নড়াইল জেলা
| প্রশাসনিক বিভাগ | খুলনা |
| আয়তন (বর্গ কিমি) | ৯৯০ |
| জনসংখ্যা | মোট : ৬,৮৯,০২১ পুরুষ:৫৪.২২% মহিলা: ৪৫.৭৮% |
| শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা: | বিশ্ববিদ্যালয়: ০ কলেজ : ১৫ মাধ্যমিক বিদ্যালয়: ৯৪ মাদ্রাসা : ৮৫ |
| শিক্ষার হার | ৩৫.৬ % |
| বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব | এস এম সুলতান, মাশরাফি বিন মুর্তজা, বিজয় সরকার, রবি শঙ্কর, বীর শ্রেষ্ঠ নূর মুহাম্মাদ |
| প্রধান শস্য | ধান, পাট, গম |
| রপ্তানী পণ্য | নারিকেল, পান, চিংড়ি |
নড়াইল জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের খুলনা বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল।
পরিচ্ছেদসমূহ |
ভৌগোলিক সীমানা [সম্পাদনা]
নড়াইল বাংলাদেশের ক্ষুদ্রতম জেলার মধ্যে অন্যতম। পৃথিবীর মানচিত্রে জেলাটির অবস্থান কর্কট ক্রান্তির দক্ষিণে। নড়াইল জেলা ৮৯ ডিগ্রি ৩০ মিনিট পূর্ব দ্রাঘিমাংশে ২৩ ডিগ্রি ১০ মিনিট উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত।এর আয়তন ৯৯০.২৩ বর্গ কিলোমিটার। নড়াইল জেলার পশ্চিমে যশোর জেলার বাঘারপাড়া ও অভয়নগর উপজেলা, উত্তরে মাগুরা জেলার শালিখা ও মহম্মদপুর উপজেলা, পূর্বে ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা, গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী ও গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা এবং দক্ষিণে বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট, খুলনা জেলার তেরখাদা, দিঘলিয়া ও ফুলতলা উপজেলা এবং যশোরের অভয়নগর উপজেলা। নড়াইলের ভূমি দক্ষিণ দিকে ঢালু। এ ভূ-প্রকৃতিকে তিনটি অঞ্চলে ভাগ করা যায়। উত্তর পশ্চিমের অপেক্ষাকৃত উচ্চভূমি, উত্তর ও পূর্ব অঞ্চলের মধুমতি তীরবর্তী নিম্ন অঞ্চল এবং নবগঙ্গা ও চিত্রা নদীর তীরবর্তী মধ্যম উচ্চতা বিশিষ্ট অঞ্চল।
প্রশাসনিক এলাকাসমূহ [সম্পাদনা]
ইতিহাস [সম্পাদনা]
১৮৬১ সালে যশোর জেলার অধীন নড়াইল মহাকুমা প্রতিষ্ঠিত হয়। নড়াইল শব্দটি স্থানীয় লোকমুখে নড়াল নামে উচ্চারিত হয়। ঐ সময় নড়াইল সদর, লোহাগড়া ও কালিয়া থানার সমন্বয়ে এই মহাকুমা গঠিত হয় । পরবর্তীতে আলফাডাঙ্গা থানা এবং অভয়নগর থানা এই মহাকুমা ভূক্ত হয়। ১৯৩৪ সালে প্রশাসনিক সীমানা পূর্নগঠনের সময় অভয়নগরের পেড়লী, বিছালী ও শেখহাটি এই তিনটি ইউনিয়নকে নড়াইল জেলা ভূক্ত করে অবশিষ্ট অভয়নগর যশোর জেলা ভূক্ত করা হয়। ১৯৪৭ সালে পাকিস্থান সৃষ্টির সময় এই মহাকুমায় চারটি থানা ছিল ।
১৯৬০ সালে আলফাডাঙ্গা থানা যশোর হতে ফরিদপুর জেলা ভূক্ত হয় । ১৯৮৪ সালের ১লা মার্চ নড়াইল মহাকুমাকে জেলায় রুপান্তরিত করা হয় । প্রথম জেলা প্রশসাক ছিলেন ম শাফায়াত আলী । ১৯৭১ সনের ২৬শে মার্চ নড়াইল মহকুমার প্রশাসক জনাব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকীর নেতৃত্বে অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ, জনাব আব্দুল হাই এবং অন্যান্যদের সহযোগিতায় নড়াইল ট্রেজারীর তালা ভেঙ্গে অস্ত্র নিয়ে যশোর সেনানিবাস আক্রমণের মধ্যে দিয়ে এ জেলার মানুষের মুক্তি সংগ্রাম শুরু হয়। অগনিত মুক্তি যোদ্ধার রক্ত এবং অনেক অত্যাচারিত , লাঞ্চিত মা-বোনদের অশ্রু ও সংগ্রামের ফলে ১৯৭১ সনের ১০ ডিসেম্বর নড়াইল হানাদার মুক্ত হয়।
মহান মুক্তিযুদ্ধে নড়াইল জেলার বিশেষ অবদান রয়েছে। নড়াইল জেলা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুক্তিযোদ্ধা অধ্যুসিত জেলা। এ জেলা হতে প্রায় ২০০০ জন মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছে। দেশের ৭ জন বীরশ্রেষ্ঠর একজন মরহুম ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ নড়াইলের কৃতি সন্তান। মুক্তিযুদ্ধকালীন পাকবাহিনী ও তাদের দোসরদের হাতে শাহাদাৎ বরণকারীর সংখ্যাও একেবারে কম নয়। পাকহানাদার বাহিনী কর্তৃক চিত্রা নদীর পাড়ে লঞ্চঘাটের পল্টুনের উপর ২৮০০ লোককে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।
নড়াইল জেলার নামকরণের ইতিহাস [সম্পাদনা]
কথিত আছে বাংলার সুবাদার আলিবর্দি খানের শাসন আমলে দেশের বিভিন্ন অংশে বর্গি ও পাঠান বিদ্রোহীরা নানা ধরনের উৎপীড়ন শুরু করে। আলিবর্দির মুঘল বাহিনী বর্গি ও পাঠানদের সম্পূর্ন শায়েস্তা করতে ব্যর্থ হন। এরপর বর্গি ও পাঠান দস্যুরা তাদের অত্যাচারের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয়। সুবা বাংলার পশ্চিম ও উত্তর অঞ্চলের অধিবাসীরা প্রাণভয়ে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ এলাকায় পালাতে থাকে। সেই সময় মদনগোপাল দত্ত নামে সুবাদারের এক কর্মচারী কিসমাত কুড়িগ্রামে সপরিবারে নৌকা যোগে উপস্থিত হন। সেখানে তিনি কচুড়ির শক্ত ধাপের উপর একজন ফকিরকে যোগাসনে উপবিষ্ট দেখতে পান। উক্ত ফকির দত্ত মশাইয়ের প্রার্থনায় তার নড়িটি (লাঠি) দান করেন এবং এই নড়ি পরবর্তীতে আশীর্বাদ হয়ে দাড়ায়। মদনগোপাল দত্ত ফকির বা সাধক আউলিয়ার নড়ি বা লাঠি পেয়ে ধীরে ধীরে প্রতিপত্তি অর্জন করেন। এই ভাবে কিসমাত কুড়িগ্রাম অঞ্চলের ঐ স্থানের নাম হলো নড়াল। নড়ালের লেখ্য রূপ হলো নড়াইল। স্থানটি নড়িয়াল ফকিরের নড়ি থেকে পরিচিতি লাভ করে। মদনগোপাল দত্তের পৌত্র বিখ্যাত রূপরাম দ্ত্ত। রূপরাম দত্তই নড়াইলের জমিদারদের প্রথম পুরুষ। যা হোক, মদনগোপাল দত্ত ও তার উত্তরাধিকারীরা নড়িয়াল ফকিরের অতি শ্রদ্ধাবশত নড়াল নামটি স্থায়ী করেন। তারা কোনো পরিবর্তন আনেননি। নড়াইলে নীলবিদ্রোহের কারণে মহকুমা স্থাপনের প্রয়োজন হলে ১৮৬৩ সালে ইংরেজ সরকার মহিশখোলা মৌজায় মহকুমার প্রধান কার্যালয় স্থাপন করেন। এইভাবে মুঘল আমলের ’নড়াল’ নামটি ইংরেজ শাসনামলে নড়াইল নামে পরিচিতি পায়। কিসমাত কুড়িগ্রাম বা কুড়িগ্রাম নড়াইল বা নড়ালগ্রাম হতে প্রাচীন। কিসমাত কুড়িগ্রামে মুঘল শাসনামলের পূর্বে সুলতানি শাসনামলে একটি প্রশাসনিক কেন্দ্র ও সেনাছাউনি ছিল। কিসমাত কুড়িগ্রামের আয়তন ও ছিল বেশ বিস্তৃত।
গবেষক এস,এম রইস উদ্দীন আহমদ এর মতে লড়েআল হতে নড়াইল নামের উৎপত্তি হয়েছে। যারা শক্রর বিরদ্ধে নড়াই করে সহানীয় ভাষায় তাদের লড়ে বলে । হযরত খান জাহান আলীর সময়ে রাজ্যের সীমান্তে সীমান্ত প্রহরী নিয়োজিত ছিল। নড়াইল এলাকা নদী নালা খাল বিল বেষ্টিত । খাল কেটে রাজ্যের সীমান্তে পরীখা তৈরী করা হত। খাল বা পরীখার পাশে চওড়া উচু আইলের উপর দাড়িয়ে লড়ে বা রক্ষী সেনারা পাহারা দিত। এভাবে লড়েআল হতে লড়াল > নড়াইল নাম এর উৎপত্তি হয়েছে বলে জনশ্রুতি আছে ।
আরেকটি প্রচলিত মত হল নড়ানো থেকে নড়াইল নামের উৎপত্তি হয়েছে। বাংলাদেশে অনেক স্থানের নামের সাথে ইল প্রত্যয় যুক্ত আছে যেমন টাঙ্গাইল, ঘাটাইল, বাসাইল, নান্দাইল ইত্যাদি। প্রত্যোকটি সহানের নামকরণের ক্ষেত্রে কিছু কিংবদন্তী বা লোক কাহিনী প্রচলিত আছে। একটি বড় পাথর সরানোকে কেন্দ্র করে নড়াল বা নড়াইল নামের উৎপত্তি বলে কেউ কেউ মনে করেন ।
অর্থনীতি [সম্পাদনা]
বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব [সম্পাদনা]
চিত্রশিল্পী এস, এম সুলতান [সম্পাদনা]
বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস, এম সুলতান (লাল মিয়া)১৯২৩ সালের ১০ আগস্ট নড়াইল সদর উপজেলার মাছিমদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মেছের আলী। জন্মের কিছু দিনের মধ্যেই তাঁর মা মারা যান। ১৯২৮ সালে তিনি নড়াইল কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি হন। ১৯৪১ সালে হতে ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত তিনি কলিকাতা সরকারি আর্ট ইনস্টিটিউটে চিত্র কলায় শিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানে, ১৯৫০ সালে আমেরিকায়, ১৯৫৩ সালে ইউরোপে তাঁর চিত্র প্রদর্শনী হয়। ১৯৫৩ সালে তিনি নড়াইলে ফিরে আসেন। বিশ্ব বরেণ্য এই শিল্পী ১৯৮২ সালে ২১ শে পদক, ১৯৮৪ সালে ‘‘বাংলাদেশ চারু শিল্পী সংসদ’’ সন্মামনা ও ১৯৯৩ সালে ‘‘স্বাধীনতা পদক’’ লাভ করেন। ১৯৮২ সালে ক্যামব্রীজ বিশ্ববিদ্যলয় তাঁকে ‘‘ম্যান অব এশিয়া’’ ও ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ সরকার ‘‘ আর্টিষ্ট ইন রেসিডেন্ট’’ সন্মানে ভূষিত করে। ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর এই মহান শিল্পী ইহলোক ত্যাগ করেন।
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ [সম্পাদনা]
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার মহিষখোলা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৫৯ সালের ১৪ মার্চ ২৩ বছর বয়সে তিনি তৎকালিন ইপিআর বাহিনীতে যোগদান করেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণার প্রেক্ষিতে তিনি সর্বাত্মক যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নেন। ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ সালে ৮ নং সেক্টরের অধীন যশোর জেলার শার্শা সীমান্তে যুদ্ধরত অবস্থায় প্রথমে আহত হন পরে পাকসেনাদের অত্যাচারে নিহত হন। ১৯৭৪ সালে এই মুক্তিযোদ্ধাকে স্বাধীনতার যুদ্ধের স্বীকৃতি স্বরুপ বীরশ্রেষ্ঠ পদবী ভূষিত করা হয়।
উদয় শংকর [সম্পাদনা]
প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী উদয় শংকর ১৯০০ সালের ৮ ডিসেম্বর নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার বড়কালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার কর্মস্থল ভারতের রাজস্থান হওয়ায় তিনি সেখানকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা গ্রহণ করেন। লন্ডনের রয়েল কলেজ অব আর্টস হতে তিনি চিত্র শিল্পে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। উপ মহাদেশের শিল্প সাংস্কৃতির সাথে তিনি বিশ্বকে পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নৃত্যকলা প্রদর্শনী করে মানুষের মন জয় করেন। ১৯৭২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তারিখে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
রবি শংকর [সম্পাদনা]
আধুনিক বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধ্রুপদী সংগীতজ্ঞ রবী শংকর ১৯২০ সালের ৭ এপ্রিল উত্তর ভারতের কাশিতে জন্মগ্রহণ করলেও তাঁর পৈত্রিক নিবাস ছিল নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার বড়কালিয়া গ্রামে। তার পিতার নাম শ্রী শ্যাম শংকর চৌধুরী ও মাতার নাম হেমাঙ্গীনি। মাত্র দশ বছর বয়সে তিনি তার ভ্রাতা উদয় শংকরের দলে যোগ দিয়ে প্যারিসে যাত্রা করেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার সংগ্রামে আর্থিক সহায়তার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে বিশ্ব বিখ্যাত পঁচাত্তর জন শিল্পীর সাথে কনসার্ট ফর বাংলাদেশ অনুষ্ঠানে যোগদেন। সেতারের সুরের ঝংকারে তিনি আজও বিশ্ববাসীকে মোহিত করে রেখেছেন।
নিহার রজ্ঞন গুপ্ত [সম্পাদনা]
সাহিত্যিক নিহার রজ্ঞন গুপ্ত ১৯১১ সালের ০৬ জুন নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার ইতনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা সরকারী চাকুরীজীবী হওয়ায় ডাক্তরী পাস করার পর সেনাবাহিনীতে ডাক্তার হিসেবে যোগদান করেন। সাহিত্যের প্রতি পাগল নিহার রজ্ঞন গুপ্ত অসংখ্য উপন্যাস রচনা করেছেন। মাত্র ষোল বছর বয়সে তার প্রথম উপন্যাস ‘‘ রাজ কুমারী’’ ছাপা হয়। তার লিখিত প্রায় দুইশতাধিক উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে এর মধ্যে চল্লিশটিরও বেশী উপন্যাসের চলচ্চিত্র তৈরি হয়েছে। ১৯৮৬ সালের ২০ জানুয়ারি এই মহান সাহিত্যিক কলিকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।
কমল দাস গুপ্ত [সম্পাদনা]
বিশ্বখ্যাত সংগীত শিল্পী কমল দাস গুপ্ত ১৯১২ সালের ২৮ জুলাই তার পিতা তারাপ্রসন্ন দাস গুপ্তের ব্যবসায়স্থল কুচবিহারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পৈত্রিক নিবাস ছিল নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার বেন্দা গ্রামে । ১৯৩২-১৯৪৭ সাল পর্যন্ত তিনি চার হাজারের ও অধিক গানে সুরারোপ করেন। ১৯৩৬-১৯৬৭ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলা, ইংরেজী , তামিল, হিন্দী প্রভৃতি ভাষার ছবিতে সংগীত পরিচালনা করেন। তিনি নজরুল সংগীতে বিশেষজ্ঞ ও সুরাকার । ১৯৭৪ সালের ২০ জুলাই ঢাকার পিজি হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
লেঃ মতিউর রহমান [সম্পাদনা]
লেঃ মতিউর রহমান লোহাগড়া উপজেলার মধুমতি তীরবর্তী মাকরাইল গ্রামে ১৯৩৬ সালে ১ ডিসেম্বর তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম সোলাইমান মোল্যা, তিনি লাহুডিয়া উচ্চ বিদ্যালয় হতে ম্যাট্রিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে গণিত শাস্ত্রে এমএসসি পাস করেন। ১৯৬১ সালে তিনি পাকিস্তানের নৌবাহিনীতে যোগদান করেন। তিনি ১৯৬৯ সালে অন্যান্যদের সাথে বিখ্যাত আগড়তলা মামলায় আসামী হয়। বঙ্গবন্ধুর কাধে কাধ মিলিয়ে রাজনীতি ও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। দল গঠনে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় । ১৯৮৬ সালের ৫ মে তিনি মৃত্যবরণ করেন।
কবিয়াল বিজয় সরকার [সম্পাদনা]
চারণ কবিয়ালসম্রাট বিজয় সরকার ১৯০৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার ডুমদি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম নবকৃষ্ণ বৈরাগী ও মাতার নাম হিমালয় কুমারী বৈরাগী। কিশোর বয়সেই তিনি গ্রাম্য কবি পুলিন বিহারী ও পঞ্চানন মজুমদার এর সাথে পাচালী গান গেয়ে খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯৩৬ সালে তিনি কলিকাতায় গান করতে গেলে সেখানে কবি গোলাম মোস্তফা বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, পল্লী কবি জসীমউদ্দিন, আববাস উদ্দিন, সাহিত্যিক হাবিবুল্লাহ বাহার, ধীরেন সেন প্রমূখের সাথে তাঁর পরিচয় ঘটে । ১৯৮৫ সালের ৪ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি প্রায় চারশতাধিক গান রচনা করেন।
জারী সম্রাট মোসলেম উদ্দিন বয়াতী [সম্পাদনা]
চারণ কবি জারী সম্রাট মোসলেম উদ্দিন বয়াতী ১৯০৪ সালে নড়াইল সদর উপজেলার তারাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আব্দুল ওয়াহেদ ও মাতার নাম মুসলিমা বেগম। বাল্যকাল হতেই তিনি সংগীতানুরাগী ছিলেন এবং জারী, ভাব, মুর্শিদী ও পয়ার ইত্যাদি গান গাইতেন। তৎকালের বিখ্যাত সব গায়কের সাথে তিনি গানের পাল্লা দিয়ে খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর গান শুনে প্রায় সকল দর্শকই কান্নায় ভেঙ্গে পড়তেন। ১৯৯০ সালের ১৯ আগস্ট নিজ গ্রামে এই মহান গায়ক মৃত্যুবরণ করেন।
দানবীর ফাজেল আহমেদ মোল্যা [সম্পাদনা]
দানবীর ফাজেল আহমেদ মোল্যা ১৮৭৯ সালের নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার ১১ নং পেড়লী ইউনিয়নে পেড়লী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আলহাজ্ব নৈমুদ্দিন মোল্যা মাতা বড়ু বিবি। তিনি কৈশরেই বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসায় শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যে প্রচুর জমি ক্রয় করে হাজী নৈমুদ্দিন ট্রাস্ট গঠন করেন। মুসলমানদের শিক্ষার জন্য তিনি অনেকগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর প্রচেষ্টায় অনেক রাস্তাঘাট তৈরি হয়। দানশীল ও সমাজসেবক ফাজেল আহমেদ মোল্যা ১৯৩৪ সালের ২৫ জুলাই মাত্র পঞ্চান্ন বছরে মৃত্যুবরণ করেন।<"নড়াইল জেলা তথ্য বাতায়ন">[১]
চিত্তাকর্ষক স্থান [সম্পাদনা]
১। সুলতান কমপ্লেক্স, মাছিমদিয়া, নড়াইল সদর।
২। বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ কমপ্লেক্স, নুর মোহাম্মদ নগর, সিমানন্দপুর, নড়াইল সদর।
৩। বাধাঘাট, রূপগঞ্জ, নড়াইল সদর।
৪। চিত্রা রিসোর্ট, সীমাখালী, নড়াইল সদর।
৫। নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজ, রূপগঞ্জ, নড়াইল সদর।
৬। হাটবাড়ীয়া জমিদার বাড়ী, রূপগঞ্জ, নড়াইল সদর। (বর্তমানে অবলুপ্ত)
৭। নিরিবিলি পিকনিক স্পট, রামপুর, লোহাগড়া উপজেলা।
৮। পন্ডিত রবি শংকরের বাড়ী, বড় কালিয়া, কালিয়া উপজেলা।
৯। ব্রাক্ষ্মময়ী মঠ মন্দির, কালিয়া উপজেলা।
১০। অরুনিমা ইকোপার্ক, পানিপাড়া, কালিয়া উপজেলা।
আনুষঙ্গিক নিবন্ধ [সম্পাদনা]
|
|||||||||||||||||||||||||
|
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
| এই নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটিকে সমৃদ্ধ করে উইকিপিডিয়াকে সাহায্য করতে পারেন। |