বিষয়বস্তুতে চলুন

আবদুল হক (রাজনীতিবিদ)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আবদুল হক
কমরেড আবদুল হক
জন্ম২৩ ডিসেম্বর, ১৯২০
মৃত্যু২২ ডিসেম্বর ১৯৯৫
জাতীয়তাবাংলাদেশী
নাগরিকত্ব ব্রিটিশ ভারত (১৯৪৭ সাল পর্যন্ত)
 পাকিস্তান (১৯৭১ সাল পর্যন্ত)
 বাংলাদেশ
শিক্ষাএম.এ
মাতৃশিক্ষায়তনমৌলানা আজাদ কলেজ, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
পরিচিতির কারণতেভাগা আন্দোলনের ব্যক্তি
অফিসসাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী)
রাজনৈতিক দলপাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী), বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী)
আন্দোলনসাম্যবাদী আন্দোলন
পিতা-মাতা
  • শাহ মুহম্মদ আবুল খায়ের (পিতা)
  • আমেনা খাতুন (মাতা)

আবদুল হক (২৩ ডিসেম্বর, ১৯২০ - ২২ ডিসেম্বর, ১৯৯৫ ) একজন বাঙালি সশস্ত্র বিপ্লববাদী, সাম্যবাদী রাজনীতিবিদ। তিনি ব্রিটিশ আমলে ১৯৩৯ সালে হলওয়েল মনুমেন্ট ভাঙ্গার আন্দোলন, ১৯৪২ সালে দুর্ভিক্ষ প্রতিরোধ আন্দোলন, হাটের তোলা আদায় বন্ধ আন্দোলন, তেভাগা আন্দোলন, পাকিস্তান আমলে ১৯৫০ সালে রাজশাহী জেলে খাপড়া ওয়ার্ড আন্দোলন[], ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলন ও গণঅভ্যূত্থান এবং ১৯৭১ পরবর্তীকালে বাংলাদেশের সময়কালে সাম্যবাদী বিপ্লবী আন্দোলনসহ অনেক আন্দোলন প্রত্যক্ষভাবে গড়ে তোলেন ও অংশ নেন।

রাজনৈতিক জীবন

[সম্পাদনা]

কমিউনিস্ট পার্টিতে

[সম্পাদনা]

১৯৪১ সালে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী সভ্যপদ লাভ করেন। ছাত্রাবস্থায় তিনি পার্টির রাজনৈতিক নেতৃত্বে পরিচালিত ছাত্র সংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্ট ফেডারেশনের বঙ্গীয় প্রাদেশিক কমিটির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) গঠনে তিনি নেতৃত্ব দানকারীর ভূমিকা পালন করেন।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিতে

[সম্পাদনা]

১৯৭২ সনের শুরুতে পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) পার্টিতে ভাঙ্গন দেখা দেয়। সুখেন্দু দস্তিদার ও মোহাম্মদ তোয়াহার নেতৃত্বে একটি অংশ সংগঠিত হয়। অন্য অংশের নেতৃত্ব দিতে থাকেন আবদুল হক, শরদিন্দু দস্তিদার, অজয় ভট্টাচার্য এবং হেমন্ত সরকার[] ১৯৭৮ সালে আবদুল হকের দল বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) নামটি গ্রহণ করে।[] ১৯৮৮ সালের ৭-৯ এপ্রিল পার্টির সপ্তম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।[] ১৯৯১ সালে এই অংশের অনুষ্ঠিত পার্টির ৮ম কংগ্রেস ছিল আবদুল হকের জীবনের শেষ কংগ্রেস।

মৃত্যু

[সম্পাদনা]

আবদুল হক ২২ ডিসেম্বর ১৯৯৫ তারিখে ৭৫ বছর বয়সে মারা যান।[]

প্রকাশিত রচনাবলী

[সম্পাদনা]

কমরেড আবদুল হকের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা এগারটি। এগুলো হচ্ছেঃ

  1. ইতিহাসের রায় সমাজতন্ত্র,
  2. ক্ষুধা হইতে মুক্তির পথ,
  3. যত রক্ত তত ডলার,
  4. পূর্ব বাংলা আধাউপনিবেশিক আধাসামন্তবাদী,
  5. কৃষি ব্যবস্থা আধাসামন্ততান্ত্রিক,
  6. মার্কসীয় দর্শন,
  7. সামাজিক সাম্রাজ্যবাদের স্বরূপ-১,
  8. সামাজিক সাম্রাজ্যবাদের স্বরূপ-২,
  9. বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনীতি,
  10. মাওসেতুং এর মূল্যায়ন,
  11. কমরেড আবদুল হক গ্রন্থাবলী

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 সালেহ আতহার খান (২০১২)। "হক, আবদুল২"ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর (সম্পাদকগণ)। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিআইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১ওসিএলসি 883871743ওএল 30677644M
  2. হোসেন, আমজাদ (১৯৮৯)। "পূর্ব বাংলায় নকশাল আন্দোলনের প্রভাব"। নকশালবাড়ি আন্দোলনের প্রামাণ্য তথ্য সংকলন (প্রথম প্রকাশ সংস্করণ)। পৃ. ১৮৮–১৯২।
  3. 1 2 কর, রণজিৎ (ফেব্রুয়ারি ২০১৭)। "চতুর্থ পর্ব"। কমিউনিজমের অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ প্রেক্ষিত বাংলাদেশ (প্রথম প্রকাশ সংস্করণ)। ঢাকা: রুক্কু শাহ ক্রিয়েটিভ পাবলিশার্স। পৃ. ৩০৯–৩১০। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৮৪৮৯২৮৭৫২

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]