বাংলার বিশ্ব ঐতিহ্য

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

বাংলার বিশ্ব ঐতিহ্য বা বাঙালীর বিশ্ব ঐতিহ্য বা বাংলা অঞ্চলের বিশ্ব ঐতিহ্য বলতে মূলত বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অর্থাৎ সমগ্র বাংলা অঞ্চলের যেসকল স্থাপত্য-স্থাপনা, এলাকা ও সংস্কৃতি জাতিসংঘের সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো কতৃক বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে সীকৃত সেসবকে বোঝায়। বর্তমানে বাংলা অঞ্চলে মোট ৬টি বিশ্ব ঐতিহ্য রয়েছে, যার মধ্যে ২টি স্থাপত্যভিত্তিক,২টি এলাকাভিত্তিক ও ২টি সংস্কৃতিভিত্তিক বিশ্ব ঐতিহ্য। বর্তমানে বাংলা অঞ্চলের ৬টি বিশ্ব ঐতিহ্যের মধ্যে ৪টি বাংলাদেশে ও ৩টি পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে, তবে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহীস্থান বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন, বাংলাদেশপশ্চিমবঙ্গ উভয় অঞ্চলেই অবস্থিত। বাংলাদেশের পাহাড়পুরের বৌদ্ধবিহার এবং বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদ - এ দুটি ঐতিহাসিক স্থান স্থাপত্যের ভিত্তিতে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের অন্তর্ভুক্ত। আর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের ঢাকায় পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত মঙ্গল শোভাযাত্রা। এছাড়া মহাস্থানগড়, লালমাই-ময়নামতি, লালবাগ কেল্লা, হলুদ বিহার এবং জগদ্দল বিহার - এই পাঁচটি স্থানকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে (২০২২ পর্যন্ত)। তদুপরি সুন্দরবনকে প্রাকৃতিক (এলাকাভিত্তিক) বিশ্ব ঐতিহ্য হিসাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ৩টি ইউনেস্কো সীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্য রয়েছে, যার মধ্যে দুটোই এলাকাভিত্তিক বা প্রাকৃতিক এবং ১ টি সংস্কৃতিভিত্তিক। সুন্দরবন বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ উভয় অঞ্চলেই অবস্থিত।সুন্দরবনকে বাদ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বাকি ২টি বিশ্ব ঐতিহ্য হলো দার্জিলিং হিমালয়ান রেলকলকাতার দুর্গাপূজা

স্থাপনাভিত্তিক বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী[সম্পাদনা]

বাংলা অঞ্চলে মোট ২টি স্থাপনাভিত্তিক ইউনেস্কো সীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান রয়েছে।এগুলোর সবগুলোই বাংলাদেশে রয়েছে।এগুলো হলো: ষাট গম্বুজ মসজিদ এবং পাহাড়পুরের সোমপুর মহাবিহার

ষাট গম্বুজ মসজিদ[সম্পাদনা]

ষাট গম্বুজ মসজিদ

বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি প্রাচীন মসজিদ। মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। তাই এটি কে নির্মাণ করেছিলেন বা কোন সময়ে নির্মাণ করা হয়েছিল সে সম্বন্ধে সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। তবে মসজিদটির স্থাপত্যশৈলী দেখলে এটি যে খান জাহান আলী নির্মাণ করেছিলেন সে সম্বন্ধে কোনো সন্দেহ থাকে না। ধারণা করা হয় তিনি ১৫শ শতাব্দীতে এটি নির্মাণ করেন। এ মসজিদটি বহু বছর ধরে ও বহু অর্থ খরচ করে নির্মাণ করা হয়েছিল। পাথরগুলো আনা হয়েছিল রাজমহল থেকে। এটি বাংলাদেশের তিনটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের একটির মধ্যে অবস্থিত; বাগেরহাট শহরটিকেই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দে ইউনেস্কো এই সম্মান প্রদান করে।[১]

মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে বাইরের দিকে প্রায় ১৬০ ফুট ও ভিতরের দিকে প্রায় ১৪৩ ফুট লম্বা এবং পূর্ব-পশ্চিমে বাইরের দিকে প্রায় ১০৪ ফুট ও ভিতরের দিকে প্রায় ৮৮ ফুট চওড়া। দেয়ালগুলো প্রায় ৮·৫ ফুট পুরু। ষাট গম্বুজ মসজিদে গম্বুজের সংখ্যা মোট ৮১ টি, সাত লাইনে ১১ টি করে ৭৭ টি এবং চার কোনায় ৪ টি মোট ৮১ টি। কালের বিবর্তনে লোকমুখে ৬০ গম্বুজ বলতে বলতে ষাট গম্বুজ নামকরণ হয়ে যায়, সেই থেকে ষাট গম্বুজ নামে পরিচিত।

পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার[সম্পাদনা]

সোমপুর মহাবিহার

বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহারপালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপাল দেব (৭৮১-৮২১) অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করছিলেন। ১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দে স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম এই বিশাল স্থাপনা আবিষ্কার করেন।

ইউনেস্কোর মতে পাহাড়পুর বিহার বা সোমপুর বৌদ্ধ বিহার দক্ষিণ হিমালয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৌদ্ধ বিহার। আয়তনে এর সাথে ভারতের নালন্দা মহাবিহারের তুলনা হতে পারে। এটি ৩০০ বছর ধরে বৌদ্ধদের অতি বিখ্যাত ধর্ম শিক্ষাদান কেন্দ্র ছিল। শুধু উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকেই নয়, বরং চীন, তিব্বত, মায়ানমার (তদানীন্তন ব্রহ্মদেশ), মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশের বৌদ্ধরা এখানে ধর্মজ্ঞান অর্জন করতে আসতেন। খ্রিস্টীয় দশম শতকে বিহারের আচার্য ছিলে অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান

১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের স্বীকৃতি প্রদান করে।

সংস্কৃতিভিত্তিক বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী[সম্পাদনা]

পহেলা বৈশাখ

বাংলা অঞ্চলে ২ টি সংস্কৃতিভিত্তিক বিশ্ব ঐতিহ্য রয়েছে। আর তা হলো নববর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশে প্রতি বছর আয়োজিত মঙ্গল শোভাযাত্রা ও পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা শহরের দুর্গাপূজাইউনেস্কো ২০১৬ সালে মঙ্গল শোভাযাত্রা ও ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপূজাকে ইউনেস্কো অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য-এর অন্তর্ভুক্ত করে।

মঙ্গল শোভাযাত্রা[সম্পাদনা]

মঙ্গল শোভাযাত্রা প্রতি বছর বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে আয়োজিত একটি নতুন বর্ষবরণ উৎসব। বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে বাংলাদেশের ঢাকা শহরে এটি প্রবর্তিত হয়। একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ উৎসব হিসাবে সারাদেশে এটি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।[২]

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সহোযোগীতায় প্রতিবছরই পহেলা বৈশাখে ঢাকা শহরের শাহবাগ-রমনা এলাকায় এই আনন্দ শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।[৩] শোভাযাত্রায় চারুকলা ইন্সটিটিউটের শিক্ষক শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন স্তরের ও বিভিন্ন বয়সের মানুষ অংশগ্রহণ করে। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন ধরনের প্রতীকী শিল্পকর্ম বহন করা হয়। এছাড়াও বাংলা সংস্কৃতির পরিচয়বাহী নানা প্রতীকী উপকরণ, বিভিন্ন রঙ-এর মুখোশ ও বিভিন্ন প্রাণীর প্রতিকৃতি নিয়ে হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হয়। তবে একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশক থেকে প্রায় প্রতি জেলাসদরে এবং বেশ কিছু উপজেলা সদরে পহেলা বৈশাখে ‘‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’’ আয়োজিত হওয়ায় ‘‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’’ বাংলাদেশের নবতর সর্বজনীন সংস্কৃতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আবেদনক্রমে ২০১৬ খ্রিস্টাব্দের ৩০শে নভেম্বর বাংলাদেশের ‘‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’’ জাতিসংঘ সংস্থা ইউনেস্কোর মানবতার অধরা বা অস্পর্শনীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান লাভ করে।[৪][৫]

কলকাতার দুর্গাপূজা[সম্পাদনা]

উপরের বাম থেকে নীচে ডানদিকে (ক) একজন কারিগর দুর্গা-মূর্তির মুখের ভাস্কর্য করছেন; (খ) কলকাতায় দুর্গাপূজা প্যান্ডেল-এর সজ্জা; (গ) প্যান্ডেলের অভ্যন্তরীণ সজ্জা; (d) উত্সব চলাকালীন সময়ে পথের আলোকসজ্জা।

শারদীয়া দুর্গাপূজা পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার বাঙালিদের বৃহত্তম উৎসব। কলকাতার সবচেয়ে প্রাচীন দুর্গাপূজাটি বড়িশার সাবর্ণ রায়চৌধুরী বাড়িতে আয়োজিত হয়। কলকাতার দ্বিতীয় প্রাচীনতম দুর্গাপূজাটি হল শোভাবাজার রাজবাড়ির পূজা। বিংশ শতাব্দীতে কলকাতায় বারোয়ারি বা সর্বজনীন পূজা জনপ্রিয় হয়। কলকাতায় প্রায় ২০০০ সার্বজনীন পূজা অনুষ্ঠিত হয়।[৬] এটি বাঙালি সনাতনী সমাজে অন্যতম বিশেষ ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব।

কলকাতার দুর্গাপূজার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল থিম পূজা। এই সকল পূজায় মণ্ডপগুলি বিভিন্ন বিখ্যাত মন্দির বা ভবনের আদলে নির্মাণ করা হয়। কলকাতার দুর্গাপূজায় ব্যবহৃত বেশিরভাগ মাটির দুর্গাপ্রতিমা কুমারটুলি অঞ্চলে তৈরি করা হয়। কুমারটুলি প্রতিমা শিল্পীরা কলকাতার দুর্গাপূজায় অবিচ্ছেদ্য অংশ।

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা- ইউনেস্কো এই উৎসবকে ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি’ তথা মানবতার জন্য আবহমান অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। প্যারিসে অনুষ্ঠিত ২০২১ খ্রিস্টাব্দের আবহমান বিশ্ব সংস্কৃতি রক্ষা সংক্রান্ত ইউনেস্কোর আন্তঃসরকারি কমিটির ষোড়শ সম্মেলনে (১৫ই ডিসেম্বর) কলকাতার দুর্গাপূজা তালিকাভুক্তির স্বীকৃতি লাভ করেছিল।

এলাকাভিত্তিক বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী[সম্পাদনা]

বাংলা অঞ্চলে মোট ২টি এলাকা ভিত্তিক বিশ্ব ঐতিহ্যবাহীস্থান রয়েছে। সেগুলো হলো: সুন্দরবন এবং দার্জিলিং হিমালয়ান রেল। সুন্দরবন ৬ ডিসেম্বর ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো দার্জিলিং হিমালয়ান রেলকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করে।

সুন্দরবন[সম্পাদনা]

সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত একটি প্রশস্ত বনভূমি যা বিশ্বের প্রাকৃতিক বিস্ময়াবলির অন্যতম। পদ্মা, মেঘনাব্রহ্মপুত্র নদীত্রয়ের অববাহিকার বদ্বীপ এলাকায় অবস্থিত এই অপরূপ বনভূমি বাংলাদেশের খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালীবরগুনা জেলা এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দুই জেলা উত্তর চব্বিশ পরগনাদক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জুড়ে বিস্তৃত।[৭] সমুদ্র উপকূলবর্তী নোনা পরিবেশের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে সুন্দরবন বিশ্বের সর্ববৃহৎ অখণ্ড বনভূমি।[৮] ১০,০০০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে গড়ে ওঠা সুন্দরবনের ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার (৬২%)[৯] রয়েছে বাংলাদেশে[১০] এবং বাকি অংশ (৩৮%) রয়েছে ভারতের মধ্যে।

সুন্দরবন ৬ ডিসেম্বর ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।[১১] এর বাংলাদেশ ও ভারতীয় অংশ বস্তুত একই নিরবচ্ছিন্ন ভূমিখণ্ডের সন্নিহিত অংশ হলেও ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় ভিন্ন ভিন্ন নামে সূচিবদ্ধ হয়েছে; যথাক্রমে 'সুন্দরবন' ও 'সুন্দরবন জাতীয় উদ্যান' নামে। এই সুরক্ষা সত্ত্বেও, আইইউসিএন রেড লিস্ট অফ ইকোসিস্টেম ফ্রেমওয়ার্কের অধীনে ২০২০ সালের মূল্যায়নে ভারতীয় সুন্দরবনকে বিপন্ন বলে মনে করা হয়েছিল।[১২] সুন্দরবনকে জালের মত জড়িয়ে রয়েছে সামুদ্রিক স্রোতধারা, কাদা চর এবং ম্যানগ্রোভ বনভূমির লবণাক্ততাসহ ক্ষুদ্রায়তন দ্বীপমালা। মোট বনভূমির ৩১.১ শতাংশ, অর্থাৎ ১,৮৭৪ বর্গকিলোমিটার জুড়ে রয়েছে নদীনালা, খাঁড়ি, বিল মিলিয়ে জলাকীর্ণ অঞ্চল।[৯] বনভূমিটি, স্বনামে বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার ছাড়াও নানান ধরনের পাখি, চিত্রা হরিণ, কুমিরসাপসহ অসংখ্য প্রজাতির প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। জরিপ মোতাবেক ১০৬ বাঘ ও ১০০০০০ থেকে ১৫০০০০ চিত্রা হরিণ রয়েছে এখন সুন্দরবন এলাকায়। ১৯৯২ সালের ২১ মে সুন্দরবন রামসার স্থান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। সুন্দরবনে প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক ঘুরতে আসে। প্রতি বছর দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটক সুন্দরবনের অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে সুন্দরবন ভ্রমণ করার মাধ্যমে প্রকৃতি থেকে বিভিন্ন জ্ঞান অর্জন করে।

দার্জিলিং হিমালয়ান রেল[সম্পাদনা]

দার্জিলিং হিমালয়ান রেল

পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং শহরের মধ্যে চলাচলকারী একটি ২ফুট ন্যারো গেজ রেল পরিষেবা। এই রেল টয় ট্রেন নামে সমধিক পরিচিত। দার্জিলিং হিমালয়ান রেল ভারতীয় রেল কর্তৃক পরিচালিত।

১৮৭৯ থেকে ১৮৮১ সালের মধ্যবর্তী সময়ে নির্মিত এই রেলপথের দৈর্ঘ্য ৮৬ কিলোমিটার (৫৩ মাইল)। এর উচ্চতার মাত্রা শিলিগুড়িতে ১০০ মিটার (৩২৮ ফুট) এবং দার্জিলিঙে ২,২০০ মিটার (৭,২১৮ ফুট)। আজও এটি বাষ্পচালিত ইঞ্জিনে চলে। দার্জিলিঙের মেল ট্রেনের জন্য ডিজেল চালিত ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়।

১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো দার্জিলিং হিমালয়ান রেলকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করে। ২০০৫ সালে নীলগিরি পার্বত্য রেলকেও এর সঙ্গে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করা হয়।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "ষাট গম্বুজ মসজিদ"www.archaeology.gov.bd। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুলাই ২০২০ 
  2. Habib, Haroon। "Dramatic dawn"The Hindu। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১১-৩০ 
  3. "মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন"দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ১৩ এপ্রিল ২০১৮ 
  4. হোসেন, মোছাব্বের (১৪ এপ্রিল ২০১৭)। "মঙ্গল শোভাযাত্রার বিশ্ব স্বীকৃতি এল যেভাবে"দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ১৪ এপ্রিল ২০১৮ 
  5. "২০১৬ খ্রিস্টাব্দের ৩০ নভেম্বর ইউনেসকো মঙ্গল শোভাযাত্রাকে সাংস্কৃতিক হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করে"unesco official site। ২০১৬-১১-৩০। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১১-৩০ 
  6. "Times Of India Blog"The Times Of India 
  7. Pani, D. R.; Sarangi, S. K.; Subudhi, H. N.; Misra, R. C.; Bhandari, D. C. (2013). "Exploration, evaluation and conservation of salt tolerant rice genetic resources from Sundarbans region of West Bengal" (PDF). Journal of the Indian Society of Coastal Agricultural Research. 30 (1): 45–53.
  8. নিয়াজ আহমদ সিদ্দিকী (২০১২)। "সুন্দরবন"ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিআইএসবিএন 9843205901ওএল 30677644Mওসিএলসি 883871743 
  9. খসরু চৌধুরী (২৩ জুলাই ২০১০)। "সুন্দরবনের হারানো মাছ" (ওয়েব)দৈনিক প্রথম আলো। ঢাকা। পৃষ্ঠা ২৫। সংগ্রহের তারিখ জুলাই ২৪, ২০১০ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  10. "Sundarbans Tiger Project"। ২০ মে ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ মে ২০০৮ 
  11. "Monitoring mangrove forest dynamics of the Sundarbans in Bangladesh and India using multi-temporal satellite data from 1973 to 2000"Estuarine, Coastal and Shelf Science (ইংরেজি ভাষায়)। 73 (1-2): 91–100। ২০০৭-০৬-০১। আইএসএসএন 0272-7714ডিওআই:10.1016/j.ecss.2006.12.019 
  12. "Indian Sundarbans mangrove forest considered endangered under Red List of Ecosystems, but there is cause for optimism"Biological Conservation (ইংরেজি ভাষায়)। 251: 108751। ২০২০-১১-০১। আইএসএসএন 0006-3207ডিওআই:10.1016/j.biocon.2020.108751