কুড়িগ্রাম জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Kurigram
কুড়িগ্রাম
জেলা
বাংলাদেশে কুড়িগ্রাম জেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৫°৪৫′ উত্তর ৮৯°৪০′ পূর্ব / ২৫.৭৫° উত্তর ৮৯.৬৬° পূর্ব / 25.75; 89.66স্থানাঙ্ক: ২৫°৪৫′ উত্তর ৮৯°৪০′ পূর্ব / ২৫.৭৫° উত্তর ৮৯.৬৬° পূর্ব / 25.75; 89.66
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ রংপুর বিভাগ
আয়তন
 • মোট ২,২৪৫.০৪
জনসংখ্যা (২০১১ আদমশুমারি)
 • মোট ২০,৬৯,২৭৩
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট 22.3%
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোষ্টাল কোড ৫৬০০
ওয়েবসাইট জেলার অফিশিয়াল ওয়েবসাইট

কুড়িগ্রাম জেলা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রংপুর বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল।

কুড়িগ্রাম জেলার ধরলা নদীতীরের কাশফুলের ছবি

ভৌগোলিক সীমানা[সম্পাদনা]

কুড়িগ্রাম জেলার উত্তরে লালমনিরহাট জেলাভারতের পশ্চিমবঙ্গ, দক্ষিণে গাইবান্ধা জেলা, পূর্বে ভারতের মেঘালয় রাজ্য ও যমুনা নদী এবং পশ্চিমে লালমনিরহাট ও রংপুর জেলা অবস্থিত।

নামকরন[সম্পাদনা]

কুড়িগ্রাম জেলার নামকরণের ইতিহাস নিয়ে অনেক কিংবদন্তি রয়েছে। এ বিষয়ে প্রশ্নাতীত বা সন্দেহমুক্ত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। সবই কিংবদন্তি ও প্রচলিত লোকশ্রুতি। তার কিছু কিছু বিষয় সমর্থনযোগ্য মনে হতে পারে। জানা যায়, কোন এক সময় মহারাজা বিশ্ব সিংহ কুড়িটি জেলে পরিবারকে উচ্চ শ্রেণীর হিন্দুরূপে স্বীকৃতি দিয়ে এ অঞ্চলে প্রেরণ করেন। এ কুড়িটি পরিবারের আগমনের কাহিনী থেকে কুড়িগ্রাম জেলার নামকরণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। বিলু কবীরের লেখা 'বাংলাদেশের জেলা নমকরণের ইতিহাস' বই থেকে জানা যায়, এখানে কুড়িটি মেচ্ তৈলজীবী পরিবারের বসতি ছিল বলে এ রকম নামকরণ হয়েছে। অন্য আরেকটি লোকশ্রুতি হলো : রঙ্গপুর অর্থাৎ এই অঞ্চল একদা ছিল কুচবিহার রাজ্যের অন্তর্গত। কুচবিহারের বাসিন্দাদের বলা হয় কোচ। এরা তিওড় গোষ্ঠীবিশেষও। মাছ ধরে বিক্রি করা তাদের পেশা। সুবিধাবঞ্চিত নীচু শ্রেণীর এই হিন্দু কোচদের কুড়িটি পরিবারকে সেখান থেকে এখানে প্রেরণ করা হয়েছিল বা আনয়ন করা হয়েছিল বসতি স্থাপনে জন্য। ওই কুড়িটি কোচ পরিবারের কারণে 'কুড়িগ্রাম' নামকরণ হয়েছে। আবার এমনও জানা যায়, এই গ্রামে কুরি বা কুরী নামক একটি হিন্দু আদিবাসী বা নৃগোষ্ঠী বসবাস করত বলেই অঞ্চলটির নাম হয় 'কুড়িগ্রাম'। অদ্যাবধি এখানে 'কুরি' নামক আদিবাসী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস লক্ষ্য করা যায়। এখানো এ অঞ্চলে কুড়ি হিসেবে গোনার পদ্ধতি চালু রয়েছে। বিশিষ্ট প-িত জা পলিলুস্কি প্রমাণ করেছেন, গণনার এ পদ্ধতি বাংলায় এসেছে কোল ভাষা থেকে। কোল অস্ট্রিক ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্গত। আরব অস্ট্রিক ভাষায় কুর বা কোর ধাতুর অর্থ হলো মানুষ। কুড়ি হিসেবে গোনার পদ্ধতিটিও এসেছে মানুষ থেকেই। এ অস্ট্রিক কারা? প-িতদের মতে, প্রত্নপ্রস্তর যুগে এ অঞ্চলে বাস করত নিগ্রো জাতি। এরপর আসে নব্যপ্রস্তর যুগ। আসামের উপত্যকা অতিক্রম করে আসে অস্ট্রিক জাতীয় জনগোষ্ঠী। তারপরে আসে দ্রাবিড় ও মঙ্গোলীয়রা। এদের মিলিত স্রোতে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় মানবসভ্যতার সূচনা হয়। এরাই লাঙ্গল দিয়ে চাষের প্রবর্তন করেছে। কুড়ি হিসেবে গোনার পদ্ধতি করেছে চালু। নদনদীতে ডিঙি বেয়েছে, খেয়েছে শুঁটকি, খেয়েছে বাইগন বা বেগুন, লাউ বা কদু, কদলী বা কলা, জাম্বুরা, কামরাঙ্গা। করেছে পশু পালন। এঁকেছে কপালে সিঁন্দুর। করেছে রেশম চাষ। করেছে তামা, ব্রোঞ্জ ও সোনার ব্যবহার। প্রসঙ্গত বলা প্রয়োজন, ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত দেশ শাসন করত 'ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি'। ১৮৫৮ সালের পর শাসনকার্যের ক্ষমতা চলে যায় ব্রিটিশ সরকারের হাতে। এই ব্রিটিশ সরকারের আমলে কুরিগঞ্জ চারটি থানায় বিভক্ত ছিল। পরে ১৮৭৫ সালে ২২ এপ্রিল তারিখে একটি নতুন মহকুমার গোড়াপত্তন হয়। এ মহকুমার নাম 'কুড়িগ্রাম'। কুড়িগ্রামঘেঁষা ব্রহ্মপুত্রের কারণে এখানে আসে বিভিন্ন আদিম জনগোষ্ঠী। এসব কারণে এখানে গড়ে উঠেছিল একটি সভ্যতাও। বিজিত আর্যদের কোন স্মৃতি এখানে নেই। তবে অন্যদের কিছু কিছু ক্ষীয়মাণ রাজচিহ্ন রয়েছে। বারো বা দ্বাদশ শতকের প্রথমপর্বে এ অঞ্চলে সেন রাজবংশের শাসনকাল আরম্ভ হয়। উলিপুরের বিবেকানন্দ ইউনিয়নের চত্রা নামক গ্রামে এদের রাজধানী ছিল। সেনবংশের পতনের পর শুরু হয় মুঘল যুগ।

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ[সম্পাদনা]

এই জেলায় মোট ৯টি উপজেলা রয়েছে। উপজেলাগুলো হল:

ইতিহাস[সম্পাদনা]

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

চিত্তাকর্ষক স্থান[সম্পাদনা]

  • ধরলা ব্রিজ
  • ধরলা বাঁধ
  • শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলক
  • স্বাধীনতার বিজয় স্তম্ভ
  • চান্দামারী মসজিদ
  • কোটেশ্বর শিব মন্দির
  • পাঙ্গা জমিদার বাড়ি
  • ঘড়িয়ালডাঙ্গা জমিদার বাড়ী
  • টুপামারী (জিয়া পুকুর)
  • মুন্সিবাড়ী
  • ধাম শ্রেণী মন্দির
  • জালার পীরের দরগাহ
  • উদুনা-পুদুনার বিল
  • বেহুলার চর
  • ভিতরবন্দ জমিদার বাড়ী
  • সোনাহাট ব্রিজ
  • ফুল সাগর
  • নাওডাঙ্গা জমিদার বাড়ি
  • চতুর্ভূজ সেনপাড়া শিব মন্দির

জেলা পরিসংখ্যান[১][সম্পাদনা]

  • আয়তন: ২২৩৬.৯৪ বর্গ কি. মি.
  • সংসদীয় এলাকার সংখ্যা: ৪টি, নাম ও এলাকা: (১) কুড়িগ্রাম-১ (নাগেশ্বরী, ভুরঙ্গামারী) (২) কুড়িগ্রাম- ২(রাজারহাট, কুড়িগ্রাম সদর, ফুলবাড়ী) (৩) কুড়িগ্রাম – ৩ (উলিপুর) (৪) কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী, রৌমারী, রাজিবপুর)
  • জনসংখ্যা : মোট- ১৮০১৩৫৬ জন, পুরুষ- ৯০৫৯৪৪ জন, মহিলা- ৮৯৫৪১২ জন
  • ভোটার সংখ্যা : মোট- ১০৮১১৫৭ জন, পুরুষ: ৫৪১৮৯৫ জন, মহিলা- ৫৮১০৬২ জন
  • শিক্ষার হার: ৩৬.৯৯%
  • উপজেলার সংখ্যা : ৯টি
  • পৌরসভার সংখ্যা : ৩টি
  • ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা: ৭২টি
  • গ্রামের সংখ্যা: ১৮৬০টি
  • কলেজের সংখ্যা: ৬৪টি
  • হাইস্কুলের সংখ্যা ২৬৬টি
  • মাদ্রাসার সংখ্যা: ২৩৮টি
  • সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা: ৫৬৩টি
  • বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা: ৫৪৫টি
  • মসজিদের সংখ্যা: ৩৪৯৩টি
  • মন্দিরের সংখ্যা: ১৮০টি
  • গির্জার সংখ্যা: ৩টি
  • মোট আব্দী জমির পরিমাণ: ২৫৯৬০৮.২১ একর
  • অর্থকরী ফসল: ধান, গম, আলু, পাট, তামাক, সরিষা, সুপারী, বাঁশ, আখ, ভুট্টা, বাদাম, কাউন প্রভৃতি।
  • শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা: মোট- ৮৯৩টি, ৪টি বড়, ২৭টি মধ্যম এবং ৮৬২টি কুটির শিল্প।
  • পাকা রাস্তা : ৪১৪.৯২ কি. মি.
  • কাচা রাস্তা: ৪২৬৭.৫৬ কি. মি.

আনুষঙ্গিক নিবন্ধ[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. জেলা উন্নয়ন পরিক্রমা। ২০০১-২০০৫, গণযোগাযোগ অধিদপ্তর, তথ্য মন্ত্রণালয়, ডিসেম্বর ২০০৫

বহিসংযোগ[সম্পাদনা]

  1. dckurigram.gov.bd কুড়িগ্রাম জেলার দাপ্তরিক ওয়েবসাইট
  2. কুড়িগ্রাম ওয়েব পোর্টাল
  3. [১] Modern Information Technology (MIT), Computer Training Center, Kurigram.