জয়পুরহাট জেলা
| প্রশাসনিক বিভাগ | রাজশাহী |
| আয়তন (বর্গ কিমি) | ৯৬৫.৪৪ |
| জনসংখ্যা | মোট : ৮,৪৪,৮১৮ পুরুষ:৫১.০৩% মহিলা: ৪৮.৯৭% |
| শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা: | বিশ্ববিদ্যালয়: ০ কলেজ : ১৭ মাধ্যমিক বিদ্যালয়: ৭৮ মাদ্রাসা : ৮৩ |
| শিক্ষার হার | ১৯.৮ % |
| বিশিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব | জমিদার গোলাম আকবর চৌধুরী, নাছির মন্ডল |
| প্রধান শস্য | ধান, আলু, ইক্ষু, কলা |
| রপ্তানী পণ্য |
জয়পুরহাট জেলা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল।
পরিচ্ছেদসমূহ |
ভৌগোলিক সীমানা [সম্পাদনা]
জয়পুরহাট জেলার উত্তরে রয়েছে গাইবান্ধা জেলা, দিনাজপুর জেলা এবং ভারত সীমান্ত, দক্ষিণে রয়েছে বগুড়া জেলা ও নওগাঁ জেলা, পূর্বে বগুড়া ও গাইবান্ধা জেলা, এবং পশ্চিমে নওগাঁ জেলা ও ভারত সীমান্ত। জেলাটির মোট এলাকার পরিমাণ ৯৬৫.৮৮ বর্গ কিলোমিটার। [১]
প্রশাসনিক এলাকাসমূহ [সম্পাদনা]
জয়পুরহাট জেলা ৫টি উপজেলায় বিভক্ত। এগুলি হলঃ
এছাড়া এখানে ৪টি পৌরসভা, ৩২টি ইউনিয়ন, ৯৮৮টি গ্রাম, ও ৭৬২টি মৌজা রয়েছে। [১]
ইতিহাস [সম্পাদনা]
ষোড়শ এবং সপ্তদশ শতাব্দী পর্যন্ত জয়পুরহাটের ইতিহাস বড়ই অস্পষ্ট। কারণ এই সময় ভারতবর্ষের ইতিহাসে জয়পুরহাটের কোন স্বতন্ত্র ভৌগোলিক অবস্থান ছিল না । জয়পুরহাট দীর্ঘকাল গৌড়ের পাল এবং সেন রাজাদের রাজ্য ভূক্ত ছিল । সে সময় জয়পুরহাট নামে কোন স্থানের নাম পাওয়া যায় না । এমনকি জয়পুরহাটের পূর্ব অবসহান বগুড়ারও কোন ভৌগোলিক অস্তিতব ছিলনা । পূর্বে চাকলা ঘোড়াঘাট এবং পরবর্তীতে দিনাজপুর জেলার অমতর্ভূক্ত ছিল ।
বর্তমান জয়পুরহাট এবং পাঁচবিবি উপজেলার গ্রামসমূহ নিয়ে একসময় লালবাজার থানা গঠিত হয়েছিল। জয়পুরহাট সদর থানার পশ্চিম প্রান্তে যমুনা নদীর পূর্বতীরে পুরানাপৈল এই থানা অবসিহত ছিল । সহানটি বর্তমানে করিমনগর বলে পরিচিত। করিমনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিকট যমুনা নদীর ঘাটকে আজও বলা হয় থানার ঘাট । এর দক্ষিণে যেসহানে বাজার লাগত সে সহানের আবাদী জমিকে অদ্যাপি ও বাজারের ভিটা বলা হয়ে থাকে। এই লাল বাজারেই তখন পোষ্ট অফিস সহাপিত হয়েছিল । সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস ছিল আক্কেলপুর রেল ষ্টেশনের পূর্বদিকে নবাবগঞ্জ নামক সহানে। লাল বাজার থানার এবং খঞ্জনপুর কুঠীর ভারপ্রাপ্ত ইংরেজ কর্মকর্তার তত্তðvবধানে পলিবাড়ি, খনজনপুর, পুরানাপৈল, পাঁচবিবি প্রভৃতি সহানে নীলকুঠি সহাপিত হয়েছিল। তৎকালে লালবাজার ছিল শহর এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার্জনের একমাত্র কর্মসহল । দেশে তখনও রেল লাইন সহাপিত হয়নি । মালামাল আমদানী, রপ্তানী এবং একসহান হতে অন্য সহানে সহানান্তরিত করার জন্য নদীপথ ব্যতীত অন্য কোন উপায় ছিল না। যমুনা নদী ছিল ভীষণ খরস্রোতা । লাল বাজার থানার ঘাটে মহাজনী ও সওদাগরী নৌকা ভীড়ত । প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উঠা নামা করত । এ নদী পথেই দুর দুরামেত্ম যাতায়াত ও ব্যবসা বাণিজ্য চলত।
সে সময় লাল বাজার, ক্ষেতলাল এবং বদলগাছী থানা দিনাজপুর জেলার অমত্মর্ভুক্ত ছিল । সে সময় দিনাজপুর, রংপুর ও রাজশাহী জেলার আয়তন এত বৃহৎ ছিল যে, একজন প্রশাসকের পক্ষে সমগ্র জেলায় নজর রাখা সম্ভব হত না। তাই ১৮২১ সালে ভারতের তৎকালীন বড়লাট বাহাদুরের এক ফরমান বলে রাজশাহী, রংপুর এবং দিনাজপুর জেলা হতে কয়েকটি থানা নিয়ে বগুড়া জেলা গঠন করা হয় । এ সময় রাজশাহী হতে শেরপুর , বগুড়া এবং আদমদিঘী থানা, রংপুর হতে দেওয়ানগঞ্জ ও গোবিনদগঞ্জ থানা এবং দিনাজপুর হতে ক্ষেতলাল, বদলগাছী ও লাল বাজার থানা বিচ্ছিন্ন করে বগুড়া জেলার সৃষ্টি হয়েছিল । ব্যান্ডেল সাহেব ছিলেন বগুড়ার প্রথম ম্যাজিস্ট্রেট ।
সে সময় ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস,ভূমিকম্প ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দূর্যোগে যমুনা নদীর নাব্যতা কমে যায় এবং এর পূর্বতীর ভাঙ্গনের ফলে লালবাজার থানা হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়ে। ফলে ভারত সরকারের নির্দেশে ১৮৬৮ সালে ১৬ ই মার্চ তারিখে লালবাজার পুলিশ থানা খাসবাগুড়ী নামক গ্রামে যমুনা তীরে স্থানামত্মরিত হয়। সহানটির সহানীয় নাম ছিল পাঁচবিবি । পরবর্তীকালে দমদমায় রেলস্টেশন সহাপিত হলে পুলিশ থানা ও দমদমায় সহাপিত হয় । তৎকালে পাঁচবিবির নাম বিশেষ কারণে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল । তাই দমদমায় প্রতিষ্ঠিত পুলিশ থানা ও রেলস্টেশনের নাম পূর্বের পরিচিতিতে রাখা হয় পাঁচবিবি । তখন হতে পরিত্যক্ত পাঁচবিবিকে পুরানো পাঁচবিবি বলা হয়ে থাকে । লালবাজার হতে যেসহানে পুলিশ থানা স্থানামত্মরিত হয়েছিল একমাত্র সে সহানকে পাঁচবিবি বলা হতো । পাঁচবিবি নামের উৎপত্তি সমন্ধে জানা যায় প্রাচীন কালে পুরানা পাঁচবিবিতে একই সহানে পাঁচটি বিবির দরগা ছিল । ১০ই মহররম তারিখে পাপিষ্ঠ এজিদ কর্তৃক বিবি ফাতেমার নয়নমনি ইমাম হোসেনের শহীদ হওয়ার ঘটনাকে স্মরন করে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ তাজিয়া নির্মাণ করত এবং এ সব দরগা প্রাঙ্গণে জারী , সারী, মর্সিয়া, লাঠিখেলা প্রভৃতি অনুষ্ঠান পালিত হতো । অনুষ্ঠান শেষে পাঁচটি দরগায় পাঁচটি তাজিয়া রেখে দিত। পাঁচবিবি নামে সহাপিত এ পাঁচটি দরগা সকল সম্প্রদায়ের নিকট প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল পাঁচবিবি নামের এ প্রসিদ্ধি এবং পরিচিতিতেই পুলিশ থানা ও রেলস্টেশনের নাম রাখা হয় পাঁচবিবি ।
১৮৭৫ সাল হতে ১৮৭৭ সাল পর্যন্ত দেশের ভীষণ দূর্ভিক্ষ দেখা দেয় । দূর্ভিক্ষ মোকাবেলার জন্য দেশের রেললাইন বসানোর কাজ শুরু হয় । ১৮৮৪ সালে কলকাতা হতে জলপাইগুড়ী পর্যন্ত ২৯৬ মাইল রেলপথ বসানোর কাজ শেষ হলে লোকজনের উঠানামা এবং মালামাল আমদানী রপ্তানীর সুবিধার জন্য ৪,৫,৬ বা ৭ মাইল পর পর রেলস্টেশন সহাপিত হয় । সান্তাহারের পরে তিলকপুর , আক্কেলপুর , জামালগঞ্জ এবং বাঘাবাড়ীতে ( জয়পুরহাটের সহানীয় নাম ছিল বাঘাবাড়ীহাট) রেলস্টেশন সহাপিত হয় । জয়পুর গভর্ণমেণ্ট ক্রাউন স্টেটের নাম অনুসারে এর নাম রাখা জয়পুরহাট রেলস্টেশন । রেলস্টেশন ও পোষ্ট অফিসের নাম জয়পুরহাট রাখার পর হতে এলাকাটি জয়পুরহাট বলে পরিচিত হতে থাকে। কিন্তু সরকারী কাগজপত্রে এর আসল নাম গোপেন্দ্রগঞ্জই বহাল থাকে ।
দেশে রেললাইন বসানোর পূর্বে জলপথে নৌকা এবং সহলপথে ঘোড়া বা ঘোড়ার গাড়ী ছিল যাতায়াতের একমাত্র অবলমবন । শ্বাপদ সংকুল জলপথে নৌকায় চরে যাতায়াত নিরাপদ ছিল না । ঝড় - বাদল, হিংস্র জন্তুর আক্রমণ নানা প্রকার দৈব দূর্বিপাক এবং জলদস্যুর কবলে পড়ে অনেকেই আর জানমাল নিয়ে ঘরে ফিরতে পারত না। এতে অধিক সময় ও অর্থ ব্যয় হতো । দেশের রেলপথ সহাপিত হওয়ায় দুরবর্তী সহানে যাতায়াত সহজ সাধ্য হয় । এতে নদী পথের গুরুতব বহুলাংশে কমে যায় । ১৮৮৪ সালে জয়পুরহাট রেলস্টেশন সহাপিত হয় । ফলে দুরাগত ব্যবসায়ী এবং বিত্তশালী ব্যক্তিগণ ব্যবসায়ের সুবিধা এবং নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে রেলস্টেশন এলাকায় বসতি সহাপন করে । ক্রমে ক্রমে পার্শবর্তী গ্রাম সমূহে লোক বসতি বাড়তে থাকে । ক্রমে খনজনপুর এবং লালবাজার হাট বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং বাঘাবাড়ী হাটই প্রসিদ্ধি লাভ করে । পরে বাঘাবাড়ী হাট গোপেন্দ্রগঞ্জহাট নামে লেখা হয়ে থাকে । ১৯০৭ সালে জয়পুরহাটে একটি পৃথক থানা গঠিত হয় । ১৯১৮ সালে জয়পুরহাট থানা ভবন নির্মিত হয় এবং পুরানা পাঁচবিবি জয়পুরহাট থানার উত্তর সীমা রূপে নির্দিষ্ট হয় । ১৯২০ সালে ভূমি জরিপ রেকর্ডে জয়পুরহাট থানার একটি পৃথক নকশা অংকিত হয় । জয়পুরের প্রাচীন রাজধানী অমবর/জয়পুর হতে পাঁচ মাইল দুরে অমবরের অধিষ্ঠাত্রীদেবী শীতলাদেবী । এই দেবী যশোহরের বার ভূঁইয়ার অন্যতম চাঁদরায় ও কেদার রায়ের রাজধানী শ্রীপুর নগরীতে প্রতিষ্ঠিত ছিল । মানসিংহ কর্তৃক চাঁদরায় পরাজিত হলে ( ভারত ভ্রমণ ১৯৫) তিনি এই অষ্টভুজাদ দেবীমুর্ত আনয়ন করে সহাপন করেন । এই সব কারণে জয়পুর বংগবাসীর নিকট বিশেষ প্রিয় হয়ে ওঠে । বিশেষ করে জয়পুর ও মাড়োয়ার রাজ্যের বহু লোক জয়পুরহাট এলাকায় সহায়ী ভাবে বসবাস করায় এলাকাবাসীর সহিত জয়পুরের গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তাদের পৃর্ব বাসসহানের সংগে সংগতি রেখে খন্জনপুর নীলকুঠি এলাকা জয়পুর বলে অভিহিত হতে থাকে । পরবর্তী কালে এলাকাটি সরকারী কাগজপত্রে জয়পুর মৌজা নামেই পরিচিত লাভ করে । পূর্বে বর্তমান জয়পুরহাটের সহানীয় নাম ছিল বাঘাবাড়ীহাট পরবর্তীকালে কাগজপত্রে গোপেন্দ্রগঞ্জহাট লেখা হতে থাকে । রাজসহানের জয়পুরের সংগে পার্থক্য বুঝাবার জন্য শুধুমাত্র রেলস্টেশন এবং পোষ্ট অফিসের নাম রাখা হয়েছিল জয়পুরহাট।
খন্জনপুর খাশমহাল কাছারীর পরিত্যক্ত ভবনগুলি জয়পুরহাট মহকুমা এবং জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন অফিস আদালত এবং ভূমি রেজিষ্ট্রী অফিস রূপে ব্যবহৃত হয়ে আসছে । এই কাছারী প্রাঙ্গনেই ১৯৭১ সালের ১লা জানুয়ারী তারিখে জয়পুরহাট মহকুমার ভিত্তিপ্রসতর সহাপিত হয়েছে । পরবর্তীতে ১৯৮৪ মহাকুমা থেকে জয়পুরহাট জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ।
সূত্র : প্রবাসে প্রতিদিন
অর্থনীতি [সম্পাদনা]
চিত্তাকর্ষক স্থান [সম্পাদনা]
- বেল আমলা বড় শিবালয় (শিব মন্দির), জয়পুরহাট সদর
- পাগলা দেওয়ান বধ্যভূমি, জয়পুরহাট সদর
- পাথরঘাটা মাজার, পাঁচবিবি
- লোখমা জমিদার বাড়ি, পাঁচবিবি
- বিমারপাঁটি মঙ্গলবাড়ি, জয়পুরহাট সদর
- গোপীনাথপুর মন্দির, আক্কেলপুর
- হিন্দা-কসবা শাহী জামে মসজিদ, ক্ষেতলাল
- নিমাই পীর মাজার, পাথরঘাটা, পাঁচবিবি
- আছরাঙ্গা দীঘী
- নন্দাইল দীঘি, নান্দাইল, কালাই।
- শিশু উদ্যান,জয়পুরহাট।
আনুষঙ্গিক নিবন্ধ [সম্পাদনা]
তথ্যসূত্র [সম্পাদনা]
|
|||||||||||||||||||||||||
| এই নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটিকে সমৃদ্ধ করে উইকিপিডিয়াকে সাহায্য করতে পারেন। |