাথে মাজুলীর সংকোচন হয়েছে।

দক্ষিণে ব্রহ্মপুত্র নদী ও উত্তরে শোবনশিরি নদীর মিলন হয়ে এই দ্বীপের সৃষ্টি হয়েছে। যোরহাট থেকে ফেরীর সাহায্যে জলপথে মাজুলিতে যাতায়ত করার ব্যবস্থা আছে। মাজুলী দ্বীপ অসমের রাজধানী গুয়াহাটি থেকে প্রায় ২০০ দূরত্বে অবস্থিত।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

মাজুলী নদী দ্বীপের সৃষ্টি হওয়ার পূর্বে এই স্থান মাজালী বা মজালী নামে পরিচিত ছিল। নকুল চন্দ্র ভুইয়ার ইতিহাস মতে, আহোম রাজা জয়ধ্বজ সিংহের সময় এই দ্বীপের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা যায়ছে[৬]

অতুল চন্দ্র হাজরিকার মতে, মা+জুলী নাম একত্রিত হয়ে মাজুলী নামের উৎপত্তি হয়েছে। এখানে মা অর্থে লক্ষ্মী ও অসমীয়া ভাষায় জুলী অর্থ ভাণ্ডার। একসময়ে এই দ্বীপ শস্য ও মাছে পরিপূর্ণ থাকায় মাজুলী নামকরণ হয়েছে। ড. জে পি ওয়েড অষ্টাদশ শতকে মাজুলী শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। এর দৈর্ঘ ১৬০ এবং প্রস্থ ৬০ ব্রিটিশ মাইল বলেও ওয়েড উল্লেখ করে গেছেন। Gazetter of Bengal and North East India-র তথ্য মতে, ১৯০১ খ্রীষ্টাব্দে মাজুলীর আয়তন ছিল ৪৮৫ বর্গমাইল।

মাজুলীর জলবায়ু[সম্পাদনা]

মাজুলীতে সারা বৎসর মৌসুমী জলবায়ু প্রবাহিত হয়। জলবায়ু বিজ্ঞানীর মতে এই অঞ্চল উপক্রান্তীয় জলবায়ুর অন্তর্গত। শীতকালে বৃষ্টি ও তাপের মাত্রা কম হওয়ার জন্য এই অঞ্চলে শীতের প্রকোপ বেশি। গ্রীষ্মকালে মাজুলীর তাপমাত্রা ২০-৩৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস ও শীতকালে১০-১২ ডিগ্রী সেলসিয়াস হয়। নিয়মীত মৌসুমী বায়ুপ্রবাহের ফলে মাজুলীতে ২০০ থেকে ৩০০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়।

মাজুলীর এক মনোহর দৃশ্য

ভৌগোলিক তথ্য[সম্পাদনা]

মাজুলী ২৬° ৪৮′ থেকে ২৭° ১২′ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯৩° ৩৯′ থেকে ৯৪° ৩৫′ দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত[৭] অসমের যোরহাট জেলার উত্তর দিকে মাজুলী অবস্থিত। মাজুলীর সমতলভূমির আকার একটা শিলিখা ফলের মত। একসময় মাজুলীর ভৌগোলিক ক্ষেত্রফল ১২৫০ বর্গ কিলোমিটার ছিল যদিও ব্রহ্মপুত্রের খনননে এই মাজুলীর ভূখণ্ড সংকীর্ণ হয়ে ২০১২ সালে ৫০৮°১৩ বর্গ কিলোমিটার হয়ে গেছে।

এর উত্তর দিকে লখিমপুর জেলাধেমাজি জেলা, দক্ষিণে যোরহাট, পূর্বে শিবসাগর জেলা এবং পশ্চিমে গোলাঘাট জেলাশোণিতপুর জেলা

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

মাজুলীর বর্তমান জনসংখ্যা ১৪০০০০, এখানে বিভিন্ন জনজাতির লোকেরা বসবাস করে। মিসিং জনজাতির লোকেরা এখানে সংখ্যা গরিষ্ঠ। তাছাড়াও বৃহৎ সংখ্যায় নেপালী, বাঙালী ও সোনোয়াল কছাড়ী লোকেরা এখানে বসবাস করে।

সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

লোক সংস্কৃতির দিকে মাজুলী অতি মনোহর। বিভিন্ন জাতির সংমিশ্রনে মাজুলীর সংস্কৃতি সুমধুর হয়েছে। মিশ্রীত জনজাতির নানান উৎসব মাজুলীর পরিবেশকে সর্বদা আনন্দময় করে রাখে। সত্রীয়া সংস্কৃতি মাজুলীর অন্যতম প্রধান সংস্কৃতি।

যাতায়াত[সম্পাদনা]

যোরহাটলক্ষীমপুর উভয় স্থান থেকে মাজুলীর যাওয়ার সুব্যাবস্থা আছে। যোরহাট শহরের নিমাতী ঘাট থেকে জলপথে ফেরীর সাহায্যে মাজুলী যাওয়া এক আমোদজনক যাত্রার অনু্ভব করায়। নিমাতী ঘাট থেকে মাজুলীর কমলাবারী, দক্ষীনপাট,সুমৈমারী, অফলামুখ, শালমরা, ফুলনী(বগরীগুরী) ইত্যাদি স্থানে ফেরী চলাচল করে। অন্যদিকে লক্ষীমপুর থেকে মাজুলী যাওয়ার সময় লুইত ও খাবলু নামক দুইটি ঘাট পার হতে হয়।

প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

পঞ্চদশ শতকে মহাপুরুষ শংকরদেব মাজুলীর ধুয়াহাট-বেলগুড়িতে প্রথম সত্র প্রতিষ্ঠা করে অসমীয়া সংস্কৃতি তথা ভক্তিধর্মকে স্বকীয় মাত্রা প্রদান করেছিলেন।অসমের বৈষ্ণব সংস্কৃতির বিকাশর স্থলস্বরূপ সত্রসমূহ অসমীয়া সমাজের প্রাণকেন্দ্র। অসমের সত্রসমূহ ভক্তি আন্দোলনের বাহক। চারসত্র আউনীআটী, কমলাবাড়ি, গড়মূর ও দক্ষিণপাট সত্র অসমীয়া সমাজে উচ্চ আসন অধিকার করে আছে।

সত্রসমূহ[সম্পাদনা]

  • টকৌবাড়ি সত্র
  • মলুয়াল সত্র
  • বাঁহজেঙনি সত্র
  • আঁহতগুড়ি সত্র
  • সাঁকোপারা সত্র
  • ছোট সাঁকোপারা সত্র
  • গড়মূর (ছোট) সত্র
  • লেটুগ্রাম সত্র
  • মদারগুড়ড়ি সত্র
  • মটীয়াবরীয়া সত্র
  • ভোগপুর সত্র

  • ভাগতী সত্র
  • বেলসিদ্ধিয়া সত্র
  • বেঙেনাআটী সত্র
  • বালিচাপরির এলেঙি সত্র
  • বিহিমপুর সত্র
  • বাঘরগঞা সত্র
  • বতারগঞা সত্র
  • পোহারিদয়া সত্র
  • পুনিয়া সত্র
  • নাচনিপার সত্র
  • নরসিংহ সত্র
  • দীঘলী সত্র

  • দিহিং সত্র
  • দক্ষিণপাট সত্র
  • ডৌকাচাপরি সত্র
  • চুপহা সত্র
  • চামগুড়ি সত্র (নতুন) সত্র
  • চামগুড়ি সত্র (পুরাণো) সত্র
  • চামগুড়ি সত্র (দলনি) সত্র
  • আউনীআটী সত্র
  • গজলা সত্র
  • খেরকটীয়া সত্র
  • কৌপটীয়া সত্র
  • কাথবাপু সত্র

  • কাটনীপার সত্র
  • করতিপার সত্র
  • নতুন কমলাবাড়ি সত্র
  • উত্তর কমলাবাড়ি সত্র

  • কলাকটা সত্র
  • ঔবা সত্র
  • চকলা সত্র
  • দিখৌমুখীয়া সত্র
  • বগী আই এলেঙী সত্র
  • আদি এলেঙী সত্র
  • বড় এলেঙী সত্র

  • উলুতলীয়া এলেঙী সত্র
  • কাকড়িভেটা সত্র
  • আধার সত্র
  • বেলগুড়ি সত্র
  • নেপালী সত্র
  • বরাচুক ছোট এলেঙীসত্র
  • সাউদকুছি সত্র
  • ন-গোঁসাই সত্র
  • দিছিরগঞা সত্র
  • লাইআটী সত্র
  • হেমারবরি সত্র
  • নিকামূল সত্র
  • রতনপুর সত্র

মাজুলীর আলোকচিত্র[সম্পাদনা]

মাজুলীর রাসের এক দৃশ্য(ক)
মাজুলীর রাসের এক দৃশ্য(খ)
মাজুলীর রাসে প্রদর্শিত এক মুখা


কমলাবাড়ি সত্র
দক্ষিণপাট সত্র
অন্য একটি সত্র থেকে

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. http://www.majuli.info/
  2. http://indiatoday.intoday.in/story/majuli-river-island-brahmaputra-assam-jorhat/1/381491.html
  3. http://indiatoday.intoday.in/story/majauli-worlds-largest-river-island-is-shrinking-and-sinking/1/344252.html
  4. "Assam: Majuli becomes 1st river island district of India"Hindustan TimesGuwahati। ২৭ জুন ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জুন ২০১৬ 
  5. A Capricious River, an Indian Island’s Lifeline, Now Eats Away at It April 14, 2013 New York Times
  6. নকুল চন্দ্র ভূঞা রচনা সমগ্র
  7. Gazetter of Bengal and North East India