নেলসন ম্যান্ডেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
মহামান্য
নেলসন ম্যান্ডেলা
ওএম এসি সিসি ওজে ওএসজে কিউসি জিসিএইচ বিআর আরএসও এনপিকে
নেলসন ম্যান্ডেলা, ২০০৮ মে, দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে, তার ৯০তম জন্মদিনে
২০০৮-এ নেলসন ম্যান্ডেলা
দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতি
অফিসে
১০ই মে, ১৯৯৪ – ১৪ই জুন, ১৯৯৯
ডেপুটি থাবো এম্‌বেকি
এফ. ডব্লিউ. ডি ক্লার্ক
পূর্বসূরী এফ. ডব্লিউ. ডি ক্লার্ক
উত্তরসূরী থাবো এম্‌বেকি
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম রোলিহ্লাহ্লা ম্যান্ডেলা[১]
(১৯১৮-০৭-১৮)১৮ জুলাই ১৯১৮
মেজো, দক্ষিণ আফ্রিকা
মৃত্যু ৫ ডিসেম্বর ২০১৩(২০১৩-১২-০৫) (৯৫ বছর)
জাতীয়তা দক্ষিণ আফ্রিকা
রাজনৈতিক দল আফ্রিকার জাতীয় কংগ্রেস
দাম্পত্য সঙ্গী ইভিলিন ন্‌তকো মাসে (১৯৪৪-১৯৫৭)
উইনি মাদিকিজেলা-ম্যান্ডেলা (১৯৫৭-১৯৯৬)
গ্রাসা মাচেল (১৯৯৮–বর্তমান)
সন্তান মাদিবা থেম্বেকিল
মাগগাথো লিওয়ানিকা
মাকাজিউই
মাকি
জিনানি
জিঞ্জিসোয়া
বাসস্থান হাফটন এস্টেট, জোহানেসবার্গ, গাউটেং, দক্ষিণ আফ্রিকা
প্রাক্তন ছাত্র ইউনিভার্সিটি অব ফোর্ট হ্যায়ার
ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন এক্সটার্নাল সিস্টেম
ইউনিভার্সিটি অব সাউথ আফ্রিকা
ইউনিভার্সিটি অব দি উইটওয়াটারস্র্যান্ড
ধর্ম খ্রিস্টান ধর্ম (ম্যাথোডিজম)
স্বাক্ষর নেলসন ম্যান্ডেলার স্বাক্ষর
ওয়েবসাইট www.nelsonmandela.org

নেলসন রোলিহ্লাহ্লা ম্যান্ডেলা (জোজা উচ্চারণ: [xoˈliːɬaɬa manˈdeːla]; জন্ম: জুলাই ১৮, ১৯১৮ - ডিসেম্বর ৫, ২০১৩)[২] ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম রাষ্ট্রপতি। তিনি ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ম্যান্ডেলা আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের সশস্ত্র সংগঠন উমখন্তো উই সিযওয়ের নেতা হিসাবে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী সরকার গ্রেপ্তার করে ও অন্তর্ঘাতসহ নানা অপরাধের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। ম্যান্ডেলা ২৭ বছর কারাবাস করেন। এর অধিকাংশ সময়ই তিনি ছিলেন রবেন দ্বীপে। ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি কারামুক্ত হন। এর পর তিনি তাঁর দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নেন। এর ফলশ্রুতিতে দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদের অবসান ঘটে এবং সব বর্ণের মানুষের অংশগ্রহণে ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

দক্ষিণ আফ্রিকায় ম্যান্ডেলা তাঁর গোত্রের দেয়া মাদিবা নামে পরিচিত।

গত চার দশকে ম্যান্ডেলা ২৫০টিরও অধিক পুরস্কার পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ভারত সরকার প্রদত্ত ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে ভারতরত্ন পুরস্কার ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে নোবেল শান্তি পুরস্কার[৩] তাছাড়াও তিনি ১৯৮৮ সালে শাখারভ পুরস্কারের অভিষেক পুরস্কারটি যৌথভাবে অর্জন করেন।

জীবনের প্রাথমিককাল[সম্পাদনা]

১৯৩৭ সালে ম্যান্ডেলা।[৪]

নেলসন ম্যান্ডেলা থেম্বু রাজবংশের ক্যাডেট শাখায় জন্মগ্রহণ করেন। থেম্বু রাজবংশ দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ প্রদেশের ট্রান্সকেই অঞ্চলের শাসক। [৫] তাঁর জন্ম হয় ট্রান্সকেই এর রাজধানী উমতাতার নিকটবর্তী ম্‌ভেজো গ্রামে। [৫] তাঁর প্রপিতামহ ছিলেন নগুবেংচুকা (মৃত্যু ১৮৩২), যিনি ছিলেন থেম্বু জাতিগোষ্ঠীর ইনকোসি এনখুলু অর্থাৎ রাজা।[৬] এই রাজার পুত্র ম্যান্ডেলা হলেন নেলসন ম্যান্ডেলার পিতামহ। নেলসনের বংশগত নাম ম্যান্ডেলাই এই পিতামহ থেকেই পাওয়া। তবে নেলসনের পিতামহী ইক্সহিবা গোত্রের হওয়ায় রীতি অনুযায়ী তাঁর শাখার কেউ থেম্বু রাজবংশে আরোহণ করার অধিকার রাখেন না [৭]

ম্যান্ডেলার বাবা গাদলা হেনরি মপাকানইসা ম্‌ভেজো গ্রামের মোড়ল হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। [৮] তবে ঔপনিবেশিক শাসকদের বিরাগভাজন হওয়ার পরে তারা ম্যান্ডেলার পিতাকে পদচ্যুত করে। তিনি তখন তার পরিবারসহ কুনু গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। তবে তা সত্ত্বেও ম্‌পাকানইসা ইনকোসিদের প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন এবং থেম্বুর শাসনকর্তা হিসাবে জোঙ্গিন্তাবা দালিন্দ্যেবোকে নির্বাচিত করায় ভূমিকা রাখেন। ম্‌পাকানইসার মৃত্যুর পর দালিন্দ্যেবো ম্যান্ডেলাকে পোষ্যপূত্র হিসাবে গ্রহণ করেন। [৯] ম্যান্ডেলার পিতা ম্‌পাকানইসার ছিল চারজন স্ত্রী, ও সর্বমোট ১৩টি সন্তান (৪ পুত্র, ৯ কন্যা)। [৯] ম্যান্ডেলার মা ছিলেন ম্‌পাকানইসার ৩য় স্ত্রী নোসেকেনি ফ্যানি। ফ্যানি ছিলেন ম্‌পেম্ভু হোসা গোত্রের ন্‌কেদামার কন্যা। মাতামহের বাড়িতেই ম্যান্ডেলার শৈশব কাটে।[১০] তাঁর ডাক নাম "রোলিহ্লাহ্লা"র অর্থ হলো "গাছের ডাল ভাঙে যে", অর্থাৎ "দুষ্টু ছেলে"। [১১][১২]

ম্যান্ডেলা তাঁর পরিবারের প্রথম সদস্য যিনি স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। স্কুলে পড়ার সময়ে তাঁর শিক্ষিকা ম্‌দিঙ্গানে তাঁর ইংরেজি নাম রাখেন "নেলসন"।[১৩]

ম্যান্ডেলার বয়স যখন ৯ বছর, তখন তাঁর পিতা যক্ষ্মা রোগে মারা যান। শাসক জোঙ্গিন্তাবা তখন তাঁর অভিভাবক নিযুক্ত হন।[৯] ম্যান্ডেলা রাজপ্রাসাদের কাছের একটি মিশনারি স্কুলে পড়াশোনা করেন। থেম্বু রীতি অনুযায়ী ১৬ বছর বয়সে ম্যান্ডেলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর গোত্রে বরণ করে নেওয়া হয়। এর পর তিনি ক্লার্কবারি বোর্ডিং ইন্সটিটিউটে পড়াশোনা করেন।[১৪] সেখানে ম্যান্ডেলা ৩ বছরের জায়গায় মাত্র ২ বছরেই জুনিয়র সার্টিফিকেট পরীক্ষায় পাস করেন।[১৪] ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে ম্যান্ডেলা প্রিভি কাউন্সিলে তাঁর পিতার স্থলাভিষিক্ত হন। এরপর তিনি ফোর্ট বোফোর্ট শহরের মিশনারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হেল্ডটাউন স্কুলে ভরতি হন। এখানেই থেম্বু রাজবংশের ছাত্ররা পড়াশোনা করত।[১৫] এই স্কুলে পড়ার সময়েই ১৯ বছর বয়সে ম্যান্ডেলা দৌড় ও মুষ্টিযুদ্ধের মতো খেলাধুলায় নিয়মিত অংশ নিতে শুরু করেন।[১০]

স্কুল থেকে পাস করার পর ম্যান্ডেলা ফোর্ট হেয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাচেলর অব আর্টস কোর্সে ভরতি হন। এখানেই অলিভার টাম্বোর সাথে তার পরিচয় হয়। টাম্বো আর ম্যান্ডেলা সারাজীবন ধরে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। ম্যান্ডেলার আরেক বন্ধু ছিলেন ট্রান্সকেইয়ের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী কাইজার (কে ডি) মাটানজিমা।[৭] এই বন্ধুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদেই পরবর্তীকালে ম্যান্ডেলা বান্টুস্থানের রাজনীতি ও নীতিনির্ধারণে জড়িত হন। তবে এসব নীতিমালার ক্ষেত্রে ম্যান্ডেলা ও মাটানজিমার মতবিরোধ হয়।[১০]

বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের শেষে ম্যান্ডেলা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ছাত্র সংসদের ডাকা আন্দোলনে জড়িত হয়ে পড়েন। এর ফলে তাঁকে ফোর্ট হেয়ার থেকে চলে যেতে বলা হয়। শর্ত দেওয়া হয়, কেবল ছাত্র সংসদে নির্বাচিত সদস্য হতে পারলেই তিনি সেখানে ফেরত আসতে পারবেন।[১৬] জীবনের পরবর্তী সময়ে কারাগারে বন্দি থাকার সময়ে ম্যান্ডেলা লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরশিক্ষণ কার্যক্রমের অধীনে আইনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

ম্যান্ডেলা ফোর্ট হেয়ার ছাড়ার অল্প পরেই জানতে পারেন, জোঙ্গিন্তাবা তাঁর সন্তান জাস্টিস (যুবরাজ ও সিংহাসনের উত্তরাধিকারী)এবং ম্যান্ডেলার বিয়ে ঠিক করার ঘোষণা দিয়েছেন। ম্যান্ডেলা ও জাস্টিস এভাবে বিয়ে করতে রাজি ছিলেননা। তাই তাঁরা দুজনে জোহানেসবার্গে চলে যান।[১৭] সেখানে যাওয়ার পর ম্যান্ডেলা শুরুতে একটি খনিতে প্রহরী হিসেবে কাজ নেন।[১৮] তবে অল্পদিন পরেই খনির মালিক জেনে যান যে, ম্যান্ডেলা বিয়ে এড়াতে জোঙ্গিন্তাবার কাছ থেকে পালিয়ে এসেছেন। এটা জানার পর খনি কর্তৃপক্ষ ম্যান্ডেলাকে ছাঁটাই করেন। পরবর্তীকালে ম্যান্ডেলা জোহানেসবার্গের আইনি প্রতিষ্ঠান উইটকিন, সিডেলস্কি অ্যান্ড এডেলম্যানে কেরানি হিসেবে যোগ দেন। ম্যান্ডেলার বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষী ওয়াল্টার সিসুলু এই চাকুরি পেতে ম্যান্ডেলাকে সহায়তা করেন।[১৮] এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সময়ে ম্যান্ডেলা ইউনিভার্সিটি অব সাউথ আফ্রিকার দূরশিক্ষণ কার্যক্রমের অধীনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। এর পরে ম্যান্ডেলা ইউনিভার্সিটি অব উইটওয়াটার্সরান্ডে আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা শুরু করেন। এখানে তাঁর সঙ্গে জো স্লোভো, হ্যারি শোয়ার্জ এবং রুথ ফার্স্টের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে এই বন্ধুরা বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় কর্মী হিসেবে অংশ নেন। এসময় ম্যান্ডেলা জোহানেসবার্গের উত্তরের দিকের শহর আলেক্সান্দ্রিয়াতে বাস করতেন।[১৯]

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড[সম্পাদনা]

দক্ষিণ আফ্রিকার ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের নির্বাচনে আফ্রিকানদের দল ন্যাশনাল পার্টি জয়লাভ করে। এই দলটি বর্ণবাদে বিশ্বাসী ছিল এবং বিভিন্ন জাতিকে আলাদা করে রাখার পক্ষপাতী ছিল।[২০] ন্যাশনাল পার্টির ক্ষমতায় আসার প্রেক্ষাপটে ম্যান্ডেলা সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দের অসহযোগ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দের জনগণের সম্মেলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। এই সম্মেলনে মুক্তি সনদ প্রণয়ন করা হয়, যা ছিল দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের মূল ভিত্তি।[২১][২২] এই সময় ম্যান্ডেলা ও তাঁর বন্ধু আইনজীবী অলিভার টাম্বো মিলে ম্যান্ডেলা অ্যান্ড টাম্বো নামের আইনি প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করতেন। এই প্রতিষ্ঠানটি উকিল নিয়োগ করার মতো টাকা নেই, এমন দরিদ্র কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকানদের স্বল্প মূল্যে আইনগত সাহায্য প্রদান করত।[২৩]

ম্যান্ডেলার রাজনৈতিক জীবনের প্রথমভাগে তিনি মহাত্মা গান্ধির দর্শন দ্বারা প্রভাবিত হন। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী কর্মীরা আন্দোলনের প্রথম দিকে গান্ধির অহিংস আন্দোলনের নীতিকে গ্রহণ করে বর্ণবাদের বিরোধিতা করেছিল।[২৪][২৫] ম্যান্ডেলাও প্রথম থেকেই অহিংস আন্দোলনের পক্ষপাতী ছিলেন। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী শ্বেতাঙ্গ সরকার ১৯৫৬ খ্রস্টাব্দের ৫ ডিসেম্বর তারিখে ম্যান্ডেলাসহ ১৫০ জন বর্ণবাদবিরোধী কর্মীকে দেশদ্রোহিতার অপরাধে গ্রেপ্তার করে। এই মামলাটি সুদীর্ঘ ৫ বছর ধরে (১৯৫৬-১৯৬১) চলে, কিন্তু মামলার শেষে সব আসামি নির্দোষ প্রমাণিত হন।[২৬]

১৯৫২ থেকে ১৯৫৯ খ্রস্টাব্দের মধ্যে আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (এএনসি)-এর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে উগ্রপন্থী আফ্রিকানিস্ট উপদলের কৃষ্ণাঙ্গ কর্মীরা বাধা দিতে শুরু করে। আফ্রিকানিস্টরা বর্ণবাদী শ্বেতাঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে চরমপন্থী আন্দোলনের পক্ষপাতী ছিল।[২৭] এএনসি-র নেতা অ্যালবার্ট লুথুলি, অলিভার ট্যাম্বো ও ওয়াল্টার সিসুলু অনুভব করেন, আফ্রিকানিস্টরা এই আন্দোলনে খুব তাড়াহুড়া করছে, আর তাঁদের নেতৃত্বকে অস্বীকার করছে।[২৭]

বর্ণবাদবিরোধী সংগ্রাম[সম্পাদনা]

১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে ম্যান্ডেলা এএনসি-র সশস্ত্র অঙ্গসংগঠন উমখোন্তো উই সিযওয়ে (অর্থাৎ "দেশের বল্লম", সংক্ষিপ্ত নাম MK)-এর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন এই সংগঠনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা।[২৮] তিনি বর্ণবাদী সরকার ও তার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অন্তর্ঘাতী ও চোরাগোপ্তা হামলা পরিকল্পনা ও সমন্বয় করেন। এতে বর্ণবাদী সরকার পিছু না-হটলে প্রয়োজনবোধে গেরিলা যুদ্ধে যাওয়ার জন্যও ম্যান্ডেলা পরিকল্পনা করেন।[২৯] এছাড়া ম্যান্ডেলা বিদেশে এমকে-র জন্য অর্থ জোগাড় ও সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার জন্য কাজ শুরু করেন।[২৯]

ম্যান্ডেলার সহকর্মী উলফি কাদেশ ম্যান্ডেলার নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই সশস্ত্র আন্দোলনের ব্যাপারে বলেন, "When we knew that we [sic] going to start on 16 December 1961, to blast the symbolic places of apartheid, like pass offices, native magistrates courts, and things like that ... post offices and ... the government offices. But we were to do it in such a way that nobody would be hurt, nobody would get killed."[৩০] উলফির ব্যাপারে ম্যান্ডেলা বলেন, "His knowledge of warfare and his first hand battle experience were extremely helpful to me."[১২]

ম্যান্ডেলা নিজে তাঁর এই সশস্ত্র আন্দোলনকে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে নিতান্তই শেষ চেষ্টা বলে অভিহিত করেন। দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা নিপীড়ন ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে অহিংস আন্দোলন সফল হবেনা বলে তিনি উপলব্ধি করেন এবং এ জন্যই সশস্ত্র আন্দোলনের পথ বেছে নেন।[১২][৩১]

পরবর্তীকালে বিশ শতকের আটের দশকে এমকে বর্ণবাদী সরকারের বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ শুরু করে। এতে অনেক বেসামরিক লোক হতাহত হন।[৩২] ম্যান্ডেলা পরে স্বীকার করেন, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালাতে গিয়ে এএনসি অনেক সময় মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। বর্ণবাদের অবসানের পরে দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন (সত্য ও আপোস কমিশন)-এর রিপোর্ট থেকে এএনসি-র অনেক নেতা এই বিষয়ের তথ্য অপসারণ করতে চেয়েছিল--ম্যান্ডেলা এর তীব্র সমালোচনা করেন।[৩৩]

২০০৮ খ্রিস্টাব্দের জুলাই পর্যন্ত ম্যান্ডেলা ও এএনসি কর্মীরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা থেকে নিষিদ্ধ ছিল। কেবলমাত্র নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে তাঁদের আসার অনুমতি ছিল। এর কারণ ছিল ম্যান্ডেলার ষাটের দশকের সশস্ত্র আন্দোলনের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার তদানীন্তন সরকার ম্যান্ডেলা ও এএনসিকে সন্ত্রাসবাদী হিসাবে ঘোষণা করেছিল। ২০০৮ খ্রস্টাব্দের জুলাইতে এসেই কেবল ম্যান্ডেলাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রণীত সন্ত্রাসবাদীদের তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।[৩৪][৩৫]

গ্রেপ্তার ও রিভোনিয়ার মামলা[সম্পাদনা]

প্রায় ১৭ মাস ধরে ফেরারি থাকার পর ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দের ৫ অগাস্ট ম্যান্ডেলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে জোহানেসবার্গের দুর্গে আটক রাখা হয়।[৩৬] মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ম্যান্ডেলার গতিবিধি ও ছদ্মবেশ সম্পর্কে দক্ষিণ আফ্রিকার নিরাপত্তা পুলিশকে জানিয়ে দেয়, ফলে ম্যান্ডেলা ধরা পড়েন।[৩৭][৩৮][৩৯] তিন দিন পর তাঁকে ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে শ্রমিক ধর্মঘটে নেতৃত্ব দেওয়া এবং বেআইনিভাবে দেশের বাইরে যাওয়ার অভিযোগে তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়। ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দের ২৫ অক্টোবর ম্যান্ডেলাকে এই দুই অভিযোগে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এর দু-বছর পর ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দের ১১ জুন ম্যান্ডেলার বিরুদ্ধে এএনসি-র সশস্ত্র সংগ্রামে নেতৃত্বদানের অভিযোগ আনা হয় ও শাস্তি দেওয়া হয়।[৪০]

ম্যান্ডেলা কারাগারে বন্দি থাকার সময়ে পুলিশ এএনসি-র প্রথম সারির নেতাদের ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দের ১১ জুলাই জোহানেসবার্গের কাছের রিভোনিয়ার লিলেসলিফ ফার্ম থেকে গ্রেপ্তার করে। 'রিভোনিয়ার মামলা' নামে খ্যাত এই মামলায় ম্যান্ডেলাকেও অভিযুক্ত করা হয়। সরকারের প্রধান আইনজীবী ডক্টর পারসি ইউটার ম্যান্ডেলাসহ এএনসি-র নেতাদের অন্তর্ঘাতের অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। এছাড়াও তাঁদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হয়।[৪১] ম্যান্ডেলা অন্তর্ঘাতের অভিযোগ স্বীকার করে নেন। কিন্তু বিদেশি রাষ্ট্রের দালাল হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার জন্য আনা দেশদ্রোহিতার অভিযোগটি ম্যান্ডেলা অস্বীকার করেন।[৪১]

প্রিটোরিয়ার সুপ্রিম কোর্টে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ম্যান্ডেলা ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দের ২০ এপ্রিল তারিখে তাঁর জবানবন্দি দেন। ম্যান্ডেলা ব্যাখ্যা করেন, কেনো এএনসি সশস্ত্র আন্দোলন বেছে নিয়েছে।[৪২] ম্যান্ডেলা বলেন যে, বহু বছর ধরে এএনসি অহিংস আন্দোলন চালিয়ে এসেছিল। কিন্তু শার্পভিলের গণহত্যার পর তাঁরা অহিংস আন্দোলনের পথ ত্যাগ করতে বাধ্য হন।[৪৩] এই গণহত্যা, কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকারকে অবজ্ঞা করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে প্রজাতন্ত্র ঘোষণা, জরুরি অবস্থার ঘোষণা এবং এএনসিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পরে ম্যান্ডেলা ও তাঁর সহযোদ্ধারা অন্তর্ঘাতমূলক সশস্ত্র সংগ্রামকেই বেছে নেন। তাঁদের মতে সশস্ত্র আন্দোলন ছাড়া অন্য কোনো কিছুই হত বিনাশর্তে আত্মসমর্পণের নামান্তর।[৪৩] ম্যান্ডেলা আদালতে আরো বলেন, ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দের ১৬ ডিসেম্বর তারিখে তাঁরা উমখোন্তো উই সিযওয়ে অর্থাৎ এমকে-এর ম্যানিফেস্টো লেখেন। এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য হিসেবে তাঁরা বেছে নেন সশস্ত্র সংগ্রাম। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল, অন্তর্ঘাতের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদেশি বিনিয়োগকে তাঁরা নিরুৎসাহিত করবেন, আর এর মাধ্যমে বর্ণবাদী ন্যাশনাল পার্টির সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবেন।[৪৪] জবানবন্দির শেষে ম্যান্ডেলা বলেন, "During my lifetime I have dedicated myself to the struggle of the African people. I have fought against white domination, and I have fought against black domination. I have cherished the ideal of a democratic and free society in which all persons live together in harmony and with equal opportunities. It is an ideal which I hope to live for and to achieve. But if needs be, it is an ideal for which I am prepared to die."[৩১]

ম্যান্ডেলার পক্ষে ব্র্যাম ফিশার, ভার্নন বেরাঞ্জ, হ্যারি শোয়ার্জ, জোয়েল জফ, আর্থার চাসকালসন এবং জর্জ বিজোস ওকালতি করেন।[৪৫] মামলার শেষভাগে হ্যারল্ড হ্যানসন আইনি সহায়তার জন্য যোগ দেন। [৪৬] কিন্তু মামলায় রাস্টি বার্নস্টেইন ছাড়া অন্য সবাইকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তবে ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ জুন দেওয়া রায়ে ফাঁসির বদলে তাঁদের সবাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। [৪৬]

কারাবাস[সম্পাদনা]

রবেন দ্বীপের কারাগারের প্রাঙ্গন।
রবেন দ্বীপে ম্যান্ডেলার কারাকক্ষ। এখানেই বন্দী ছিলেন দীর্ঘদিন।

ম্যান্ডেলার কারাবাস শুরু হয় রবেন দ্বীপের কারাগারে। এখানে তিনি তাঁর ২৭ বছরের কারাবাসের প্রথম ১৮ বছর কাটান।[৪৭] জেলে থাকার সময়ে বিশ্বজুড়ে তাঁর খ্যাতি বাড়তে থাকে। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৃষ্ণাঙ্গ নেতা হিসেবে সারা বিশ্বে পরিচিতি লাভ করেন।[৩] সশ্রম কারাদণ্ডের অংশ হিসেবে রবেন দ্বীপের কারাগারে ম্যান্ডেলা ও তাঁর সহবন্দিরা একটি চুনাপাথরের খনিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হন।[৪৮] কারাগারের অবস্থা ছিল বেশ শোচনীয়। কারাগারেও বর্ণভেদ প্রথা চালু ছিলো। কৃষ্ণাঙ্গ বন্দিদের সবচেয়ে কম খাবার দেয়া হত।[৪৯] সাধারণ অপরাধীদের থেকে রাজনৈতিক বন্দিদের আলাদা রাখা হত। রাজনৈতিক বন্দিরা সাধারণ অপরাধীদের চেয়েও কম সুযোগসুবিধা পেত।[৫০] ম্যান্ডেলা তাঁর জীবনীতে লিখেছেন, তাঁকে ডি-গ্রুপের বন্দি হিসেবে গণ্য করা হত, অর্থাৎ সবচেয়ে কম সুবিধাপ্রাপ্ত বন্দিদের তালিকায় তাঁকে রাখা হয়েছিল। তাঁকে প্রতি ৬ মাসে একটিমাত্র চিঠি দেওয়া হত এবং একজনমাত্র দর্শনার্থীর সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হত।[৫১] ম্যান্ডেলাকে লেখা চিঠি কারাগারের সেন্সর কর্মীরা অনেকদিন ধরে আটকে রাখত। চিঠি ম্যান্ডেলার হাতে দেওয়ার আগে তার অনেক জায়গাই কালি দিয়ে অপাঠযোগ্য করে দেওয়া হত।[১২]

কারাগারে থাকার সময়ে ম্যান্ডেলা লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় পড়াশোনা শুরু করেন এবং আইনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।[৫২] পরবর্তীকালে ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি প্রিন্সেস অ্যানের কাছে সেই নির্বাচনে হেরে যান।[৫২]

দক্ষিণ আফ্রিকার গোয়েন্দা বিভাগের গুপ্তচর গর্ডন উইন্টার ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দে আত্মজীবনী লেখেন, যার শিরোনাম ছিল Inside BOSS[৫৩] এই আত্মজীবনীতে উইন্টার দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের একটি গোপন ষড়যন্ত্রের কথা ফাঁস করে দেন। এই ষড়যন্ত্র অনুসারে ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে ম্যান্ডেলাকে কারাগার থেকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে কারাগারে হামলা চালাবার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। উইন্টারের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকার গুপ্তচরেরা এই ষড়যন্ত্রে অংশ নেয় ও মদত দেয়। উদ্দেশ্য ছিল, কারাগার থেকে ম্যান্ডেলাকে পালাতে দেওয়া, যাতে তাঁকে ধাওয়া করে পুনরায় গ্রেপ্তারের নামে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলা যায়। এই ষড়যন্ত্রের খবর ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা জেনে ফেলায় তা নস্যাৎ হয়ে যায়।[৫৪]

১৯৮২ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে ম্যান্ডেলাকে রবেন দ্বীপের কারাগার থেকে পোলস্‌মুর কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। এসময় ম্যান্ডেলার সঙ্গে আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের উচ্চপদস্থ নেতা ওয়াল্টার সিসুলু, অ্যান্ড্রু ম্লাগেনি, আহমেদ কাথরাদা এবং রেমন্ড ম্‌লাবাকেও সেখানে নেওয়া হয়।[৫১] ধারণা করা হয়, রবেন দ্বীপে কারারুদ্ধ নতুন প্রজন্মের কৃষ্ণাঙ্গ রাজনৈতিক বন্দিদের ওপর ম্যান্ডেলা ও অন্যান্য নেতার প্রভাব কমানোর জন্যই এটা করা হয়। তরুণ কর্মীদের ওপর ম্যান্ডেলা ও তাঁর সহযোদ্ধাদের এই প্রভাবকে ব্যঙ্গ করে 'ম্যান্ডেলা বিশ্ববিদ্যালয়' বলা হত।[৫৫] তবে ন্যাশনাল পার্টির তদানীন্তন মন্ত্রী কোবি কোয়েটসির মতে ম্যান্ডেলাকে স্থানান্তর করার মূল লক্ষ্য ছিল ম্যান্ডেলার সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের গোপন বৈঠক ও আলোচনার ব্যবস্থা করা।[৫৬]

১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার তদানীন্তন রাষ্ট্রপতি বোথা পি ডব্লিউ বোথা ম্যান্ডেলাকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়ার প্রস্তাব দেন। শর্তটি ছিল, ম্যান্ডেলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সশস্ত্র সংগ্রাম ত্যাগ করতে হবে।[৫৭] কোয়েটসিসহ অন্যান্য মন্ত্রী অবশ্য বোথার এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। তারা মত প্রকাশ করেন যে, ম্যান্ডেলা ব্যক্তিগত কারামুক্তির লোভে পড়ে কখনোই নিজের সংগঠনকে সশস্ত্র সংগ্রামের পথ থেকে সরিয়ে আনবেননা।[৫৮] ম্যান্ডেলা আসলেই এই প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন। তিনি তাঁর মেয়ে জিন্দজির মাধ্যমে একটি বিবৃতি দেন, যাতে তিনি বলেন,

ম্যান্ডেলা ও ন্যাশনাল পার্টি সরকারের মেধ্যকার প্রথম আলোচনাটি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে। কোবি কোয়েটসি ম্যান্ডেলার সঙ্গে কেপ টাউনের ভোক্স হাসপাতালে দেখা করেন। ম্যান্ডেলা তখন প্রস্টেট গ্রন্থির শল্য চিকিৎসা শেষে আরোগ্য লাভ করছিলেন।[৫৯] পরের চার বছর ধরে ম্যান্ডেলার সঙ্গে সরকার একাধিকবার আলোচনায় বসে। কিন্তু এসব আলোচনায় বিশেষ কিছু অগ্রগতি হয়নি।[৫৬]

১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে ম্যান্ডেলাকে ভিক্টর ভার্সটার কারাগারে সরিয়ে নেওয়া হয়। মুক্তির আগে পর্যন্ত ম্যান্ডেলা এখানেই বন্দি ছিলেন। আস্তে আস্তে তাঁর ওপর কড়াকড়ি কমানো হয় এবং দর্শনার্থীদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়। ম্যান্ডেলার ছাত্রজীবনের বন্ধু হ্যারি শোয়ার্জ এসময় তাঁর সঙ্গে দেখা করেন।

ম্যান্ডেলার কারাবন্দিত্বের সময়ে তাঁর মুক্তির জন্য স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের ওপর চাপ বাড়তে থাকে। ম্যান্ডেলার মুক্তির জন্য এই আন্দোলনের বহুল ব্যবহৃত শ্লোগানটি ছিল, Free Nelson Mandela! (ম্যান্ডেলার মুক্তি চাই)[৬০] ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতি বোথা হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন ফ্রেডেরিক উইলেম ডি ক্লার্ক।[৬১] রাজনৈতিক এই পটপরিবর্তনের পরেই ডি ক্লার্ক ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে ম্যান্ডেলাকে মুক্তি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন।[৬২]

ম্যান্ডেলার কারাবন্দিত্বের সময়ে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির দূতেরা বেশ কয়েকবার তাঁর সঙ্গে রবেন দ্বীপ ও পোলস্‌মুর কারাগারে দেখা করেন। এই সাক্ষাতগুলো সম্পর্কে ম্যান্ডেলা বলেন, "to me personally, and those who shared the experience of being political prisoners, the Red Cross was a beacon of humanity within the dark inhumane world of political imprisonment." (ব্যক্তিগতভাবে আমার জন্য এবং আমার মতো অন্য রাজনৈতিক বন্দিদের জন্য রেড ক্রস ছিল কারাগারের অমানুষিক নিষ্ঠুর অন্ধকার জগতে আলোর দিশা।)[৬৩][৬৪]

মুক্তি[সম্পাদনা]

১৯৯০ খ্রিস্টাব্দের ২ ফেব্রুয়ারি তারিখে দক্ষিণ আফ্রিকার তদানীন্তন রাষ্ট্রপতি এফ ডব্লিউ ডি ক্লার্ক আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসেরসহ অন্যান্য বর্ণবাদবিরোধী সংগঠনের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, ম্যান্ডেলাকে অচিরেই মুক্তি দেওয়া হবে।[৬৫] ভিক্টর ভার্সটার কারাগার থেকে ম্যান্ডেলাকে ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দের ১১ ফেব্রুয়ারি তারিখে মুক্তি দেওয়া হয়। ম্যান্ডেলার কারামুক্তির ঘটনাটি সারা বিশ্বে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।[৬৬]

মুক্তির দিনে ম্যান্ডেলা জাতির উদ্দেশ্যে একটি ভাষণ দেন।[৬৭] এই ভাষণে তিনি শান্তি রক্ষা করা ও দেশের শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য আহবান জানান। একই সঙ্গ তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের সশস্ত্র সংগ্রাম শেষ হয়ে যায়নি। এই বিষয়ে তিনি বলেন,

ম্যান্ডেলা আরো বলেন, তাঁর মূল লক্ষ্য হল সংখ্যাগুরু কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য শান্তি নিয়ে আসা, আর স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে কৃষ্ণাঙ্গদের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করা।[৬৭]

শান্তি আলোচনা[সম্পাদনা]

কারামুক্তির পর ম্যান্ডেলা আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৪ পর্যন্ত তিনি এই দলের নেতা ছিলেন। এই সময়ে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদ অবসানের লক্ষ্যে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। এই শান্তি আলোচনা ফলপ্রসূ হওয়ার পর ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সব বর্ণের মানুষের অংশগ্রহণে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।[৬৮]

আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস দলটির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে এই দলের প্রথম জাতীয় সম্মেলন হয়। এই সম্মেলনে ম্যান্ডেলাকে দলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা হয়। ম্যান্ডেলার পুরোনো বন্ধু ও সহকর্মী অলিভার টাম্বো ম্যান্ডেলার বন্দিত্বের সময়ে প্রবাসে এই দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এই সম্মেলনে টাম্বোকে দলের জাতীয় সভাপতি নির্বাচন করা হয়।[৬৯]

দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অবদান রাখার জন্য ম্যান্ডেলা এবং রাষ্ট্রপতি এফ ডব্লু ডি ক্লার্ককে ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয়া হয়। তবে সব সময় এই শান্তি আলোচনা নির্বিঘ্নে চলেনি। ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে একবার মতানৈক্য হলে ম্যান্ডেলা রেগে গিয়ে ডি ক্লার্ককে অবৈধ সরকারের নেতা বলে অভিহিত করেছিলেন। ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দের জুন মাসে বৈপাটোংয়ের গণহত্যার ঘটনা ঘটলে আলোচনা ভেস্তে যায়। ম্যান্ডেলা সেসময় ডি ক্লার্কের সরকারকে এই গণহত্যায় জড়িত থাকার জন্য অভিযোগ করেন।[৭০] তবে এর ৩ মাস পর ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে বিসো গণহত্যা ঘটলে আবার আলোচনা শুরু হয়। দুই পক্ষই উপলব্ধি করেন যে, শান্তি আলোচনাই হল শান্তি ফিরিয়ে আনার একমাত্র পথ।

১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে মার্কিন রাষ্ট্রপতি বিল ক্লিন্টনের সঙ্গে ম্যান্ডেলা।

১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের নেতা ক্রিস হানিকে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের ফলে সারা দেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।[৭১] ম্যান্ডেলা এসময় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে শান্তি বজায় রাখার অনুরোধ জানান। সেসময় ম্যান্ডেলা দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতি ছিলেননা। তা সত্ত্বেও ম্যান্ডেলা রাষ্ট্রপতিসুলভ এই ভাষণে বলেন,

ম্যান্ডেলার এই আহ্বানে কাজ হয়। দেশের কিছু অংশে দাঙ্গা হলেও মোটের ওপর শান্তি বজায় থাকে। শান্তি আলোচনা আবার জোরদারভাবে শুরু হয়। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দের ২৭ এপ্রিল তারিখে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।[৫৬]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

ম্যান্ডেলা তিনবার বিয়ে করেন। তাঁর ৬টি সন্তান, ২০ জন নাতি-নাতনি এবং অনেক প্রপৌত্র রয়েছে। থেম্বুর উপজাতীয় নেতা মান্দলা ম্যান্ডেলা হলেন নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি।[৭৩]

প্রথম বিয়ে[সম্পাদনা]

ম্যান্ডেলার প্রথম স্ত্রী ছিলেন ইভিলিন ন্‌তোকো মাসে। ম্যান্ডেলার মতোই তাঁরও বাড়ি ছিল ট্রান্সকেই অঞ্চলে। জোহানেসবার্গে তাঁদের দুজনের পরিচয় হয়।[৭৪] ১৩ বছর সংসার করার পর ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে তাঁদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। ম্যান্ডেলার অনুপস্থিতি এবং সংসার ফেলে রাজনৈতিক আন্দোলনে ম্যান্ডেলার বেশি সময় দেওয়াই ছিলো এই বিয়ে ভাঙার কারণ। তার ওপর ইভিলিন ছিলেন খ্রিস্টধর্মের জেহোভা'স উইটনেস মতাদর্শের অনুসারী, যাতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ছিল।[৭৫] Evelyn Mase died in 2004.[৭৬] ইভিলিন ও ম্যান্ডেলার দুই পুত্র সন্তান (মাদিবা থেম্বেকিল (থেম্বি) (১৯৪৬-১৯৬৯) এবং মাকাগাথ ম্যান্ডেলা (১৯৫০-২০০৫)) এবং দুই কন্যা সন্তান (দুজনের নামই মাকাযিওয়ে ম্যান্ডেলা, জন্ম ১৯৪৭ ও ১৯৫৩ সালে)। প্রথম কন্যা সন্তানটি ৯ মাস বয়সে মারা যায়। দ্বিতীয় কন্যার নামটি ম্যান্ডেলা প্রথম কন্যার নামানুসারেই রাখেন।[৭৭] ম্যান্ডেলার এই চারজন সন্তানই ওয়াটারফোর্ড কামহ্লাভা এলাকার ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড কলেজে পড়াশোনা করে।[৭৮] ম্যান্ডেলার জ্যেষ্ঠ পুত্র থেম্বি ২৫ বছর বয়সে ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যান। এসময় ম্যান্ডেলা কারাগারে বন্দি ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার ম্যান্ডেলাকে তাঁর পুত্রের অন্তেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে দেয়নি।[৭৯] মাকাতাথ ২০০৫ খ্রিস্টাব্দে ৫৪ বছর বয়সে এইডসে মারা যান। [৮০]

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ম্যান্ডেলা, নেলসন। লং ওয়াক টু ফ্রিডমআইএসবিএন 984-833-121-2 
  2. "নেলসন ম্যান্ডেলা আর নেই"। মতিউর রহমান। সংগৃহীত ডিসেম্বর ০৬, ২০১৩ 
  3. "Nelson Mandela - Biography"Nobelprize.orgThe Nobel Foundation। ১৯৯৩। সংগৃহীত ৩০ এপ্রিল ২০০৯ 
  4. Mandela 1996, pp. 16, 17
  5. "South Africa: Celebrating Mandela At 90"। AllAfrica.com। ১৭ জুলাই ২০০৮। সংগৃহীত ২৮ অক্টোবর ২০০৮ 
  6. Kopkind, Andrew (১৬ মার্চ ১৯৯০)। "Book Review - Higher than Hope"Entertainment WeeklyTime Inc.। সংগৃহীত ২৮ অক্টোবর ২০০৮ 
  7. Mafela, Munzhedzi James (অক্টোবর ২০০৮)। "The revelation of African culture in Long Walk to Freedom"Indigenous Biography and AutobiographyAustralian National University। সংগৃহীত ১৮ জুলাই ২০০৯ 
  8. Guiloineau, Jean; Rowe, Joseph (২০০২)। Nelson Mandela: the early life of Rolihlahla MandibaNorth Atlantic Books। পৃ: ১৩। আইএসবিএন 1556434170 
  9. Aikman (2003), pp 70–71
  10. Mandela, Nelson (২০০৬)। Mandela: The Authorized Portrait। Kansas City, Mo.: Andrews McMeel Pub। পৃ: ১৩। আইএসবিএন 0-7407-5572-2। সংগৃহীত ২৬ মে ২০০৮ 
  11. Mandela 1996, p.7
  12. Mandela, Nelson (১৯৯৪)। Long Walk to FreedomLittle, Brown and Company 
  13. Mandela 1996, p. 9. "No one in my family had ever attended school [...] On the first day of school my teacher, Miss Mdingane, gave each of us an English name. This was the custom among Africans in those days and was undoubtedly due to the British bias of our education. That day, Miss Mdingane told me that my new name was Nelson. Why this particular name I have no idea."
  14. "Mandela celebrates 90th birthday"। BBC। ১৭ জুলাই ২০০৮। সংগৃহীত ২৮ অক্টোবর ২০০৮ 
  15. "Healdtown Comprehensive School"। Historic Schools Project: South Africa। সংগৃহীত ২৮ অক্টোবর ২০০৮ 
  16. Mandela 1996, pp. 18-19.
  17. Mandela 1996, pp. 10, 20.
  18. "Nelson Mandela Biography - Early Years"। Nelson Mandela Foundation। সংগৃহীত ২৮ অক্টোবর ২০০৮ 
  19. "Nelson Mandela Children's Fund - Organise"। Nelson Mandela Children's Fund। সংগৃহীত ২৮ অক্টোবর ২০০৮ 
  20. "The 1948 election and the National Party Victory"। South African History Online। সংগৃহীত ২৮ অক্টোবর ২০০৮ 
  21. "The Defiance Campaign"। African National Congress। সংগৃহীত ২৮ অক্টোবর ২০০৮ 
  22. "Congress of the People, 1955"। African National Congress। সংগৃহীত ২৮ অক্টোবর ২০০৮ 
  23. Callinicos, Luli (২০০৪)। Oliver Tambo: Beyond the Engeli Mountains। New Africa Books। পৃ: 173। আইএসবিএন 0864866666 
  24. Mandela, Nelson (৩ জানুয়ারি ২০০০)। "The Sacred Warrior"Time 100: The Most Important People of the Century। সংগৃহীত ২৬ মে ২০০৮ 
  25. Bhana, Surendra; Vahed, Goolam (২০০৫)। The Making of a Political Reformer: Gandhi in South Africa, 1893–1914। পৃ: ১৪৯। 
  26. "Nelson Mandela's Testimony at the Treason Trial 1956-60"। African National Congress। সংগৃহীত ২৮ অক্টোবর ২০০৮ 
  27. "ANC - Statement to the Truth and Reconciliation Commission"। African National Congress। আগস্ট ১৯৯৬। সংগৃহীত ২৮ অক্টোবর ২০০৮ 
  28. "Umkhonto is Born"। African National Congress। সংগৃহীত ২৮ অক্টোবর ২০০৮ 
  29. Whittaker, David J. (২০০৩)। The Terrorism Reader (Updated সংস্করণ)। Routledge। পৃ: 244। আইএসবিএন 0415301017 
  30. "Tell me about the bomb at the brickworks - Frontline The Long Walk of Nelson Mandela"। PBS। 
  31. Mandela, Nelson (২০ এপ্রিল ১৯৬৪)। ""I am Prepared to Die" — Nelson Mandela's statement from the dock at the opening of the defence case in the Rivonia Trial"। African National Congress। সংগৃহীত ২৬ মে ২০০৮ 
  32. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; TerrorismReader নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  33. "Mandela admits ANC violated rights, too"। Financial Times। ২ নভেম্বর ১৯৯৮। 
  34. "BBC News: US shamed by Mandela terror link"। ১০ এপ্রিল ২০০৮। 
  35. "Mandela taken off US terror list"BBC News। ১ জুলাই ২০০৮। সংগৃহীত ১ জুলাই ২০০৮ 
  36. "5 August - This day in history"The History Channel। সংগৃহীত ২৮ অক্টোবর ২০০৮ 
  37. Blum, William। "How the CIA sent Nelson Mandela to prison for 28 years"। Third World Traveller। সংগৃহীত ২৬ মে ২০০৮ 
  38. Stein, Jeff (১৪ নভেম্বর ১৯৯৬)। "Our Man in South Africa"Salon.com। সংগৃহীত ২৬ মে ২০০৮ 
  39. Weiner, Tim (২০০৭)। Legacy of AshesPenguin Group। পৃ: ৩৬২। আইএসবিএন 978-1-846-14046-4 
  40. Katwala, Sunder (১১ ফেব্রুয়ারি ২০০১)। "The Rivonia Trial"The Guardian। London। সংগৃহীত ২৮ অক্টোবর ২০০৮ 
  41. "ANC Lilliesleaf Farm arrests"। South African History Online। ১১ জুলাই ১৯৬৩। সংগৃহীত ২৮ অক্টোবর ২০০৮ 
  42. Mandela, Nelson (২০ এপ্রিল ১৯৬৪)। "An ideal for which I am prepared to die"The Guardian। London। সংগৃহীত ২৮ অক্টোবর ২০০৮ 
  43. "The Sharpeville Massacre"TIME। ৪ এপ্রিল ১৯৬০। সংগৃহীত ২৮ অক্টোবর ২০০৮ 
  44. "Manifesto of Umkhonto we Sizwe"। African National Congress। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৬১। সংগৃহীত ২৬ মে ২০০৮ 
  45. "Rivonia Trial Papers"। Aluka। সংগৃহীত ২৮ অক্টোবর ২০০৮ 
  46. "Toward Robben Island: The Rivonia Trial"। African National Congress। সংগৃহীত ২৮ অক্টোবর ২০০৮ 
  47. "Mandela's jail overrun by rabbits"। BBC। ১৫ অক্টোবর ২০০৮। সংগৃহীত ২৮ অক্টোবর ২০০৮ 
  48. "A monument to Mandela: the Robben Island years"The Independent (London: Independent Print Limited)। ২ সেপ্টেম্বর ২০০৭। সংগৃহীত ২৮ অক্টোবর ২০০৮ 
  49. "Political prisoner recalls time on Robben Island"The Michigan Daily। ১৭ অক্টোবর ২০০২। সংগৃহীত ৯ মার্চ ২০১০ 
  50. Holmes, Steven A. (২২ জুন ১৯৯৪)। "Robben Island Journal; South Africa Ponders Fate of Apartheid's Bastille"NY Times। সংগৃহীত ২৮ অক্টোবর ২০০৮ 
  51. Kathrada, Ahmed; Mandela, Nelson (২০০৪)। Memoirs। Zebra। পৃ: 246। আইএসবিএন 1868729184  |coauthors= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  52. "The Big Read: Nelson Mandela: a living legend"Daily Observer। ২৫ জুলাই ২০০৮। সংগৃহীত ২৮ অক্টোবর ২০০৮ 
  53. Winter, Gordon (১৯৮১)। Inside BOSSPenguin Books 
  54. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; InsideBOSS নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  55. Hallengren, Anders (১১ সেপ্টেম্বর ২০০১)। "Nelson Mandela and the Rainbow of Culture"Nobelprize.org। The Nobel Foundation। আসল থেকে ২২ আগস্ট ২০০৮-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২৮ অক্টোবর ২০০৮ 
  56. Sparks, Allister (১৯৯৪)। Tomorrow is Another Country। Struik। 
  57. Cowell, Alan (১ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৫)। "South Africa hints at conditional release for jailed black leaders"NY Times। সংগৃহীত ২৮ অক্টোবর ২০০৮ 
  58. "Mandela's response to being offered freedom"। ANC। সংগৃহীত ২৮ অক্টোবর ২০০৮ 
  59. "Key Dates in South African History"। Nelson Mandela Children's Fund। সংগৃহীত ২৮ অক্টোবর ২০০৮ 
  60. "Free Nelson Mandela"। ANC। জুলাই ১৯৮৮। সংগৃহীত ২৮ অক্টোবর ২০০৮ 
  61. "PW Botha, unrepentant defender of apartheid, dies aged 90"The Independent (London: Independent Print Limited)। ১ নভেম্বর ২০০৬। সংগৃহীত ২৮ অক্টোবর ২০০৮ 
  62. Malam, John (২০০২)। The Release of Nelson Mandela: 11 February 1990। Cherrytree Books। আইএসবিএন 1842341030 
  63. http://icrc.org/web/eng/siteeng0.nsf/html/south-africa-feature-020709 South Africa: commemorating 150 years since the battle of Solferino
  64. http://icrc.org/web/eng/siteeng0.nsf/htmlall/5pkj9a Nelson Mandela: Red Cross a "beacon of humanity" for political prisoners
  65. "1990: Freedom for Nelson Mandela"। BBC। ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৯০। সংগৃহীত ২৮ অক্টোবর ২০০৮ 
  66. Ormond, Roger (১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৯০)। "Mandela free after 27 years"The Guardian। London। সংগৃহীত ২৮ অক্টোবর ২০০৮ 
  67. "Nelson Mandela's address to Rally in Cape Town on his Release from Prison"। ANC। ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৯০। সংগৃহীত ২৮ অক্টোবর ২০০৮ 
  68. "A Crime Against Humanity - Analysing the Repression of the Apartheid State"। South African History Online। সংগৃহীত ২৩ ডিসেম্বর ২০০৮ 
  69. "Profile of Nelson Rolihlahla Mandela"। African National Congress। সংগৃহীত ৮ মে ২০০৭ 
  70. "Boipatong Massacre"। African National Congress। ১৮ জুন ১৯৯২। সংগৃহীত ২৬ মে ২০০৮ 
  71. "Chris Hani assassinated. (Obituary)"। Social Justice। সংগৃহীত ২৩ ডিসেম্বর ২০০৮ 
  72. "Statement of the President of the ANC, Nelson Mandela on the assassination of Martin Chris Hani"। ১০ এপ্রিল ১৯৯৩। সংগৃহীত ২৩ ডিসেম্বর ২০০৮ 
  73. Soszynski, Henry। "Genealogical Gleanings"University of Queensland। সংগৃহীত ২৬ মে ২০০৮ 
  74. "Nelson Mandela - Timeline"। Nelson Mandela Foundation। সংগৃহীত ২৮ অক্টোবর ২০০৮ 
  75. "Mandela's life and times"। BBC। ১৬ জুলাই ২০০৮। সংগৃহীত ২৮ অক্টোবর ২০০৮ 
  76. "Madiba bids final farewell to his first wife"Independent Online। Independent News & Media। ৮ মে ২০০৪। সংগৃহীত ২৮ অক্টোবর ২০০৮ 
  77. "Nelson Mandela Biography - Black History"। Biography.com। সংগৃহীত ২৮ অক্টোবর ২০০৮ 
  78. "UWC - Presidents and Patrons"United World Collegesআসল থেকে ১৮ মে ২০০৮-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২৮ অক্টোবর ২০০৮ 
  79. Smith, Charlene; Tutu, Desmond (২০০৪)। Mandela: In Celebration of a Great Life। Struik। পৃ: 41। আইএসবিএন 1868728285  |coauthors= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  80. Timberg, Craig (৭ জানুয়ারি ২০০৫)। "Mandela Says AIDS Led to Death of Son"The Washington Post (The Washington Post Company)। সংগৃহীত ১৬ জুন ২০১০ 

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

উইকিসোর্স
উইকিসোর্স-এ এই লেখকের লেখা মূল বই রয়েছে:


বিষয়শ্রেণি:দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতি বিষয়শ্রেণি:১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে জন্ম বিষয়শ্রেণি:নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী বিষয়শ্রেণি:শাখারভ পুরস্কার বিজয়ী বিষয়শ্রেণি:২০১৩ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যু বিষয়শ্রেণি:নেলসন ম্যান্ডেলা বিষয়শ্রেণি:গান্ধি শান্তি পুরস্কার বিজয়ী বিষয়শ্রেণি:দক্ষিণ আফ্রিকার নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বিষয়শ্রেণি:ভারতরত্ন প্রাপক