বিষয়বস্তুতে চলুন

অমরকৃষ্ণ ঘোষ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
অমরকৃষ্ণ ঘোষ
জন্ম১৮৯২
মৃত্যুজুলাই ১৩, ১৯৭৭(১৯৭৭-০৭-১৩)
জাতীয়তাভারতীয়
প্রতিষ্ঠানঅনুশীলন সমিতি
আন্দোলনভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন

অমরকৃষ্ণ ঘোষ (১৮৯২ – জুলাই ১৩, ১৯৭৭) একজন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন। তিনি বাঘাযতীনের ডানহাত বলে পরিচিত ছিলেন। স্বাধীনতালাভের পর বাংলার চিফ হুইপ ছিলেন।

শৈশব ও শিক্ষাজীবন

[সম্পাদনা]

অমরকৃষ্ণ ঘোষের জন্ম নদীয়া জেলার যদুবয়রা গ্রামে। পিতার নাম তারেশচন্দ্র ঘোষ এবং মায়ের নাম বিনোদিনী দেবী। তাদের বাড়ি ছিল বিপ্লবীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। অবিভক্ত নদীয়ার কুমারখালী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়ার সময় তিনি যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের সাথে দেখা করেছিলেন এবং বিপ্লবীস্তবকে শপথ নেন। যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় এর কাছে বিপ্লবের মন্ত্রে দীক্ষা নিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি কলকাতার হিন্দু স্কুলে পড়াশুনা করেন।[১]

কর্ম জীবন

[সম্পাদনা]

কলিকাতা হিন্দু স্কুলে পড়ার সময় বাঘা যতীতের নির্দেশে প্রায়ই দলের কাজে কুষ্টিয়া মহকুমায় যেতেন। তাঁর অগ্রজ অতুলকৃষ্ণ বাঘা যতীনের ঘনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। অমর এবং অতুল এই দুইভাই অনুশীলন সমিতির বড় স্তম্ভ ছিলেন। বিপিন বিহারী গাঙ্গুলির সঙ্গেও এই দুইভাই এর যোগাযোগ ছিল গভীরভাবে। অমরকৃষ্ণের জীবনে দুর্ভোগ নেমে আসে শামসুল আলমকে হত্যার পর। কোর্ট পরিদর্শক শামসুল আলম আলিপুর বোমা মামলা পরিচালনা করছিলেন। ১৯১০ সালের ২৪ জানুয়ারি শামসুল আলম হত্যার পরই সন্দেহক্রমে পুলিস তাঁর পিছনে লাগে। শেষ পর্যন্ত পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেন। ১৯১৬ সাল থেকে ১৯২৮ সাল পর্যন্ত তিন আইনে দুই দফায় বন্দী থাকার সময় কিছুদিন ব্রহ্মদেশে মান্দালয় ফোর্ট জেলে ও রেঙ্গুন জেলে ছিলেন। বঙ্গীয় ফৌজদারী সংশোধন আইন অনুসারে তাঁকে ২৮ নভেম্বর ১৯১৩ থেকে ৩০ মে ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত কারাগারে রাখা হয়েছিল। বাংলায় ফিরলে বিপ্লবীদের সাহায্য এবং গন্ডগোল করতে পারে এই সন্দেহ ব্রিটিশ পুলিশ বঙ্গদেশ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। ২৩ ডিসেম্বর ১৯৩৬ সালে মুক্তি দিয়ে ছিলেন এবং বাংলায় ফিরে আসেন। এই সময় তিনি বিপ্লবী কর্মকান্ড থেকে পরিবর্তিত হয়ে জাতীয় কংগ্রেসের যোগ দেন। তিনি নদীয়া জেলা কংগ্রেস কমিটির সদস্য, বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস কমিটির কোষাধ্যক্ষ এবং বহু বছর এআইসিসির সদস্যও ছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের চিফ হুইপ রূপে কাজ করে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।[১][২]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. প্রথম খন্ড, ডাঃ ননীগোপাল দেবদাস সম্পাদিত (২০০৯)। স্বাধীনতা সংগ্রামী চরিতাভিধান। কলকাতা: শুভ্র দেবদাস। পৃষ্ঠা ১৯। 
  2. Aug 18, Priyanka Dasgupta / TNN / Updated:; 2018; Ist, 19:28। "Revolutionary Road | Kolkata News - Times of India"The Times of India (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৫-০৪