কক্সবাজার জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

স্থানাঙ্ক: ২১°২৭′০০″ উত্তর ৯১°৫৯′০০″ পূর্ব / ২১.৪৫০০° উত্তর ৯১.৯৮৩৩° পূর্ব / 21.4500; 91.9833

কক্সবাজার জেলা
কক্সবাজার জেলার স্কাইলাইন
কক্সবাজার, পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত
BD Districts LOC bn.svg
Red pog.svg
কক্সবাজার
বিভাগ চট্টগ্রাম বিভাগ
স্থানাঙ্ক ২১°২৭′০০″ উত্তর ৯১°৫৯′০০″ পূর্ব / ২১.৪৫০০° উত্তর ৯১.৯৮৩৩° পূর্ব / 21.4500; 91.9833
আয়তন ২৪৯১.৮৬ বর্গ কিমি
সময় স্থান বিএসটি (ইউটিসি+৬)
জনসংখ্যা (১৯৯১)
 - ঘণত্ব
 - শিক্ষার হার
১৯৫৭৩২১
 - ৭৮৫.৪৮/কিমি²
 - ২১.৯%
ওয়েবসাইট: কক্সবাজার জেলা তথ্য বাতায়ন
মানচিত্র সংযোগ: কক্সবাজার জেলার প্রাতিষ্ঠানিক মানচিত্র

কক্সবাজার জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল।

ভৌগোলিক সীমানা[সম্পাদনা]

কক্সবাজারের মোট আয়তন ২৪৯১.৮৬ কি.মি। এ জেলা উত্তরে চট্টগ্রাম জেলা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে বান্দরবন জেলা, মায়ানমারের আরাকান এবং নাফ নদী ও পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর দ্বারা পরিবেষ্ঠিত। উপকুলবর্তি এলাকা হওয়ার এ জেলা প্রায়ই সামুদ্রিক ঝড়, জলচ্ছাস, হারিকেন, স্লাইকোন ইত্যাদি দ্বারা আক্রান্ত হয়।

প্রধান দ্বীপঃ মহেশখালি, কুতুবদিয়া, সোনাদিয়া, শাহ পরি, সেন্ট মার্টিন্‌স দ্বীপ (নারিকেল জিঞ্জিরা), মাতাবাড়ি

প্রধান বনঃ ফুলছড়ি রেঞ্জ, ভুমারিয়া-ঘোনা রেঞ্জ, মেহের-ঘোনা রেঞ্জ, বাক খালি রেঞ্জ

কক্সবাজারের সমূদ্র সৈকতে সূর্যাস্ত

কক্স-বাজারে পৃথিবীর দীর্ঘতম (১১১ কি.মি দীর্ঘ) সমুদ্র সৈকত রয়েছে।

নদনদী[সম্পাদনা]

প্রধান নদীঃ মাতামুহুরি, বাকখালি, রেজু খাল, নাফ, মহেশখালি প্রণালীকুতুবদিয়া প্রণালী

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ[সম্পাদনা]

১৮৬৯ সালে কক্সবাজার একটি পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ১৯৭২ সালে কক্সবাজার পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। কক্সবাজার জেলার উপজেলা গুলো হলঃ

পর্যটন[সম্পাদনা]

কক্সবাজার বাংলাদেশের একটি বৃহৎ পর্যটন কেন্দ্র। এখানে ৬ টি বড় হোটেল, ৮০ টি অন্যান্য হোটেল আছে। এখানে একটি ঝিনুক মার্কেট ও একটি বার্মিজ মার্কেট আছে যেখানে মায়ানমার, থাইল্যান্ডচীনের সামগ্রি পাওয়া যায়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

আরব ব্যবসায়ী ও ধর্ম প্রচারকগন ৮ম শতকে চট্টগ্রামআকিব বন্দরে আগমন করেন। এই দুই বন্দরের মধ্যবর্তি হওয়ায় কক্সবাজার এলাকা আরবদের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসে। নবম শতাব্দীতে কক্সবাজারসহ বৃহত্তর চট্টগ্রাম হরিকেলার রাজা কান্তিদেব দ্বারা শাসিত হত। ৯৩০ খ্রিস্টাব্দে আরাকান রাজা সুলাত ইঙ্গ চন্দ্র চট্টগ্রাম দখল করে নেবার পর থেকে কক্সবাজার আরাকান রাজ্যের অংশ। ১৬৬৬ সালে মুঘলরা চট্টগ্রাম দখল করে নেয়। মুঘল সেনাপতি বুজুর্গ ওমেদ খান কর্ণফুলির দক্ষিণের মাঘ কেল্লা দখল করে নেন এবং আরাকানবাসী রামু কেল্লাতে আশ্রয় নেয়, যা কিনা পরে মুঘলরা হঠাৎ আক্রমণ করে দখল করে নেয়। কক্সবাজারে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি চাষীদের মাঝে জমি বিতরণের এক উদারনীতি পদক্ষেপ নেয়। এর ফলে চট্টগ্রাম ও আরাকানের বিভিন্ন অঞ্চল হতে মানুষ এই এলাকায় আসতে থাকে। বার্মা রাজ বোধাপায়া (১৭৮২-১৮১৯) ১৭৮৪ সালে আরাকান দখল করে নেন। প্রায় ১৩ হাজার আরাকানি বার্মারাজের হাত থেকে বাঁচার জন্য ১৭৯৯ সালে কক্সবাজার থেকে পালিয়ে যায়। এদের পুনর্বাসন করতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি একজন হিরাম কক্সকে নিয়োগ দেয়। প্রতি পরিবারকে ২.৪ একর জমি এবং ছয় মাসের খাদ্যসামগ্রি প্রদান করা হয়েছিল। পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষ হবার পূর্বেই হিরাম কক্স ১৭৯৯ সালে মৃত্যু বরণ করেন। পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় তার অবদানের জন্য কক্স-বাজার নামক একটি বাজার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই কক্স-বাজার থেকেই কক্সবাজার জেলার নামের উৎপত্তি।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

প্রধান পেশাঃ কৃষি, মৎসজীবি, কৃষি শ্রমিক, মজুর, চাকুরিজীবি, ব্যবসায়ী এবং অন্যান্য।

প্রধান শস্যঃ ধান, আলু, ডাল, পিঁয়াজ, হলুদ, আঁদা, গম, আঁখ, তামাক, রাবার, সবজী, পান, সুপারি।

প্রধান ফলঃ আম, কাঁঠাল, আনারস, কলা, পেঁপে, নারিকেল, লিচু, পেয়ারা, তাল।

চালের কল ৪৭৩ টি, লবনের কল ৩৮ টি, বরফের কল ৬৪ টি, ময়দার কল ১৪৫ টি, মৎসপ্রক্রিয়াজাতকরন (শুঁটকি)শিল্প ৩১ টি, মৎস-খাদ্য কল ১ টি, স' মিল, ছাপাখানা ১৮ টি।

খনিজ পদার্থঃ প্রাকৃতিক গ্যাস, জিরকন, লিমেনাইট, রুটাইল, ম্যাগনেটাইট, মোনাজাইট, কোরালিন, লাইমস্টোন।

রপ্তানি পন্যঃ পান, সুপারি, কাঁঠাল, কলা, পেঁপে, আনারস, চীনাবাদাম, কাঠ, চিংড়ি, শুঁটকি, লবন, তামাক, মাছ, নারিকেল, রাবার।

চিত্তাকর্ষক স্থান[সম্পাদনা]

হিমছড়ির পাহাড় থেকে দেখা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

হিমছড়ি, আদিনাথ মন্দির (মহেশখালী উপজেলা), শাহ ওমরের সমাধি (চকোরিয়া উপজেলা), মানিকপুরেরে ফজল কুকের সাতগম্বুজ মসজিদ, হাসের দীঘি, বীর কামলা দীঘি (টেকনাফ উপজেলা), মাথিন কূপ (কুতুবদিয়া উপজেলা), কালারমা মসজিদ, কুতুব আউলিয়ার সমাধি, রামকট হিন্দু মন্দির, রামকোট বুদ্ধ খেয়াং, লামাপাড়া বুদ্ধ খেয়াং (উখিয়া উপজেলা)), পাটাবাড়ি বুদ্ধ খেয়াং, কুতুপালাং বুদ্ধ মন্দির, আগভামেধা বুদ্ধ খেয়াং, বুদ্ধের প্যাগোডা, এক গম্বুজ মসজিদ।

স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রতিক স্বরুপ এ জেলায় ৩ টি শহিদ মিনার ও ১ টি গনহত্যার কেন্দ্র আছে।

স্বাস্থ্য কেন্দ্র[সম্পাদনা]

১ টি হাসপাতাল, ৭ টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ১ টি মা ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্র, যক্ষা ক্লিনিক, ৩৫ টি পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র, ৫ টি বেসরকারি হাসপাতাল। এছাড়া চৌধুরী জোসেনের পরিচালনায় বিডি এইড নামে একটি এনজিও কার্যক্রম শুরু করছে। [১]

গ্যালারী[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. কক্সবাজার জেলা তথ্য বাতায়ন www.dccoxsbazar.gov.bd

আনুসঙ্গিক নিবন্ধ[সম্পাদনা]