পিরোজপুর জেলা
| পিরোজপুর জেলা | |
| বিভাগ | বরিশাল বিভাগ |
| স্থানাঙ্ক | 22.58° N 89.97° E |
| আয়তন | ১৩০৭.৬১ বর্গ কিমি |
| সময় স্থান | বিএসটি (ইউটিসি+৬) |
| জনসংখ্যা (১৯৯১) - ঘণত্ব - শিক্ষার হার |
১১২৬৫২৫ - ৮৬১.৫১/কিমি² - ৫৫.৮% |
| ওয়েবসাইট: বাংলাপিডিয়া নিবন্ধ | |
| মানচিত্র সংযোগ: পিরোজপুর জেলার প্রাতিষ্ঠানিক মানচিত্র | |
পিরোজপুর জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল।
পরিচ্ছেদসমূহ |
ভৌগোলিক সীমানা [সম্পাদনা]
প্রশাসনিক এলাকাসমূহ [সম্পাদনা]
পিরোজপুর জেলা ৭টি উপজেলায় বিভক্ত। এগুলো হলো:
- কাউখালী
- নাজিরপুর
- নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি)
- পিরোজপুর সদর
- ভাণ্ডারিয়া
- মঠবাড়িয়া
- জিয়ানগর উপজেলা।জিয়ানগর
ইতিহাস [সম্পাদনা]
সুন্দরবনের কোলঘেঁষা কালীগঙ্গা, বলেশ্বর, দামোদর, সন্ধ্যা বিধৌত প্রাকৃতিক সবুজের লীলাভূমি পিরোজপুর জেলা। বৈচিত্র্যে ভরপুর পিরোজপুর জেলার উত্তরে গোপালগঞ্জ, উত্তর-পূর্বে বরিশাল ও ঝালকাঠী, দক্ষিণ-পশ্চিমে বাগেরহাট এবং দক্ষিণ-পূর্বে বরগুনা জেলা অবস্থিত। জেলার একদিকে লবণপানি অন্য দিকে মিঠা পানির অবস্থান। ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিক থেকে বাকেরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন নদী গর্ভে, মোহনায় ছোট ছোট দ্বীপাঞ্চল সৃষ্টি এবং এর দ্রুত বৃদ্ধি হতে থাকে। দক্ষিণাঞ্চলের সুন্দরবনের জঙ্গল কাটা হলে আবাদযোগ্য ভূমির আয়তনও ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। এ সময় ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ, দক্ষিণাঞ্চলের কৃষক বিদ্রোহ, পিরোজপুরের কালীগঙ্গা, কচাঁ, বলেশ্বর প্রভৃতি নদীতে মগ জলদস্যুদের উপদ্রব, বিশেষত: ঐ সকল নদীতে চুরি, ডাকাতি, লুন্ঠনসহ বিভিন্ন ফৌজদারি অপরাধ বৃদ্ধি পেতে থাকে। ফলে সাধারণ প্রশাসন এবং ভূমি প্রশাসনের সুবিধাজনক অধ্যায় সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং ফৌজদারি ও দেওয়ানি বিরোধের বিচারকার্য তড়িৎ সম্পাদনের লক্ষ্যে পিরোজপুর মহকুমা স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়। বাকেরগঞ্জ তদানীন্তন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এইচ.এ.আর. আলেকজান্ডার ১৮৫৬ সালের ২৪ এপ্রিল পিরোজপুরে মহকুমা স্থাপনের প্রস্তাব দেন।
১৮৫৯ সালের ২৮ অক্টোবর পিরোজপুর মহকুমা স্থাপিত হয়। ঐ সময় বর্তমান বাগেরহাট জেলা (মোড়লগঞ্জ, কচুয়া) পিরোজপুর মহকুমার অর্ন্তগত ছিল। ১৮৬৩ সালে বাগেরহাট একটি মহকুমা হিসেবে যশোর জেলার অর্ন্তগত হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় এই জেলা থেকে কাঠালিয়া (ঝালকাঠী), বামনা (বরগুনা), পাথরঘাটা (বরগুনা), বানারীপাড়া (বরিশাল) উপজেলা এলাকাগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পিরোজপুর মহকুমা স্থাপনের সংগে সংগে প্রশাসনিক সুবিধার জন্য পাড়েরহাট বন্দর সংশ্লিষ্ট টগড়া হতে থানা এবং কাউখালী হতে মুন্সেফি আদালত পিরোজপুর সদরে স্থানান্তরিত করা হয়। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন ১৭৯০ সালে গর্ভণর জেনারেল কর্ণওয়ালিশ ভারতে শাসন সংস্কারের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটান। তৎপ্রেক্ষিতে বাকেরগঞ্জে ১০টি থানা স্থাপন করা হয়। তন্মধ্যে পিরোজপুরের অদূরে পাড়েরহাটের নিকটবর্তী টগরা থানা, কেওয়ারি থানা (বর্তমান নেছারাবাদ বা স্বরূপকাঠী ও বানারীপাড়া) এবং কাউখালী থানা অন্যতম। পরবর্তীতে কাউখালীতে একটি আবগারি অফিস ও সাব-রেজিষ্টার অফিস স্থাপন করা হয়। মহকুমা প্রতিষ্ঠার পর একজন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট এবং ডেপুটি কালেক্টরের উপর প্রশাসন কার্য এবং মুন্সেফের উপর দেওয়ানি বিচারের কার্যভার অর্পণ করা হয়। পিরোজপুর মহকুমা স্থাপনের প্রায় ৪বছর পর ১৮৬৩ সালে বেঙ্গল রেভিনিউ এবং টপোগ্রাফিক্যাল সার্ভে সমাপ্ত হলে কচুয়া এবং মোড়েলগঞ্জকে পিরোজপুর মহকুমা থেকে কেটে নিয়ে বাগেরহাটকে মহকুমার মর্যাদায় উন্নীত করা হয়। তখন পিরোজপুরের আয়তন সীমানা নির্ধারণ করা হয় ৭২৯ বর্গ মাইল। ১৮৬৫ সালের ১ এপ্রিল পিরোজপুর সাব-রেজিষ্টার অফিস, ১৮৬৫ সালে পিরোজপুর দাতব্য চিকিৎসালয়, ১৮৬৫ সালে পিরোজপুর মিনিসিপ্যালিটি, ১৮৮৭ সালে লোকাল বোর্ড, ১৮৬৫ সালে স্থাপিত মাইনর স্কুল ১৮৮২ সালে উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে রূপান্তর এবং ১৮৯৩ সালে নারী শিক্ষার জন্য আরবান ইংলিশ গালর্স হাইস্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৫৯ সালের ২৮ অক্টোবর পিরোজপুর মহাকুমা ১৯৮৪ সালে জেলায় রূপান্তরিত হয়। ১৮৮৫ সালে পিরোজপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। পিরোজপুর নামকরণের একটা সূত্র খুঁজে পাওয়া যায়। নাজিরপুর উপজেলার শাখারী কাঠির জনৈক হেলালউদ্দীন মোঘল নিজেকে মোঘল বংশের শেষ বংশধর হিসেবে দাবী করেছিলেন। তাঁর মতে বাংলার সুবেদার শাহ্ সুজা আওরঙ্গজেবের সেনাপতি মীর জুমলার নিকট পরাজিত হয়ে বাংলার দক্ষিণ অঞ্চলে এসেছিলেন এবং আত্মগোপনের এক পর্যায় নলছিটি উপজেলার সুগন্ধা নদীর পারে একটি কেল্লা তৈরি করে কিছুকাল অবস্থান করেন। মীর জুমলার বাহিনী এখানেও হানা দেয় এবং শাহ্ সুজা তার দুই কন্যাসহ আরাকানে পালিয়ে যান। সেখানে তিনি অপর এক রাজার চক্রান্তে নিহত হন। পালিয়ে যাওয়ার সময় তার স্ত্রী এক শিশু পুত্রসহ থেকে যায়। পরবর্তীতে তারা অবস্থান পরিবর্তন করে ধীরে ধীরে পশ্চিমে চলে এসে বর্তমান পিরোজপুরের পার্শ্ববর্তী দামোদর নদীর মুখে আস্তানা তৈরি করেন। এ শিশুর নাম ছিল ফিরোজ এবং তার নাম অনুসারে নাম হয় ফিরোজপুর। কালে ভাষার পরিবর্তনে নাম হয়েছে পিরোজপুর।
ব্যবসা বাণিজ্য [সম্পাদনা]
পিরোজপুর জেলা শিল্প কারখানায় সমৃদ্ধ নয়। বড় ধরনের কোন শিল্প কলকারখানা এখানে এখনো গড়ে ওঠেনি। জনগোষ্ঠীর বৃহৎ অংশই কৃষিকাজে নিয়োজিত। এই জেলার কাউখালী লবন উৎপাদনে মোঘল ও বৃটিশ আমলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। জেলায় ৪টি লবন মিল ছিল। বর্তমানে মেসার্স পল্লী সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজ, গণমান, নেছারাবাদ নামে মিলটি চালু আছে। বর্তমানে বিসিক শিল্প নগরে মোট ১৬৭ টি প্লট আছে, যার মধ্যে বরাদ্দকৃত প্লট সংখ্যা ১৪৪টি, বরাদ্দকৃত শিল্প ইউনিট ৯৯টি, উৎপাদনরত শিল্প ইউনিট ৫৯ টি এবং ২৬টি প্লট বরাদ্দের অপেক্ষায় আছে। ২০০২ সালের তথ্যমতে দেখা যায় পিরোজপুর জেলায় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের মাধ্যমে আত্ম-কর্মসংস্থান প্রকল্পে বিতরণকৃত শিল্প ইউনিট ১১৪টি। আয়বর্ধক কর্মকান্ডের মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচন প্রকল্প যা ভান্ডারিয়াতে গ্রহণ করা হয়েছে, সেখানে বিতরণকৃত শিল্প ইউনিটের সংখ্যা ১৪৪টি। অনেক পূর্বে পিরোজপুর সদর উপজেলায় একটি টেক্সাইল মিল নির্মাণ কাজ শুরু করলেও তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। জেলার একমাত্র বিসিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে নেছারাবাদ উপজেলার কৌড়িখাড়াতে। সেখানে নারিকেল ছোবড়া থেকে উৎপন্ন পাপোশ, দড়ি ও ছোবড়া এলাকার তথা দেশের বহুল চাহিদা মেটায়। অনেকের মতে এই ছোবড়া শিল্পটি ১০০ বছরেরও পুরনো। ১৯৬৬ সলে নেছারাবাদ উপজেলায় পাকিস্তান সরকার ‘কয়ার ইন্ডাষ্ট্রি’ নামে একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই প্রতিষ্ঠানটি ব্যক্তিমালিকানায় চলে যায়। বর্তমানে ‘রানা-রাববী ইন্ডাস্ট্রি’ নামে প্রতিষ্ঠানটি চলছে। এ শিল্প এলাকায় আরও পাঁচটি ছোবড়া শিল্পের আধুনিক কারখানা গড়ে উঠেছে। বর্তমানে ছোবড়ার জায়গা ক্রমশ: দখল করে নিচ্ছে প্লাষ্টিক ও ফোম। ভান্ডারিয়া উপজেলায় ছোবড়া, হোগলা, চাচবুনন আর জালবুননের ক্ষুদ্র শিল্পও গড়ে উঠেছে। নেছারাবাদে ছোট ও মাঝারী মানের নৌযান তৈরির তিন চারটি ডক-ইয়ার্ড আছে। ডক ইয়ার্ডগুলোর একটি সরকারী পর্যায়ে ও বাকিগুলো ব্যক্তিমালিকানায় গড়ে উঠেছে। প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য নৌযান এখান থেকে তৈরি হয়। কাউখালীতে সমবায়ভিত্তিক একটি শীতল পাটি তৈরির প্রকল্প আছে। শীতল পাটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ব্যাপকভাবে বিক্রি হয়। নেছারাবাদে স্থানীয় কামারদের দ্বারা তৈরি লোহার পেরেক এবং হস্তচালিত তাঁত কারাখানা প্রসিদ্বি ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। মঠবাড়ীয়াতে বাঁশ বেতের হস্তশিল্প গড়ে উঠেছে। এছাড়া জেলার বহুস্থানে চালের কল, আটার কল, করাত কল, বরফ কলের মত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিল্প রয়েছে। নবগঠিত জিয়ানগর উপজেরার পাড়েরহাট একটি বর্ধিষ্ণু ও উল্লেযোগ্য স্থান। এখানে জেলার সর্ববৃহৎ মাছের হাট অবস্থিত।উল্লেখ্য পিরোজপুরে মোট মাছের উৎপাদন ২৯,৩০০ মেট্রি্ক টন।
হোটেল ও আবাসন [সম্পাদনা]
হোটেল রজনী, ক্লাব রোড়, পিরোজপুর,হোটেল রিল্যাক্স, হাসপাতাল রোড, পিরোজপুর,হোটেল ডালাস, থানা রোড, পিরোজপুর,হোটেল বলাকা, ব্রীজ রোড, পিরোজপুর,হোটেল নিরালা, বাজার রোড, পিরোজপুর,হোটেল অবকাশ, থানা রোড, পিরোজপুর,হোটেল বিলাস, ক্লাব রোড, পিরোজপুর,হোটেল রয়্যাল, কলেজ রোড, পিরোজপুর, হোটেল ছায়ানীড়, বাজার রোড, পিরোজপুর,হোটেল সিনথিয়া, কাপুড়িয়া পট্টি, পিরোজপুর,হোটেল আল গালিভ, মিয়ারহাট বন্দর, নেছারাবাদ,হোটেল ইফতি, মিয়ারহাট বন্দর, নেছারাবাদ,হোটেল শাহ নেওয়াজ, ইন্দেরহাট বন্দর, নেছারাবাদ,হোটেল আল মদীনা, ইন্দেরহাট বন্দর, নেছারাবাদ,হোটেল অবদান, স্বরূপকাঠী বাজার, নেছারাবাদ।
আনুসঙ্গিক নিবন্ধ [সম্পাদনা]
বহিঃসংযোগ [সম্পাদনা]
- পিরোজপুর জেলার সরকারী ওয়েবসাইট জেলা তথ্য বাতায়ন।
|
|||||||||||||||||||||||||
|
||||||||||||||||||||||||||
| এই নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটিকে সমৃদ্ধ করে উইকিপিডিয়াকে সাহায্য করতে পারেন। |