রাহাত খান
রাহাত খান | |
|---|---|
| জন্ম | ১৯ ডিসেম্বর ১৯৪০ |
| মৃত্যু | ২৮ আগস্ট ২০২০ (বয়স ৭৯) নিউ ইস্কাটন, ঢাকা |
| মাতৃশিক্ষায়তন | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় |
| পেশা | সাহিত্যিক, সাংবাদিক |
| কর্মজীবন | ১৯৬৪-২০২০ |
| পরিচিতির কারণ | দৈনিক ইত্তেফাক-এর সম্পাদক |
| পুরস্কার | পূর্ণ তালিকা |
রাহাত খান (১৯ ডিসেম্বর ১৯৪০ - ২৮ আগস্ট ২০২০)[১][২] ছিলেন বাংলাদেশের একজন কথাশিল্পী ও সাংবাদিক। ছোটগল্প ও উপন্যাস এই উভয় শাখাতেই তার অবদান উল্লেখযোগ্য। দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় তিনি ষাটের দশক থেকে কর্মরত ছিলেন। ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি দৈনিক ইত্তেফাকের সহকারী ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত হন। গোয়েন্দা সিরিজ মাসুদ রানার রাহাত খান চরিত্রটি তার অনুসরণেই তৈরি করা।[৩]
প্রারম্ভিক জীবন
[সম্পাদনা]রাহাত খান ১৯৪০ সালের ১৯ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার পূর্ব জাওয়ার গ্রামের খান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।[৪] তিনি তৃতীয় শ্রেণীতে পড়াকালীন তার প্রথম গল্পটি লিখেছিলেন। তাঁর কথায়, "একদিন আমার চোখের সামনে একটি চিল একটি ছোট্ট কচ্ছপকে ছোঁ মেরে নিয়ে যায়। ঘটনাটি আমাকে খুব চমকে দেয় এবং আমাকে অশ্রুসঞ্চিত করে। আমি জানি না কেন তবে আমি এটি নিয়ে একটি গল্প লিখেছিলাম এবং এভাবে আমার লেখার জীবন শুরু হয়েছিল।"[৫] তিনি আনন্দ মোহন কলেজ থেকে অর্থনীতি ও দর্শনে ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। [৬] শিক্ষা জীবন শেষ করে খান ময়মনসিংহ জেলার নাসিরাবাদ কলেজ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, চট্টগ্রাম সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যাপনা করেন।
কর্মজীবন
[সম্পাদনা]১৯৬৯ সালে তিনি দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় সাংবাদিকতা শুরু করেন। এর তিনি দৈনিক ইত্তেফাকে যোগ দেন। ২০০৯ সাল থেকে তিনি দৈনিক ইত্তেফাকের সহকারী ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ইত্তেফাক ছাড়ার পর ২০১৩ সালের জুলাই মাসে তার সম্পাদনায় দৈনিক বর্তমান প্রকাশিত হয়। ২০১৬ সালের মার্চ মাসে, তিনি আড়াই বছরের জন্য বাসসের বোর্ড চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছিলেন।
সাহিত্য জীবন
[সম্পাদনা]খান ছোটগল্প ও উপন্যাস- উভয় শাখাতেই অবদান রেখেছেন। ১৯৭২ সালে তার প্রথম গল্পগ্রন্থ অনিশ্চিত লোকালয় প্রকাশিত হয়। পরের বছর তাঁর ছোটগল্পের জন্য তিনি বাংলা একাডেমির সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৯৬ সালে তিনি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক একুশে পদকে ভূষিত হন।
আবহ
[সম্পাদনা]তিনি তাঁর উপন্যাসগুলিতে ঢাকা নগরের মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণির জীবন নিয়ে লিখেছেন, অন্যদিকে অমল ধবল চাকরির মতো উপন্যাসগুলিতে গ্রাম্য জীবন নিয়ে লিখেছেন।
তিনি হে মাতবঙ্গ ও হে মহাশূন্যতে একুশে ফেব্রুয়ারি এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিষয় তুলে ধরেছেন।
কর্ম
[সম্পাদনা]তার উপন্যাস ও গল্পগ্রন্থে’র মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে অমল ধবল চাকরি, ছায়াদম্পতি, শহর, হে শূন্যতা, হে অনন্তের পাখি, মধ্য মাঠের খোলোয়াড়, এক প্রিয়দর্শিনী, মন্ত্রিসভার পতন, দুই নারী, কোলাহল ইত্যাদি।[৭]
পুরস্কার
[সম্পাদনা]- বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭৩)[৮]
- সুহৃদ সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭৫)
- সুফী মোতাহার হোসেন পুরস্কার (১৯৭৯)
- আবুল মনসুর আহমদ স্মৃতি পুরস্কার (১৯৮০)
- হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কার (১৯৮২)
- ত্রয়ী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৮)
- একুশে পদক (১৯৯৬)
মৃত্যু
[সম্পাদনা]২৮ আগস্ট ২০২০ সালে নিউ ইস্কাটনের নিজ বাসায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন।[৯] তাঁকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক রাহাত খান আর নেই"। যুগান্তর। সংগ্রহের তারিখ ২৮ আগস্ট ২০২০।
- ↑ কালের কণ্ঠ, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪
- ↑ "মাসুদ রানা সিরিজ ও প্রতিটি চরিত্র আমার সৃষ্টি: কাজী আনোয়ার হোসেন"। দ্য ডেইলি স্টার। ১ জুলাই ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১ জুলাই ২০২০।
- ↑ সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক রাহাত খান আর নেই, যুগান্তর ২৮ আগস্ট ২০২০
- ↑ সুহিতা সুলতানার সাথে সাক্ষাৎকার দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকা (২ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৭)
- ↑ যুগান্তর, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪
- ↑ "আমাদের সময় ডটকম, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭"। ২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ২০২০।
- ↑ যায় যায় দিন, ৪ অক্টোবর ২০১৯
- ↑ "সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক রাহাত খান আর নেই"। প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২৮ আগস্ট ২০২০।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- ২০২০-এ মৃত্যু
- ১৯৪১-এ জন্ম
- বাঙালি ঔপন্যাসিক
- বাঙালি ছোটগল্পকার
- বাংলাদেশী সাংবাদিক
- কিশোরগঞ্জ জেলার ব্যক্তি
- ভাষা ও সাহিত্যে একুশে পদক বিজয়ী
- ছোটগল্পে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার বিজয়ী
- বাংলাদেশী পুরুষ ঔপন্যাসিক
- বাঙালি লেখক
- ১৯৪০-এ জন্ম
- একুশে পদক বিজয়ী
- বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার বিজয়ী
- আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
- নাসিরাবাদ কলেজের শিক্ষক