মসুল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মসুল
الموصل
শহর
দজলা নদী, একটি সেঁতু এবং মসুল শহরের প্রধান মসজিদ
দজলা নদী, একটি সেঁতু এবং মসুল শহরের প্রধান মসজিদ
নাম: নিনুয়ি(Nīnwē)
মসুল ইরাক-এ অবস্থিত
মসুল
মসুল
মসুল এশিয়া-এ অবস্থিত
মসুল
মসুল
Location of Mosul within Iraq
স্থানাঙ্ক: ৩৬°২০′ উত্তর ৪৩°০৮′ পূর্ব / ৩৬.৩৪° উত্তর ৪৩.১৩° পূর্ব / 36.34; 43.13স্থানাঙ্ক: ৩৬°২০′ উত্তর ৪৩°০৮′ পূর্ব / ৩৬.৩৪° উত্তর ৪৩.১৩° পূর্ব / 36.34; 43.13
দেশইরাক
গভর্নরেটনিনাওয়া গভর্নরেট
উচ্চতা[১]২২৩ মিটার (৭৩২ ফুট)
জনসংখ্যা (২০১৫)
 • শহর৬,৬৪,২২১
 • মূল শহরu,nk,now[২]
 ইউএন তথ্য ১৯৮৭[৩]
বিশেষণমসলাওয়ি
সময় অঞ্চলAST (ইউটিসি+3)
এলাকা কোড৬০

মসুল (আরবি: الموصل‎‎ (al-Mawṣil, কুর্দি: مووسڵ)সিরিয়: ܡܘܨܠ‎, প্রতিবর্ণী. Māwṣil) হলো ইরাকের উত্তরাঞ্চলের প্রধান নগরী। এটি বাগদাদ থেকে ৪০০ কিঃমিঃ (২৫০ মাইল) দূরে উত্তরে দজলা নদীর পশ্চিম তীরে এবং পূর্ব তীরে অবস্থিত নিনাওয়ার আসিরীয়া নগরের অভিমুখে অবস্থিত। ২১ শতাব্দীর শুরু থেকে জাতিগত ও ধর্মীয়ভাবে মসুল শহর পরিবেষ্টিত সমগ্র অঞ্চলে বৈচিত্রপূর্ণ জনগোষ্ঠী লক্ষ্য করা যায়। এর মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী হলো আরবীয়। এছাড়া সংখ্যালঘুদের মধ্যে রয়েছে আসিরীয়া, ইয়াজিদি, আর্মেনীয়, শাবাকি, তুর্কমেন, কুর্দি, মান্দায়েন, কাওলিয়, সার্কাসীয় ইত্যাদি জনগোষ্ঠী। ধর্মীয় দিক থেকে এ অঞ্চলের অধিকাংশ জনগোষ্ঠী সুন্নি মুসলমান ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষণীয়ভাবে আসিরীয়া এবং আর্মেনিয়ানদের মধ্যে সালাফি আন্দোলনখ্রিস্ট ধর্মের অনুসারী বেড়ে গেছে। এছাড়াও এ অঞ্চলে কিছু শিয়া ইসলাম, ইয়াজিদি, শাবাকি, সুফিবাদ, ইয়ারসানবাদ, মান্দেয়বাদ ইত্যাদি মতাদর্শের অনুসারী রয়েছে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

অটোমান[সম্পাদনা]

১৫১৭ সালে অনিয়মিত আক্রমণ হিসাবে যা শুরু হয়েছিল তা চূড়ান্ত হয়েছিল ১৫৩৮ সালে, যখন অটোমান সুলতান প্রথম সুলায়মান ম্যাগনিসিফিসেন্ট সাফাভি রাজত্ব থেকে মসুলকে তার সাম্রাজ্যের সাথে যুক্ত করেছিলেন।[৪] এরপরে মসুল একটি পাশা দ্বারা পরিচালিত ছিল। মসুল প্রাচীর রেখার জন্য উদযাপিত হয়েছিল, এখানে সাতটি গেটের সাথে বিশাল টাওয়ার, একটি বিখ্যাত হাসপাতাল (মেরিস্তান) এবং একটি কোভার্ড মার্কেট (কায়সারিয়া) ছিল এবং এটি তার কাপড় এবং সমৃদ্ধ ব্যবসায়ের জন্যও বিখ্যাত ছিল।

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

বিংশ শতাব্দীতে মসুল ইরাকের মিশ্র জাতিগত এবং ধর্মীয় সংস্কৃতির পরিচায়ক ছিল। দজলা পশ্চিমে মসুলের কেন্দ্রস্থলের মতো শহরাঞ্চলে সুন্নি আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল; দজলা জুড়ে এবং আরও উত্তর শহরতলিতে হাজার হাজার অশূর, কুর্দি, তুর্কমেনী, শাবাকস, ইয়াজিদিস, আর্মেনীয় এবং ম্যান্ডিয়ানরা মসুলের বাকী জনসংখ্যা নিয়ে গঠিত। নগরীর পূর্ব উপকূলে শাবাকস মনোনিবেশিত এলাকা ছিল।

ধর্ম[সম্পাদনা]

মসুলের সুন্নি জনসংখ্যা রয়েছে। এই শহরে একটি প্রাচীন ইহুদি সম্প্রদায় ছিল। ইরাকের অন্য অঞ্চলের তাদের সহধর্মীদের মতো বেশিরভাগই ১৯৫০-৫১ সালে বহিষ্কৃত হয়েছিল। বেশিরভাগ ইরাকি ইহুদি ইস্রায়েলে চলে গেছে, এবং কিছু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছে। ২০০৩ সালে, ইরাক যুদ্ধের সময় আমেরিকান সেনাবাহিনীর একজন ইহুদি রাব্বি মসুলে একটি পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ উপাসনালয় পেয়েছিলেন যা ১৩শ শতাব্দীর পূর্ববর্তী বলে ধারণা করা হয়।[৫][৬]


আইএস দখলের সময়, আইএস ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ইসলামে ধর্মান্তর, জিজিয়া অর্থ প্রদান, ত্যাগ বা হত্যা করার জন্য তাদের টার্গেট করেছিল। মসুলের আইএসের আক্রমণ চলাকালীন সময়ে এক লক্ষেরও বেশি খ্রিস্টান এই শহর ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল। মসুল এবং আশেপাশের নাইনভেহ সমভূমিতে খ্রিস্টানদের অত্যাচারের ফলে খ্রিস্টীয় সম্প্রদায়কে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল যা খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দীর পর থেকে এই অঞ্চল তাদের আবাসস্থল ছিল।[৭]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

আইএস নীতি অনুসারে, এমনকি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলি শিক্ষার সম্পদের উপর একটি চাপ সৃষ্টি করে, লিঙ্গকে পৃথক করে দেওয়া হয়। এর আগে ২০১৪ সালে শহরের বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়, মোসুল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ছিল।[৮]

২০১৭ সালের ১৫ জানুয়ারী শহরের পূর্বদিকে ৩০ টি স্কুল আবার চালু হয়েছিল, ১৬,০০০ শিশুদের আবার ক্লাস শুরু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ২০১৪ সালের জুনে আইএস মসুলের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তাদের কারও কারও বিন্দুমাত্র শিক্ষা ছিল না।[৯]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Gladstone, Philip (১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪)। "Synop Information for ORBM (40608) in Mosul, Iraq"Weather Quality Reporter। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জুন ২০১৪ 
  2. "Iraqi City of Mosul Transformed a Year After Islamic State Capture"Wall Street Journal 
  3. "UNSD Demographic Statistics"United Nations Statistics Division 1987 
  4. Shaw, Stanford J.; Shaw, Ezel Kural (১৯৭৬)। History of the Ottoman Empire and Modern Turkey: Volume 1, Empire of the Gazis: The Rise and Decline of the Ottoman Empire 1280–1808। Cambridge: Cambridge University Press। পৃষ্ঠা 199। আইএসবিএন 978-0-521-29163-7 
  5. Cf. Carlos C. Huerta, Jewish heartbreak and hope in Nineveh ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০১০-১১-১৯ তারিখে.
  6. "Jewish Mosul Revisited Jewish heartbreak and hope in Nineveh, By Carlos C. Huerta ظٹظ‡ظˆط¯ ط§ظ"ظ…ظˆطµظ""। almosul.org। ১৯ নভেম্বর ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  7. Logan, Lara (২২ মার্চ ২০১৫)। "Iraq's Christians persecuted by ISIS"। CBS News। সংগ্রহের তারিখ ২০ অক্টোবর ২০১৬ 
  8. "ISIS Takeover In Iraq: Mosul University Students, Faculty Uncertain About The Future Of Higher Education"International Business Times। ৩ ডিসেম্বর ২০১৪। 
  9. "Schools are reopening in Mosul, after two years of jihadist rule"The Economist। ৩১ জানুয়ারি ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ৩১ জানুয়ারি ২০১৭