বিষয়বস্তুতে চলুন

আসাফ আলী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আসাফ আলী ১৯০৯ সালে

আসাফ আলী (ইংরেজি: Asaf Ali, (জন্ম: মে ১১, ১৮৮৮[১] – মৃত্যু: এপ্রিল ১, ১৯৫৩) ছিলেন একজন ভারতের স্বাধীনতা যোদ্ধা এবং সুপরিচিত ভারতীয় আইনজীবী। তিনি ভারত থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম রাষ্ট্রদূত ছিলেন। এছাড়াও তিনি উড়িষ্যার গভর্নর হিসেবে কাজ করেন।

তিনি দিল্লির সেন্ট স্টিফেন কলেজ দিল্লি থেকে শিক্ষা লাভ করেন। এরপর তিনি ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রবেশ করেন এবং এরজন্য অনেক বার তাকে কারারুদ্ধ করা হয়।

১৯২৮ সালে তিনি অরুণা গাঙ্গুলীকে (অরুণা একজন হিন্দু এবং আসাফ আলী একজন মুসলমান ছিলেন) বিবাহ করেন এবং বয়স পার্থক্য (অরুণা তার থেকে ২২ বছরের কনিষ্ঠ ছিলেন)। তিনি মুসলিম জাতীয়তাবাদী দলের হয়ে দিল্লি থেকে কেন্দ্রীয় বিধানসভার একজন সদস্য হিসাবে প্রতিনিধিত্ব করে ১৯৩৫ সালে নির্বাচিত হন। এছাড়াও তিনি মুসলিম লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে পুনরায় নির্বাচিত হন। তিনি পরিষদ ও কংগ্রেস পার্টির ডেপুটি লিডার হিসেবে কাজ করেন।

তিনি সেপ্টেম্বর ২, ১৯৪৬ সাল থেকে ভারতের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মধ্যে রেলওয়ে ও পরিবহনের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী ছিলেন। ১৯৪৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯৪৮ সালের মধ্য এপ্রিল পর্যন্ত ভারত থেকে মার্কিন যুক্সরাষ্ট্রের প্রথম রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করেন।

তিনি উড়িষ্যার গভর্নর নিযুক্ত হন কিন্তু তিনি স্বাস্থ্যের কারণে মে ১৯৫২ সালে পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তিনি তার শেষ নিয়োগে ভারতের মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া ও ভ্যাটিকান দেশে; তিনি বার্ন অফিসে মারা যান।

আসাফ আলী ১৮৮৮ সালের ১১ মে জন্মগ্রহণ করেন । তিনি দিল্লির সেন্ট স্টিফেনস কলেজে পড়াশোনা করেন। পরে তিনি লন্ডনে আইন নিয়ে অধ্যয়ন করেন। ১৯২০-এর দশকের গোড়ার দিকে মহাত্মা গান্ধীর প্রথম অসহযোগ আন্দোলনের সময় তিনি তাঁর আইন পেশা ত্যাগ করে ভারতে ফিরে আসেন। তিনি অরুণা গাঙ্গুলীকে (১৯২৮) বিয়ে করেন, যা একটি আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল, কারণ এটি ছিল একটি আন্তঃধর্মীয় বিবাহ এবং তাঁদের মধ্যে ২০ বছরের বয়সের ব্যবধান ছিল।

স্বাধীনতা আন্দোলনে ভূমিকা

[সম্পাদনা]

ভারতে ফিরে এসে তিনি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে অংশ নেন। তিনি কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন এবং মুসলিম লীগের একজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে উপনেতা হিসেবে নিযুক্ত হন। আলী আদালতে জাতীয়তাবাদী নেতাদের সাহায্য করার জন্য তাঁর আইনি দক্ষতা ব্যবহার করতেন। কেন্দ্রীয় বিধানসভার হলে বোমা নিক্ষেপের অভিযোগে বিপ্লবী ভগত সিং, সুখদেব এবং রাজগুরুর পক্ষে আসাফ আলী মামলা লড়েন।

ভারত ছাড়ো আন্দোলনের (১৯৪২) সময় তাঁকে কারারুদ্ধ করা হয়েছিল। জওহরলাল নেহরুর মতো তিনিও কংগ্রেসের সেইসব কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের মধ্যে ছিলেন , যাঁদের আহমেদনগর ফোর্ট জেলে আটক রাখা হয়েছিল।

আলী একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভূমিকাও পালন করেছিলেন। ১৯৪৬ সালের আগস্ট মাসে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলে তিনি রেলমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই ক্ষমতায় তাঁর প্রথম কাজগুলোর মধ্যে একটি ছিল হিন্দু পানি ও মুসলিম পানির মতো রেল প্ল্যাটফর্মগুলোতে পানীয় জলের পৃথক সরবরাহ ব্যবস্থা বিলোপ করা। ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবন উভয় ক্ষেত্রেই আলী ধর্মীয় বিভেদ পরিহার করে সম্প্রীতি প্রসারের চেষ্টা করেছিলেন।

সাহিত্য কর্ম

[সম্পাদনা]

আইন ও রাজনীতির বাইরেও আসাফ আলীর এক গভীর সাহিত্যিক সত্তা ছিল। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বেশ কিছু কবিতা উর্দুতে অনুবাদ করে সাহিত্যের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত ব্যবধান ঘোচিয়েছিলেন। কূটনীতিক হিসেবে কর্মরত অবস্থায় ১৯৫৩ সালের ২ এপ্রিল রাতে সুইজারল্যান্ডে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আসাফ আলী হঠাৎ মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ভারতীয় জাতির প্রতি সাহস, নীতি এবং অবিচল সেবার এক উত্তরাধিকার রেখে গেছেন।[২]

স্বাধীনতা-পরবর্তী অবদান

[সম্পাদনা]

আলি একজন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে বিবেচিত হতেন। তিনি দুইবার (১৯৪৮ এবং ১৯৫১) উড়িষ্যার গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর আলি একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীকালে, তিনি সুইজারল্যান্ডে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত হন।

তিনি ১৯৫৩ সালের ২ এপ্রিল বার্নে সুইস রাষ্ট্রদূত হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৮৯ সালে ইন্ডিয়া পোস্ট তাঁর সম্মানে একটি ডাকটিকিট প্রকাশ করে।[৩]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. ↑ G. N. S. Raghavan and Asaf Ali, M. Asaf Ali's Memoirs: The Emergence of Modern India (Ajanta, 1994: আইএসবিএন ৮১-২০২-০৩৯৮-৪), p. 36.
  2. ↑ "asaf ali the fearless advocate"। iamc। সংগ্রহের তারিখ ১২ মে ২০২৬।
  3. ↑ "member/asaf ali"। constitution of India। সংগ্রহের তারিখ ১২ মে ২০২৬।

বিষয়শ্রেণী

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]
রাজনৈতিক দপ্তর
পূর্বসূরী
কেউ নন
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত
১৯৪৭–১৯৪৮
উত্তরসূরী
বিজয়া লক্ষ্মী পণ্ডিত