আশালতা সেন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আশালতা সেন
জন্ম৫ ফেব্রুয়ারি ১৮৯৪
নোয়াখালী, ব্রিটিশ ভারত, (বর্তমান বাংলাদেশ বাংলাদেশ)
মৃত্যু১৯৮৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি
দিল্লী,  ব্রিটিশ ভারত (১৯৪৭ সাল পর্যন্ত)
 পাকিস্তান (১৯৬৪ সাল পর্যন্ত)
 ভারত
নাগরিকত্ব ব্রিটিশ ভারত (১৯৪৭ সাল পর্যন্ত)
 পাকিস্তান (১৯৬৪ সাল পর্যন্ত)
 ভারত
পেশারাজনীতিবিদ
পরিচিতির কারণব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্নিকন্যা
রাজনৈতিক দলভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস
আন্দোলনব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলন
দাম্পত্য সঙ্গীসত্যরঞ্জন সেন
সন্তানসমররঞ্জন সেন
পিতা-মাতা
  • বগলামোহন দাশগুপ্ত (পিতা)
  • মানদাসুন্দরী দাশগুপ্ত (মাতা)

আশালতা সেন (৫ ফেব্রুয়ারি ১৮৯৪ - ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৬) ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন ব্যক্তিত্ব, সক্রিয় কর্মী, কবি ও সমাজসেবক এবং অগ্নিযুগের নারী বিপ্লবী।

জন্ম ও পরিবার[সম্পাদনা]

আশালতা সেন ১৮৯৪ সালে নোয়াখালী এক উকিল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু তার পৈতৃক নিবাস ছিল বিক্রমপুর এর বিদগাঁও গ্রামে। । তার পিতার নাম বগলামোহন দাশগুপ্ত ও মাতার নাম মানদাসুন্দরী দাশগুপ্ত। পিতা ছিলেন নোয়াখালী জজ কোর্টের আইনজীবী[১]

রাজনৈতিক জীবন[সম্পাদনা]

আশালতা সেন বাল্যকাল থেকেই সাহিত্যানুরাগী ছিলেন। ১৯০৪ সালে মাত্র দশ বছর বয়সে বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে মাসিক পত্রিকা অন্তঃপুর প্রকাশিত করেন এবং তার জাতীয়তাবাদী কবিতা সুধীসমাজের কাছে দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তার মাতামহী নবশশী দেবীর উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় আশালতা সেন রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করেন এবং ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে স্বদেশী প্রচারে উদ্যোগী হন। ১৯২১ সালের অযোগ আন্দোলনের সময় মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ তাকে বিশেষ ভাবে অনুপ্রাণিত করে। তিনি তখন কর্মক্ষেত্রে ঝাপিয়ে পড়েন। ঢাকা গেণ্ডারিয়ায় তার শ্বশুরমহাশয়ের সহায়তায় নিজেদের বাড়ীতে মহিলাদের জন্য ‘শিক্ষাশ্রম' নামে একটি বয়নাগার তিনি স্থাপন করেন।

১৯২২ সালে ঢাকা জেলার মহিলা প্রতিনিধিরূপে তিনি ডেলিগেট হয়ে যোগদান করেন গয়া কংগ্রেসে। সেই অবধি কংগ্রেসের সঙ্গে তিনি অচ্ছেদ্য বন্ধনে আবদ্ধ হন। মহিলাদের মধ্যে দেশাত্মবোধ জাগ্রত করা এবং গান্ধীজীর বাণী প্রচার করার উদ্দেশ্যে ১৯২৪ সালে তিনি সরমা গুপ্তাসরযূ গুপ্তার সহযোগিতায় ‘গেণ্ডারিয়া মহিলা সমিতি' সংগঠন করেন। সমিতির মহিলাগণ নিজেরাই খদ্দরের বোঝ! কাঁধে নিয়ে অনেক দূরে দূরে চলে যেতেন এবং ঘরে ঘরে গিয়ে খদ্দর বিক্রি ও প্রচার কাজ করতেন। ১৯২৫ সালে আশালতা সেন নিখিল ভারত কাটুনী সংঘের (A.I.S.A.) সদস্য হন এবং ব্যাপকভাবে খদ্দর-প্রচারে ব্রতী হন।[২]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

তিনি ১৯৮৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে তার পুত্রের বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. কমলা দাশগুপ্ত (জানুয়ারি ২০১৫)। স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার নারী, অগ্নিযুগ গ্রন্থমালা ৯কলকাতা: র‍্যাডিক্যাল ইম্প্রেশন। পৃষ্ঠা ১০৬-১১২। আইএসবিএন 978-81-85459-82-0 
  2. সেন, আশালতা "সেন, আশালতা" |ইউআরএল= এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)বাংলাপিডিয়াবাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। সংগ্রহের তারিখ ৫ মে ২০১৪