মাদার টেরিজা সরণি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
রাতের পার্ক স্ট্রিট

মাদার টেরিজা সরণি (পূর্বনাম পার্ক স্ট্রিট) পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা মহানগরীর অন্যতম প্রধান রাস্তা। জওহরলাল নেহেরু রোডপার্কসার্কাস-মল্লিকবাজার অঞ্চলের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত পার্ক স্ট্রিট বহুকাল ধরেই কলকাতার অন্যতম দ্রষ্টব্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

মাদার টেরিজা সরণি প্রথমদিকে বেরিং গ্রাউন্ড রোড নামে পরিচিত ছিল। কারণ, এই রাস্তা দিয়ে সাহেবদের শবাধার কবরখানায় নিয়ে যাওয়া হত।[১] পরবর্তীকালে এই অঞ্চলে অবস্থিত কলকাতাস্থ সুপ্রিম কোর্টের চিফ জাস্টিস স্যার এলিজা ইম্পের ডিয়ার পার্ক সহ বাগানবাড়িটির জন্য রাস্তাটি পার্ক স্ট্রিট নামে পরিচিত হয়। সাম্প্রতিককালে কলকাতা পৌরসংস্থা মাদার টেরিজার নামানুসারে রাস্তাটির নামকরণ করে মাদার টেরিজা সরণি। যদিও পুরনো পার্ক স্ট্রিট নামটি আজও বহুল প্রচলিত।

একাধিক অভিজাত পাব ও রেস্তোরাঁ থাকার জন্য পার্ক স্ট্রিট অঞ্চলটি কলকাতার ভোজনরসিকদের কাছে বিশেষ প্রিয়। এই অঞ্চলের বিশিষ্ট পাব ও রেস্তোরাঁগুলির মধ্যে ট্রিঙ্কা’জ, মোক্যাম্বো, ম্যাকডোন্যাল্ডস, কেএফসি, পিটার ক্যাট, ফ্লারি’জ, বার বি কিউ, অয়েসিস, অলিম্পিয়া, মল্যাঁ রুজ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া রয়েছে ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত রেস্তোরাঁ সৌরভ’স – দ্য ফুড প্যাভিলিয়ন। এছাড়া রয়েছে বিলাসবহুল হোটেল পার্ক হোটেল, কলকাতা। এই হোটেলটি এর তন্ত্র নামক ইন-হাউস পাবটির জন্য বিখ্যাত। আর আছে অ্যাট্রিয়াম ও বারিস্তার মতো কয়েকটি কফিশপ। কলকাতার নৈশজীবন পার্ক স্ট্রিটের নৈশক্লাব, পাব ও কফিশপগুলিকে ঘিরে উদযাপিত হয়। সেই কারণে পার্ক স্ট্রিটকে প্রায়শই খাদ্য সরণি (ফুড স্ট্রিট) বা চিরবিনিদ্র সরণি (দ্য স্ট্রিট দ্যাট নেভার স্লিপস) নামে অভিহিত করা হয়।

রেস্তোরাঁ, পাব ও কফিশপ ছাড়াও মাদার টেরিজা সরণিতে কলকাতার কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী ভবন ও প্রতিষ্ঠান অবস্থিত। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য এশিয়াটিক সোসাইটি, সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ, কলকাতা, সেভেন্থ ডে অ্যাডভেন্টিস্ট চার্চসাউথ পার্ক স্ট্রিট সেমিট্রি। ব্রিটিশ আমল থেকেই কলকাতার বিলাসকেন্দ্র হিসেবে পার্ক স্ট্রিট সুপরিচিত। আজও পার্ক স্ট্রিট দর্শন ব্যতীত কলকাতা ভ্রমণ অসম্পূর্ণ বলে মনে করা হয়।

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. কলকাতা: চার্নক থেকে সি.এম.ডি.এ. পর্যন্ত এক পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস, অতুল সুর, জেনারেল প্রিন্টার্স অ্যান্ড পাবলিশার্স প্রাঃ লিঃ, কলকাতা, ১৯৮১, পৃষ্ঠা ২৬৯

আরও দেখুন[সম্পাদনা]