প্রবোধকুমার বিশ্বাস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
প্রবোধকুমার বিশ্বাস
জন্ম১৮৯৭
মৃত্যু১৯৬৯
জাতিসত্তাবাঙালি

প্রবোধকুমার বিশ্বাস (১৮৯৭ - ১৯৬৯) একজন বাঙালি ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী। পিতার নাম রামলাল বিশ্বাস

ছাত্র জীবন[সম্পাদনা]

প্রবোধ কুমার বিশ্বাসের জন্ম যশোর জেলার ভাতুড়িয়া গ্রামে। দিনাজপুর জিলা স্কুলে পড়াশোনা করেন। ১৯১৪ সালে কলকাতার রিপন কলেজে (অধুনা সুরেন্দ্রনাথ কলেজ) ভর্তি হন। স্কুলে পড়ার সময়েই অমৃত (শশাংক) হাজরার কাছে বিপ্লবমন্ত্রে দীক্ষা নেন।

সশস্ত্র আন্দোলন[সম্পাদনা]

পুলিশের অত্যাচারী ডেপুটি সুপারিন্টেনডেন্ট বসন্ত চ্যাটার্জীকে হত্যার ভার পড়ে তার ওপর। অন্যান্য বিপ্লবীদের সাথে তিনি বসন্ত চ্যাটার্জীকে হত্যা করেন, ৩০ আগস্ট, ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে। পুলিশ অনেক চেষ্টা করেও তার সন্ধান পায়নি। আমহার্স্ট রো'র মেস ছেড়ে মির্জাপুর স্ট্রীটে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে লুকিয়ে থাকেন ও পড়াশোনা চালিয়ে যান। হঠাৎ একদিন পুলিশ খবর পেয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে ও কিড স্ট্রিটে রেখে স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্যে অকথ্য অত্যাচার চালায়। প্রবোধকুমার কিন্তু কারো নাম প্রকাশ করেননি। পুলিশ হাল ছেড়ে দিয়ে তাকে প্রেসিডেন্সী জেলে নির্জন সেলে আটকে রাখে। সেখান থেকে পরে দালান্দা হাউসে পাঠানো হয়। বিপ্লবী নলিনী ঘোষের সাথে সেখান থেকে অভূতপূর্ব উপায়ে পালান এবং চন্দননগরে আশ্রয় নেন তিনি। আসামের গৌহাটিতেও আত্মগোপন করে থাকেন বেশ কিছুদিন। এরপরে তিনি গ্রেপ্তার হন এবং রাজশাহী জেলে প্রেরিত হন। এসময় রাজসাহী জেলে তার সহবন্দীদের মধ্যে ছিলেন ভূপেন্দ্র কুমার দত্ত, সতীশচন্দ্র পাকড়াশী সহ প্রথম শ্রেনীর বিপ্লবী নেতৃবৃন্দ। রাজসাহী জেলে আসার আগে প্রবোধকুমার বহুবার জেল ও পুলিশের বেষ্টনী ভেদ করে পালিয়েছিলেন তাই তাকে জেলার স্টিভেনসন কড়া নজরবন্দি রাখতো। একথা জানা যায় বিপ্লবী ভূপেন্দ্র কুমার দত্তের 'বিপ্লবের পদচিহ্ন' বই হতে[১][২]

শেষ জীবন[সম্পাদনা]

শেষ জীবনে বিপ্লবী কার্যকলাপ থেকে অবসর নেন এবং কলকাতা পৌরসংস্থা(কর্পোরেশন)র চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন[২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Bhupendra Kumar Datta, 2nd Edition (১৯৭৩)। Biplaber Padachinha। kolkata: Orient Longman। 
  2. প্রথম খন্ড, সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু (২০০২)। সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান। কলকাতা: সাহিত্য সংসদ। পৃষ্ঠা ৩০২। আইএসবিএন 81-85626-65-0