চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামন
Sir CV Raman.JPG
জন্ম নভেম্বর ৭ ১৮৮৮
তিরুচ্চিরাপল্লী, ভারত
মৃত্যু ২১ নভেম্বর ১৯৭০(১৯৭০-১১-২১) (৮২ বছর)
বেঙ্গালুরু, ভারত
বাসস্থান ভারত
জাতীয়তা  ভারত
কর্মক্ষেত্র পদার্থবিজ্ঞান
প্রতিষ্ঠান ভারতীয় বাণিজ্য বিভাগ
ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কালটিভেশন অফ সাইন্স
ভারতীয় বিজ্ঞান সংস্থা
প্রাক্তন ছাত্র প্রেসিডেন্সি কলেজ
পিএইচডি উপদেষ্টা নেই
পিএইচডি ছাত্ররা গোপালসমুদ্রম নারায়ণ আইয়ার রামাচন্দ্রন
পরিচিতির কারণ রামন ক্রিয়া
উল্লেখযোগ্য পুরস্কার Nobel prize medal.svg পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার (১৯৩০)
হিউস মেডেল (১৯৩০)
ভারত রত্ন (১৯৫৪)
লেনিন শান্তি পুরস্কার (১৯৫৭)
স্বাক্ষর

স্যার চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামন, সিবিই (তামিল: சந்திரசேகர வெங்கடராமன்) ভারতীয় বিজ্ঞানী যিনি রামন ক্রিয়া আবিষ্কারের জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন। তিনি ১৯৩০ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। নোবেল পুরস্কারের পিছনে ছিল আলোর বিচ্ছুরণ বিষয়ে তার মৌলিক আবিষ্কার। তাঁর ভাতিজা সুব্রামানিয়ান চন্দ্রশেখরও ১৯৮১ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার পান।

শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

রমনের বাবা প্রাথমিকভাবে থিরুওয়ানাইকোভিলের একটি বিদ্যালয়ে পড়ান, পরে তিনি মিসেস এভি নরসিংহ রাও কলেজে গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানে অধ্যাপক হন। ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের বিসাখাপত্তনম (তখন বিশাকাপত্তনম) এবং পরে মাদ্রাজে (বর্তমানে চেন্নাই) প্রেসিডেন্সি কলেজে যোগ দেন। [১][২]

অল্প বয়সে, রমন বিসাখাপত্তনম শহরে চলে যান এবং সেন্ট আলয়সিয়াস অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান হাইস্কুলে অধ্যয়ন করেন। তিনি ১১ বছর বয়সে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ১৩ বছর বয়সে বৃত্তির মাধ্যমে এফ.এ পরীক্ষার পাশ করেন (আজকের ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার সমতুল্য, পিইউসিপিডিসি এবং +২)।

১৯০২ সালে রমণ মাদ্রাজে (বর্তমানে চেন্নাই) প্রেসিডেন্সী কলেজ, চেন্নাই যোগ দেন যেখানে তাঁর পিতা গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানে একজন অধ্যাপক ছিলেন।[৩]১৯০৪ সালে তিনি মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাচেলর অব আর্টস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং পদার্থবিদ্যায় স্বর্ণপদক পান। ১৯০৭ সালে সর্বোচ্চ ডিস্টিংসান নিয়ে তিনি মাস্টার অফ সায়েন্স ডিগ্রী অর্জন করেন।[১]

পেশা[সম্পাদনা]

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যাপক পদে নিযুক্ত হওয়ার পর ১৯১৭ সালে রমন সরকারি চাকুরী থেকে পদত্যাগ করেন। একই সময়ে, তিনি ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কালটিভেশন অব সায়েন্স (আইএসিএস) -এ গবেষণা চালিয়ে যান, যেখানে তিনি অবৈতনিক সচিব ছিলেন। রমন তাঁর কর্মজীবনের এই সময়টিকে সুবর্ণ যুগ হিসাবে উল্লেখ করেছিলেন। অনেক শিক্ষার্থী আইএসিএস এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নিকট সমবেত হন। ১৯২৬ সালে অধ্যাপক রমন [৪] ভারতীয় পদার্থবিজ্ঞানের সাময়িক পত্রিকা প্রতিষ্ঠিত করেন এবং তিনি প্রথম সম্পাদক ছিলেন। সাময়িক পত্রিকার দ্বিতীয় খণ্ডে রমন প্রভাব আবিষ্কারের প্রতিবেদন সমেত তাঁর বিখ্যাত নিবন্ধ "একটি নতুন বিকিরণ" [৫]প্রকাশিত হয়।

শক্তি স্তর চিত্রে দর্শিত রমন সঙ্কেতে জড়িত দশাগুলি

১৯২৮ সালের ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, তারিখে রমন সহযোগীদের সহায়তায় আইএসিএস-এ কেএএসএস কৃষ্ণানসহ আলোর বিচ্ছ্ররনের ওপর পরীক্ষানিরীক্ষার নেতৃত্ব দেন যেসময় তিনি যা আবিষ্কার করেন তা বর্তমানে রমন প্রভাব বলে জানা যায়। [৬] এই সময়ের একটি বিস্তৃত বিবরণ জি ভেঙ্কটরমনের জীবনীর নথীতে পাওয়া যায়। [৭] এটি তাত্ক্ষণিকভাবে পরিষ্কার ছিল যে এই আবিষ্কারটি অতীব প্রয়োজনীয় ছিল। এটি আলোর কোয়ান্টাম প্রকৃতির আরও প্রমাণ দিয়েছে । রমনের কে.এস. কৃষ্ণানের সঙ্গে জটিল পেশাদার সম্পর্ক ছিল, যিনি আশ্চর্যজনকভাবে পুরস্কারটি ভাগাভাগি করেননি, কিন্তু নোবেল বক্তৃতাও উল্লেখযোগ্যভাবে উল্লেখ করেছেন।[৮]

রমন স্পেকট্রোস্কোপি এই ঘটনাটির উপর ভিত্তি করে এসেছিল, এবং আর্নেস্ট রাদারফোর্ড ১৯২৯ সালে রয়েল সোসাইটিতে তাঁর রাষ্ট্রপতির বক্তৃতায় উল্লেখ করেছিলেন। রমন ১৯২৯ সালে ভারতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেসের ১৬ তম অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন। তাঁকে একটি নাইটহুড এবং পদক প্রদান করা হয় এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় দ্বারা সম্মানসূচক ডক্টরেট প্রদান করা হয়। রমণ পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার জেতায় আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, তবে ১৯২৪ সালে নোবেল পুরস্কার ওলিন রিচার্ডসন এবং ১৯২৬ সালে লুই ডি ব্রোগি পাওয়াতে হতাশ হয়েছিলেন। ১৯৩০ সালে তিনি পুরস্কার জেতার এতটাই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, যে তিনি জুলাইতে টিকেট কিনেছিলেন, যদিও পুরস্কারগুলি নভেম্বরে ঘোষণা করা হতো, এবং যদি সংবাদটি না আসে সেই ভাবনাকে উড়িয়ে দিয়ে,[৯] পুরস্কারের ঘোষণার খবরের জন্য প্রতিটি দিনের সংবাদপত্র খুঁটিয়ে দেখতেন। অবশেষে তিনি ১৯৩০ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন "আলোর বিকিরণ এবং রমন প্রভাব আবিষ্কারের জন্য"। [১০] বিজ্ঞানের নোবেল পুরষ্কার পাওয়ার জন্য তিনি প্রথম এশিয় এবং প্রথম অ-শ্বেতাঙ্গ ছিলেন। তাঁর আগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (ভারতীয়) সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন ১৯১৩ সালে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. The Nobel Prize in Physics 1930 Sir Venkata Raman, Official Nobel prize biography, nobelprize.org
  2. Prasar, Vigyan। "Chandrasekhara Venkata Raman A Legend of Modern Indian Science"। Government of India। ১০ নভেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ নভেম্বর ২০১৩ 
  3. This Month in Physics History February 1928: Raman scattering discovered APS News Archives February 2009 vol.18 no.2
  4. "Indian Journal of Physics"। ১৯২৬। 
  5. "A New Radiation"Indian Association for the Cultivation of Science। ১৯২৭। 
  6. "Raman Effect Visualized"। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মে ২০১৪ 
  7. Venkataraman, G. (1988) Journey into Light: Life and Science of C. V. Raman. Oxford University Press. আইএসবিএন ৮১৮৫৩২৪০০X.
  8. "Nobel Lecture, C.V. Raman" (PDF)। NobelPrize.org। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মে ২০১৪ 
  9. Venkataraman, G. (১৯৯৫), Raman and His Effect, Orient Blackswan, পৃষ্ঠা 50, আইএসবিএন 9788173710087 
  10. "The Nobel Prize in Physics 1930"। Nobel Foundation। সংগ্রহের তারিখ ৯ অক্টোবর ২০০৮ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]