ভারতীয় আম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ম্যাঙ্গিফেরা ইন্ডিকা
Magnifera indica.jpg
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস e
অপরিচিত শ্রেণী (ঠিক করুন): ম্যাঙ্গিফেরা
প্রজাতি: ম. ইন্ডিকা
দ্বিপদী নাম
ম্যাঙ্গিফেরা ইন্ডিকা
কার্ল লিনিয়াস[২]
প্রতিশব্দ[২]
  • Mangifera amba Forssk.
  • Mangifera anisodora Blanco
  • Mangifera austroyunnanensis Hu
  • Mangifera balba Crevost & Lemarié
  • Mangifera cambodiana (Pierre) Anon.
  • Mangifera domestica Gaertn.
  • Mangifera equina Crevost & Lemarié
  • Mangifera gladiata Bojer
  • Mangifera kukulu Blume
  • Mangifera laxiflora Desr.
  • Mangifera linnaei Korth. ex Hassk.
  • Mangifera maritima Lechaume
  • Mangifera mekongensis (Pierre) Anon.
  • Mangifera montana B.Heyne ex Wight & Arn.
  • Mangifera oryza Crevost & Lemarié
  • Mangifera rostrata Blanco
  • Mangifera rubra Bojer
  • Mangifera sativa Roem. & Schult.
  • Mangifera siamensis Warb. ex Craib
  • Mangifera viridis Bojer

ভারতীয় আম সাধারণভাবে আম নামে পরিচিত, এটি সুমাক এবং পয়জন ইভির অ্যানাকার্ডিয়াসিয়েই পরিবারের ফুল গাছের একটি প্রজাতি। এর বৈজ্ঞানিক নাম ম্যাঙ্গিফেরা ইন্ডিকা। এটি ভারতীয় উপমহাদেশের স্থানীয় জাত এবং এর আদি উৎস এখানেই। বিশ্বের অন্যান্য উষ্ণ অঞ্চলে শত শত জাতের আম চাষ হয়। এটি একটি বৃহৎ আকারের ফল গাছ, এর উচ্চতা ও শিখরের প্রস্থ প্রায় ৩০ মিটার (১০০ ফুট) এবং গাছের গুঁড়ির পরিধি ৩.৭ মিটার (১২ ফুট) এরও বেশি হয়।[৩]

প্রজাতিটির লালন পালন ২০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ভারতে শুরু হয়েছে বলে মনে করা হয়।[৪] প্রায় ৪০০-৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে আম পূর্ব এশিয়ায় প্রথম আসে, পর্তুগিজ উপনিবেশিকরা পনেরো শতকে ফিলিপাইনে এবং ষোড়শ শতাব্দীতে আফ্রিকা ও ব্রাজিলে আম নিয়ে আসে।[৫] ১৭৫৩ সালে লিনিয়াস প্রজাতিটি সঠিকভাবে উপলব্ধ করে এবং উদ্ভিদ নামকরণ পদ্ধতিতে প্রথম নামকরণ করে।[৬] আম ভারত, পাকিস্তান এবং ফিলিপাইনের জাতীয় ফল এবং বাংলাদেশের জাতীয় গাছ[৭]

মেক্সিকোর ওক্সাকার ক্রেওল আম

রাসায়নিক উপাদান[সম্পাদনা]

ব্রাজিলীয় গ্রীষ্মমন্ডলীয় আর্দ্র অঞ্চলের আম
শ্রীলঙ্কায় আমের ফুল

ম্যাঙ্গিফেরিন (ফার্মাকোলজিক্যালি সক্রিয় হাইড্রোজাইলেট জ্যানথন সি-গ্লাইকোসাইড) আম থেকে নিষ্কাশন করা হয়, আমের কচি পাতা (১৭২ গ্রাম/কেজি), বাকল (১০৭ গ্রাম/কেজি) এবং বয়স্ক পাতা (৯৪ গ্রাম/কেজি) থেকে উচ্চ মাত্রায় পাওয়া যায়।[৮] অ্যালার্জেনিক ইউরুশিওল ফলের খোসাতে বিদ্যমান থাকে এবং এটি সংবেদনশীল ব্যক্তিদের মধ্যে কনটাক্ট ডার্মাটাইটিসকে ট্রিগার করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপকভাবে জন্মানো পয়জন ওক এবং পয়জন ইভির মতো অ্যানাকার্ডিয়াসিয়েই পরিবারের অন্যান্য উদ্ভিদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে এই প্রতিক্রিয়া বেশি দেখা যায়।[৯]

ঐতিহ্যবাহী ঔষধ[সম্পাদনা]

আয়ুর্বেদ রসায়ন সূত্রে এটি কখনো কখনো অন্যান্য হালকা টক এবং শতমূল (Asparagus racemosus) ও গুলঞ্চ (Tinospora cordifolia) এর সাথে ব্যবহার করা হয়। আম গাছের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী ঔষধে ব্যবহার করা হয়।[১০]

কাঠ[সম্পাদনা]

আম গাছটি তার কাঠের চেয়ে বরং তার ফলের জন্য বেশি পরিচিত। যাইহোক আম গাছে ফল ধরার পর তার জীবনকাল শেষ হয়ে গেলে তাকে কাঠে রূপান্তর করা যায়। কাঠ ছত্রাক এবং পোকামাকড়ের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেতে সক্ষম।[১১] কাঠ ইউকুলেলের মতো বাদ্যযন্ত্র,[১১] পাতলা পাতলা কাঠ এবং স্বল্প মূল্যের আসবাবের জন্য ব্যবহৃত হয়।[১২] কাঠ ফেনোলিক পদার্থ উৎপাদন করার জন্য পরিচিত যা কনটাক্ট ডার্কটাইটিস এর কারণ হতে পারে।[১৩]

গ্যালারী[সম্পাদনা]

আমের প্রকারভেদ (জাত)[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. World Conservation Monitoring Centre (১৯৯৮)। "Mangifera indica"বিপদগ্রস্ত প্রজাতির আইইউসিএন লাল তালিকা (ইংরেজি ভাষায়)। আইইউসিএন1998: e.T31389A9624842। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুলাই ২০২০ 
  2. "Mangifera"Plants of the World OnlineRoyal Botanic Gardens, Kew। সংগ্রহের তারিখ ৮ মে ২০২০ 
  3. "USDA Plant guide, Mangifera indica L." (PDF) 
  4. Sauer, Jonathan D. (১৯৯৩)। Historical geography of crop plants : a select roster। Boca Raton u.a.: CRC Press। পৃষ্ঠা 17। আইএসবিএন 0849389011 
  5. Gepts, P. (n.d.)। "PLB143: Crop of the Day: Mango, Mangifera indica"The evolution of crop plants। Dept. of Plant Sciences, Sect. of Crop & Ecosystem Sciences, University of California, Davis। ডিসেম্বর ৬, ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ অক্টোবর ৮, ২০০৯ 
  6. "Mangifera indica"জার্মপ্লাজম রিসোর্স ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক (জিআরআইএন)কৃষি গবেষণা পরিসেবা (এআরএস), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ)। সংগ্রহের তারিখ অক্টোবর ৮, ২০০৯ 
  7. "Mango tree, national tree"। ১৫ নভেম্বর ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ১৬ নভেম্বর ২০১৩ 
  8. Barreto J.C.; Trevisan M.T.S.; Hull W.E.; Erben G.; De Brito E.S.; Pfundstein B.; Würtele G.; Spiegelhalder B.; Owen R.W. (২০০৮)। "Characterization and quantitation of polyphenolic compounds in bark, kernel, leaves, and peel of mango (Mangifera indica L.)"। Journal of Agricultural and Food Chemistry56 (14): 5599–5610। ডিওআই:10.1021/jf800738rপিএমআইডি 18558692 
  9. Urushiol CASRN: 53237-59-5 TOXNET (Toxicology Data Network) NLM (NIH). Retrieved 22 January 2014.
  10. Shah, K. A.; Patel, M. B.; Patel, R. J.; Parmar, P. K. (২০১০)। "Mangifera Indica (Mango)"Pharmacognosy Reviews4 (7): 42–48। ডিওআই:10.4103/0973-7847.65325পিএমআইডি 22228940পিএমসি 3249901অবাধে প্রবেশযোগ্য 
  11. "Mango"The Wood Database। সংগ্রহের তারিখ ৩০ আগস্ট ২০১৪ 
  12. "Economic importance of Mangifera indica"Green Clean Guide। ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩০ আগস্ট ২০১৪ 
  13. Tu, series editor, Anthony T. (১৯৮৩)। Handbook of natural toxins। New York: Dekker। পৃষ্ঠা 425। আইএসবিএন 0824718933 

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]