নগেন্দ্রশেখর চক্রবর্তী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
নগেন্দ্রশেখর চক্রবর্তী
জন্ম
জাতিসত্তাবাঙালি
আন্দোলনব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলন

সর্দার নগেন্দ্রশেখর চক্রবর্তী (ইংরেজি: Nagendrashekhar Chakrabarty) (১৫ জুলাই, ১৮৯৩ - ৮ মার্চ, ১৯৮০) ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব এবং অগ্নিযুগের বিপ্লবী।[১]

জন্ম, শৈশব ও শিক্ষা[সম্পাদনা]

নগেন্দ্রশেখর চক্রবর্তীর জন্ম শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলার দাসেরজঙ্গল গ্রামে। তার পিতার নাম প্রসন্নকুমার চক্রবর্তী। তার পিতামহ ঈশ্বরচন্দ্র চক্রবর্তীর স্বদেশী গ্রহণ ও বিলেতি বর্জন তাকে শৈশবেই আকৃষ্ট করে। ১৩ বছর বয়সে বিলেতী লবণের দোকানে পিকেটিং করে বেত্রদণ্ডে দণ্ডিত হন। তিনি ময়মনসিংহ সিটি স্কুলের ছাত্র থাকাকালে অনুশীলন সমিতিহেমেন্দ্রকিশোর আচার্য চৌধুরীর ময়মনসিংহের বিপ্লবী সংস্থা সাধনা সমিতির কার্যাবলীর সংগে যুক্ত হন।[২]

বিপ্লবী কর্মকাণ্ড[সম্পাদনা]

১৯১৫ সালের পরে একসময় যাদুগোপাল মুখোপাধ্যায় ও অন্যান্য কয়েকজন সহকর্মীর সংগে চীনের কাছ থেকে অর্থ প্রাপ্তির সম্ভাবনায় পর্বতসঙ্কুল সীমান্ত অঞ্চলে অশেষ ক্লেশে ২-৩ বছর কাটান। ১৯১৮ সালে দেশে ফেরার পর কিছুদিন জেলে অন্তরীণ থাকেন। ১৯২১ সালে গান্ধীজীর অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের আহ্বানে তারকেশ্বর ও নাগপুর সত্যাগ্রহে সক্রিয় ছিলেন। ১৯২৪-২৮ পর্যন্ত কারারুদ্ধ থাকেন। মুক্তিলাভের পর আবার বিপ্লবী আন্দোলন সংগঠনে মন দেন। এইসময় জ্ঞানাঞ্জন নিয়োগীর সংগে গ্রামাঞ্চলে ম্যাজিক লণ্ঠনে স্লাইড সহযোগে গ্রামবাসীদের স্বদেশীয়ানায় উদ্বুদ্ধ করেন। ১৯৩০ সালে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার আক্রমণের ঘটনার পর ময়মনসিংহে ধরা পড়ে ১৯৩৮ সালে ছাড়া পান। ১৯৪২ সালের আন্দোলনে আবার ধৃত হয়ে স্বাধীনতার আগ পর্যন্ত আটক থাকেন। কর্মী গঠনে ও কর্মী সংগ্রহে বিশেষ দক্ষ ছিলেন। ময়মনসিংহের বিপ্লবী মেয়েদের তিনিই সংগঠিত করেন। বিপ্লবী নিকেতন প্রতিষ্ঠায় অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন।[২]

সাধনা সমিতির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ[সম্পাদনা]

নগেন্দ্রশেখর চক্রবর্তী ছাড়াও সাধনা সমিতির অন্যান্য সদস্য ছিলেন হেমেন্দ্রকিশোর আচার্য চৌধুরী, সুরেন্দ্রমোহন ঘোষ, শ্যামানন্দ সেন, সিধু সেন, পৃথ্বীশচন্দ্র বসু, কোহিনুর ঘোষ, বিনোদচন্দ্র চক্রবর্তী, মহেন্দ্রচন্দ্র দে, আনন্দকিশোর মজুমদার, ভক্তিভূষণ সেন, ক্ষিতীশচন্দ্র বসু, মনোরঞ্জন ধর, সুধেন্দ্র মজুমদার, মতিলাল পুরকায়স্থ, সঞ্জীবচন্দ্র রায়, মোহিনীশঙ্কর রায়, ও দ্বিজেন্দ্র চৌধুরী ননী। এঁদের সকলেই বহু বৎসর কারাগারে ও অন্তরীণে আবদ্ধ ছিলেন।[১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তী, জেলে ত্রিশ বছর, ধ্রুপদ সাহিত্যাঙ্গন, ঢাকা, ঢাকা বইমেলা ২০০৪, পৃষ্ঠা ২২১-২২২।
  2. সুবোধ সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, নভেম্বর ২০১৩, পৃষ্ঠা ৩২৭, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-১৩৫-৬