নরেন্দ্র চন্দ্র ঘোষ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
নরেন্দ্র চন্দ্র ঘোষ
জন্ম ১৪ এপ্রিল, ১৯১২
ঠাকুরগাঁও, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু ৪ আগস্ট ১৯৯৪
জাতিসত্তা বাঙালি
আন্দোলন ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলন

নরেন্দ্র চন্দ্র ঘোষ (১৪ এপ্রিল, ১৯১২ - ৪ আগস্ট ১৯৯৪) ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন ব্যক্তিত্ব ও অগ্নিযুগের বিপ্লবী। বিপ্লবী মৃণাল কান্তি ঘোষ চৌধুরীর সংস্পর্শে যুগান্তর দলে যোগ দেন। বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অপরাধে তিনি বহুবার গ্রেপ্তার হন, কারাবরণ করেন এবং শাস্তি ভোগ করেন। অস্ত্রসহ পলাতক জীবন কাটিয়েছেন বহু বছর।[১]

জন্ম[সম্পাদনা]

নরেন্দ্র চন্দ্র ঘোষ ১৯১২ সালে ঠাকুরগাঁওয়ের বালুবাড়িয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম দুর্গাদাস ঘোষ।[১]

বিপ্লবী জীবন[সম্পাদনা]

পুলিস ফাইল অনুযায়ী জানা যায় দুর্ধর্ষ বিপ্লবী নরেন্দ্র চন্দ্র ঘোষ ১৯৩৫ সালের ৮ ডিসেম্বর অস্ত্রসহ দিনাজপুরের পতিরামে গ্রেপ্তার হন। বিচারে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪১১, (আইপিসি) অনুসারে ঐ বছরেরই ২৩ ডিসেম্বর তাঁর তিন মাসের কারাবাস হয়। সাজা শেষ হলেও তিনি ছাড়া পাননি। পুনরায় ১৯৩৬ সালের ২৭ জানুয়ারি বেঙ্গল ক্রিমিনাল ল অ্যামেন্ডমেন্ড অ্যাক্ট অনুযায়ী বিচারে তাঁর ৫ বছরের সাজা ঘোষণা হয়। ষড়যন্ত্রকারী ইংরেজরা নানা ফন্দি ফিকির করে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে বিপ্লবী নরেন্দ্র চন্দ্র ঘোষকে বারবার জেলে ঢুকিয়েছে। ১৯৩৫ সালে তাঁর বিরুদ্ধে আনা হল ১২০ বিআইপিসি ধারা, সাথে জুড়ে দেয়া হলো ৩৯৫ ধারাও। ১৯৩৬ সালের ২৩ মার্চ ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হল নরেন্দ্র চন্দ্র ঘোষকে।[১]

আন্দামানে নির্বাসন[সম্পাদনা]

ইংরেজ শাসকের মহাশত্রু নরেন্দ্র চন্দ্র ঘোষকে পায়ে বেড়ি পরিয়ে আন্দামানে সেলুলার জেলে পাঠানো হয়। আন্দামান সেলুলার জেলের গারদে দিনগুনতে থাকেন তিনি। সেখানে গিয়েও বন্দীদের সুব্যবস্থার দাবিতে সংগঠিত দ্বিতীয় দফার আন্দোলনে অংশ নিয়ে নরেন্দ্র চন্দ্র ঘোষ ১৯৩৭ সালে ৩৭ দিন অনশন করেন। দীর্ঘ পনের বছরের অধিক জেলে কাটানোর পরে তিনি মুক্তি পান।[১]

শেষ জীবন[সম্পাদনা]

নরেন্দ্র চন্দ্র ঘোষ ১৯৪৭-এর পর জলপাইগুড়ি জেলায় চলে আসেন।পরবর্তীতে তিনি পাণ্ডাপাড়ায় বসবাসের জন্য প্লট পান। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তিনি সংসার জীবনে প্রবেশ করেন এবং সংসার প্রতিপালনে মনোনিবেশ করেন। তাঁর তিন পুত্র রয়েছে। ১৯৯৪ সালের ৪ আগস্ট তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।[১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. নৃপেন্দ্রনাথ পাল ও অন্যান্য সম্পাদিত, উত্তরবঙ্গের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জীবনালেখ্য, প্রথম খণ্ড, ক্ষুদিরাম স্মৃতিরক্ষা কমিটি, কোচবিহার, প্রথম প্রকাশ মে, ২০১৪, পৃষ্ঠা ১৪২-১৪৩