চট্টগ্রাম জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
চট্টগ্রাম জেলা
Chittagong
জেলা
চট্টগ্রাম শহর
বাংলাদেশে চট্টগ্রাম জেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২২°২০′১৫″ উত্তর ৯১°৫০′২০″ পূর্ব / ২২.৩৩৭৫° উত্তর ৯১.৮৩৮৯° পূর্ব / 22.3375; 91.8389
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ চট্টগ্রাম বিভাগ
আয়তন
 • মোট ৫,২৮৩
জনসংখ্যা (2011)
 • মোট ৭৯,১৩,৩৬৫[১]
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট ৫৮.৯%
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
ওয়েবসাইট জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইট

চট্টগ্রাম জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। পাহাড়, সমুদ্র, উপত্যকা, বন‌-বনানীর কারণে চট্টগ্রামের মতো ভৌগোলিক বৈচিত্র বাংলাদেশের আর কোন জেলার নেই।

ভূগোল[সম্পাদনা]

ভৌগোলিক অবস্থান : বাংলাদেশের দক্ষিণপূর্বে ২০০‌৩৫’ থেকে ২২০৫৯’উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯১০২৭’থেকে ৯২০২২’ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ বরাবর এর অবস্থান। ভৌগোলিক সীমানা : চট্টগ্রাম জেলার উত্তরে ফেনী জেলা এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, দক্ষিণে কক্সবাজার জেলা, পূর্ব দিকে বান্দরবান, রাঙামাটি, ও খাগড়াছড়ি জেলা, এবং পশ্চিমে নোয়াখালী জেলা এবং বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। এছাড়া দ্বীপাঞ্চল সন্দ্বীপ চট্টগ্রামের অংশ।

নামকরনের ইতিহাস[সম্পাদনা]

চট্টগ্রামের প্রায় ৪৮টি নামের খোঁজ পাওয়া গেছে। এরমধ্যে রয়েছে ‌ রম্যভুমি, চাটিগা, চাতগাও, রোসাং, চিতাগঞ্জ, জাটিগ্রাম ইত্যাদি। চট্টগ্রাম নামের উৎপত্তি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতভেদ রয়েছে। পণ্ডিত বার্নোলির মতে, আরবি "শ্যাত (খন্ড)" অর্থ বদ্বীপ, গাঙ্গ অর্থ গঙ্গা নদী‌ এ থেকে চট্টগ্রাম নামের উৎপত্তি। অপর এক মত অনুসারে ত্রয়োদশ শতকে এ অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করতে বার জন আউলিয়া এসেছিলেন, তাঁরা একটি বড় বাতি বা চেরাগ জ্বালিয়ে উঁচু জায়গায় স্থাপন করেছিলেন। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় 'চাটি' অর্থ বাতি বা চেরাগ এবং 'গাঁও' অর্থ গ্রাম। এ থেকে নাম হয় 'চাটিগাঁও'। আবার এশিয়াটিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা স্যার উইলিয়াম জোন্সের মতে এ এলাকার একটি ক্ষুদ্র পাখির নাম থেকে চট্টগ্রাম নামের উৎপত্তি।চট্টগ্রাম ১৬৬৬ সালে মোগল সাম্রাজ্যের অংশ হয়। আরাকানীদের হটিয়ে মোঘলরা এর নাম রাখেন ইসলামাবাদ। মোগলরা এর প্রশাসনিক সীমানা চিহ্নত করে। ১৭৬০ সালে মীর কাশিম আলী খান ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে এটি হস্তান্তর করেন। ব্রিটিশরা এর নাম রাখেন চিটাগাং।

সাধারন ইতিহাস[সম্পাদনা]

চট্টগ্রাম জেলার মানচিত্র

খ্রিষ্টীয় নবম শতাব্দী থেকেই আরবগণ চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে পরিচিত ছিল। এশিয়ার ঘটনাবলী বর্ণনা করেছেন এমন বিখ্যাত পর্তুগিজদের মধ্যে প্রথম ঐতিহাসিক ডি বারোস ১৫৫২ সালে চট্টগ্রামকে এর বন্দরের জন্য বাংলারাজ্যের সর্বাপেক্ষা বিখ্যাত ও সম্পদশালী নগরী বলে বর্ণনা করেছেন; যেখানে পূর্বাঞ্চলের সকল বাণিজ্য জাহাজ সমবেত হতো ।বর্মি ঘটনাপঞ্জিতে আরাকান অঞ্চলের নরপতিদের এক দীর্ঘ তালিকা পাওয়া যায় । ষষ্ঠ ও সপ্তম শতকে চট্টগ্রাম আরাকান রাজ্যের অমত্মর্ভূক্ত ছিল । এ সকল নরপতির নামের শেষে চন্দ্র পদবি যুক্ত ছিল। ঐতিহাসিক লামা তারনাথ গোপিচন্দ্র নামে এক বৌদ্ধরাজার নাম উল্লেখ করেছেন, দশম শতাব্দীতে যার রাজধানী ছিল চট্টগ্রামে । তিববতি জনশ্রুতি মতে চট্টগ্রাম ছিল দশম শতাব্দীতে কর্মরত বৌদ্ধতান্ত্রিক তিলাযোগীর জন্মস্থান । বাংলার শাসক গিয়াসউদ্দীন তুঘলক বাংলাকে লখনৌতি, সাতগাঁও ও সোনারগাঁও ও তিনটি প্রশাসনিক এলাকায় বিভক্ত করেন । ১৩৩৮ সালে ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ সোনারগাঁও এ ক্ষমতা দখল করেন এবং স্বল্প সময়ের মধ্যেই চট্টগ্রাম অধিকার করেন । তিনি চাঁদপুর হতে চট্টগ্রাম পর্যমত্ম একটি মহাসড়ক এবং চট্টগ্রামের কয়েকটি মসজিদ ও সমাধিসৌধ নির্মাণ করেন । শেরশাহ এর হাতে সুলতান গিয়াসউদ্দীন মাহমুদ শাহ এর পতনের পর ১৫৩৮ হতে ১৬৬৬ সাল পর্যমত্ম সময়কালে পর্তুগিজরা চট্টগ্রামে ঘন ঘন আক্রমণ চালায় এবং প্রকৃতপক্ষে এ সময়ে চট্টগ্রাম তাদেরই শাসনাধীন ছিল। পরবর্তী ১২৮ বছর চট্টগ্রাম পতুর্গিজ ও মগ জলদস্যুদের আবাসস্থলে পরিণত হয়। মুঘলদের চট্টগ্রাম বিজয়ের ফলে সার্বিকভাবে এ জেলায় এবং বিশেষ করে নগরীতে শামিত্ম শৃংখলা পুন:প্রতিষ্ঠিত হয়। অবশ্য পর্তুগিজদের অধিকারে থাকাকালে চট্টগ্রাম নগরী ও বন্দর ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে বিশেষ সুখ্যাতি অর্জন করে। অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীতে প্রধানত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্যিক কার্যক্রম বৃদ্ধিতে দিনে দিনে কলকাতার উত্থান ও উন্নয়নের ফলে এতদঞ্চলে চট্টগ্রাম গুরুত্ব হ্রাস পায়।১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ এবং পূর্ববাংলা ও আসাম নিয়ে প্রদেশ সৃষ্টি হলে চট্টগ্রাম পুনরায় প্রাধান্য লাভ করে। আসামবেঙ্গল রেলওয়ে নির্মাণের ফলে এর প্রাকৃতিক পশ্চাদভূমির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের সংযোগ সাধিত হয় এবং সার্বিকভাবে চট্টগ্রাম ব্যাপক প্রবৃদ্ধি অর্জন করে ।

১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লব এর সময় ৩৪তম বেঙ্গল পদাতিক রেজিমেন্টের ২য়, ৩য় ও ৪র্থ কোম্পানীগুলি চট্টগ্রামে মোতায়েন ছিল। ১৮ নভেম্বর রাতে উল্লিখিত তিনটি কোম্পানী বিদ্রোহী হয়ে ওঠে এবং জেল থেকে সকল বন্দি মুক্ত করে সিপাহিরা ৩টি সরকারি হাতি, গোলাবারুদ ও ধনসম্পদ নিয়ে চট্টগ্রাম ত্যাগ করে। তারা পার্বত্য ত্রিপুরার সীমামত্ম পথ ধরে এগিয়ে সিলেট ও কাছাড়ে পৌঁছে । দূর্ভাগ্যবশত তাদের সকলেই কুকি স্কাউটস এবং পরবর্তীকালে দশম গোর্খা রাইফেল নামে পরিচিত সিলেট লাইট ইনফ্যান্ট্রির হাতে নিহত বা বন্দি হয়।

১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল রাতে ৭০০ যুবক কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে একটি নির্দিষ্ট সময়ে আর্টিলারী কোরের অস্ত্রাগার ও গোলাবারুদের ভান্ডার আক্রমণ করে, টেলিফোন ও টেলিফোন অফিস দখল করে এবং ধুম নামক স্থানে রেলপথের ফিসপ্লেট উপড়ে ফেলে সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় । তাছাড়া মাষ্টারদা নামে খ্যাত বৃটিশ রাজের ভীত কাপানো এ বিপ্লবীর তত্বাবধানে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার নামে এক উচ্চ শিক্ষিতা বিপ্লবী নারীর নেতৃত্বে পাহাড়তলীতে অবস্থিত কুখ্যাত ইউরোপীয়ান ক্লাব আক্রমন করে তা ধংস করে দেয়া হয় । ক্লাব ধংস করে ফেরার পথে ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে মহীয়ষী এ নারী পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্নহত্যা করেন । পরবর্তীতে সূর্যসেন ইংরেজ শাসকগন কর্তৃক গ্রেফতার হন এবং ১৯৩৩ সালের ২০শে এপ্রিল তাঁকে ফাঁসি দেয়া হয় ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ব্রিটিশগণ চট্টগ্রামকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে । ফলে চট্টগ্রাম জাপানি আক্রমনের লক্ষ্যস্থলে পরিণত হয় । ১৯৪২ সালের এপ্রিলে পতেঙ্গার বিমানঘাটিতে পর পর দুদিন এবং ঐ বছর ২০ ও ২৪ ডিসেম্বর পুনরায় বোমাবর্ষণ করা হয়।

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ[সম্পাদনা]

চট্টগ্রাম জেলা ৪১ ওয়ার্ড বিশিষ্ট ১টি সিটি কর্পোরেশন, ১৪টি উপজেলা, ২৭টি থানা, ১৩টি পৌরসভা, ১৯৪টি ইউনিয়ন, ১২৬৭টি গ্রাম, ৮৯০টি মৌজা, ১৬টি সংসদীয় আসন নিয়ে গঠিত। [২][৩]

উপজেলা সমূহ[সম্পাদনা]

চট্টগ্রাম জেলা ১৪টি উপজেলা। উপজেলা গুলো হলোঃ

চট্টগ্রাম শহর এলাকা ১৬টি থানার অধীনঃ চান্দগাঁও, বায়জীদ বোস্তামী, বন্দর, ডবলমুরিং, পতেঙ্গা, কোতোয়ালী, পাহাড়তলী, পাঁচলাইশ, বাকলিয়া, কর্ণফুলী, হালিশহর, খুলশী থানা এবং নবগঠিত চকবাজার, আকবরশাহ, সদরঘাটইপিজেড[৪]

পৌরসভা সমূহ[সম্পাদনা]

সাহিত্য[সম্পাদনা]

চট্টগ্রামে বাংলা সাহিত্যের বিকাশ শুরু হয় ষোড়শ শতকে। সে সময়কার চট্টগ্রামের শাসক পরাগল খাঁ এবং তার পুত্র ছুটি খাঁর সভা কবি ছিলেন কবীন্দ্র পরমেশ্বরশ্রীকর নন্দী[৫] কবীন্দ্র পরমেশ্বর মহাভারতের অশ্বমেধ পর্বের একটি সংক্ষিপ্ত বাংলা অনুবাদ করেন। আর শ্রীকর নন্দী জৈমিনি সংহিতা অবলম্বনে অশ্বমেধ পর্বের বিস্তারিত অনুবাদ করেন।

চট্টগ্রামের মধ্যযুগের কবি[সম্পাদনা]

কবি শাহ মোহাম্মদ ছগির, রহিমুন্নিসা, আলী রজা, মুহম্মদ মুকিম, কবি মুজাম্মিল, কবি আফজাল আলী, সাবিরিদ খান, কবীন্দ্র পরমেশ্বর, শ্রীকর নন্দী, দৌলত উজির বাহরাম খান, হাজী মুহম্মদ কবির, কবি শ্রীধর, সৈয়দ সুলতান, শেখ পরান, মোহাম্মদ নসরুল্লা খাঁ, মুহাম্মদ খা, নওয়াজিশ খান, করম আলী, কবি কাজি হাসমত আলী

আরাকানের রাজসভায় চট্টগ্রামের কবি[সম্পাদনা]

দৌলত কাজী, মহাকবি আলাওল, কোরেশী মাগন ঠাকুর, কবি মরদন এবং আব্দুল করিম খোন্দকার[৬]

অষ্টম শতক থেকে পরবর্তীকালের উল্লেখযোগ্য কবি ও সাহিত্যিক[সম্পাদনা]

কবি আবদুল হাকিম, রামজীবন বিদ্যাভূষণ, ভবানী শঙ্কর দাস, নিধিরাম আচার্য, মুক্তারাম সেন, কবি চুহর/হামিদুল্লা খান/আসকর আলী পন্ডিত/রঞ্জিত রাম দাস/রামতনু আচার্য/ভৈরব আইচ/নবীন চন্দ্রদাস/নবীনচন্দ্র সেন/শশাঙ্ক মোহন সেনগুপ্ত/আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ, মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী/বেন্দ্রকুমার দত্ত/হেমেন্দ্র বালা দত্ত/পূর্ণচন্দ্র চৌধুরী/আশুতোষ চৌধুরী/সতীশচন্দ্র বিদ্যাভূষণ।

আধুনিক যুগের কবি-সাহিত্যিক[সম্পাদনা]

মাহাবুব উল আলম, আবুল ফজল (সাহিত্যিক), সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ, ওহীদুল আলম, ডক্টর আবদুল করিম, আহমদ শরীফ, আইনুন নাহার/নুরুন নাহার/সুচরিত চৌধুরী, আবদুল হক চৌধুরী/কবি-কথাসাহিত্যিক আহমদ ছফা/কবি সর্বানন্দ বড়ুয়া/কবি নবীন দাশ/ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া/চৌধুরী জহুরুল হক।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

চট্টগ্রাম জেলার ভৃ-প্রকৃতি[সম্পাদনা]

চট্টগ্রাম জেলার আয়তন ৫,২৮২.৯৮ বর্গ কিমি। উত্তরে খাগড়াছড়ি অ রাঙ্গামাটি এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য,দক্ষিণে কক্সবাজার জেলা,পূর্বে বান্দারবান, রাঙ্গামাটি এবং খাগড়াছড়ি, পশ্চিমে নোয়াখালী জেলা ও বঙ্গোপ্সাগর।পাহাড়, নদী, সমূদ্র,অরণ্য,উপত্যকা প্রভৃতি প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের জন্যে এ জেলা অন্যান্য জেলা থেকে স্বতন্ত্র। বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ৩৩.৮সে.এবং সর্বনিম্ন ১৪.৫সে. । বার্ষিক বৃষ্টিপাত ৩,১৯৪ মিমি। প্রধান নদীঃ কর্ণফুলী,হালদা ও সাঙ্গু।

খনিজ সম্পদ[সম্পাদনা]

জেলার একমাত্র গ্যাস ফিল্ড সাঙ্গু ১৯৯৪ সালে আবিস্কৃত হয়। ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ সরকারের সাথে কেয়ার্ণ এনার্জির এই গ্যাস ফিল্ড নিয়ে চুক্তি সম্পাদিত হয়। ১৯৯৮ সালের এপ্রিল মাস থেকে এ গ্যাস ফিল্ড থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়।

নদনদী[সম্পাদনা]

এখানকার প্রধান নদীর মধ্যে কর্ণফুলী নদী, হালদা নদী, সাঙ্গু নদী, এবং মুহুরী নদী উল্লেখযোগ্য।

যোগাযোগ ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

চট্টগ্রাম আমাদের দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বাংলাদেশের সর্বমোট রপ্তানী বাণিজ্যের প্রায় ৭৫ ভাগ সংঘটিত হয়। অন্যদিকে আমদানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এ হার ৮০ ভাগ। রাজস্ব আয়েও চট্টগ্রামের ভুমিকা অপরিসীম। আমাদের মোট রাজস্ব আয়ের শতকরা ৬০ ভাগ আসে চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে। বাংলাদেশের প্রথম রপ্তানী প্রক্রিয়াকরন অঞ্চল হিসাবে ১৯৮৩ সালে চট্টগ্রামের হালিশহরে ৪৫৩ একর জায়গার উপর নির্মাণ করা হয় চট্টগ্রাম ইপিজেড। এটা সমুদ্র বন্দর থেকে ৩.১০ কিলোমিটার এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে মাত্র ১১.৩০ কিলোমিটার দুরত্বে হওয়ায় শিল্প পার্ক হিসাবে দ্রুত প্রসার লাভ করেছ। চট্টগ্রাম বন্দর বিশ্বের একমাত্র প্রাকৃতিক সমুদ্র বন্দর।

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

চট্টগ্রাম জেলার ঐতিহাসিক এবং দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছেঃ

  • সীতার পাহার - সীতাকুন্ড ।
  • বাড়বকুন্ড
  • পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত
  • নেভাল এরিয়া
  • শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর।
  • ফয়্‌স লেক
  • চেরাগি পাহাড় মোড় (স্মৃতি মিনার)
  • জে এম সেন হল
  • নজরুল স্কয়ার (ডি.সি হিল)
  • লালদীঘি
  • কালুরঘাট
  • পার্কির চর (আনয়ারা)।
  • বৌদ্ধ তীর্থ স্থান চক্রশালা পটিয়া
  • বাটালী হিল
  • আন্দর কিল্লা জামে মসজিদ
  • বাঁশখালী ইকোপার্ক।
  • খানখানাবাদ সমুদ্র সৈকত, বাঁশখালী।
  • খিরাম সংরক্ষিত বনাঞ্চল, ফটিকছড়ি।
  • লোহাগাড়া বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য।
  • মহামুনি বৌদ্ধ বিহার, রাউজান।
  • চাঁদপুর-বেলগাঁও চা বাগান, পুকুরিয়া, বাশখালী।
  • ভূজপুর সংরক্ষিত বনাঞ্চল, ভূজপুর, ফটিকছড়ি।
  • মহামায়া সেচ প্রকল্প, মীরসরাই।

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

  • মাস্টার দা সূর্য সেন (জন্ম: ২২ মার্চ, ১৮৯৪ - মৃত্যু: ১২ জানুয়ারি, ১৯৩৪)-জন্ম চট্টগ্রামের রাউজান থানার নোয়াপাড়ায় । ভারত উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নেতা হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিত্ব।
  • আলাওল (কবি)
  • নির্মলকুমার সেন (১৮৯৮-১৯৩২) - জন্ম. কোয়েপাড়া গ্রাম, সূর্য সেনের বিপ্লবী দলের সদস্য।
  • আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ (১৮৭১-১৯৫৩) - জন্ম. সুচক্রদন্ডী গ্রাম, সংগ্রাহক ও লেখক।
  • আহমদ শরীফ (১৯২১ - ১৯৯৯) - জন্ম. সুচক্রদন্ডী গ্রাম, শিক্ষাবিদ, সাহিত্য সমালোচক, লেখক ও গবেষণামূলক প্রবন্ধকার।
  • ডা: নুরুল ইসলাম (১৯২৮ - ২০১৩) - জন্ম: মোহাম্মদপুর গ্রাম। জাতীয় অধ্যাপক ।
  • মুহাম্মদ ইউনূস (অর্থনীতিবিদ ও নোবেল জয়ী)
  • লেখক আহমদ ছফা (জুন ৩০, ১৯৪৩ - জুলাই ২৮, ২০০১) জন্ম: দক্ষিণ গাছবাড়ীয়া। একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক, কবি ও সমাজবিজ্ঞানী
  • প্রফেসর জামাল নজরুল ইসলাম (জন্ম ১৯৩৯, ঝিনাইদহ, আদি নিবাস নারায়নহাট) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত গবেষক ও বিজ্ঞানী।
  • ড. মুহম্মদ এনামুল হক (১৯০২-১৯৮১, বক্তপুর) ভাষাবিদ ও লেখক
  • কবি সাবিরিদ খান (জন্ম-নানুপুর) বিদ্যাসুন্দর, রসূল বিজয়, হনিফা ও কয়রাপরী কাব্যের রচিয়তা
  • আবদুল বারী চৌধুরী (জন্ম-দৌলতপুর) বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবী।
  • প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার (১৯১১-১৯৩২) - জন্ম. ধলঘাট গ্রাম, সূর্য সেনের বিপ্লবী দলের সদস্য।
  • বিপিনবিহারী নন্দী (১৮৭০-১৯৩৭) - জন্ম. খাইন গ্রাম, কবি।
  • শশাঙ্কমোহন সেন (১৮৭২-১৯২৮) - জন্ম. ধলঘাট গ্রাম, শিক্ষাবিদ, কবি ও সাহিত্য সমালোচক।
  • অন্নদাচরণ খাস্তগীর (১৮৩০ - ১৮৯০) - জন্ম. সুচক্রদন্ডী গ্রাম, খ্যাতনামা চিকিৎসক ও গবেষণামূলক প্রবন্ধকার।
  • আবদুল ওয়াহেদ মাষ্টার (জানুয়ারী ২২, ১৯৪০- মে ২২, ২০১৩) - জন্মঃ পূর্ব সাতবাড়িয়া। সমাজেবক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধ সংগঠক।
  • ইঞ্জিনিয়ার আফসার উদদীন আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধ সংগঠক, প্রতিষ্ঠাতা- বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ এবং বিজিসি ট্রাস্ট।
  • অন্বিকা চক্রবর্তী (১৮৯২ - ১৯৬২) - জন্ম: বরমা গ্রাম, সূর্য সেনের বিপ্লবী দলের সদস্য।
  • অনিলকুমার রক্ষিত (১৯০৬ - ১৯৩২) - জন্ম: জোয়ারা গ্রাম, সূর্য সেনের বিপ্লবী দলের সদস্য।
  • ড.আলহাজ কর্নেল অলি আহম্মদ বীর বিক্রম (এমপি) মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধ সংগঠক।-
  • ডঃ হোসেন জিল্লুর রহমান,জন্ম: বরকল গ্রাম,অর্থনীতিবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা।
  • আবদুর রহমান (১৯০২-১৯৭৭) - জন্ম. পটিয়া গ্রাম, শিক্ষাবিদ ও লেখক।
  • অপূর্ব সেন ভোলা (? - ১৯৩২) - জন্ম. ছাত্রডান্ডি গ্রাম, সূর্য সেনের বিপ্লবী দলের সদস্য। ১৯৩২ সালের ১৩ জুন পটিয়ার ধলঘাটে ইংরেজ সিপাহীদের গুলিতে শহীদ হন।
  • অর্ধেন্দু দস্তিদার(? - ১৯৩০) - জন্ম. ধলঘাট গ্রাম, সূর্য সেনের বিপ্লবী দলের সদস্য। জালালাবাদ পাহাড়ে বৃটিশ সৈন্যের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন।
  • আলী রজা (কানু ফকীর) - জন্ম. ওশখাইন গ্রাম, যোগ, সঙ্গীত ও আধ্যাত্মিক বিষয়ে বহু গ্রন্থের রচয়িতা।
  • কেদারনাথ দাশগুপ্ত (১৮৭৮ - ১৯৪২) - জন্ম. ভাটিখাইন গ্রাম, ব্যারিস্টার, লেখক ও স্বদেশী আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ বুদ্ধিজীবী।
  • কালীপদ ভট্টচার্য (?-১৯৭৮) - জন্ম. ধলঘাট গ্রাম, সাহিত্যিক।
  • শুভ রায় (রোসাংগিরি) বিজ্ঞানী এবং কৃত্রিম কিডনির আবিষ্কারক।
  • পূর্ণিমা (অভিনেত্রী) (রোসাংগিরি) চলচ্চিত্র অভিনেত্রী।
  • সুব্রত বড়ুয়া (জন্ম- ১৯৪৬, ছিলোনিয়া, পাইন্দং) কথা সাহিত্যিক
  • তাজুল ইসলাম (বীরপ্রতিক) (জন্ম- বাগানবাজার) বীরপ্রতিক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা
  • অধ্যাপক মনসুর মুসা (জন্ম-১৯৪৫, ধর্মপুর) বাংলা একাডেমীর সাবেক মহা পরিচালক, গবেষক এবং লেখক
  • ড. মোহাম্মদ আমীন, সাহিত্যিক, গবেষক ও ব্যাকরণবিদ।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

আনুসঙ্গিক নিবন্ধ[সম্পাদনা]

বহিসংযোগ[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে চট্টগ্রাম"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগৃহীত ২৩ জুন, ২০১৪ 
  2. চট্টগ্রাম জেলা তথ্য বাতায়ন
  3. সিটিজি টাইমস
  4. দৈনিক আজাদী
  5. সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, সম্পাদনাঃ অঞ্জলি বসু, ৪র্থ সংস্করণ, ১ম খণ্ড, ২০০২, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, পৃ. ৭৬
  6. দৈনিক প্রথম আলো