বিষয়বস্তুতে চলুন

মুখতার আল সাকাফি: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

সম্পাদনা সারাংশ নেই
সম্পাদনা সারাংশ নেই
ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা
সম্পাদনা সারাংশ নেই
ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা
'''মুখতার ইবনে আবি উবায়েদ আল সাকাফি''' ({{lang-ar|المختار بن أبي عبيد الثقفي}}; ৬২২ খ্রি. – ৩রা এপ্রিল ৬৮৭) ছিলেন [[কুফা|কুফা কেন্দ্রীক]] একজন [[আলীয়|আলীয়পন্থী]] বিপ্লবী। তিনি ৬৮৫ খ্রিষ্টাব্দে [[উমাইয়া খিলাফত|উমাইয়া খিলাফতের]] বিরুদ্ধে বিদ্রোহ এবং [[দ্বিতীয় ফিতনা|দ্বিতীয় ইসলামি গৃহযুদ্ধের]] সময় আঠারো মাসের জন্য [[ইরাকের ইতিহাস#মধ্যযুগ|ইরাকের]] অধিকাংশ অঞ্চল শাসন করেছিলেন।
 
[[তায়েফ|তায়েফে]] জন্মগ্রহণ করা মুখতার শৈশবে ইরাকের কুফায় চলে আসেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। ৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে [[কারবালার যুদ্ধ|কারবালার যুদ্ধে]] উমাইয়া বাহিনীর হাতে ইসলামের নবী [[মুহাম্মদ(স)|মুহাম্মাদের(স)]] নাতি [[হোসাইন ইবনে আলী (রা)]]র মৃত্যুর পর তিনি মক্কার বিদ্রোহী খলিফা [[আবদুল্লাহ ইবনুল জুবায়ের|আব্দুল্লাহ ইবনে আল জুবায়েরের]] সাথে স্বল্প সময়ের জন্য জোটবদ্ধ হন। এরপর আবার কুফায় ফিরে এসে খলিফা [[আলী|আলীর]] (শা. ৬৫৬–৬৬১) সন্তান ও হোসাইনের ভাই [[মুহাম্মদ ইবনে আল হানাফিয়াহ|মুহাম্মদ ইবনে আল হানাফিয়াকে]] [[মাহদী]] ও [[ইমাম (শিয়া)|ইমাম]] ঘোষণা করেন এবং আলীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠা ও হোসাইন হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণের ডাক দেন। জুবায়েরিয় গভর্নরকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ৬৮৫ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবরে তিনি কুফা দখল করে নেন এবং পরে হোসাইন হত্যাকান্ডে জড়িতদের হত্যার আদেশ দেন। ইবনে আল জুবায়েরের সাথে বিরূপ সম্পর্কের জেরে চার মাস অবরুদ্ধ থাকার পর তিনি [[বসরা]]র জুবায়েরিয় গভর্নর [[মাস'আব ইবনে আল জুবায়ের|মাস'আব ইবনে আল জুবায়েরের]] হাতে নিহত হন।
 
পরাজিত হওয়া সত্ত্বেও মুখতারের আন্দোলনের প্রভাব ছিল সুদুরপ্রসারী। তার মৃত্যুর পর তার অনুসারীরা প্রাথমিক [[শিয়া]] সম্প্রদায় গড়ে তুলেছিল।{{efn|1=একটি সম্প্রদায় যারা [[সুন্নি মুসলিম|সুন্নি মুসলিমদের]] থেকে আলাদাভাবে মনে করে ইসলামী রাসূল [[মুহাম্মদ|মুহাম্মাদের]] চাচাত ভাই ও এবং মেয়ে-জামাই [[আলী]] এবং তাঁর বংশধরেরা মুসলিম সম্প্রদায়ের ন্যায়সঙ্গত ও আল্লাহ মনোনীত নেতা ([[ইমাম (শিয়া)|ইমাম]]), {{sfn|Madelung|1997|pp=420–424}}}} পরে [[কায়সানিয়]] নামে পরিচিতি পাওয়া এই দলটি বহু ঔপন্যাসিক মতবাদ গড়ে তোলার মাধ্যমে পরবর্তী শিয়া আদর্শকে অনুপ্রাণিত করেছে। মুখতার ''[[মাওয়ালি|মাওয়ালিদের]]'' (ইসলামে ধর্মান্তরিত হওয়া স্থানীয় লোকজন) সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং পরে তারা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সত্ত্বায় পরিনত হয়েছিল। এর ষাট বছর পর ''মাওয়ালি'' ও কায়সানিয়রা [[আব্বাসীয় বিপ্লব|আব্বাসীয় বিপ্লবে]] গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। মুসলমানদের মাঝে মুখতার একজন বিতর্কিত চরিত্র। অনেকের কাছে তিনি মিথ্যা নবী হিসেবে নিন্দিত হলেও আলীয়দের প্রতি তার সমর্থনের জন্য শিয়াদের দৃষ্টিতে তিনি একজন সম্মানীত ব্যক্তি। তবে আধুনিক ঐতিহাসিকদের দৃষ্টিতে তিনি ছিলেন উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও সুযোগসন্ধানী একজন একনিষ্ঠ বিপ্লবী।