সাভার উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

স্থানাঙ্ক: ২৩°৫১′৩০″ উত্তর ৯০°১৬′০০″ পূর্ব / ২৩.৮৫৮৩° উত্তর ৯০.২৬৬৭° পূর্ব / 23.8583; 90.2667

সাভার উপজেলা
সাভার, বাংলাদেশের স্কাইলাইন।
জাতীয় স্মৃতিসৌধ সাভার এর নবীনগরে অবস্থিত একটি স্মৃতিস্তম্ভ, যা মুক্তিযুদ্ধে নিহত শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে এবং সেই স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য নির্মিত হয়েছে।
BD Districts LOC bn.svg
Red pog.svg
সাভার
বিভাগ
 - জেলা
ঢাকা বিভাগ
 - ঢাকা
স্থানাঙ্ক ২৩°৫১′৩০″ উত্তর ৯০°১৬′০০″ পূর্ব / ২৩.৮৫৮৩° উত্তর ৯০.২৬৬৭° পূর্ব / 23.8583; 90.2667
আয়তন ২৮০.১২ বর্গকিমি
সময় স্থান বিএসটি (ইউটিসি+৬)
জনসংখ্যা (২০০১)
 - ঘনত্ব
৫৮৭০৪১
 - ২০৯৬ বর্গকিমি
পোস্টকোড ১৩৪০
ওয়েবসাইট: [http://সাভার উপজেলা সাভার উপজেলা]
মানচিত্র সংযোগ: সাভার উপজেলার ম্যাপ

সাভার বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের ঢাকা জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। এটি ঢাকা শহর হতে প্রায় ২৪ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। সাভার মূলত "জাতীয় স্মৃতিসৌধের" জন্য বিখ্যাত, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে এবং তাদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য নির্মিত।

পরিচ্ছেদসমূহ

ভূতত্ত্ব[সম্পাদনা]

সাভার ২৩.৮৫৮৩° উত্তর এবং ৯০.২৬৬৭° পূর্বে অবস্থিত। এখানে প্রায় ৬৬,৯৫৬ টি পরিবার বসবাস করছে এবং এর সামগ্রিক আয়তন হচ্ছে ২৮০.১২ বর্গ কিলোমিটার। এটি উত্তরে কালিয়াকৈর এবং গাজীপুর সদর উপজেলা; দক্ষিণে কেরানিগঞ্জ উপজেলা; পূর্বে মিরপুর, মোহাম্মদপুর, পল্লবী এবং উত্তরা থানা এবং পশ্চিমে ধামরাই এবং সিংগাইর উপজেলা দিয়ে বেষ্টিত। সাভারের ভূমি প্লেইস্টোসিন সময়সীমার পাললিক মাটি দ্বারা গঠিত। ভূমির উচ্চতা পূর্ব থেকে পশ্চিমে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাভারের দক্ষিণাংশ বংশাই এবং ধলেশ্বরী নদীর পলল দ্বারা গঠিত। এখানকার প্রধান নদীসমূহ হচ্ছে বংশাই, তুরাগ, ধলেশ্বরী।

এখানে ১০,৫৫১.১৮ হেক্টর পতিত জমি ছাড়াও মোট আবাদি জমির পরিমাণ হচ্ছে ১৬,৭৪৫.৭১ হেক্টর।

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

আয়তন ২৮০.১২ (বর্গঃ কি.মি.)
জনসংখ্যা ৫৮৭০৪১ জন
জনসংখ্যা ঘনত্ব ২০৯৬ (বর্গ কি.মি.)
নির্বাচনী এলাকা ০১ টি, ঢাকা-১৯
থানা / ইউনিয়ন ৬৬৯৫৬ টি
মৌজা ২৯৭ টি
সরকারী হাসপাতাল ০১ টি
স্বাস্থ্য কেন্দ্র / ক্লিনিক ২২ টি
পোস্ট অফিস ১৯ টি
নদ-নদী ০২ টি
হাট-বাজার ২৮ টি
ব্যাংক ৩৫ টি

সাভার থানা ১৯১২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি ১৯৮৩ সালে একটি উপজেলায় পরিণত হয়। বর্তমানে সাভার উপজেলা ২ টি থানায় বিভক্ত; যার একটি হচ্ছে সাভার এবং অন্যটি হচ্ছে আশুলিয়া।

উপজেলা পরিষদ[সম্পাদনা]

নাম পদবী ও ঠিকানা
জনাব মোঃ ফিরোজ কবীর উপজেলা চেয়ারম্যান, সাভার, ঢাকা
জনাব হাজী আব্দুল গণি ভাইস-চেয়ারম্যান (উপজেলা পরিষদের সদস্য), সাভার, ঢাকা
রোকেয়া হক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান (উপজেলা পরিষদের সদস্য), সাভার, ঢাকা

সাভার পৌরসভা[সম্পাদনা]

এটি গেন্ডায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পার্শ্বে সাভার বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

গেস্ট হাউজ[সম্পাদনা]

সাভার উপজেলায় ১ টি সরকারী গেস্ট হাউস রয়েছে।[১]

সাভার বাস স্ট্যান্ড[সম্পাদনা]

গাবতলী থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এখানে বাসস্ট্যান্ড এবং বাজার রয়েছে। এখানে মার্কেটের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে "সাভার সিটি সেন্টার", "সাভার নিউমার্কেট", "সাভার অন্ধ সংস্থা মার্কেট", "রানা প্লাজা", "ভরসা সুপার মার্কেট", "চৌরঙ্গী সুপার মার্কেট", "উৎসব প্লাজা", "কোরাইশী সুপার মার্কেট", "রাজ্জাক প্লাজা"মাহাতাব প্লাজা ইউসুফ টাউয়ার দিলখুশা সুপার মার্কেট প্রভৃতি। এর মধ্যে সাভার সিটি সেন্টার, সাভার নিউ মার্কেট, রানা প্লাজা এবং রাজ্জাক প্লাজা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত।

নিকটবর্তী বিমানবন্দর[সম্পাদনা]

কোড (Code) IATA আকার (Kind) নাম (Name) শহর (City) দূরত্ব (Distance) বিয়ারিং (Bearing) বিমানবন্দর (Airlines)
VGZR DAC মাঝারি (Medium) শাহজালাল আন্তর্জাতিক (Shahjalal INTL) ঢাকা (Dhaka) 8 nm E ৯০ (90) (one of Air Kiribati or Royal Bengal A), United Airways, Best Air, Afriqiyah, (one of Jet Airways or Jet Konnect), AirAsia, Biman Bangladesh, Cathay Pacific, China Southern, (one of Emirates or Emirates SkyCa), Etihad, Air Arabia, Gulf Air, (one of Kingfisher Red or Kingfisher), Air-India Expr, Dragonair, Drukair —, Kuwait, (one of Malaysia Airli or MASkargo or MASwings), China Eastern, (one of Pakistan Inter or Riau), (one of Qatar Airways or Qatar Airways ), (one of Singapore or Singapore Airl), (one of Thai Airways I or Trans Guyana), GMG Airlines
VGTJ X ছোট (Small) তেঁজগাও (TEJGAON) ঢাকা (Dhaka) 8 nm E ১১৮ (118) X
VEAT IXA মাঝারি (Medium) আগারতলা (AGARTALA) X 54 nm E ৮৭ (87) (one of IndiGo or Viva Air Domin), (one of Jet Airways or Jet Konnect), Paramount, Indian, (one of Kingfisher Red or Kingfisher)
VGCM CLA ছোট (Small) কুমিল্লা বিমানবন্দর (Comilla Airport) কুমিল্লা (Comilla) 57 nm E ১১৫ (115) X

[২]

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

মসজিদ ৩১৮ টি, গির্জা ৮ টি এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ৬৮ টি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ, ব্যাংক কলোনি মাদ্রাসা মসজিদ এবং সাভার ডেইরি ফার্ম মসজিদ, সাভার ব্যাপটিস্ট চার্চ, সাভার দক্ষিণ পাড়া হরির আখড়া মন্দির (Savar Daskinpara Harir Akhra Mandir) এবং পঞ্চাবতী (Panchabati) আশ্রম মন্দির।[৩]

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

স্কুল[সম্পাদনা]

রেডিও কলোনী মডেল স্কুল ( রেডিও কলোনী), অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয় (ব্যাংকটাউন), সাভার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (ব্যাংক কলোনী), সাভার অধর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় (ব্যাংক কলোনী), বি.পি.এ.টি.সি. স্কুল এন্ড কলেজ (বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র), সাভার ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, এ্যাবাক পাবলিক স্কুল (গেন্ডা), আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় (গেন্ডা), মধ্য গেন্ডা আইডিয়াল স্কুল (গেন্ডা), গেন্ডা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় (গেন্ডা), সেন্ট পিটার্স টিউটোরিয়াল (গেন্ডা), অনিবার্ণ উচ্চ বিদ্যালয় (গেন্ডা), আলহাজ জাফর বেপারী উচ্চ বিদ্যালয়(মাজার)

কলেজ[সম্পাদনা]

সাভার মডেল কলেজ (শাহীবাগ), সাভার কলেজ (ব্যাংক কলোনী), ল্যাবরেটরী কলেজ (ব্যাংক কলোনী), কলেজ অফ ফাইন্যান্স এন্ড ম্যানেজমেন্ট (রেডিও কলোনী), বি.পি.এ.টি.সি. স্কুল এন্ড কলেজ (বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র),জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল এন্ড কলেজ, সাভার ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ।

বিশ্ববিদ্যালয়[সম্পাদনা]

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়,সাভার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, এনাম মেডিকেল কলেজ, গণ বিশ্ববিদ্যালয়।

অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহ[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (Bangladesh Krira Shikkha Protisthan) (যা পূর্বে Bangladesh Institute of Sports নামে পরিচিত ছিল), আণবিক শক্তি গবেষণা কেন্দ্র (Atomic Energy Research Establishment), উপগ্রহ ভূমি গ্রাহক কেন্দ্র (Satellite Ground Receiving Station, Talibabad), জাতীয় জৈবপ্রযুক্তি সংস্থা (National Institute of Biotechnology), বাংলাদেশ পশুসম্পদ গবেষণা সংস্থা (Bangladesh Livestock Research Institute), সাভার যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (Savar Youth Training Centre), ব্র্যাক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (BRAC Training Centre) ইত্যাদি।

চিকিৎসা কেন্দ্র[সম্পাদনা]

সিআরপি[সম্পাদনা]

সাভারে অবস্থিত সিআরপির প্রধান কার্যালয় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম চালানোর ১১ বছর পর ১৯৯০ সালে সিআরপি সাভারে চলে আসে। সিআরপিতে বিভিন্ন ধরণের অসংখ্য গাছপালা এবং বিভিন্ন প্রজাতির ফুল বিভিন্ন ঋতুতে সিআরপিকে ভিন্ন ভিন্ন রূপে সুশোভিত করে রাখে। এখানে খেলাধুলা এবং আমোদ প্রমোদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা হাসপাতালের রোগী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং Bangladesh Health Professions Institute (BHPI) এর ছাত্র-ছাত্রীরা উপভোগ করে। এছাড়া বহুমুখী কার্যের জন্য নিযু্‌ক্ত সভাগৃহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলাপ-আলোচনা, সভা, খেলাধুলার বিভিন্ন ইভেন্ট এবং রোগীদের বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত হয়।

স্বাস্থ্যকেন্দ্র[সম্পাদনা]

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নাম সংখ্যা
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (Upazila Health Complex) ১ টি
মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সাভার ক্যান্টনমেন্ট) (Combined Military Hospital) ১ টি
কোরিয়া বাংলাদেশ বন্ধুত্ব হাসপাতাল (Korea Bangladesh Friendship Hospital) ১ টি
পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র (Family Planning Centre) ৭ টি
উপগ্রহ ক্লিনিক (Satellite Clinic) ২ টি
বেসরকারী ক্লিনিক (Private Clinic) ২১ টি

তথ্যসূত্রে :

বাংলাপিডিয়া

সংবাদপত্র ও সাময়িকী[সম্পাদনা]

জাগ্রত কন্ঠ, সাভার বার্তা, আমাদেরসাভার.কম, সাফ কথা, সাভার কন্ঠ, দৈনিক ফুলকি, গণ ভাষা সাময়িকী, জ্বালাময়ী ইত্যাদি।

এনজিও কার্যক্রম[সম্পাদনা]

সাভারের গুরুত্বপূর্ণ এনজিওসমূহ হচ্ছে ব্র্যাক (Brac), আশা (Asa), প্রশিকা (Proshika), গ্রামীণ ব্যাংক (Grameen Bank), গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র (Ganasastha Kendra), ওয়াল্ড ভিশন (World Vision), স্বনির্ভর বাংলাদেশ (Swanirvor Bangladesh), ভিইআরসি (VERC), পল্লী মঙ্গল কর্মসূচী (Palli Mangal Karmasuchi), সিডিডি (CDD), আদেশ (Adesh) ইত্যাদি।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

প্রধান রপ্তানী[সম্পাদনা]

সাভার থেকে কাঁঠাল, পেঁপে, ফুল, চারা, দুগ্ধজাত মাংস, রূপান্তরিত কাপড়, ছোপানো, ঔষধ, তৈরি পোশাক প্রস্তুত, ইলেকট্রনিক্স এবং বৈদ্যুতিক পণ্য, জুতা, ইট, সন্দেশ ইত্যাদি রপ্তানী করা হয়।

হাট, বাজার এবং মেলা[সম্পাদনা]

সাভারে হাট এবং বাজারের সংখ্যা ১৪ টি। এর মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য বাজার হচ্ছে- সাভার বাজার (Savar Bazar), নবীনগর বাজার (Nabinagar Bazar), আমিন বাজার (Amin Bazar), বলিভাদ্র এবং বাগবাড়ী বাজার (Balibhadra and Bagbari Bazar)।

উল্ল্যেখযোগ্য হাট হচ্ছে- আশুলিয়া (Ashulia), সাভার (Savar), শিমুলিয়া (Shimulia), কাঠগড়া (Kathgara), সাদুল্লাপুর এবং ভাকুরার হাট (Sadullapur and Vhakurar Hat)।

মেলা হয় ৬ টি স্থানে- দারোগালি বয়াতি মেলা (নয়ারহাট) [Darogali Bayati Mela (Nayarhat)], বাহাত্তর প্রহার মেলা (সাভার) [Bahattar Prahar mela (Savar)], ঘোড়া পীরের মেলা (নালাম) [Ghora Pirer Mela (Nalam)], মুহার্রাম মেলা (কাতলাপুর) [Muharram Mela (Katlapur)], পৌষ মেলা (ধামসোনা) [Pawsh Mela (Dhamsona)]।

প্রধান পেশাসমূহ[সম্পাদনা]

পেশার নাম শতকরা হার
কৃষি ২৪.৩৪ %
কৃষি শ্রমিক ১২.৪৮ %
অকৃষি ৪.৪৪ %
গবাদি পশু প্রজনন, বনরক্ষণ বিদ্যা এবং মাছ ধরা ১.৯০ %
শিল্প ১.৩৭ %
বাণিজ্য ১৭.৩৫ %
সেবা ২০.৬৮ %
নির্মাণ ১.৬৬ %
পরিবহণ ৩.৯৬ %
অন্যান্য ১১.৪৬ %

সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ[সম্পাদনা]

সমবায় সমিতি ৮১ টি
শিশু সংগঠন ১ টি
চলচ্চিত্র সমাজ ৩ টি
সিনেমা হল ৪ টি
নাট্যদল ৫ টি
থিয়েটার স্টেজ ১ টি
সঙ্গীত কেন্দ্র ৩ টি
অনাথ আশ্রম ৫ টি
অপেরা পার্টি ১ টি
মহিলা সংঘ ৩ টি
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ১ টি
এ্যামনেস্টি সংস্থা ২ টি
গলফ ক্লাব ১ টি
বিনোদন পার্ক ২ টি (ফ্যান্টাসি কিংডম ও নন্দন পার্ক)

সিনেমা হল[সম্পাদনা]

১. বিলাস সিনেমা হল : এটি বাজার রোডে অবস্থিত। এটি সাভার বাসস্ট্যান্ড হতে কিছুটা পশ্চিমে অবস্থান করছে।

২. সাভার সেনা অডিটরিয়াম : এই সিনেমা হলটি নবীনগরে অবস্থান করছে।

৩. চন্দ্রিমা সিনেমা হল: এই সিনেমা হলটি ই.পি.জেড এ অবস্থান করছে।

ঐতিহাসিক ঘটনা[সম্পাদনা]

সাভার' সপ্তম এবং অষ্টম শতাব্দীতে সানবাঘ রাজ্যের (Sanbagh Kingdom) রাজধানী ছিল। রাজা হরিশ চন্দ্র ছিল এই রাজত্বের রাজা। ষষ্ঠ শতাব্দী থেকে প্রাপ্ত লিপি থেকে জানা যায় যে, অনেক বিদেশী ব্যবসায়ী এখানে ব্যবসার উদ্দেশ্যে আসত। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় গোলাম দাস্তগীর টিটু (Golam Dastagir Titu) পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে মুখোমুখি যুদ্ধে নিহত হন। দেশবাসী তাকে সাভার ডেইরি ফার্মের প্রধান ফটকের কাছাকাছি সমাহিত করে। বাংলাদেশ আর্মি তার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করে।

স্বাধীনতা যুদ্ধের চিহ্ন[সম্পাদনা]

জাতীয় স্মৃতি সৌধ (National Memorial Monument), জাতীয় স্মৃতি সৌধের সম্মুখে অবস্থিত গণ-সমাধি, সাভার ডেইরি ফার্ম এর ফটকে শহীদ স্মৃতি সৌধ, সংশপ্তক এবং অমর একুশে ভাস্কর্য (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস)।

সাপের বাজার[সম্পাদনা]

ঢাকার সাভারের পোড়া বাড়ীতে প্রতিদিন ছোট-বড় নানা জাতের সাপ বেচাকেনার হাট বসে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের অধিকাংশই বেদে সম্প্রদায়ের। ময়মনসিংহ, শেরপুর ও মধুপুরের পাহাড়ি এলাকার গারো এবং উত্তরাঞ্চলের সাঁওতালরাও বাড়তি রোজগারের জন্য এ হাটে সাপ বিক্রি করতে আসেন। মাঝেমধ্যে বিদেশিরাও আসেন সাপ কিনতে।

হাট ঘুরে জানা যায়- ১৫ থেকে ২০ জন বেদে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ টি বিভিন্ন জাতের সাপ বিক্রি করেন। জাত বুঝে দাম নির্ধারণ করা হয়। গোখরা ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, দাঁড়াশ ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, অজগর এক হাজার থেকে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। লাউডগা, কেউটে, কালনাগিনী, কাটা দুবল ও শঙ্খিনী ১০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে। মাঝেমধ্যে দাম বেশ উঠা-নামা করে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল পর্যন্ত বাক্স ভর্তি সাপ নিয়ে বিক্রেতারা রাস্তার দুইপাশে পসরা সাজিয়ে বসেন। হাটের বেশিরভাগ ক্রেতা-বিক্রেতাই বেদে। তবে সাভার সহ দেশের বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় কর্মরত কোরিয়ানরাও এ হাট থেকে সাপ কিনে নিয়ে যায়।

সাভারের বেদে পাড়ার সাপুড়ে টুকু মিয়া, হানজাল মিয়া, ইব্রাহিম, শহর আলী সহ অনেকেই এখানে নিয়মিত সাপ বেচা-কেনা করেন। তারা জানান, এ হাটের পরিচিতি থাকায় দেশের নানা প্রান্তের সাপুড়ে এখানে এসে সাপ বিক্রি করেন। আবার পছন্দ মতো সাপ পেলে তারা কিনেও নেন। বেদেপাড়ার সবচেয়ে প্রবীণ ব্যক্তি সাইজেদ আলী (৯৫) দীর্ঘশ্বাস ফেলে বেদেদের অতীত জীবন সম্পর্কে বলেন, ইউসুফ সর্দার, সাত্তার সর্দার, নায়েব আলী সর্দার, হানিফ সর্দার নৌকা হারিয়ে এখন রাজমিস্ত্রির জোগালি অথবা মাটি কাটার কাজ করেন। অবহেলিত বেদেদের উন্নয়নে কেউ এগিয়ে আসেনি। তারপরও বেদেপাড়া থেকে এখন প্রতিদিন দুই শতাধিক নারী সাপের খেলা দেখাতে অথবা সিঙ্গা লাগাতে রাজধানী ও আশপাশের গ্রামগুলোতে ছুটে যান।

কৃতি ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

আশরাফ উদ্দিন খান ইমু,ডাঃ দেউয়ান মোঃ সালাউদ্দিন বাবু,আলী হায়দার,ফিরোজ কবির,জনাব হাজী আব্দুল গণি,সউকত মাহমুদ প্রমুখ।

মুক্তিযোদ্ধা[সম্পাদনা]

আশরাফ উদ্দিন খান ইমু, আব্দুল লতিফ খান, দেলোয়ার হোসেন খান (দিলু), সুবেদার জমিরুল হুসেন খান, ফিরোজ কবির, অরুন পাল, ড. ইউনুস, ড. বরুন পাল, নাগর পাল, ধিরেন ঘোষ, নিখিল শাহা প্রমুখ।

শহরাঞ্চল[সম্পাদনা]

নবীনগর, জাহাঙ্গীরনগর, কাঠগড়া, জামগড়া, নন্দন পার্ক, ফ্যান্টাসি কিংডম, আকরাইন, রাজাশন, রেডিও কলোনী, সাভার বাসস্ট্যান্ড, পাকিজা, ব্যাংক কলোনী, গেন্ডা, থানা স্ট্যান্ড, উলাইল, ব্যাংক টাউন, ফুলবাড়িয়া, হেমায়েতপুর, বলিয়ারপুর, আশুলিয়া, আমিন বাজার ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

উল্ল্যেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

জাতীয় স্মৃতিসৌধ, রাজা হরিশ চন্দ্রের ঢিবি, ফ্যান্টাসী কিংডম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, নন্দন পার্ক, অরণ্যালয়।[১]

প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য এবং ধ্বংসাবশেষ[সম্পাদনা]

রাজা হরিশ চন্দ্রের ভিটা (৮ম খ্রিস্টাব্দ) এটি মজিদপুর এবং রাজাশনে অবস্থান করছে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]