জাতীয় গ্রন্থাগার (ভারত)
ভারতের জাতীয় গ্রন্থাগারের সম্মুখভাগ | |
| দেশ | ভারত |
|---|---|
| ধরন | জাতীয় গ্রন্থাগার |
| প্রতিষ্ঠিত | ১৮৩৬ (কলকাতা পাবলিক লাইব্রেরি হিসেবে) ৩০ জানুয়ারি ১৯০৩ (ম্পেরিয়াল লাইব্রেরি হিসেবে) ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৩ (ভারতের জাতীয় গ্রন্থাগার হিসেবে) |
| অবস্থান | বেলভেডিয়ার এস্টেট, আলিপুর, কলকাতা |
| স্থানাঙ্ক | ২২°৩২′০০″ উত্তর ৮৮°২০′০০″ পূর্ব / ২২.৫৩৩২০৬° উত্তর ৮৮.৩৩৩৩১৮° পূর্ব |
| সংগ্রহ | |
| সংগৃহীত আইটেম | বই , জার্নাল , সংবাদপত্র , ম্যাগাজিন , শব্দ ও সঙ্গীত রেকর্ডিং , পেটেন্ট , ডাটাবেস , মানচিত্র , স্ট্যাম্প , প্রিন্ট , অঙ্কন এবং পাণ্ডুলিপি |
| আকার | ২.৫ মিলিয়ন |
| অন্যান্য তথ্য | |
| বাজেট | ₹ ৭৪ কোটি (ইউএস$ ৯.০৫ মিলিয়ন)[১] |
| পরিচালক | অজয় প্রতাপ সিং[২] |
| মূল সংগঠন | ভারত সরকার |
| অধিভুক্তি | সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় |
| ওয়েবসাইট | nationallibrary.gov.in |
| মানচিত্র | |
![]() | |
ভারতের জাতীয় গ্রন্থাগার হলো ভারতের কলকাতা শহরের আলিপুরের বেলভেডিয়ার এস্টেটে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাগার।[৩] আয়তন ও পাবলিক রেকর্ডের বিচারে এটি ভারতের বৃহত্তম গ্রন্থাগার হিসেবে পরিচিত[৪][৫][৬]। জাতীয় গ্রন্থাগারটি ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের অধীনে পরিচালিত হয়। এই গ্রন্থাগার ভারতের অভ্যন্তরে উৎপাদিত সকল মুদ্রিত সামগ্রী সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রচারের জন্য মনোনীত। বর্তমানে এতে ২৫ লক্ষেরও বেশি বই ও নথিপত্রের বিশাল সংগ্রহ রয়েছে, যা একে দেশের সর্ববৃহৎ গ্রন্থাগারে পরিণত করেছে।[৭]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]ক্যালকাটা পাবলিক লাইব্রেরি
[সম্পাদনা]১৮৩৬ সালে ক্যালকাটা পাবলিক লাইব্রেরি নামে প্রথম এই গ্রন্থাগারটি প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই সময় এটি ছিল একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর ছিলেন এই লাইব্রেরির প্রথম মালিক। ভারতের তদনীন্তন গভর্নর-জেনারেল লর্ড মেটকাফ ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ লাইব্রেরির ৪,৬৭৫টি বই এই গ্রন্থাগারে দান করেছিলেন। এই দানের ফলেই গ্রন্থাগারের গোড়াপত্তন সম্ভব হয়েছিল। এই সময় বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষার বইই এই গ্রন্থাগারের জন্য ক্রয় করা হত। কলকাতার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা গ্রন্থাগারকে অর্থসাহায্য করতেন; সরকারের কাছ থেকেও অনুদান পাওয়া যেত। এই সময় এই গ্রন্থাগারে বহু দেশি ও বিদেশি দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থ সংগৃহীত হয়, যা আজও রক্ষিত আছে। ক্যালকাটা পাবলিক লাইব্রেরিই ছিল শহরের প্রথম নাগরিক পাঠাগার।[৮]
ইম্পিরিয়াল লাইব্রেরি
[সম্পাদনা]
১৮৯১ সালে কলকাতার একাধিক সচিবালয় গ্রন্থাগারকে একত্রিত করে গঠিত হয় ইম্পিরিয়াল লাইব্রেরি। এই গ্রন্থাগারের সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল গৃহ মন্ত্রকের গ্রন্থাগার। এই অংশে[৮]
ক্যালকাটা পাবলিক লাইব্রেরি ও ইম্পিরিয়াল লাইব্রেরির সংযুক্তিকরণ
[সম্পাদনা]১৯০৩ সালের ৩০ জানুয়ারি লর্ড কার্জনের প্রচেষ্টায় ক্যালকাটা পাবলিক লাইব্রেরি ও ইম্পিরিয়াল লাইব্রেরিকে সংযুক্ত করে জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হয়। সংযুক্ত লাইব্রেরিটি ইম্পিরিয়াল লাইব্রেরি নামেই পরিচিত হয়। এই সময় গ্রন্থাগারটি উঠে আসে আলিপুরের বেলভেডিয়ার রোডস্থ মেটকাফ হলের বর্তমান ঠিকানায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় লাইব্রেরিটি এসপ্ল্যানেডের জবাকুসুম হাউসে স্থানান্তরিত হয়েছিল।[৮]
জাতীয় গ্রন্থাগার
[সম্পাদনা]স্বাধীনতার পর ইম্পিরিয়াল লাইব্রেরি আবার মেটকাফ হলে উঠে আসে। এই সময় লাইব্রেরির নতুন নামকরণ হয় জাতীয় গ্রন্থাগার বা ন্যাশানাল লাইব্রেরি। ১৯৫৩ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী মৌলানা আবুল কালাম আজাদ[৯] জাতীয় গ্রন্থাগারকে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেন।[৮][১০]
গ্রন্থাগারটিতে প্রায় সকল ভারতীয় ভাষার বই, সাময়িকী ও বিভিন্ন শিরোনামের প্রকাশনা সংগ্রহ করা হয়। ভারতের জাতীয় গ্রন্থাগারের বিশেষ সংগ্রহে অন্তত পনেরোটি ভাষার মূল্যবান উপাদান সংরক্ষিত রয়েছে[১১]। হিন্দি বিভাগে ঊনবিংশ শতাব্দীর বই এবং ওই ভাষায় প্রথমবার মুদ্রিত গ্রন্থসমূহ অন্তর্ভুক্ত আছে। সমগ্র সংগ্রহটি বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত, যেখানে প্রায় ৮৬,০০০টি মানচিত্র এবং ৩,২০০টি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত রয়েছে।[১২]
লুকানো কক্ষ আবিষ্কার
[সম্পাদনা]২০১০ সালে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় যা গ্রন্থাগাটির দেখাশোনার দায়িত্বপ্রাপ্ত, ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ (ASI)-এর মাধ্যমে গ্রন্থাগার ভবনটি পুনরুদ্ধারের সিদ্ধান্ত নেয়। ভবন পরিদর্শনের সময় সংরক্ষণ প্রকৌশলীরা আগে অজানা একটি কক্ষের সন্ধান পান। প্রায় ১০০০ বর্গফুট আয়তনের এই গোপন নিচতলার কক্ষটিতে বাইরে যাওয়ার কোনো দৃশ্যমান পথ বা খোলা অংশ নেই বলে ধারণা করা হয়।[১৩]
ASI-এর প্রত্নতাত্ত্বিকরা প্রথম তলার অংশে—যা ওই কক্ষের ছাদ—একটি ফাঁদের দরজা খুঁজে দেখেন, কিন্তু কোনো চিহ্ন পাননি। ভবনটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় প্রাচীর ভেঙে প্রবেশের পরিবর্তে বিষয়টি নিয়ে সতর্ক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ কক্ষটি ওয়ারেন হেস্টিংস ও অন্যান্য ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের[১৪] ব্যবহৃত শাস্তি কক্ষ ছিল, নাকি ধন সঞ্চয়ের স্থান—এ নিয়ে নানা জল্পনা চলতে থাকে।[১৫]
২০১১ সালে গবেষকেরা জানান, কক্ষটি সম্পূর্ণভাবে কাদা দিয়ে ভরা ছিল। তাঁদের ধারণা, ভবনের কাঠামোকে স্থিতিশীল রাখার উদ্দেশ্যেই সম্ভবত ইচ্ছাকৃতভাবে কাদা দিয়ে কক্ষটি ভরাট করা হয়েছিল[১৬]।
পরিদর্শন
[সম্পাদনা]জাতীয় গ্রন্থাগারটি আলিপুরের বেলভেদের রোডে অবস্থিত। এটি সকল কর্মদিবসে সকাল ৮.০০টা থেকে রাত ৮.০০টা পর্যন্ত খোলা থাকে। শনি, রবিবার এবং ভারত সরকারের ছুটির দিনে গ্রন্থাগারটি সকাল ৯.৩০টা থেকে সন্ধ্যা ৬.০০টা পর্যন্ত পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত থাকে।[১৭]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "India Ministry of Culture Budget: National Library" (পিডিএফ)।
- ↑ Das, Soumya (১৬ জুলাই ২০১৬)। "National Library in Kolkata facing acute staff shortage"। The Hindu।
- ↑ "Useful Information"। National Library।
- ↑ "Largest Library in India – National Library Kolkata"। thecolorsofindia.com।
- ↑ "Progress To Be Made in National Library, Kolkata"। ১৬ ডিসেম্বর ২০১১। ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ এপ্রিল ২০১৪।
- ↑ "Digitization of Manuscripts of the National Library of India, CDNLAO Newsletter 47"। ৭ এপ্রিল ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ এপ্রিল ২০১৪।
- ↑ "Largest Library in India – National Library Kolkata"। thecolorsofindia.com।
- 1 2 3 4 জাতীয় গ্রন্থাগারের ওয়েবসাইট[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ], জাতীয় গ্রন্থাগারের ইতিহাস
- ↑ "National Library of India Act, 1976" (পিডিএফ)। India Code। সংগ্রহের তারিখ ৪ জানুয়ারি ২০২৪।
- ↑ "National Library of India Act, 1976" (পিডিএফ)। India Code। সংগ্রহের তারিখ ৪ জানুয়ারি ২০২৪।
- ↑ Murray, Stuart (২০০৯)। The Library an Illustrated History। Chicago: ALA Editions। পৃ. ২৮৩। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৬০২-৩৯৭০৬-৪।
- ↑ Murray, Stuart (২০০৯)। The Library an Illustrated History। Chicago: ALA Editions। পৃ. ২৮৩। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৬০২-৩৯৭০৬-৪।
- ↑ Jhimli Mukherjee Pandey (২২ নভেম্বর ২০১০)। "Secret chamber in National Library"। The Times of India। সংগ্রহের তারিখ ২০ নভেম্বর ২০১০।
- ↑ "Haunted Library of Kolkata: রাত বাড়লে অন্দরমহলে দাঁড়াতেও ভয় পান প্রহরীরা! লাইব্রেরীর অন্দর থেকে যেন আজও ভেসে আসে গর্ভনরের স্ত্রী কান্না"। The Bengali Chronicle। ১৭ জুন ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ১০ আগস্ট ২০২২।
- ↑ Jhimli Mukherjee Pandey (২২ নভেম্বর ২০১০)। "Secret chamber in National Library"। The Times of India। সংগ্রহের তারিখ ২০ নভেম্বর ২০১০।
- ↑ Debaleena Sengupta (২২ মে ২০১১)। "Room With No View"। Business Standard। সংগ্রহের তারিখ ২২ মে ২০১১।
- ↑ "Useful Information"। National Library।
- কলকাতা: এক পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস, অতুল সুর, জেনারেল প্রিন্টার অ্যান্ড পাবলিশার্স প্রাঃ লিঃ, কলকাতা, ১৯৮১, পৃ. ২৮৯-২৯১







