কলকাতা উচ্চ আদালত
| কলকাতা উচ্চ আদালত | |
|---|---|
| কলকাতা হাইকোর্ট | |
কলকাতা উচ্চ আদালত | |
![]() | |
| ২২°৩৩′৩৯″ উত্তর ৮৮°২১′০৯″ পূর্ব / ২২.৫৬০৭৭৭° উত্তর ৮৮.৩৫২৪৫৮° পূর্ব | |
| প্রতিষ্ঠাকাল | ১ জুলাই ১৮৬২ |
| অবস্থান | ৩, এসপ্ল্যানেড রো (ওয়েস্ট), বিনয়-বাদল-দীনেশ বাগ, কলকাতা ৭০০০০১, ভারত |
| স্থানাঙ্ক | ২২°৩৩′৩৯″ উত্তর ৮৮°২১′০৯″ পূর্ব / ২২.৫৬০৭৭৭° উত্তর ৮৮.৩৫২৪৫৮° পূর্ব |
| প্রণয়ন পদ্ধতি | রাষ্ট্রপতি দ্বারা নিয়োগ |
| অনুমোদনকর্তা | ভারতের সংবিধান |
| এতে আপিল করে | ভারতের সর্বোচ্চ ন্যায়ালয় |
| বিচারকের মেয়াদ | ৬২ বছর বয়স পর্যন্ত |
| পদের সংখ্যা | ৩২ |
| ওয়েবসাইট | calcuttahighcourt.nic.in |
| প্রধান বিচারপতি | |
| বর্তমানে | সুজয় পল (ভারপ্রাপ্ত) |
| হইতে | ৮ অক্টোবর ২০২৫ থেকে |

কলকাতা উচ্চ আদালত বা কলকাতা হাইকোর্ট (ইংরেজি: Calcutta High Court) ভারতের প্রাচীনতম হাইকোর্ট। ১৮৬১ সালের হাইকোর্ট আইন বলে ১৮৬২ সালের ১ জুলাই কলকাতা হাইকোর্ট স্থাপিত হয়। সেই সময় এই হাইকোর্টের নাম ছিল হাই কোর্ট অফ জুডিকেচার অ্যাট ফোর্ট উইলিয়াম। বর্তমানে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ কলকাতা হাইকোর্টের অধিকারক্ষেত্রের অন্তর্গত। আন্দামান ও নিকোবরের রাজধানী পোর্ট ব্লেয়ারে কলকাতা হাইকোর্টের একটি সার্কিট বেঞ্চ আছে। কলকাতা শহরের সাম্মানিক নাগরিক শেরিফের ঐতিহ্যবাহী দপ্তরটি এই আদালতের ভেতরে অবস্থিত।
স্থাপত্যশৈলী
[সম্পাদনা]হাইকোর্ট ভবনটি ইউরোপীয় গঠনশৈলীর গথিক স্থাপত্যবিশিষ্ট বেলজিয়ামের ইপ্রেস ক্লথ হলের আদলে নির্মিত। উল্লেখ্য, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ক্লথ হল ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটি পুনর্নির্মাণের জন্য ওই শহরের মেয়র কলকাতা থেকে এক সেট প্ল্যান চেয়ে পাঠিয়েছিলেন।[১] ১৮৬৪ সালের মার্চ মাসে ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। নির্মাণকার্য শেষ হতে সময় লেগেছিল আট বছর। এই ভবনে একটি ১৮০ ফুট উঁচু টাওয়ার আছে। হাইকোর্ট ভবনের নকশাটি বেশ জটিল। এই প্রসঙ্গে রথীন মিত্র লিখেছেন:[১]
একটা চতুষ্কোণীর চারধারে অবস্থিত একটি আয়তাকার স্থাপত্য। ভেতরে অনেকগুলি বিচার কক্ষ, অন্যান্য ঘর। ছাদের সঙ্গে লোহার একটি সুন্দর গম্বুজ আছে, যা ভেতরের গরম হাওয়া টেনে বের করে নিয়ে বাহিরে পাঠিয়ে দিতে পারে। বাড়ির ভেতরের বাতাস হয়ে যায় নির্মল ঠান্ডা। চারিদিকে সুন্দর বাগান, ফোয়ারা।
পরবর্তী পর্যায়ে স্থান সঙ্কুলান না হওয়ায় ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে উত্তর দিকে নতুন করে এর সংলগ্ন আরও একটি ভবন নির্মাণ করা হয় এবং পরবর্তী ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে দক্ষিণ দিকে হাইকোর্ট ভবনের বর্তমান স্থাপত্যের সঙ্গে সমতা রেখে আর একটি নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। চতুর্ভুজাকার এই হাইকোর্ট ভবন দৈর্ঘ্যে ৪২০ ফুট এবং প্রস্থে ৩০০ ফুট।
বিচারপতিগণ
[সম্পাদনা]১৮৬২ সালে স্যার বার্নেস পিকক কলকাতা হাইকোর্টের প্রথম প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত হন। হাইকোর্টের প্রথম ভারতীয় বিচারক ছিলেন শম্ভুনাথ পণ্ডিত। হাইকোর্টের প্রথম ভারতীয় প্রধান বিচারপতি ছিলেন রমেশ চন্দ্র মিত্র এবং প্রথম পূর্ণ মেয়াদের ভারতীয় প্রধান বিচারপতি ছিলেন ফণিভূষণ চক্রবর্তী। হাইকোর্টের দীর্ঘতম মেয়াদের প্রধান বিচারপতি ছিলেন শংকরপ্রসাদ মিত্র। কলকাতা হাইকোর্টের বর্তমান প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব।[২][৩]
প্রধান বিচারপতি্গণের তালিকা
[সম্পাদনা]| # | প্রধান বিচারপতি | সময়কাল |
|---|---|---|
| ১ | স্যার বার্নেস পিকক | ১৮৬২–১৮৭০ |
| ২ | রিচার্ড কাউচ | ১৮৭০–১৮৭৫ |
| ৩ | রিচার্ড গার্থ | ১৮৭৫–১৮৮৬ |
| — | স্যার রমেশ চন্দ্র মিত্র (ভারপ্রাপ্ত) | ১৮৮৬[৪] |
| ৪ | স্যার উইলিয়াম কমর পেথিরেম | ১৮৮৬–১৮৯৬ |
| ৫ | স্যার ফ্রান্সিস উইলিয়াম ম্যাকলিন | ১৮৯৬–১৯০৯ |
| — | স্যার চন্দ্র মাধব ঘোষ (ভারপ্রাপ্ত) | ১৯০৬[৪] |
| ৬ | স্যার লরেন্স হিউজ জেনকিন্স | ১৯০৯–১৯১৫ |
| ৭ | স্যার তারাকিশোর চৌধুরী | ১৯১৫–১৯১৫ |
| — | স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় (ভারপ্রাপ্ত) | ১৯২০, ১৯২৩[৪] |
| ৮ | স্যার ল্যান্সলট স্যান্ডারসন | ১৯১৫–১৯২৬ |
| ৯ | স্যার জর্জ ক্লজ র্যাঙ্কিন | ১৯২৬–১৯৩৪ |
| ১০ | স্যার হ্যারল্ড ডার্বিশায়ার | ১৯৩৪–১৯৪৬ |
| ১১ | স্যার Arthur Trevor Harries | ১৯৪৬–১৯৫২ |
| স্বাধীনোত্তর সময়কাল | ||
| ১ | ফণিভূষণ চক্রবর্তী | ১৯৫২–১৯৫৮ |
| ২ | কুলদাচরণ দাশগুপ্ত | ১৯৫৮–১৯৫৯ |
| ৩ | সুরজিৎচন্দ্র লাহিড়ী | ১৯৫৯–১৯৬১ |
| ৪ | হিমাংশু কুমার বোস | ১৯৬১–১৯৬৬ |
| ৫ | দীপ নারায়ণ সিনহা | ১৯৬৬–১৯৭০ |
| ৬ | প্রশান্তবিহারী মুখোপাধ্যায় | ১৯৭০–১৯৭২ |
| ৭ | শঙ্কর প্রসাদ মিত্র | ১৯৭২–১৯৭৯ |
| ৮ | অমরেন্দ্র নাথ সেন | ১৯৭৯–১৯৮১ |
| ৯ | শম্ভু চন্দ্র ঘোষ | ১৯৮১–১৯৮৩ |
| ১০ | সমরেন্দ্র চন্দ্র দেব | জানুয়ারি ১৯৮৩ – ফেব্রুয়ারি ১৯৮৩ |
| ১১ | সতীশ চন্দ্র | ১৯৮৩–১৯৮৬ |
| ১২ | অনিল কুমার সেন | সেপ্টেম্বর ১৯৮৬ – অক্টোবর ১৯৮৬ |
| ১৩ | শ্রী চিত্ততোষ মুখার্জী | ১ নভেম্বর ১৯৮৬ – ১ নভেম্বর ১৯৮৭ |
| ১৪ | শ্রী Debi Singh Tewatia | ১ নভেম্বর ১৯৮৭ – ১৯৮৮ |
| ১৫ | শ্রী Prabodh Dinkarrao Desai | ১৯৮৮–১৯৯১ |
| ১৬ | শ্রী Nagendra Prasad Singh | ৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৯২ – ১৪ জুন ১৯৯২ |
| ১৭ | শ্রী Anandamoy Bhattacharjee | ১৯৯২–১৯৯৪ |
| ১৮ | শ্রী Krishna Chandra Agarwal | ১৯৯৪–১৯৯৬ |
| ১৯ | V. N. Khare | ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ – ২০ মার্চ ১৯৯৭ |
| ২০ | শ্রী Prabha Shankar Mishra | ১৯৯৭–১৯৯৮ |
| ২১ | শ্রী অশোক কুমার মাথুর | ২২ ডিসেম্বর ১৯৯৯ – ৬ জুন ২০০৪ |
| ২২ | শ্রী V. S. Sirpurkar | ২০ মার্চ ২০০৫ – ১১ জানুয়ারি ২০০৭ |
| ২৩ | শ্রী Surinder Singh Nijjar | ৮ মার্চ ২০০৭ – ১৬ নভেম্বর ২০০৯ |
| ২৪ | শ্রী Mohit Shantilal Shah | ২৪ ডিসেম্বর ২০০৯ – ২৫ জুন ২০১০ |
| ২৫ | শ্রী Jai Narayan Patel | ২০১০ – ৪ অক্টোবর ২০১২ |
| - | শ্রী Kalyan Jyoti Sengupta (ভারপ্রাপ্ত) | ৫ অক্টোবর ২০১২ – ৩০ অক্টোবর ২০১২ |
| ২৬ | শ্রী অরুন কুমার মিশ্র | ১৪ ডিসেম্বর ২০১২ – ৬ জুলাই ২০১৪ |
| ২৭ | শ্রী মঞ্জুলা চেল্লুর | ৫ আগস্ট ২০১৪ – ২১ আগস্ট ২০১৬ |
| - | শ্রী গিরীশ চন্দ্র গুপ্ত (ভারপ্রাপ্ত) | ২২ আগস্ট ২০১৬ – ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ |
| ২৮ | শ্রী গিরীশ চন্দ্র গুপ্ত | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ – ৩০ নভেম্বর ২০১৬ |
| - | শ্রী নিশিতা নির্মল মাহাত্রে (ভারপ্রাপ্ত) | ১ ডিসেম্বর ২০১৬ – ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ |
| - | শ্রী রাকেশ তেওয়ারী (ভারপ্রাপ্ত) | ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ – ২৪ অক্টোবর ২০১৭ |
| - | শ্রী জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) | ২৫ অক্টোবর ২০১৭ – ৩০ এপ্রিল ২০১৮ |
| ২৯ | জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য | ১ মে ২০১৮ – ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ |
| - | শ্রী দেবাশিষ করগুপ্ত (ভারপ্রাপ্ত) | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ – ২৯ অক্টোবর ২০১৮ |
| ৩০ | শ্রী দেবাশিষ করগুপ্ত | ৩০ অক্টোবর ২০১৮ – ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ |
| - | শ্রী বিশ্বনাথ সমাদ্দার (ভারপ্রাপ্ত) | ১ জানুয়ারি ২০১৯ — ৩ এপ্রিল ২০১৯ |
| ৩১ | শ্রী Thottathil B. Radhakrishnan | ৪ এপ্রিল ২০১৯ — ২৮শে এপ্রিল ২০২১ |
| রাজেশ বিন্দাল | ২৯শে এপ্রিল ২০২১- বর্তমান | |
পাদটীকা
[সম্পাদনা]- 1 2 কলকাতা: একাল ও সেকাল, রথীন মিত্র, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাঃ লিঃ, কলকাতা, ১৯৯১, পৃ. ৪১
- ↑ "দেশের ৪ প্রধান হাইকোর্টের শীর্ষে মহিলা"। The Times of India। ২৫ ডিসেম্বর ২০০৯। ১১ এপ্রিল ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ডিসেম্বর ২০০৯।
- ↑ "বৃহস্পতিবার শপথ কলকাতা হাইকোর্টের নয়া প্রধান বিচারপতির"। Eisamay। ২ অক্টোবর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ এপ্রিল ২০২০।
- 1 2 3 "Supreme Court of Bangladesh"। www.supremecourt.gov.bd। সংগ্রহের তারিখ ১৫ আগস্ট ২০২৫।






