মুকসুদপুর উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

স্থানাঙ্ক: ২৩°১৯′০০″ উত্তর ৮৯°৫২′০০″ পূর্ব / ২৩.৩১৬৭° উত্তর ৮৯.৮৬৬৭° পূর্ব / 23.3167; 89.8667

মুকসুদপুর উপজেলা
BD Districts LOC bn.svg
Red pog.svg
মুকসুদপুর
বিভাগ
 - জেলা
Dhaka Division
 - Gopalganj District
স্থানাঙ্ক ২৩°১৯′০০″ উত্তর ৮৯°৫২′০০″ পূর্ব / ২৩.৩১৬৭° উত্তর ৮৯.৮৬৬৭° পূর্ব / 23.3167; 89.8667
আয়তন ৩০৯.৬৩ বর্গকিমি
সময় স্থান বিএসটি (ইউটিসি+৬)
জনসংখ্যা (1991)
 - ঘনত্ব
269489
 - ৮৭০ বর্গকিমি
পোস্টকোড 8140
মানচিত্র সংযোগ: Official Map of Muksudpur

মুকসুদপুর বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা

অবস্থান[সম্পাদনা]

মকসুদপুর উপজেলা (গোপালগঞ্জ জেলা) আয়তন: ৩০৯.৬৩ বর্গ কিমি। অবস্থান: ২৩°১০´ থেকে ২৩°২২´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯°৪৮´ থেকে ৯০°০৮´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। সীমানা: উত্তরে নগরকান্দা ও ভাঙ্গা উপজেলা, দক্ষিণে গোপালগঞ্জ সদর ও কাশিয়ানী উপজেলা, পূর্বে ভাঙ্গা উপজেলা ও রাজৈর উপজেলা, পশ্চিমে কাশিয়ানী ও বোয়ালমারী উপজেলা।

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

মুকসুদপুর থানা গঠিত হয়েছিল ১৯৬১ সালে ৷ বর্তমানে এটি উপজেলা ৷ এবং উপজেলার একটি পৌরসভা(১৬.৭৭ বর্গ কিঃ মিঃ),১৬ টি ইউনিয়ন(উজানী,কাশালিয়া,খান্দারপাড়,গোবিন্দপুর,গোহালা,জলিলপাড়,দিগনগর,ননীক্ষীর,পশারগাতী,বহুগ্রাম,বাশঁবাড়িয়া,বাটিকামারী,ভাবড়াশুর,মহারাজপুর,মোচনা,রাঘদি),২০৬ টি মৌজা,২৫৪ টি গ্রাম আছে ৷ এ উপজেলাটিতে প্রায় ২৮৪২০৫ জনের বসবাস ৷ এবং শিক্ষার হার প্রায় ৪৭ শতাংশ ৷

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ভাষা আন্দোলনের মিছিলে ছাত্র জনতার উপর পুলিশের গুলির প্রতিবাদে ২৪ ফেব্রুয়ারি এ উপজেলায় শোক মিছিল ও জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৬৬ সালে এ উপজেলায় আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের মিছিলে পুলিশের গুলিতে স্কুল ছাত্র মহানন্দ শহীদ হন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ২২ এপ্রিল পাকিস্তানি বিমান থেকে গুলিবর্ষণ করলে বানিয়ারচরে ৫ জন লোক আহত হয় এবং একটি লঞ্চ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ৯ আগস্ট মুকসুদপুর থানায় মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত আক্রমণে পুলিশ ও রাজাকারসহ ৮৪ জন নিহত হয়। ১২ অক্টোবর বামনডাঙ্গা বাজারে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পাকবাহিনী ও রাজাকারদের লড়াইয়ে ২২ জন পাকসেনা ও রাজাকার নিহত হয়। এছাড়াও ১২ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত দিগনগর ব্রিজের নিকট মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পাকবাহিনী ও রাজাকারদের লড়াইয়ে ৩০ জন পাকসেনা ও ১০ জন রাজাকার নিহত হয় এবং ৩ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন গণকবর ২ (দিগনগর ও বাগাতি গ্রাম)।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

এখানে শিক্ষার গড় হার ৪৭.১%; পুরুষ ৫১.৪%, মহিলা ৪২.৬%। কলেজ ৪, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৪৩, প্রাথমিক বিদ্যালয় ২০০, কেজি স্কুল ৮, মাদ্রাসা ১৮। উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: মুকসুদপুর ডিগ্রি কলেজ (১৯৭২), বঙ্গরত্ন ডিগ্রি কলেজ, কালীনগর উচ্চ বিদ্যালয় (১৯০৭), বাটিকামারী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় (১৯২১), সাবের মিঞা জসিমুদ্দিন মডেল উচ্চ বিদ্যালয় (১৯২৮), এস জে উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৩৫), জে কে এম বি মল্লিক উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৩৮), পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৩৯), খান্দারপাড় ইউনিয়ন ইন্দুহাটি হলধর উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৪৫), বহুগ্রাম পি সি উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৬৬), বাটিকামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৯১৯), বনগ্রাম ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা (১৯২৫), দিগনগর ফাজিল মাদ্রাসা।

অর্থনৈতীক ও জীবন-যাপন[সম্পাদনা]

এই স্থানের জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি-৬৩%, অকৃষি শ্রমিক-২.১৪%, শিল্প-০.৫৩%, ব্যবসা-১৩.০৫%, পরিবহণ ও যোগাযোগ-১.২১%, চাকরি-৮.৯%, নির্মাণ-২.৪%, ধর্মীয় সেবা-০.২২%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স-০.৭% এবং অন্যান্য-৭.৮৫%।


কৃষিভূমির মালিকানাসহ ভূমিমালিক-৬৮.২৭%, ভূমিহীন-৩১.৭৩%। (শহরে ৫৬.৭১% এবং গ্রামে ৬৯.০৬% পরিবারের কৃষিজমি রয়েছে।)


প্রধান কৃষি ফসল ধান, পাট, সরিষা, ডাল, আখ, গম, পান, পিঁয়াজ, মিষ্টি আলু, শাকসবজি।

বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় ফসলাদি কাউন, চীনা, নীল, তিল, তিসি, মটর, ছোলা।

প্রধান ফল-ফলাদিব আম, কাঁঠাল, কলা, পেঁপে, নারিকেল, তাল, পেয়ারা, লেবু, লিচু।

মৎস্য, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার মৎস্য ৬ টি, গবাদিপশুরগবাদিপশু খামার- ৪৫ টি, হাঁস-মুরগির খামার-৯৭ টি, চিংড়ির ঘের -২০ টি, হ্যাচারি -২ টি, নার্সারি -১১টি।


যোগাযোগঃ পাকারাস্তা ১৩২ কিমি, কাঁচারাস্তা ৫১০ কিমি।

বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় সনাতন বাহন পাল্কি।


আরও আছে শিল্প ও কলকারখানা জুটমিল, আটামিল, স’মিল, রাইসমিল, তেলমিল, কটনমিল, আইস ফ্যাক্টরি, ওয়েল্ডিং কারখানা।

কুটিরশিল্প স্বর্ণশিল্প -৬৬টি, মৃৎশিল্প -১০২টি, লৌহশিল্প -২৪৮ টি, সূচিশিল্প -৮২৫ টি, বাঁশের কাজ -২৭৫ টি, কাঠের কাজ- ৯০৭ টি।

হাটবাজার ও মেলা হাটবাজার ৩৮ টি, মেলা ৭টি। (টেংরাখোলা হাট, খান্দারপাড় হাট, বনগ্রাম হাট, টেকেরহাট (উত্তরপাড়), বাটিকামারী হাট ও গোহালার হাট এবং টেংরাখোলা মেলা ও কমলাপুর মেলা উল্লেখযোগ্য।)


প্রধান রপ্তানিদ্রব্য পাট, পিঁয়াজ, তালের গুড়, গম, মিষ্টি আলু।


বিদ্যুৎ ব্যবহার এ উপজেলার সবক’টি ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পল্লিবিদ্যুতায়ন কর্মসূচির আওতাধীন। তবে ১৪.৬১% পরিবারের বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

প্রাকৃতিক সম্পদ এ উপজেলার চান্দার বিল এলাকায় পীট কয়লার সন্ধান পাওয়া গেছে।

পানীয়জলের উৎস নলকূপ ৯৪.৮৯%, ট্যাপ ০.২৬%, পুকুর ১.৭২% এবং অন্যান্য ৩.১৩%। এ উপজেলার ৮০% অগভীর নলকূপের পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি প্রমাণিত হয়েছে।

স্যানিটেশন ব্যবস্থা এ উপজেলার ৩৭.৭৭% (গ্রামে ৩৬.২৯% এবং শহরে ৫৯.৫২%) পরিবার স্বাস্থ্যকর এবং ৫৩.৫০% (গ্রামে ৫৪.৮৩% এবং শহরে ৩৪.০৯%) পরিবার অস্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিন ব্যবহার করে। তবে ৮.৭৩% পরিবারের কোনো ল্যাট্রিন সুবিধা নেই।

স্বাস্থ্যকেন্দ্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১, পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র ১৩, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ৬, ক্লিনিক ১।


এছাড়া আছে এনজিও ব্র্যাক, প্রশিকা, কারিতাস, আশা, ওয়ার্ল্ড ভিশন।

বিবিধ[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]


গোপালগঞ্জ জেলা Flag of Bangladesh
উপজেলা/থানাঃ কোটালীপাড়া | মুকসুদপুর | টুঙ্গীপাড়া | কাশিয়ানী | গোপালগঞ্জ সদর |