মোহাম্মদ সদর উদ্দিন আহমেদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মো. সদর উদ্দিন আহমেদ
মৃত্যু২২ নভেম্বর, ১৯৭১
জাতীয়তাবাংলাদেশী
জাতিসত্তাবাঙালি
নাগরিকত্ব বাংলাদেশ
যে জন্য পরিচিতবীর প্রতীক

শহীদ মো. সদর উদ্দিন আহমেদ (জন্ম: অজানা- মৃত্যু: ২২ নভেম্বর , ১৯৭১) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর প্রতীক খেতাব প্রদান করে। [১]

জন্ম ও শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

শহীদ মো. সদর উদ্দিন আহমেদের জন্ম ঝিনাইদহ জেলার ঝিনাইদহ পৌর এলাকার খাজুরায়। তাঁর বাবার নাম ইব্রাতুল্লাহ মণ্ডল ওরফে ইব্রাহিম মণ্ডল এবং মায়ের নাম জেলেমান নেছা। তাঁর স্ত্রীর নাম আনজিরা বেগম। তাঁদের এক ছেলে।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

মো. সদর উদ্দিন আহমেদ পড়াশোনা শেষ করে ১৯৭১ সালে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ২১ বছর। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ঝাঁপিয়ে পড়েন যুদ্ধে। প্রতিরোধযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ শেষে ভারতে যান। চাকুলিয়ায় প্রশিক্ষণ নিয়ে যুদ্ধ করেন ৮ নম্বর সেক্টরের শিকারপুর সাব-সেক্টরে। বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন স্থানে তিনি সাহসিকতা ও বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করেন।

মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালের ২২ নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়। এ সময় মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল ছিল কুষ্টিয়া জেলার সদর উপজেলায় (তখন থানা)। এই দলে ছিলেন মো. সদর উদ্দিন আহমেদসহ মাত্র কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা। তাঁরা ক্ষুদ্র একটি দল। তাঁদের দলনেতা খবর পেলেন ওই এলাকায় পাকিস্তানি সেনা এসেছে। পাকিস্তানি সেনা কতজন, তাদের শক্তি কী, তা তিনি জানেন না। তার পরও তিনি পাকিস্তানি সেনাদের ওপর গেরিলা আক্রমণ করার দুঃসাহসী এক সিদ্ধান্ত নিলেন। এরপর তাঁর নির্দেশে মো. সদর উদ্দিন আহমেদসহ মুক্তিযোদ্ধারা দ্রুত তৈরি হলেন। তাঁদের কাছে অস্ত্র বলতে হালকা অস্ত্র; স্টেনগান ও রাইফেল। আর কয়েকটি হ্যান্ড গ্রেনেড। গুলিও সামান্য। তাই সম্বল করে তাঁরা বেরিয়ে পড়লেন পাকিস্তানি সেনাদের খোঁজে। তাঁরা সেনাদের মুখোমুখি হলেন হরিনারায়ণপুরের কাছে আড়পাড়ায়। হরিনারায়ণপুরও সদর উপজেলার অন্তর্গত। দলনেতার নির্দেশে মো. সদর উদ্দিন আহমেদ ও তাঁর সহযোদ্ধারা আক্রমণ করলেন পাকিস্তানি সেনাদের। আকস্মিক আক্রমণে পাকিস্তানি সেনারা হকচকিত। তবে নিমেষেই তারা পাল্টা আক্রমণ শুরু করল। বৃষ্টির মতো গুলি মুক্তিযোদ্ধাদের মাথার ওপর দিয়ে যেতে থাকল। এতে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে মাথা তোলাও দুঃসাধ্য হয়ে পড়ল। পাকিস্তানি সেনা সংখ্যায় মুক্তিযোদ্ধাদের চেয়ে বেশি। অস্ত্রশস্ত্রও অত্যাধুনিক। গোলাগুলির একপর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্রের গুলি প্রায় শেষ হয়ে গেল। ফলে তাঁরা প্রচণ্ড ঝুঁকির মুখে পড়ে গেলেন। এ অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধাদের দলনেতা সিদ্ধান্ত নিলেন পশ্চাদপসরণের। তিনি সহযোদ্ধাদের দ্রুত পেছনে হটে নিরাপদ স্থানে যেতে বললেন। এরপর মুক্তিযোদ্ধারা পশ্চাদপসরণের চেষ্টা করতে থাকলেন। মুক্তিযোদ্ধারা পশ্চাদপসরণের চেষ্টা করছেন বুঝতে পেরে পাকিস্তানি সেনারা আক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিল। তখন মুক্তিযোদ্ধাদের পশ্চাদপসরণও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ল। এ রকম পরিস্থিতিতে সামনাসামনি যুদ্ধ করা ছাড়া আর কোনো গত্যন্তর থাকে না। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে বেশি গুলি মজুদ নেই। মো. সদর উদ্দিন আহমেদ সিদ্ধান্ত নিলেন, তিনি একাই পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে মোকাবিলা করবেন। এই সুযোগে তাঁর সহযোদ্ধারা নিরাপদ স্থানে সরে যাবেন। এরপর মো. সদর উদ্দিন সাহসিকতার সঙ্গে একাই সম্মুখযুদ্ধ করতে থাকেন। কিন্তু এই সম্মুখযুদ্ধ ছিল অসম। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। নিভে যায় তাঁর জীবন প্রদীপ।

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]