নোয়াখালী জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
নোয়াখালী জেলা
Noakhali
জেলা
বাংলাদেশে নোয়াখালী জেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২২°৫০′০০″ উত্তর ৯১°০৬′০০″ পূর্ব / ২২.৮৩৩৩° উত্তর ৯১.১০০০° পূর্ব / 22.8333; 91.1000
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ চট্টগ্রাম বিভাগ
আয়তন
 • মোট ৪,২০২.৭০[১]&
জনসংখ্যা (2011)
 • মোট ৩৩,৭০,২৫১
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট ৬৯.৫০%
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
ওয়েবসাইট জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইট

নোয়াখালী জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে চট্টগ্রাম বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। বর্তমান নোয়াখালী জেলা আগে ফেনী, লক্ষীপুর এবং নোয়াখালী জেলা নিয়ে একটি বৃহত্তর অঞ্চল ছিল, যা এখনও বৃহত্তর নোয়াখালী নামে পরিচিত।

ভৌগোলিক অবস্থান[সম্পাদনা]

চট্টগ্রাম প্রশাসনিক বিভাগের অধীন নোয়াখালী জেলার মোট আয়তন ৪২০২ বর্গ কিলোমিটার। নোয়াখালী জেলার উত্তরে কুমিল্লা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে ফেনীচট্টগ্রাম জেলা এবং পশ্চিমে লক্ষীপুরভোলা জেলা অবস্থিত। বছরব্যাপী সর্বোচ্চ তাপমাত্রার গড় ৩৪.৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রার গড় ১৪.৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস। বছরে গড় বৃষ্টিপাত ৩৩০২ মিমি। এই জেলার প্রধান নদী মেঘনা। এছাড়াও উল্লেখযোগ্য নদ-নদীর মাঝে ছোট ফেনী, ডাকাতিয়া অন্যতম। ডাকাতিয়া ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য হতে কুমিল্লার বাগছাড়া দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ডাকাতিয়া নদীর দৈর্ঘ্য ২০৭ কিমি. যার মধ্যে ১৮০ কিমি কুমিল্লায় ও ২৭ কিমি নোয়াখালীতে প্রবাহিত হয়েছে। ছোট ফেনী নদী ভারতের ত্রিপুরার পাহাড়ি অঞ্চল হতে কুমিল্লার দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গুনবতি নামক স্থান দিয়ে নোয়াখালীতে প্রবেশ করেছে।

এছাড়াও নোয়াখালীতে বহু খাল রয়েছে যার মধ্যে নোয়াখালী খাল, মধুখালি খাল, রহমতখালি খাল, আতিয়াবাড়ি খাল, কালির খাল, পেটকাটা খাল, কথাকলি খাল, গোয়ালখালি খাল, আত্রা খাল, হুরা খাল, গাহজাতলি খাল, ভবানিগঞ্জ খাল, মহেন্দ্রক খাল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

নোয়াখালী জেলার প্রাচীন নাম ছিল ভুলুয়া। নোয়াখালী সদর থানার আদি নাম সুধারাম। ইতিহাসবিদদের মতে একবার ত্রিপুরা-র পাহাড় থেকে প্রবাহিত ডাকাতিয়া নদীর পানিতে ভুলুয়া-র উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভয়াবহভাবে প্লাবিত হয় ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের উপায় হিসাবে ১৬৬০ সালে একটি বিশাল খাল খনন করা হয়, যা পানির প্রবাহকে ডাকাতিয়া নদী হতে রামগঞ্জ, সোনাইমুড়ী ও চৌমুহনী হয়ে মেঘনা এবং ফেনী নদীর দিকে প্রবাহিত করে। এই বিশাল নতুন খালকে নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় "নোয়া (নতুন) খাল" বলা হত, এর ফলে অঞ্চলটি একসময়ে লোকের মুখেমুখে পরিবর্তিত হয়ে "নোয়াখালী" হিসাবে পরিচিতি লাভ করতে শুরূ করে।

নোয়াখালী জেলার মর্যাদা পায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী কর্তৃক এদেশে জেলা প্রশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় থেকেই। ১৭৭২ সালে কোম্পানীর গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস এদেশে প্রথম আধুনিক জেলা প্রশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রচেষ্টা নেন। তিনি সমগ্র বাংলাদেশকে ১৯টি জেলায় বিভক্ত করে প্রতি জেলায় একজন করে কালেক্টর নিয়োগ করেন। এ ১৯টি জেলার একটি ছিল কলিন্দা। এ জেলাটি গঠিত হয়েছিল মূলতঃ নোয়াখালী অঞ্চল নিয়ে। কিন্ত ১৭৭৩ সালে জেলা প্রথা প্রত্যাহার করা হয় এবং প্রদেশ প্রথা প্রবর্তন করে জেলাগুলোকে করা হয় প্রদেশের অধীনস্থ অফিস। ১৭৮৭ সালে পুনরায় জেলা প্রশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয় এবং এবার সমগ্র বাংলাদেশকে ১৪টি জেলায় ভাগ করা হয়। এ ১৪ টির মধ্যেও ভুলুয়া নামে নোয়াখালী অঞ্চলে একটি জেলা ছিল। পরে ১৭৯২ সালে ত্রিপুরা নামে একটি নতুন জেলা সৃষ্টি করে ভুলুয়াকে এর অন্তর্ভূক্ত করা হয়। তৎকালে শাহবাজপুর, হাতিয়া, নোয়াখালীর মূল ভূখন্ড, লক্ষ্মীপুর ,ফেনী , ত্রিপুরার কিছু অংশ, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ ও মীরসরাই নিয়ে ছিল ভুলুয়া পরগনা। ১৮২১ সালে ভুলুয়া নামে স্বতন্ত্র জেলা প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যন্ত এ অঞ্চল ত্রিপুরা জেলার অন্তর্ভূক্ত ছিল। ১৮৬৮ সালে ভুলুয়া জেলাকে নোয়াখালী জেলা নামকরণ করা হয়।

নোয়াখালীর ইতিহাসের অন্যতম ঘটনা ১৮৩০ সালে নোয়াখালীর জনগণের জিহাদ আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ ও ১৯২০ সালের খিলাফত আন্দোলন। জাতিগত সংঘাত ও দাঙ্গার পর ১৯৪৬ সালে মহাত্মা গান্ধী নোয়াখালী জেলা ভ্রমণ করেন। বর্তমানে সোনাইমুড়ি উপজেলার জয়াগ নামক স্থানে গান্ধীজির নামে একটি আশ্রম রয়েছে, যা "গান্ধী আশ্রম" নামে পরিচিত।

১৭৯০ সালের পর হতে নোয়াখালী জেলা বহুবার ঘুর্ণিঝড়, বন্যা, টর্নেডো, সাইক্লোন ইত্যাদি বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে পতিত হয়। ১৯৭০ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ১০ লক্ষ লোকের প্রাণহানি ঘটে, যার মধ্যে নোয়াখালী জেলার অনেকে ছিলেন।

১৯৭১-এর স্বাধীনতা সংগ্রামে পাক হানাদার বাহিনীর সাথে বহু রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে নোয়াখালীর মাটি রঞ্জিত হয়ে আছে। ১৫ই জুন, ১৯৭১ সালে সোনাপুর আহমদীয়া স্কুলের সম্মুখ যুদ্ধে প্রায় ৭০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়। ১৯৭১ সালের ১৯ আগস্ট পাকবাহিনী বেগমগঞ্জ থানার গোপালপুরে গণহত্যা চালায়। নিহত হন প্রায় ৫০ জন নিরস্ত্র মানুষ। নোয়াখালী জেলা স্বাধীন হয় ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর।

নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনী মহকুমা নিয়ে নোয়াখালী জেলা চট্টগ্রাম বিভাগের অর্ন্তভূক্ত একটি বিশাল জেলা হিসেবে পরিচালনা হয়ে আসছিল। ১৯৮৪ সালে সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক সকল মহকুমাকে জেলায় রূপান্তর করা হলে লক্ষ্মীপুর ও ফেনী জেলা আলাদা হয়ে যায়। শুধুমাত্র নোয়াখালী মহকুমা নিয়ে নোয়াখালী জেলা পুনর্গঠিত হয়। তখন এ জেলায় উপজেলা ছিল ছয়টি। পরবর্তীতে আরো তিনটি উপজেলার সৃষ্টি করা হয়। এবং বর্তমানে জেলায় মোট উপজেলার সংখ্যা নয়টি। জেলার একটি বিশেষত্ব হলো আটটি উপজেলা মূল ভূখন্ডের সাথে রয়েছে। আর হাতিয়া নামক উপজেলাটির কিছু অংশ জেলার মূল ভূখন্ডের সাথে সংযুক্ত থাকলে ও বৃহত্তর অংশ (মূল হাতিয়া) এর চর্তুদিকে মেঘনা নদী দ্বারা বেষ্টিত একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা।

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ[সম্পাদনা]

নোয়াখালী জেলায় ৯টি উপজেলা, ৮ টি পৌরসভা, ৭২ টি ওয়ার্ড, ১৫৩ টি মহল্লা, ৯১ টি ইউনিয়ন, ৮৮২ টি মৌজা এবং ৯৬৭ টি গ্রাম রয়েছে।

উপজেলা[সম্পাদনা]

নোয়াখালী জেলায় ৯টি উপজেলা রয়েছে। এগুলো হলো:

  1. নোয়াখালী সদর
  2. বেগমগঞ্জ
  3. চাটখিল
  4. কোম্পানীগঞ্জ
  5. হাতিয়া
  6. সেনবাগ
  7. সুবর্ণ চর
  8. সোনাইমুড়ি
  9. কবিরহাট

পৌরসভা[সম্পাদনা]

নোয়াখালী জেলায় ৮ টি পৌরসভা রয়েছে। এগুলো হলো:

  1. নোয়াখালী পৌরসভা
  2. চৌমুহানী পৌরসভা
  3. চাটখিল পৌরসভা
  4. বসুরহাট পৌরসভা
  5. হাতিয়া পৌরসভা
  6. সেনবাগ পৌরসভা
  7. সোনাইমুড়ি পৌরসভা
  8. কবিরহাট পৌরসভা

ইউনিয়ন[সম্পাদনা]

নোয়াখালী জেলার ৯ টি উপজেলায় মোট ৯১ টি ইউনিয়ন রয়েছে।

উপজেলা ইউনিয়ন উপজেলা ইউনিয়ন উপজেলা ইউনিয়ন
নোয়াখালী সদর
  1. আন্ডার চর ইউনিয়ন
  2. অশ্বদিয়া ইউনিয়ন
  3. বিনোদপুর ইউনিয়ন
  4. চর মটুয়া ইউনিয়ন
  5. দাদপুর ইউনিয়ন
  6. ধর্মপুর ইউনিয়ন
  7. এওজবালিয়া ইউনিয়ন
  8. কাদির হানিফ ইউনিয়ন
  9. কালাদরফ ইউনিয়ন
  10. নিয়াজপুর ইউনিয়ন
  11. নোয়াখালী ইউনিয়ন
  12. নোয়ান্নাই ইউনিয়ন
  13. পূর্ব চর মটুয়া ইউনিয়ন
বেগমগঞ্জ
  1. আলাইয়ারপুর ইউনিয়ন
  2. আমানুল্লাহপুর ইউনিয়ন
  3. বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন
  4. ছয়ানি ইউনিয়ন
  5. দূর্গাপুর ইউনিয়ন
  6. একলাশপুর ইউনিয়ন
  7. গোপালপুর ইউনিয়ন
  8. নরোত্তমপুর ইউনিয়ন
  9. হাজীপুর ইউনিয়ন
  10. জিরাতলী ইউনিয়ন
  11. কাদিরপুর ইউনিয়ন
  12. কুতুবপুর ইউনিয়ন
  13. মীর ওয়ারিশপুর ইউনিয়ন
  14. রাজগঞ্জ ইউনিয়ন
  15. রসূলপুর ইউনিয়ন
  16. শরিফপুর ইউনিয়ন
চাটখিল
  1. বদলকোট ইউনিয়ন
  2. হাটপুকুরিয়া ঘট্টবাগ ইউনিয়ন
  3. খিলপাড়া ইউনিয়ন
  4. মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন
  5. নয়াখোলা ইউনিয়ন
  6. পাঁচগাঁও ইউনিয়ন
  7. পারকোট ইউনিয়ন
  8. রামনারায়ণপুর ইউনিয়ন
  9. সাহাপুর ইউনিয়ন
কোম্পানিগঞ্জ
  1. চর এলাহী ইউনিয়ন
  2. চর ফকিরা ইউনিয়ন
  3. চর হাজারী ইউনিয়ন
  4. চর কাঁকড়া ইউনিয়ন
  5. চর পার্বতী ইউনিয়ন
  6. মূসাপুর ইউনিয়ন
  7. রামপুর ইউনিয়ন
  8. সিরাজপুর ইউনিয়ন
সেনবাগ
  1. অর্জুনতলা ইউনিয়ন
  2. বিজয়বাগ ইউনিয়ন
  3. ছাতারপাইয়া ইউনিয়ন
  4. ডুমুরিয়া ইউনিয়ন
  5. কাবিলপুর ইউনিয়ন
  6. কাদরা ইউনিয়ন
  7. কেশরপুর ইউনিয়ন
  8. মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন
  9. নবীপুর ইউনিয়ন
হাতিয়া
  1. বুড়ির চর ইউনিয়ন
  2. চন্দনান্দি ইউনিয়ন
  3. চর ঈশ্বর ইউনিয়ন
  4. চর কিং ইউনিয়ন
  5. হরণি ইউনিয়ন
  6. জাহাজমারা ইউনিয়ন
  7. নলছিড়া ইউনিয়ন
  8. নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন
  9. সোনাদিয়া ইউনিয়ন
  10. সুকচর ইউনিয়ন
  11. তমরুদ্দীন ইউনিয়ন
সোনাইমুড়ি
  1. অম্বরনগর ইউনিয়ন
  2. আমিষাপাড়া ইউনিয়ন
  3. বড়গাঁও ইউনিয়ন
  4. বজরা ইউনিয়ন
  5. চাষীরহাট ইউনিয়ন
  6. দেওতি ইউনিয়ন
  7. জয়াগ ইউনিয়ন
  8. নাদানা ইউনিয়ন
  9. নাটেশ্বর ইউনিয়ন
  10. সোনাপুর ইউনিয়ন
কবিরহাট
  1. বাতাইয়া ইউনিয়ন
  2. চাপরাশিরহাট ইউনিয়ন
  3. ধানশালিক ইউনিয়ন
  4. ধানসিড়ি ইউনিয়ন
  5. ঘোষবাগ ইউনিয়ন
  6. নরোত্তমপুর ইউনিয়ন
  7. সুন্দলপুর ইউনিয়ন
সুবর্ণচর
  1. চর আমানুল্লাহ ইউনিয়ন
  2. চর বাটা ইউনিয়ন
  3. চর ক্লার্ক ইউনিয়ন
  4. চর জব্বার ইউনিয়ন
  5. চর ওয়াপদা ইউনিয়ন
  6. মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন
  7. পূর্ব চর বাটা ইউনিয়ন

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

২০১১ সালের আদমশুমারি অনূযায়ী নোয়াখালী জেলার মোট জনসংখ্যা ৩১,০৮,০৮৩ (পুরুষ- ১৪,৮৫,১৬৯ এবং মহিলা- ১৬,২২,৯১৪)। পুরুষ এবং মহিলার অনুপাত ৯২ঃ১০০, জনসংখ্যার ঘনত্ব ৮৪৩/ বর্গ কিলোমিটার এবং জন্মহার ১.৮৩%। জেলার শিক্ষার হার ৫১.৩%। প্রধান শহর মাইজদীর জনসংখ্যা ৭৪৫৮৫ জন (পুরুষ ৫১.৫০%, মহিলা ৪৮.৫০%)। জনসংখ্যার ঘনত্ব ৫৯১৫/ বর্গ কিলোমিটার। শহরের শিক্ষার হার ৬০.৭%।

ধর্ম[সম্পাদনা]

জেলার মোট জনসংখ্যার ৯৫.৪২% ইসলাম, ৪.৫২% হিন্দু, ০.০২% খ্রীস্টান, ০.০৩% বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী। নোয়াখালী জেলায় ৪১৫৯ টি মসজিদ, ৪৯৭ টি ঈদগাহ, ২৩৯ টি মন্দির, ২ টি প্যাগোডা এবং ১ টি ক্যাথলিক খ্রিস্টান গীর্জা রয়েছে।

নোয়াখালীর শহর[সম্পাদনা]

নোয়াখালী সদর মাইজদী ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। শহরের মোট জনসংখ্যা ৭৪,৫৮৫; এর মধ্যে ৫১.৫০% পুরুষ এবং ৪৮.৫০% মহিলা; জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৫৯১৫। শহুরে লোকদের মধ্যে শিক্ষিতের হার প্রায় ৬০.৭০%। নোয়াখালী সদরের আদি নাম সুধারাম। ১৯৪৮ সালে যখন উপজেলা সদর দফতর মেঘনা গর্ভে বিলীন হয়ে যায়, তখন তা ৮ কিলোমিটার উত্তরে সরিয়ে বর্তমান মাইজদীতে স্থানান্তর করে হয়। [২]

চৌমুহনী নোয়াখালীর আরেকটি ব্যস্ত শহর ও বাণিজ্য কেন্দ্র, যা একসময়ে মুদ্রণ ও প্রকাশনা ব্যবসার জন্য বিখ্যাত ছিল। বসুরহাট শহরটি দ্রুত বেড়ে উঠছে এবং ব্যস্ত শহরের রুপ নিচ্ছে । এই শহরের অধিবাসীদের একটি বড় অংশ কাজের জন্য আমেরিকা কিংবা মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

নোয়াখালী জেলার অর্থনীতি মূলত কৃষি নির্ভর। আঞ্চলিক জিডিপির প্রায় ৪০ % কৃষি খাত থেকে আসে এবং জেলার ৮০ ভাগ লোক এই পেশার সাথে সংশ্লিষ্ট। কৃষির মধ্যে মূলত মৎস্য চাষ ও মৎস্য আহরনের সাথে সবচেয়ে বেশি মানুষ জড়িত। বছরজুড়ে নৌকা তৈরি ও মেরামত, মাছ ধরা, পক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন, শুটকি উৎপাদন, জাল মেরামত এর সাথে প্রায় ৬০-৭০ ভাগ শ্রমজীবি জড়িত থাকে। নিন্মভূমি অঞ্চল হওয়াতে এই জেলায় প্রচুর মৎস্যচাষ হয়ে থাকে যা এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে বিশাল ভূমিকা পালন করে। ফসল উৎপাদন মূলত বছরে একবারই হয়। শীত মৌসুমে জেলার সর্বত্ত বিশেষ করে দক্ষিনের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে রকমারি ফসলের চাষ হয়। এছাড়াও বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে ও দ্বীপগুলোতে গরূ, মহিষ, ছাগল এবং ভেড়া পালন ব্যাপকতা লাভ করেছে।

নোয়াখালী জেলায় শিল্প কারখানা তেমনভাবে গড়ে উঠেনি কিন্তু নোয়াখালী জেলার অনেক ব্যাক্তি দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসাবে সুনাম অর্জন করেছেন। তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বড় বড় শিল্প কারখানা গড়ে তুলেছেন। নোয়াখালীর মানুষ মূলত কাজের জন্য দেশে এবং বিদেশে ব্যাপকভাবে গমন করেন। জেলার বিপুল সংখ্যক মানুষ মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত রয়েছেন। বাংলাদেশের শীর্ষ রেমিট্যান্স পাঠানো জেলাগুলোর মধ্যে নোয়াখালী জেলা গুরূত্বপূর্ণ স্থান দখল করে রয়েছে।

জেলার মোট আয়ের অন্যান্য খাতে আয়ের উৎসগুলোর মধ্যে অ-কৃষি শ্রম ৩.৪৩%, শিল্প ০.৮৪% , বানিজ্য ১৪.৭৪%, পরিবহন খাত ৩.৮৩%, চাকুরি ১৬.১১%, নির্মানখাত ১.৪৯% , রেমিট্যান্স ৭.৯৭% এবং অন্যান্য ১০.৫৮% অবদান রাখছে।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

নোয়াখালীর শিক্ষার হার ৫১.৩০%। নোয়াখালীতে ০১ টি বিশ্ববিদ্যালয় , ১ টি সরকারী মেডিক্যাল কলেজ, ১২৪৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২৮৯ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় , ৩৫ টি কলেজ, ১৬১ টি মাদ্রাসা রয়েছে।

যাতায়াত ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

সড়ক, রেল ও নৌ পথে নোয়াখালী জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নত। নোয়াখালী থেকে সড়ক পথে রাজধানী ঢাকা এবং বন্দরনগরী চট্টগ্রামের দূরত্ব যথাক্রমে ১৫১ ও ১৩৪ কি মি। বাসই মূলত দূর যাতায়াতের প্রধানতম মাধ্যম।

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

চিত্তাকর্ষক স্থান[সম্পাদনা]

তথ্যসুত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে নোয়াখালী"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগৃহীত ২৩ জুন, ২০১৪ 
  2. ফয়েজ, মাহমুদুল হক (২০০৯)। "মাইজদী যখন নোয়াখালী"। প্রথম আলো। 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]