জয়পুরহাট জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জয়পুরহাট জেলা
Joypurhat
জেলা
বাংলাদেশের মানচিত্রে জয়পুরহাট জেলা
স্থানাঙ্ক: ২৫°০৬′ উত্তর ৮৯°০২′ পূর্ব / ২৫.১০° উত্তর ৮৯.০৩° পূর্ব / 25.10; 89.03স্থানাঙ্ক: ২৫°০৬′ উত্তর ৮৯°০২′ পূর্ব / ২৫.১০° উত্তর ৮৯.০৩° পূর্ব / 25.10; 89.03
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ রাজশাহী বিভাগ
স্থাপিত ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৪ (আগে বগুড়া জেলামহকুমা ছিল)
আয়তন
 • মোট �.
জনসংখ্যা (২০১১)
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট ৬৪%
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোষ্টাল কোড ৫৯০০
ওয়েবসাইট জয়পুরহাট জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইট

জয়পুরহাট জেলা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

স্বাধীন বাংলায় বৃটিশ শাসনামলে ১৮২১ সালে বৃহত্তর রাজশাহী জেলার চারটি , রংপুর জেলার ২টি ও দিনাজপুর জেলার ৩টি থানা নিয়ে যে বগুড়া জেলা গঠিত হয়েছিল তারই অংশ নিয়ে ১৯৭১ সালে প্রথমে জয়পুরহাট মহকুমা এবং পরবর্তীকালে ১৯৮৪ সালে জয়পুরহাট জেলা গঠিত হয়।

ষোড়শ এবং সপ্তদশ শতাব্দী পর্যন্ত জয়পুরহাটের ইতিহাস বড়ই অস্পষ্ট। কারণ এই সময়ে ভারতবর্ষের ইতিহাসে জয়পুরহাটের কোন স্বতন্ত্র ভৌগোলিক অবস্থান ছিল না। জয়পুরহাট দীর্ঘকাল গৌড়ের পাল এবং সেন রাজাদের রাজ্য ভূক্ত ছিল। সে সময় জয়পুরহাট নামে কোন স্থান পাওয়া যায় না । এমনকি জয়পুরহাটের পূর্ব অবস্থান বগুড়ারও কোন ভৌগলিক অস্তিত্ব ছিল না। পূর্বে চাকলা ঘোড়াঘাট এবং পরবর্তীতে দিনাজপুর জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল জয়পুরহাট।

বর্তমানে জয়পুরহাট এবং পাঁচবিবি উপজেলার গ্রামসমূহ নিয়ে একসময় লালবাজার থানা গঠিত হয়েছিল। জয়পুরহাট সদর থানার পশ্চিম প্রান্তে যমুনা নদীর পুর্ব তীরে পুরানাপৈল এলাকায় এই থানা অবস্থিত ছিল। স্থানটি বর্তমানে করিমনগর বলে পরিচিত। করিমনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিকট যুমনা নদীর ঘাটকে আজও থানার ঘাট বলা হয়। এর দক্ষিনে যে স্থানে বাজার ছিল তাকে বর্তমানে বাজারের ভিটা বলা হয়। এই লাল বাজারে সেই সময়ে পোস্ট অফিস স্থাপিত হয়েছিল। সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস ছিল আক্কেলপুর রেলষ্টেশনের পূর্ব দিকে নবাবগঞ্জ নামক স্থানে। লাল বাজার থানার এবং খঞ্জনপুর কুঠির ভারপ্রাপ্ত ইংরেজ কর্মকর্তার তত্ত্বাবধায়নে পলিবাড়ি ,খঞ্জনপুর,পুরানাপৈল,পাচবিবি প্রভৃতি স্থানে নীল কুঠি স্থাপিত হয়েছিল। তৎকালে লালবাজার ছিল শহর এবং সাধারন মানুষের জীবিকার একমাত্র কর্মস্থল। দেশে তখনো রেল লাইন স্থাপিত হয়নি । মালামাল আমদানী ,রপ্তানী এবং একস্থান হতে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত করার জন্য নদীপথ ব্যতীত অন্য উপায় ছিল না। যমুনা নদী ছিল ভীষন খরস্রোতা। লাল বাজার থানা ঘাটে মহাজন ও সওদাগরী নৌকা ভিড়ত। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উঠানামা করত। এ নদী পথেই দূর দূরান্ত যাতায়াত ও ব্যবসা বাণিজ্য চলত। সে সময় লাল বাজার ,ক্ষেতলাল এবং বদলগাছী থানা দিনাজপুর জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। দিনাজপুর ,রংপুর ও রাজশাহী জেলার আয়তন এত বৃহৎ ছিল যে একজন প্রশাসকের পক্ষে সমগ্র জেলা নজর রাখা সম্ভব হত না। তাই ১৮২১ সালে ভারতের ততকালীন বড়লাট বাহাদুর রাজশাহী , রংপুর এবং দিনাজপুর হতে কয়েকটি থানা নিয়ে বগুড়া জেলা গঠন করেন। এ সময় রাজশাহী হতে শেরপুর,বগুড়া এবং আদমদিঘী থানা, রংপুর হতে দেওয়ানগঞ্জ ও গোবিন্দগঞ্জ থানা এবং দিনাজপুর হতে ক্ষেতলাল,বদলগাছী ও লাল বাজার থানা বিচ্ছিন্ন করে বগুড়া জেলার সৃষ্টি হয়েছিল। ব্যান্ডেল সাহেব ছিলেন বগুড়ার প্রথম ম্যাজিস্ট্রেট।

১৮৫৭ সাল থেকে ১৮৭৭ সাল পর্যন্ত দেশে ভীষণ দূর্ভিক্ষ দেখা দেয়। এসময় দেশে রেল লাইন বসানোর কাজ শুরু হয়। ১৮৮৪ সালে কলকাতা হতে জলপাইগুডী পর্যন্ত ২৯৬ মেইল রেলপথ বসানো কাজ শেষ হলে লোকজনের উঠানামা ও মালামাল আমদানী রপ্তানির সুবিধার জন্য ৪-৭ মাইল পর পর রেলস্টেশন স্থাপন করা হয়। সান্তাহারের পরে তিলেকপুর ,আক্কেলপুর,জামালগঞ্জ এবং বাঘবাড়ীতে স্টেশন স্থাপিত হয়। সেসময় বাঘবাড়ী রেলস্টেশন কে জয়পুর গভর্ণমেন্ট ক্রাউনের নাম অনুসারে রাখা হয় জয়পুরহাট রেলস্টেশন। পরবর্তীতে রেলস্টেশনের সাথে পোস্ট অফিসের নাম জয়পুরহাট রাখার ফলে নামটি প্রসিদ্ধি পেতে থাকে। কিন্তু সরকারী কাগজপত্রে এর আসল নাম গোপেন্দ্রগঞ্জ বহাল থাকে। অন্য দিকে, প্রাকৃতিক দূর্যোগেরও বিপর্যয়ের ফলে যমুনার নব্যতা কমে যায় এবং ভাঙ্গনের ফলে লাল বাজার থানা হুমকির মুখে পরে। ফলে ভারত সরকারের নির্দেশে ১৮৬৮ সালে ১৬ মার্চ তারিখে লালবাজার পুলিশ থানা যমুনার অন্য তীরে খাসবাগুড়ী নামক গ্রামে স্থানান্তরিত করা হয়। সেই সময় স্থানটির নাম ছিল পাঁচবিবি। পরবর্তী কালে দমদমায় রেলস্টেশন স্থাপিত হলে পুলিশ থানা দমদমায় স্থানান্তরিত হয়। তৎকালে পাঁচবিবি নাম প্রসিদ্ধী লাভ করেছিল। তাই দমদমা রেলস্টেশন ও থানার নাম পূর্বের নাম অনুসারে পাঁচবিবি রেলস্টেশন রাখা হয়। দেশে রেল লাইন বসানোর পূর্বে জলপথে নৌকা এবং স্থলপথে ঘোড়া বা ঘোড়ার গাড়ী ছিল যাতায়াতে একমাত্র অবলম্বন । শ্বাপদ সংকুল জলপথে নৌকায় চরে যাতায়াত নিরাপদ ছিল না।আর এতে অধিক সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। তাই রেল লাইন বসানোর পরে নদীপথে যাতায়াত বহুলাংশে কমে যায়। জয়পুরহাট রেলস্টেশন হওয়াতে ব্যবসার ও যাতায়াতের সুবিধার কথা চিন্তা করে বিত্তশালী ব্যাক্তিরা রেলস্টেশনের আশে বাসে বসতি গড়ে তোলেন। এতে খনজনপুর ও লাল বাজার হাট বিলুপ্ত হয়ে যায় । এবং বাঘাবাড়ী অর্থাৎ জয়পুরহাট প্রসিদ্ধ হতে থাকে। পরবর্তীতে বাঘাবাড়ী কে লিখিত হিসেবে গোপেন্দ্রগঞ্জ লিখা হতে থাকে। ১৯০৭ সালে বাঘাবাড়ী তে একটি পৃথক থানা ঘঠিত হয়, এবং জয়পুরহাট নামটি ব্যাপক ভাবে প্রচলিত হওয়ায় তা জয়পুরহাট থানা নামে পরিচিতি পায়। ১৯১৮ সালে জয়পুরহাট থানা ভবন নির্মিত হলে পাঁচবিবি থানাকে জয়পুরহাট থানার উত্তর সীমা রুপে নির্দিষ্ট করা হয়। ১৯২০ সালে ভূমি জরিপে জয়পুরহাট থানার একটি পৃথক নকশা অংকিত হয়। জয়পুরের প্রাচীন রাজধানী অমবর/জয়পুর হতে পাচ মাইল দূরে অমবরের অধিষ্ঠাদেবী শীতলাদেবী । এই দেবী যশোহরের বারো ভুঁইয়ার অন্যতম। চাদারায় ও কেদারা রায়ের রাজধানী শ্রীপুর নগরীতে প্রতিষ্ঠিত হয়। মানসিংহ কর্তৃক চাদারায় পরাজিত হলে তিনি এই অষ্টভুজাদ দেবীমুর্তি আনয়ন করে স্থাপন করেন। এই সব কারনে জয়পুর বংগবাসীর নিকট প্রিয় হতে থাকে। বিশেষ করে জয়পুর ও মাড়োয়া রাজ্যের বহু লোক জয়পুরহাট এলাকাত স্থায়ী ভাবে বসবাস করায় জয়পুরের সাথে জয়পুরহাট এর গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এবং তাদের পূর্বের বাসস্থানের সংগে সংগতি রেখে খঞ্জনপুর নীল কুঠির এলাকা জয়পুর অভিহিত হতে থাকে। পরবর্তীতে রাজস্থানের জয়পুরের সংগে পার্থক্য বোঝাবার জন্য পোস্ট অফিস ও রেলস্টেশনের নাম রাখা হয়েছিল জয়পুরহাট রেলস্টেশন ও জয়পুরহাট পোস্ট অফিস। ১৯৭১ সালে ১লা জানুয়ারী তারিখে জয়পুরহাট মহকুমার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে জয়পুরহাট কে জেলা ঘোষনা করা হয়।

ভৌগোলিক সীমানা[সম্পাদনা]

জয়পুরহাট জেলার উত্তরে রয়েছে গাইবান্ধা জেলা, দিনাজপুর জেলা এবং ভারত সীমান্ত, দক্ষিণে রয়েছে বগুড়া জেলানওগাঁ জেলা, পূর্বে বগুড়াগাইবান্ধা জেলা, এবং পশ্চিমে নওগাঁ জেলা ও ভারত সীমান্ত। জেলাটির মোট এলাকার পরিমাণ ৯৬৫.৮৮ বর্গ কিলোমিটার। [১]

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ[সম্পাদনা]

জয়পুরহাট জেলা ৫টি উপজেলায় বিভক্ত। এগুলি হলঃ

  1. জয়পুরহাট সদর উপজেলা
  2. আক্কেলপুর উপজেলা
  3. কালাই উপজেলা
  4. ক্ষেতলাল উপজেলা
  5. পাঁচবিবি উপজেলা

এছাড়া এখানে ৪টি পৌরসভা, ৩২টি ইউনিয়ন, ৯৮৮টি গ্রাম, ও ৭৬২টি মৌজা রয়েছে। [১]

শিক্ষা ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

জয়পুরহাট জেলার শিক্ষার হার ৬৪%(জেলা তথ্য বাতায়ন)

  • সরকারী কলেজঃ ৩টি
  • বেসরকারী কলেজঃ৩৯টি
  • মহিলা ক্যাডেট কলেজঃ১টি
  • সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ঃ ৪টি
  • বেসরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ঃ১৬১টি
  • সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ঃ২৬৩টি
  • বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ঃ ৮৭টি
  • সরকারী কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানঃ ১টি
  • বেসরকারী কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানঃ ১৩টি
  • কামিল মাদ্রাসাঃ৪টি
  • ফাজিল মাদ্রাসাঃ১০টি
  • আলিম মাদ্রাসাঃ১৭টি
  • দাখিল মাদ্রাসাঃ৮০টি
  • পিটিআইঃ ১টি

ধর্ম[সম্পাদনা]

অধিকাংশ মানুষ ইসলাম ধর্মালম্বী। সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলমান হলেও এখানে হিন্দু, বৌদ্ধ ধর্মালম্বী সহ কিছু আদিবাসী জনবসতি রয়েছে । এদের ভিতরে সাওতাল,ওরাও, মুনডা, মোহালি , বুনা, কোচ,হো, রাজবংশী, পাহান ইত্যাদি জনগোষ্টীর সংখ্যা প্রায় ২.২৫% । মোট ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা=৪৮০০০ জন(২০০১)

জেলায় মোট মসজিদের সংখ্যাঃ২৫৭৩
জেলায় মোট হিন্দু মন্দিরের সংখ্যাঃ৪৩৪
জেলায় মোট বৌদ্ধ মন্দিরের সংখ্যাঃ ১৮
জেলায় মোট গীর্জার সংখ্যাঃ ২১
জেলায় মোট ১৮৬ টি মসজিদ কেন্দ্রীক পাঠাগার, ৬৭৫জন প্রশিক্ষিত ইমাম, ২২০০ ইমাম রয়েছে।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

জয়পুরহাট জেলার অর্থনীতি সম্পন্ন রুপে কৃষি নির্ভর। জয়পুরহাট উত্তরাঞ্চলের শস্যভান্ডার খ্যাত। এখানকার মৃৎ শিল্পের কাজ এখন বিলুপ্তির পথে। [২]

প্রধান শস্য[সম্পাদনা]

ধান, আলু, ইক্ষু, কলা

রপ্তানী পণ্য[সম্পাদনা]

আলু, ধান, কাচা সবজি ও চিনি

খনিজ সম্পদ[সম্পাদনা]

চুনাপাথরঃ জয়পুরহাটের জামালগঞ্জ এলাকায় ভূপৃষ্ঠ হতে ৫১৮মিঃ নীচে প্রায় ৩৮৪ বর্গ মিটার এলাকা জুড়ে চুনাপাথর এর খনির সন্ধান পাওয়া গেছে। ধারনা করা হয় খনিটিতে মোট ১২০০মিলিয়ন টন চুনাপাথর মজুদ আছে।

কয়লা সম্পদঃ জয়পুরহাটের জামালগঞ্জের পাহাড়পুড় এলাকায় ভূপৃষ্ঠ হতে ৬৪০মিটার গভীরে বিপুল পরিমাণ পার্মিয়ান যুগের বিটুমিনাস কয়লা পাওয়া গেছে। এই কয়লার খনিতে মোট ৬টি স্তর আছে যার মোট পুরুত্ব ৬৪ মিটার। উন্নত জ্বালানী হিসেবে এবং জৈব রাসায়নিক কাঁচামাল হিসেবে এই কয়লা ব্যবহার করা যাবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। গবেষনায় দেখা গেছে এখানে প্রায় ১০৫৩।৯০ মিলিয়ন টন কয়লা মজুদ আছে ।

বিশিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

কবি আতাউর রহমান
আব্বাস আলী খান
মাবারক আলী
শাহ নজরতল ইসলাম
মশিউর রহমান
কাজী রেজাউল করিম
খুরশীদ আলম (কন্ঠ শিল্পী)
দিলরুবা খানম (কন্ঠ শিল্পী)

চিত্তাকর্ষক স্থান[সম্পাদনা]

বৃহত্তর নওগাঁ, দিনাজপুর ও বগুড়া জেলার নিকটবর্তী রাজশাহী বিভাগের অধীন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যমন্ডিত একটি ছোট্ট জেলা জয়পুরহাট । জয়পুরহাট জেলার আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অনেক নান্দনিক ও ঐতিহাসিক স্থান। এ জেলার দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ ফসলের মাঠ যে কোন ভ্রমণ পিপাসুকেই মুগ্ধ করবে । এ ছাড়াও অষ্টম শতাব্দীর পাল বংশীয় রাজা ধর্ম পালের পাহারপুর বৌদ্ধ বিহার জয়পুরহাট জেলার অতি নিকটে নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলায় অবস্থিত এবং বাংলাদেশের অন্যতম স্থলবন্দর হিলি জয়পুরহাট জেলার নিকটে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় অবস্থিত । তাই এ জেলায় পর্যটন শিল্প বিকাশে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্ত অদ্যাবধি এ জেলায় সরকারি উদ্যোগে পর্যটন শিল্প গড়ে ওঠেনি। এখানে দ্রুত সরকারিভাবে একটি পর্যটন মোটেল চালু করা আবশ্যক ।
জয়পুরহাটের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পর্যটন স্থান :

  • জয়পুরহাট বার শিবালয় মন্দির,জয়পুরহাট
  • বেল আমলা বড় শিবালয় (শিব মন্দির),জয়পুরহাট সদর
  • পাগলা দেওয়ান বধ্যভূমি, জয়পুরহাট সদর
  • পাথরঘাটা মাজার, পাঁচবিবি
  • লোখমা জমিদার বাড়ি, পাঁচবিবি
  • বিমারপাঁটি মঙ্গলবাড়ি, জয়পুরহাট সদর
  • দুয়ানী ঘাট, জয়পুরহাট সদর
  • গোপীনাথপুর মন্দির, আক্কেলপুর
  • হিন্দা-কসবা শাহী জামে মসজিদ, ক্ষেতলাল
  • নিমাই পীর মাজার, পাথরঘাটা, পাঁচবিবি
  • আছরাঙ্গা দীঘী
  • নন্দাইল দীঘি, নান্দাইল, কালাই।
  • শিশু উদ্যান,জয়পুরহাট।
  • হিন্দা-কসবা শাহী জামে মসজিদ, ক্ষেতলালঃ শাহী জামে মসজিদ নান্দাইল দিঘী লকমা রাজবাড়ি পাথরঘাটা নিমাই পীরের মাজার গোপীনাথপুর মন্দির বার শিবালয় মন্দির দুয়ানী ঘাট আছরাঙ্গা দিঘী ছবি জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলাল উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নে এই দিঘীটি অবস্থিত । এর মোট আয়তন ২৫.৫০ একর । ধারণা করা হয় প্রায় ১২০০ বছর পূর্বে ১১০০ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ১০৭০ ফুট প্রস্থ বিশিষ্ট এ দিঘীটি খনন করা হয়। অনেকের মতে তাহিরপুর রাজ পরিবারের সদস্য মনু ভট্ট এ দিঘীটি খনন করেছিলেন । ১৯৯২ সালে এ দিঘীটি পুনরায় খনন করা হয় । এ দিঘীটি খনন কালে ১২ টি মূর্তি পাওয়া গেছে যা বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। বর্তমানে দিঘীটির চর্তুদিকের পাড়ে একটি পাকা রাস্তা তৈরির কাজ চলছে । দিঘীটির চারদিকের অসংখ্য গাছ-পালা এবং এর স্বচ্ছ পানি এক মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশের সৃষ্টি করেছে যা সকলকে আকৃষ্ট করে। প্রতি বছর অসংখ্য ভ্রমণ পিপাসু লোকের এখানে সমাগম ঘটে ।
  • আছরাঙ্গা দীঘী, ক্ষেতলালঃ জয়পুরহাট হিন্দা-কসবা শাহী জামে মসজিদ ছবি হিন্দা-কসবা শাহী জামে মসজিদ ক্ষেতলাল উপজেলার হিন্দা গ্রামে অবস্থিত। হযরত আবদুল গফুর চিশতি ( রাঃ) ইহার নকশা এবং নির্মাণ কাজ করেন । অপূর্ব নির্মাণশৈলীর জন্য এই মসজিদটি স্থানীয় এবং বাহির হতে আগত লোকজনের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ।
  • নন্দাইল দীঘি, নান্দাইল, কালাইঃ জয়পুরহাট নান্দাইল দিঘী ছবি ঐতিহাসিক নান্দাইল দিঘীটি জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলাধীন পুনট ইউনিয়নে অবস্থিত । ইহা দৈর্ঘ্যে প্রায় ১ কিঃ মিঃ । কথিত আছে রাজা নন্দলাল ১৬১০ সালে এই ঐতিহাসিক দিঘীটি খনন করেন। দিঘীটির আয়তন ৫৯.৪০ একর । স্থানীয় জনগণের মতে দিঘীটি এক রাতের মধ্যে খনন করা হয়েছে । এক সময়ে দিঘীটির পাড় অনেক উঁচু ছিল । শীত কালে দিঘীটিতে প্রচুর অতিথি পাখির আগমন ঘটে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের জন্য বর্তমানে দিঘীটি পিকনিক স্পট হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে । দিঘীটির পাড়ে নান্দাইল নামক একটি কলেজ স্থাপিত হয়েছে ।
  • লোখমা জমিদার বাড়ি, পাঁচবিবিঃ লকমা রাজবাড়ি ছবি জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার পশ্চিম কড়িয়া গ্রামে ঐতিহাসিক লকমা রাজবাড়ি অবস্থিত । বাড়িটি বর্তমানে লকমা চৌধুরীর পরনাতীসহ উত্তরাধিকারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি সমিতি দেখাশুনা করে। লকমা চৌধুরীর পরনাতী জানান, প্রায় ২০০-৩০০ বছর পূর্বে বাড়িটি নির্মাণ করা হয় এবং বর্তমানে এখানে প্রায় ১৫ বিঘা জমি আছে । উক্ত জমিতে বিভিন্ন শস্য উৎপাদনের পাশাপাশি ফল ও ফুলের বাগান দেখা যায়। স্থানীয় লোকজন জানান, দালান দুটির একটি ঘোড়াশাল এবং অপরটি হাতীশাল ছিল। তার একটু সামনে মাটির একটি ঢিবি রয়েছে যেখানে ইউ আকৃতির বহু পুরাতন দ্বিতল ভবনের অবস্থান । জনশ্রুতি আছে যে, ভবনের কিছু অংশ মাটির নীচে ডেবে গেছে । লকমা রাজবাড়ির পূর্ব পার্শ্বে কবরস্থান ও কর্মচারীদের ঘর রয়েছে। এখনও প্রতিদিন অনেক লোক স্বচক্ষে রাজবাড়িঢি দেখার জন্য আসে।
  • পাথরঘাটা মাজার, পাঁচবিবিঃ জয়পুরহাট প্রাচীন সভ্যতার লীলাভূমি পাথরঘাটা। জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলা সদর হতে ৫ কিঃ মিঃ পূর্বে তুলসীগঙ্গা নদীর পশ্চিম পার্শ্বে প্রাচীন সভ্যতার ধ্বংসাবশেষপূর্ণ এলাকার নাম পাথরঘাটা । প্রায় ৯/১০ কিঃ মিঃ এলাকা জুড়ে অসংখ্য প্রাচীন কীর্তির মধ্যে মৃৎপাত্রের ভগ্নাংশে খোদাই করা শীলালিপি, বিশাল গ্রানাইট পাথরের খন্ডাংশের জন্যই সম্ভবতঃ এলাকাটি পাথরঘাটা বলে পরিচিত । পাথরঘাটার মূল কেন্দ্রের মাত্র ২০০ গজ উত্তরে প্রাচীনকালের চারপাড় বাঁধানো একটি অগভীর জলাশয় আজও কালের সাক্ষী হয়ে আছে । পুকুরের পূর্বদিকে খ্রিস্টান মিশনারীজগণ অত্যাধুনিক একাধিক ভবন নির্মাণ করে স্থানটির মান অনেকাংশে বৃদ্ধি করেছে। ভবনগুলি নির্মাণকালে খননের সময় অসংখ্য পুরাকীর্তির ভগ্নাবশেষ বের হয়েছে যা সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত আছে । তুলসীগঙ্গা নদীর উঁচু পাড় হতে প্রায় ১৮ ফুট নিচ পর্যন্ত পাথর দিয়ে বাঁধানো সিড়ি ও প্রাচীন ইমারতের ধ্বংসাবশেষের দৃশ্য চোখে পড়ার মত । অনুমান করা হয় তুলসীগঙ্গা নদীর সৃষ্টির ফলে প্রাচীন এই বিশাল ইমারতগুলি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে । বর্তমানে খ্রিস্টান মিশনের পশ্চিম দিকে একই স্থানে ৯ ( নয়) টি পুকুর ছিল। আর এ জন্যই স্থানটির নাম নওপুকুরিয়া হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন । ধারণা করা হয় এই নওপুকুরিয়াতেই ঐতিহাসিক পাথরঘাটার প্রাচীন প্রশাসনিক/আবাসিক ভবন ছিল । পাথরঘাটা স্থানীয়ভাবে মহীপুর নামেও পরিচিত। পাল বংশীয় রাজা প্রথম মহীপাল (৯৮৮-১০৮৩) এর নামানুসারে স্থানটির নাম মহীপুর হয়েছে বলে কিংবদন্তী চালু আছে ।
  • নিমাই পীর মাজার, পাথরঘাটা, পাঁচবিবিঃ জয়পুরহাট নিমাই পীরের মাজার পাথরঘাটায় অবস্থিত বর্তমানে খ্রীস্টান মিশনারীজ ভবনের মাত্র ৩০০ গজ দূরে একটি ঐতিহাসিক মাজার ও একটি মন্দির আছে । এলাকাবাসী এই মাজারকে পীর কেবলা নাসির উদ্দিনের মাজার ও হিন্দু সম্প্রদায় নিমাই পীরের দরগাঁ বলে দাবী করেন। নিমাই পীরের মাজারের পার্শ্বে একটি পাথরের দন্ড পোঁতা আছে । এটা পীর সাহেবের আশা বলে পরিচিত। একটি সিংহমুখাকৃতি কারুকার্য খচিত পাথরের উপর উপবেশন করে তিনি একত্ববাদের বাণী প্রচার করতেন । চৈত্র মাসের প্রথম সোমবারে এখানে মাযার জিয়ারত উপলক্ষে ইসালে সওয়াব এবং মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ইসালে সওয়াবের কয়েক দিন পর এখানে স্নান উপলক্ষে হাজার হাজার হিন্দু নর-নারীর সমাবেশ ঘটে । সে সময় এখানে এক বিরাট মেলা হয় । এটি পাথরঘাটার মেলা নামে পরিচিত । এখানে ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত বহু পাথর পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্রবাদ আছে, পীর সাহেব পাথরগুলি অলৌকিক উপায়ে নদীপথে এখানে এনেছিলেন। ধারণা করা হয় এখানে তুলসীগঙ্গা নদীর তীরে প্রায় ১৫০ ফুট দীর্ঘ একটি পাথরের সেতু ছিল। নদীর পূর্ব তীরে পাথর ও ইটের গাঁথুনি দেখা যায়। এগুলোকে অনেকেই সেতুটির খিলান বলে মনে করেন ।
  • গোপীনাথপুর মন্দির, আক্কেলপুরঃ গোপীনাথপুর মন্দির জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলা সদর হতে মাত্র ৬/৭ কিঃ মিঃ পূর্বে গোপীনাথপুরে একটি অতি প্রাচীন মন্দির রয়েছে । এটি গোপীনাথ ঠাকুরের মন্দির নামে পরিচিত । যতদূর জানা যায় আজ হতে পাঁচশত বছর পূর্বে ভারতের নদীয়া জেলার শান্তিপুরে প্রভুপাদ অদ্বৈত গোস্বামী সবসময় ঈশ্বরের ধ্যান করতেন । তার স্ত্রী সীতা দেবীও ছিলেন সতী-সাধ্বী নারী । একদিন ২৪ পরগণার যুবক নন্দ কুমার এবং নদীয়া জেলার আর এক যুবক যজ্ঞেশ্বর রায় প্রভুপাদ অদ্বৈত গোস্বামীর নিকটে এসে দীক্ষা গ্রহণ করতে চাইলে অদ্বৈত গোস্বামী মহোদয় সব কথা শুনে তাদেরকে সীতাদেবীর কাছে পাঠান । সীতাদেবী ধ্যান যোগে জানতে পারেন যে, এই যুবকেরা পূর্ব জম্মে জয়া ও বিজয়া নামে দুই সখী ছিল। তখন সীতাদেবী যুবকদের মাথা ন্যাড়া করে স্নান করে আসতে বলেন । সীতাদেবীর নির্দেশ মত কাজ শেষ করে এলে তিনি তাদের দীক্ষা দেন। সীতাদেবী নন্দকুমারের নাম নন্দিনী এবং যজ্ঞেশ্বরের নাম জংগলী রাখলেন। নন্দিনী প্রিয়া বরেন্দ্র এলাকায় বর্তমান জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ১কিঃমিঃ উত্তরে গভীর জঙ্গলে নদীর ধারে একটি মন্দির স্থাপন করেন । জনশ্রুতি আছে যে, ১৫২০ হতে ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার সুলতান আলাউদ্দীন হুসেন শাহ নন্দিনী প্রিয়ার পূজা-পার্বণ ও অতিথি সেবার কথা শুনে খুশি হয়ে তাম্রফলকে লিখে পূর্ণগোপীনাথপুর ও গোপালপুর মৌজার সব সম্পত্তি দেবোত্তর হিসেবে প্রদান করেন । এরপর পূর্ণ গোপীনাথপুর মন্দিরটি নির্মিত হয় । পাল যুগের নির্মাণ কৌশল অনুসারে এ মন্দিরটির কাঠামো নির্মিত হয় । বাংলা ১৩০৪ সালে এক ভূমিকম্পে এ মন্দিরটি ভেঙ্গে পড়ে। ১৯২৮ হতে ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে বর্তমান মূল মন্দিরটি পুনরায় নির্মাণ করা হয় । এখনও পুরাতন কারুকার্যের কিছু নমুনা মূল ভবনে রয়েছে। মন্দিরটির উচ্চতা ৫০ ফুট। এখানে প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যায় আরতি এবং মধ্যাহ্নে আধামণ চালের অন্নভোগ দেওয়া হয় । প্রতিবছর দোল পূর্ণিমাতে এখানে মেলা বসে এবং ১৩দিন ধরে এ মেলা চলে । দূর দূরান্ত থেকে ভ্রমণ বিলাসী ও সৌন্দর্য পিপাসু ব্যক্তিবর্গ এখানে প্রতিনিয়ত আগমন করে। তাই পিকনিক স্পট হিসেবেও স্থানটি খ্যাতি লাভ করেছে।
  • বার শিবালয় মন্দির,জয়পুরহাটঃ জয়পুরহাট সদর থেকে তিন মাইল উত্তর পশ্চিমে ছোট যমুনা নদীর তীরে বেল-আমলা গ্রামে এই মন্দিরটি অবস্থিত। এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘেরা নিভৃত স্থানে বারটি শিবমন্দির রয়েছে।
  • দুয়ানী ঘাট, জয়পুরহাট সদরঃ জয়পুরহাট দুয়ানী ঘাট খঞ্জনপুর খাসমহাল কাচারী হতে এক মাইল পশ্চিমে যমুনা নদীর তীরে ২দুয়ানী ঘাট অবস্থিত । নাটোরের সুকুল পরিবারের জমিদার তারা প্রসাদ সুকুলের দুই আনা জমিদারীর অন্তর্ভূক্ত থাকায় এই ঘাটের নাম হয় দুয়ানী ঘাট।

নদী[সম্পাদনা]

যোগাযোগ[সম্পাদনা]

সড়ক যোগাযোগ[সম্পাদনা]

পাকা রাস্তা -৩৪২.৫৯ কিঃ মিঃ আধা পাকা রাস্তা- ৬১.৯৫ কিঃ মিঃ কাঁচা রাস্তা -১৫৯৬ কিঃ মিঃ ।

রেল যোগাযোগ[সম্পাদনা]

মোট রেলপথ- ৩৮.৮৬ কিঃ মিঃ

মোট রেল স্টেশনের সংখ্যা- ০৭ টি ( জয়পুরহাট, পাঁচবিবি,জামালগঞ্জ, আক্কেলপুর, জাফরপুর, তিলকপুর ও বাগজানা ী,

আনুষঙ্গিক নিবন্ধ[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ "প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব"বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। সংগৃহীত ২০ জুন, ২০১৪ 
  2. "বিলুপ্তির জয়পুরহাটের ঐতিহ্যবাহী মৃৎ শিল্প"। Notun Alo। JUNE 30, 2014। সংগৃহীত 30 jun, 2014