মানিকগঞ্জ জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

মানিকগঞ্জ জেলার খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাঃ ১। স্কোয়াড্রন লিডার (অবঃ) বদরুল আলম (বীরউত্তরম) বারাহির চর, মানিকগঞ্জ। ২। শহীদ মাহফুজুর রহমান (বীরপ্রতীক) পিপুলিয়া, হরিরামপুর। ৩। মরহুম ইব্রাহীম খান (বীরপ্রতীক) বরংগাখোলা, মানিকগঞ্জ। ৪। মোঃ আতাহার আলী খান (বীরপ্রতীক) বাড়াইভিকরা, মানিকগঞ্জ। মানিকগঞ্জে যেমন একদিকে সক্রিয় মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল তেমনি বুদ্ধিজীবি সমাজও বিভিন্নভাবে স্বাধীনতা যুদ্ধে সহযোগিতা প্রদান করেছিলেন। তাঁদের অনেকেই স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে সংগঠিত ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা যুগিয়েছেন। একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে মানিকগঞ্জ শহর ১৩ই ডিসেম্বর হানাদার বাহিনী মুক্ত হয় এবং এ দিনটিকে স্মরণীয় রাখার জন্য প্রতি বছর মানিকগঞ্জে ১৩ই ডিসেম্বর থেকে বিজয় মেলা শুরু হয়। তথ্য সূত্রঃ http://www.manikganj.gov.bdhttp://infomanikganj.com/archives/category/the-person

মানিকগঞ্জ জেলা
প্রশাসনিক বিভাগ ঢাকা
আয়তন (বর্গ কিমি) ১,৩৭৮
জনসংখ্যা মোট: ১৫,৭৪,৮২৯
পুরুষ: ৪৯.৬৯%
মহিলা: ৫০.৩১%
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা: বিশ্ববিদ্যালয়: ০
কলেজ : ১৯
মাধ্যমিক বিদ্যালয়: ১৩০
মাদ্রাসা : ৮৭
শিক্ষার হার ২৬.৯ %
বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব রফিক উদ্দিন আহমদ [শহীদ রফিক], খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন, ড. অমর্ত্য সেন, বিচারপতি এ. কে. এম নূরুল ইসলাম, কর্ণেল (অবঃ) এম. এ মালেক, ক্যাপ্টেন আব্দুল হালিম চৌধুরী, হীরালাল সেন, খান আতাউর রহমান, কন্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম, কিশোরীলাল রায় চৌধুরী

তথ্য সূত্রঃ http://www.manikganj.gov.bdhttp://infomanikganj.com/archives/category/the-person

প্রধান শস্য ধান, পাট, আখ
রপ্তানী পণ্য তামাক, সুতি ও রেশমী বস্ত্র, গুড়

মানিকগঞ্জ জেলা বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের ঢাকা বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল।

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ[সম্পাদনা]

মানিকগঞ্জ জেলার উপজেলা গুলি হল -

ইতিহাস[সম্পাদনা]

মানিকগঞ্জ ঢাকা বিভাগের অন্তর্ভুক্ত একটি জেলা। এই জেলার উত্তর সীমান্তে টাঙ্গাইল জেলা, পশ্চিম, পশ্চিম দক্ষিণ, এবং দক্ষিণ সীমান্তে যথাক্রমে যমুনা এবং পদ্মা নদী পাবনা ও ফরিদপুর জেলা থেকে এ জেলাকে বিচ্ছিন্ন করেছে। পূর্ব, উত্তর পূর্ব এবং পূর্ব দক্ষিণে রয়েছে ঢাকা জেলার যথাক্রমে ধামরাই, সাভার, কেরানীগঞ্জ দোহার এবং নবাবগঞ্জ উপজেলা । ইহা ২৩˚ ৫২র্ ৪৫র্র্ অক্ষাংশ ও ৯০˚ ৪র্ ১৫র্র্ দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত । মানিকগঞ্জ জেলার আয়তন- ১৩৭৮.৯৯ বর্গ কিঃ মিঃ । বাংলার মধ্য-ভাটি অঞ্চলভূক্ত মানিকগঞ্জ জেলার ভূ-ভাগ নদীবাহিত পলি দ্বারা গঠিত। বিশেষত: পদ্মা, গঙ্গা, ধলেশ্বরী, ইছামতি, করতোয়া, বোরাসাগর তিস্তা ও ব্রক্ষ্মপুত্র প্রভৃতি নদনদী যুগ যুগ ধরে এ অঞ্চলের ভূমি গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।

সবুজ শস্য-শ্যামল প্রান্তর, রাশিরাশি বৃক্ষরাজি আর দূর দিগন্তে দৃষ্টির সীমানায় আকাশের নীলিমার সখ্যতা নিয়ে গাজীখালি, ধলেশ্বরী, কালীগঙ্গার তীরে গড়ে ওঠা বন্দর মানিকগঞ্জ। এ জেলার নৈসর্গিক দৃশ্যে মন হারিয়ে যায় প্রকৃতির সাথে। ধলেশ্বরীর রূপালী বেলাভূমিতে ভোরের আকাশের উদীয়মান সূর্যের শ্বাশত রূপ হয় মোহনীয়। এমন অপরূপ রূপের জেলা মানিকগঞ্জ।

মানিকগঞ্জ মহকুমা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৪৫ সালের মে মাসে। মানিকগঞ্জ মহকুমা প্রথমে ফরিদপুর জেলার (১৮১১ সালে সৃষ্ট) অধীন ছিল। প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনকল্পে ১৮৫৬ সালে মানিকগঞ্জ মহকুমাকে ফরিদপুর জেলা থেকে ঢাকা জেলায় অর্ন্তভূক্ত করা হয়। মানিকগঞ্জ জেলার উত্তর সীমান্তে টাঙ্গাইল জেলা। পশ্চিম এবং দক্ষিণ সীমান্তে যমুনা ও পদ্মা নদী পাবনা ও ফরিদপুর জেলাকে বিচ্ছিন্ন করেছে। পূর্ব, উত্তরপূর্ব এবং দক্ষিণে রয়েছে যথাক্রমে ধামরাই, সাভার, কেরানীগঞ্জ উপজেলা।

মূলতঃ সংস্কৃত ’মানিক্য’ শব্দ থেকে মানিক শব্দটি এসেছে। মানিক হচ্ছে চুনি পদ্মরাগ। গঞ্জ শব্দটি ফরাসী। মানিকগঞ্জ নামের উৎপত্তি সর্ম্পকীয় ইতিহাস আজও রহস্যাবৃত । মানিকগঞ্জ নামে কোন গ্রাম বা মৌজার অস্তিত্ব নেই। ১৮৪৫ সাল মহুকুমা সৃষ্টির আগে কোন ঐতিহাসিক বিবরণে বা সরকারী নথিপত্রে মানিকগঞ্জ এর নাম পাওয়া যায়নি। কিংবদন্তী রয়েছে যে, অষ্টাদশ শতকের প্রথমার্ধে মানিক শাহ নামক এক সুফি দরবেশ সিংগাইর উপজেলার মানিকনগর গ্রামে আগমন করেন এবং খানকা প্রতিষ্ঠা করে ইসলাম ধর্ম প্রচার করেন । পরবর্তীকালে তিনি এ খানকা ছেড়ে হরিরামপুর উপজেলায় দরবেশ হায়দার সেখের মাজারে গমন করেন এবং ইছামতি তীরবর্তী জনশূন্য চরাভূমি বর্তমান মানিকনগরে এসে খানকা প্রতিষ্ঠা করেন । এ খানকাকে কেন্দ্র করে এখানে জনবসতি গড়ে উঠে । উক্ত জনবসতি মানিক শাহ’র পূণ্য স্মৃতি ধারন করে হয়েছে মানিকনগর । মানিক শাহ শেষ জীবনে ধামরাইতে অবস্থিত আধ্যাত্নিক গুরুর দরবার শরীফে ফিরে যাবার মানসে পূনরায় দ্বিতীয় খানকা ছেড়ে ধলেশ্বরীর তীরে পৌঁছেন । জায়গাটির নৈসর্গিক দৃশ্য তার পছন্দ হয় । তিনি এখানে খানকা স্থাপন করেন । প্রথম ও দ্বিতীয় খানকার ভক্তবৃন্দও এখানে এসে দীক্ষা নিতো । মানিকশাহর অলৌকিক গুনাবলীর জন্য জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করতেন । এমনকি দস্যূ তস্করগণও কোন অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে খানকার ধারে কাছে আসতো না । তাই ভক্তবৃন্দ ছাড়া বণিকগণও এখানে বিশ্রাম নিতো এবং রাত্রি যাপন করত । এভাবেই ধলেশ্বরীর তীরে মানিক শাহ’র খানকাকে কেন্দ্র করে জনবসতি ও মোকাম প্রতিষ্ঠিত হয় । কেউ বলেন দুর্ধর্ষ পাঠান সরদার মানিক ঢালীর নামানুসারে মানিকগঞ্জ নামের উৎপত্তি হয়। আবার কেউ কেউ বলেন নবাব সিরাজ উদ-দৌলার বিশ্বাস ঘাতক মানিক চাঁদের প্রতি ইংরেজদের কৃতজ্ঞতা স্বরূপ তার নামানুসারে ১৮৪৫ সালে মে মাসে মানিকগঞ্জ মহকুমা নামকরন হয়। মানিকগঞ্জ মহকুমার নামকরণ সম্পর্কীয় উল্লেখকৃত তিনটি পৃথক পটভূমি স্থানীয় জনশ্রুতি এবং অনুমান ভিত্তিক । এ ব্যাপারে সরাসরি কোন দলিল দস্তাবেজ অথবা ঐতিহাসিক প্রতিবেদন এপর্যন্ত পাওয়া যায়নি, তবে মানিক শাহের নামানুসারে মানিকগঞ্জ মহকুমার নামরকণ সম্পর্কীয় জনশ্রুতি এবং ঘটনা প্রবাহের যে চিত্র ও ধারনা পাওয়া যায় তাই যুক্তিযুক্ত বলে মনে হয় । মানিকগঞ্জ এলাকা ছিল বার ভূঁইয়াদের চারণ ভূমি। যাত্রাপুর, ডলনরা, কাটানগর, গড়পাড়া, খলশী, বৈরাগী, চন্দ্রপ্রতাপ প্রভৃতি স্থানসমূহ এবং ইছামতির সমগ্র তটভূমি আজও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ইতিহাস বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। মানিকগঞ্জ মহকুমা প্রতিষ্ঠা লগ্নে তিনটি থানা ছিল। কিন্তু প্রশাসনিক প্রয়োজনে ত্রিশ শতকের দ্বিতীয় দশকে থানার সংখ্যা সাত এ উন্নীত হয়।

তথ্য সূত্রঃ http://www.manikganj.gov.bdhttp://infomanikganj.com

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

চিত্তাকর্ষক স্থান[সম্পাদনা]

মানিকগঞ্জ জেলার আরিচা ঘাট এই এলাকার অন্যতম দর্শনীয় স্থান। যমুনা সেতুর আগে এই ঘাট দিয়েই যানবাহন পারাপার করা হতো। বেউথা ঘাট [কালিগঙ্গা নদীর তির]

বালিয়াটি প্রাসাদ, সাটুরিয়াঃ মানিকগঞ্জ জেলার পুরাকীর্তির ইতিহাসে বালিয়াটির জমিদারদের অবদান উল্লেখ যোগ্য। বালিয়াটির জমিদারেরা ঊনিশ শতকের প্রথমার্ধ থেকে আরম্ভ করে বিশ শতকের প্রথমার্ধ পর্যন্ত প্রায় শতাধিক বছর বহুকীর্তি রেখে গেছেন যা জেলার পুরাকীর্তিকে বিশেষভাবে সমৃদ্ধ করেছে।

তথ্য সূত্রঃ http://www.manikganj.gov.bdhttp://infomanikganj.com/archives/category/tourism-antiquities

তেওতা জমিদার বাড়ী , শিবালয়ঃ মানিকগঞ্জ উপজেলাধীন শিবালয় উপজেলার তেওতা জমিদার বাড়িটি বাবু হেমশংকর রায় চৌধুরী, বাবু জয় শংকর রায় চৌধুরী পিং দুই সহোদর ভ্রাতার নিজ বসতবাড়ী ছিল। তেওতা অবস্থান করে তারা জমিদারি পরিচালনা করতেন।

তথ্য সূত্রঃ http://www.manikganj.gov.bdhttp://infomanikganj.com/archives/category/tourism-antiquities

আনুষঙ্গিক নিবন্ধ[সম্পাদনা]