বান্দরবান জেলা
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
| বান্দরবান জেলা | |
| বান্দরবান | |
| বিভাগ | চট্টগ্রাম বিভাগ |
| স্থানাঙ্ক | |
| আয়তন | ৪,৪৭৯ বর্গ কিমি |
| সময় স্থান | বিএসটি (ইউটিসি+৬) |
| জনসংখ্যা (১৯৯১) - ঘণত্ব - শিক্ষার হার |
২৯২৯০০ - ৬৫.৩৯/কিমি² - ৩৯।.৫% |
| ওয়েবসাইট: বাংলাপিডিয়া নিবন্ধ | |
| মানচিত্র সংযোগ: বান্দরবান জেলার প্রাতিষ্ঠানিক মানচিত্র | |
বান্দরবান জেলা বাংলাদেশের দক্ষিন-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে চট্টগ্রাম বিভাগে অবস্থিত। এটি পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের অন্তর্গত । এই অঞ্চলের অন্য দুইটি জেলা হল রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি। বান্দরবান সদর মারমা রাজা অংশুপ্রু-এর বাসভূমি। বান্দরবান জেলা এর নৈসর্গিক বৈচিত্র্যের জন্য বাংলাদেশের একটি গুরূত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
সূচিপত্র |
[সম্পাদনা] ভৌগলিক সীমানা
বাংলাদেশের তিনটি পার্বত্য জেলার মধ্যে একটি বান্দরবান বাংলাদেশের সবচেয়ে কম জনবসতিসম্পন্ন স্থান। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ তাজিনডং (১০০৩ মিটার) বান্দরবান জেলায় অবস্থিত, যা বিজয় বা মদক মুয়াল নামেও পরিচিত। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পর্বতশৃঙ্গ কেওক্রাডং (৮৮৩ মিটার) এবং সর্বোচ্চ খাল রাইখিয়াং এই জেলায় অবস্থিত। এখানকার অন্য দুটি দশর্নীয় স্থান হল চিম্বুক পাহাড় ও বগা লেক।
এখানকার সড়কপথে সংযোগগুলো হচ্ছে চিম্বুক - রুমা, বান্দরবান - রংছড়ি - রুমা, আজিজনগর - গজালিয়া - লামা, খানহাট - ধোপাছড়ি - বান্দরবান, বান্দরবান - চিম্বুক - থানচি - আলীকদম - বৈসারী - ধুনধাম এবং চিম্বুক - টন্কাবতী - বারো আউলিয়া
বাংলাদেশের ভিতরে , বান্দরবানকে ঘিরে রয়েছ কক্সবাজার, চট্রগ্রাম, রাঙামাটি এবং খাগড়াছড়ি। অন্যদিকে রয়েছে মায়ানমারের চিন প্রদেশ এবং আরাকান প্রদেশের সীমান্ত।
[সম্পাদনা] নদনদী
এই জেলার অন্যতম নদী সাঙ্গু নদী যা সাংপো বা শঙ্খ নামেও পরিচিত। এই নদীর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল যে এটি বাংলাদেশের একমাত্র নদী যা দক্ষিণ থেকে উত্তরে প্রবাহিত হয়। অন্যান্য নদীর মধ্যে রয়েছে মাতামুহুরী এবং বখালী।
[সম্পাদনা] প্রশাসনিক এলাকাসমূহ
বান্দরবান জেলা ৭টি উপজেলায় বিভক্ত। এগুলো হলো:
- আলিকদম উপজেলা
- থানচি উপজেলা
- নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা
- বান্দরবান সদর উপজেলা
- রুমা উপজেলা
- রোয়াংছড়ি উপজেলা
- লামা উপজেলা
[সম্পাদনা] ইতিহাস
এই বিষয়ে মূল নিবন্ধের জন্য দেখুন: পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস
বান্দরবান পার্বত্য চট্টগ্রামের অংশ। এই অঞ্চলটি ১৫৫০ সালের দিকে প্রণীত বাংলার প্রথম মানচিত্রে বিদ্যমান ছিল। তবে এর প্রায় ৬০০ বছর আগে ৯৫৩ সালে আরাকানের রাজা এই অঞ্চল অধিকার করেন। ১২৪০ সালের দিকে ত্রিপুরার রাজা এই এলাকা দখল করেন। ১৫৭৫ সালে আরাকানের রাজা এই এলাকা পুনর্দখল করেন, এবং ১৬৬৬ সাল পর্যন্ত অধিকারে রাখেন। মুঘল সাম্রাজ্য ১৬৬৬ হতে ১৭৬০ সাল পর্যন্ত এলাকাটি সুবা বাংলার অধীনে শাসন করে। ১৭৬০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এই এলাকা নিজেদের আয়ত্বে আনে। ১৮৬০ সালে এটি ব্রিটিশ ভারতের অংশ হিসাবে যুক্ত হয়। ব্রিটিশরা এই এলাকার নাম দেয় চিটাগাং হিল ট্র্যাক্ট্স বা পার্বত্য চট্টগ্রাম। এটি চট্টগ্রাম জেলার অংশ হিসাবে বাংলা প্রদেশের অন্তর্গত ছিল। ১৯৪৭ সালে এই এলাকা পূর্ব পাকিস্তানের অংশ হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এটি বাংলাদেশের জেলা হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে পার্বত্য চট্টগ্রামকে তিনটি জেলা - রাঙামাটি, বান্দরবান, ও খাগড়াছড়ি-তে বিভক্ত করা হয়। [১]
[সম্পাদনা] অর্থনীতি
[সম্পাদনা] চিত্তাকর্ষক স্থান
বান্দরবান ঢাকা থেকে ৮ ঘন্টা, চট্টগ্রাম থেকে ২ ঘন্টাএবং কক্সবাজার থেকে ৩ ঘন্টার পথ। রাঙ্গামাটি থেকে যেতে হলে ৬ ঘন্টার বাসভ্রমণ করতে হয়। শহর থেকে প্রায় ৪কিমি দূরে বালাঘাটায় রয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৌদ্ধ মন্দির। এটি সম্পূর্ণরূপে দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার মন্দিরগুলোর অনুকরণে তৈরি করা হয়েছে এবং বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৌদ্ধ মুর্তিটি এখানে রয়েছে। মিলানছড়িতে অবস্থিত শৈলপ্রপাতটিও বিশেষ দর্শনীয়।
এখানে একটি বৌদ্ধমন্দির রয়েছে যা অধিবাসীদের কাছে কিয়াং নামে পরিচিত । এছাড়া শহরের মধ্যেই রয়েছে যাদিপাড়ার রাজবিহার এবং উজানীপাড়ার বিহার । শহর থেকে চিম্বুকের পথে যেতে পড়বে ব্যোম ও ম্রু উপজাতীয়দের গ্রাম। প্রান্তিক হ্রদ, জীবননগর এবং কিয়াচলং হ্রদ আরও কয়েকটি উল্লেখ্য পর্যটন স্থান। রয়েছ মেঘলা সাফারী পার্ক। সাঙ্গু নদীতে নৌকা ভ্রমণ, ভ্রমণ পিয়াসীদের জন্য হতে পারে একটি মনোহর অভিজ্ঞতা।
এছাড়া বাংলাদেশের উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ তাজিন ডং এবং বৃহত্তম পর্বতশৃঙ্গ কেওক্রাডাং এই বন্দরবন জেলাতেই অবস্থিত। মৌসুমগুলোতে এই দুটি পর্বতশৃঙ্গে আরোহন করার জন্য পর্যটকদের ভীড় জমে উঠে। পর্যটকরা সাধারণত বগা হ্রদ থেকে হেটে কেওক্রাডাংয়ে যান। অনেকেই আছেন যারা কেওক্রাডাং না গিয়ে বগা হ্রদ থেকে ফিরে আসেন। এই হ্রদটিও বিশেষ দর্শনীয় স্থান। হ্রদ সন্নিহিত এলাকায় বম উপজাতিদের বাস।
[সম্পাদনা] গ্যালারি
[সম্পাদনা] তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা] আনুষঙ্গিক নিবন্ধ
|
|
||
|---|---|---|
| খুলনা বিভাগ | বাগেরহাট • চুয়াডাঙ্গা • যশোর • ঝিনাইদহ • খুলনা • কুষ্টিয়া • মাগুরা • মেহেরপুর • নড়াইল • সাতক্ষীরা | |
| চট্টগ্রাম বিভাগ | বান্দরবান • ব্রাহ্মণবাড়িয়া • চাঁদপুর • চট্টগ্রাম • কুমিল্লা • কক্সবাজার • ফেনী • খাগড়াছড়ি • লক্ষ্মীপুর • নোয়াখালী • রাঙামাটি | |
| ঢাকা বিভাগ | ঢাকা • ফরিদপুর • গাজীপুর • গোপালগঞ্জ • জামালপুর • কিশোরগঞ্জ • মাদারীপুর • মানিকগঞ্জ • মুন্সিগঞ্জ • ময়মনসিংহ • নারায়ণগঞ্জ • নরসিংদী • নেত্রকোনা • রাজবাড়ী • শরিয়তপুর • শেরপুর • টাঙ্গাইল | |
| বরিশাল বিভাগ | বরগুনা • বরিশাল • ভোলা • ঝালকাঠি • পটুয়াখালী • পিরোজপুর | |
| রাজশাহী বিভাগ | বগুড়া • দিনাজপুর • গাইবান্ধা • জয়পুরহাট • কুড়িগ্রাম • লালমনিরহাট • নওগাঁ • নাটোর • নবাবগঞ্জ • নিলফামারী • পাবনা • পঞ্চগড় • রাজশাহী • রংপুর • সিরাজগঞ্জ • ঠাকুরগাঁও | |
| সিলেট বিভাগ | হবিগঞ্জ • মৌলভীবাজার • সুনামগঞ্জ • সিলেট | |

