বিষয়শ্রেণী:ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন কর্মী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

মোহাম্মদ বাজি


উড়িষ্যার অবিভক্ত কোরাপুত জেলার শেষ গান্ধী ও ১৯৪২ সালের ভারতের স্বাধীনতা সংগ্ৰামের বিল্পবী ও বীরযোদ্ধা মোহাম্মদ বাজি ১০৩ বছর বয়সে বৃহস্পতিবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ২০১৯ সালের ২৫ জুলাই উড়িষ্যার নবরংপুরের সুন্নার নিজের বাসভবনেই বাজি মারা যান। ২০১৭ সালে তার জন্মের শতবর্ষ পালন করা হয়। গত কয়েক বছর ধরেই তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ ছিলেন।

১৯১৭ সালের ২০ জানুয়ারি মোহাম্মদ বাজি উড়িষ্যায় জন্মগ্রহণ করেন। বাজী ছিলেন বেসামরিক অধিকার আন্দোলনের কর্মী ।  ভারতের স্বাধীনতা সংগ্ৰামের  মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন বাজী।

মোহাম্মদ বাজিরা ২১ ভাইবোন ছিলেন। তিনি তার পিতামাতার ২০ তম সন্তান।

বাজী সাদাশীব ত্রিপথী জয়পুর উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ার পর বিল্পবী ও যোদ্ধা হিসেবে দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দেন। পরে তিনি  কংগ্রেসে যোগ দান করেন।

তিনি গ্রামে গ্রামে গিয়ে স্বাধীনতা আন্দোলনের বিপ্লবীদের স্বাধীনতা সংগ্ৰামের জন‍্য সংগঠিত করার কাজ করতেন। তিনি ১৯৪০ সালে সাবর্মতী আশ্রমের গান্ধীর সত্যাগ্রহ আন্দোলনে অংশ নেন। সাবরমতি থেকে ফিরে আসার পর তিনি শহরে একই আন্দোলন শুরু করার পর নবরংপুর কারাগারে ছিলেন।

বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পরে ও ২০০৮ সালে কান্ধালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পর শান্তি পুনরুদ্ধারের জন্য আবার সঙ্গে নববঙ্গপুরে তিনি পদার্পন করেন।

উড়িষ‍্যার বিজেপির সাধারণ সম্পাদকভৃগু বক্ষিপত্রা ট‍্যুইট করে বলেন, “স্বাধীনতা যোদ্ধা বাজির মৃত্যুতে নবরংপুর জেলায় দুঃখের ছায়া ঘনিয়ে এসেছে। বাজির মৃত্যুর সাথে সাথে অবসান ঘটল হল নবরংপুরের একটি সর্নালী যুগের। উড়িষ্যার মানুষ, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলীয় দক্ষিণাংশে, স্বাধীনতা সংগ্রামে তার প্রচেষ্টার জন্য গর্বিত থাকবে”

তার মৃত্যুর সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর উড়িষ‍্যার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক টুইটারে শোকবার্তা জানান। বাজি ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করতেন এবং সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি সর্বদা খড়ী-চার্চ ব্যবহার করে তুলা থেকে চর্চা ব্যবহার করেন।


তিনি আরও বলেন, আমার দেবতুল‍্য পিতার সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বাজির। আমার মনে আছে ২০০১ সালে তিনি আমার পিতার মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠিত প্রথম হরিশন্দ্র বক্ষিপত্র স্মৃতি পুরস্কার পেয়েছিলেন।

মোহাম্মদ বাজির ভাগ্নী এন আহমদ ও আকতারী বেগ ও অন্যান্য পরিবারের সদস্যরা বাজির আমৃত্যু পর্যন্ত তার সঙ্গেই ছিলেন। তিনি নবরংপুরের রাষ্ট্রীয় সম্মান নিয়ে বিশ্রাম নিলেন।

বাজি  ভারতের জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দেন এবং দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের বার্তা ছড়িয়ে দেন। ভারত ছাড়ো আন্দোলন চলাকালীন তিনি দুইবার কারাগারে ছিলেন।

প্রণব মুখার্জী রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন উড়িষ‍্যার মুখ‍্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকসহ দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত রাষ্ট্রপতির চা পার্টিতে বাজি উপস্থিত ছিলেন।

১০৩ বছর বয়সে মারা গেলেন ১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলনের বিপ্লবী মোহাম্মদ বাজি[সম্পাদনা]

"ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন কর্মী" বিষয়শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত নিবন্ধসমূহ

এই বিষয়শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত মোট ৩টি পাতার মধ্যে ৩টি পাতা নিচে দেখানো হল।