বদ্বীপ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
চিত্র:বাংলাদেশ ও ভারতের গঙ্গা নদীর ব-দ্বীপ।
ভারত ও বাংলাদেশের গঙ্গা নদীর ব-দ্বীপ। এই ব-দ্বীপ পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ব-দ্বীপ।

বদ্বীপ একটি প্রাকৃতিক ভূমি, যা নদীর মোহনায় দীর্ঘদিনের জমাট পলি অথবা নদীবাহিত মাটির সৃষ্ট দ্বীপ। একটি নদী বয়ে গিয়ে যখন কোন জলাধার, হ্রদ, সাগর কিংবা মহাসাগরে পরে তখন নদীমুখে বদ্বীপ তৈরী হয়। এটাই বদ্বীপ।

যেভাবে বদ্বীপ তৈরী হয়[সম্পাদনা]

নদী পলিমাটি বয়ে নিয়ে মূলত তিন ভাবে বদ্বীপ তৈরী করতে পারে; প্রথমত, নদী যদি স্থির কোন জলাধার যেমন, হ্রদ, উপসাগর, সাগর বা মহাসাগরে পতিত হয়, দ্বিতীয়ত, অপর আরেকটি নদীর সাথে মিলিত হয় এবং দ্বিতীয় নদী যদি প্রথম নদীর সাথে তাল মিলিয়ে পলিমাটি সরাতে না পারে তবে এবং তৃতীয়ত, এমন কোন ভুমধ্য অঞ্চল যেখানে নদীর পলি স্থলভাগে ছরিয়ে পরে।

বদ্বীপের প্রকারভেদ[সম্পাদনা]

(১) স্রোত-নিয়ন্ত্রিত বদ্বীপ (২) জোয়ার-ভাটা-নিয়ন্ত্রিত বদ্বীপ (৩) গিল্বার্ট বদ্বীপ (৪) ভূমধ্য বদ্বীপ

আকৃতি অনুসারে বদ্বীপের প্রকারভেদ[সম্পাদনা]

১। ধনুকাকৃতি বদ্বীপ ২। তীক্ষাগ্র বদ্বীপ ৩। পাখির পায়ের মতো বদ্বীপ ৪। খাড়ীয় বদ্বীপ

আকৃতি, অবস্থান এবং গঠনপ্রণালীভিত্তিক শ্রেণি :

আকৃতি, অবস্থান এবং গঠনপ্রণালীর ওপর ভিত্তি করে বদ্বীপকে নিম্নলিখিতভাবে শ্রেণিবিভাগ করা যায়; যথা-

১.  বৃত্তচাপীয় বদ্বীপ (Arcuate Delta) : এ জাতীয় বদ্বীপের আকৃতি ত্রিভুজাকৃতির, যা দেখতে বাংলা মাত্রাহীন ‘ব’ বা গ্রিক অক্ষর ডেল্টার (D) মতো। এ ধরনের দ্বীপগুলোর মাঝের অংশ সমুদ্রের দিকে বাড়ানো এবং প্রশস্ত এবং স্থলভাগের দিকে সংকীর্ণ হয়ে থাকে। এ বদ্বীপগুলো কিছুটা মোটা দানাযুক্ত শিলাচূর্ণ, বালুকা ও নুড়ি দ্বারা গঠিত হয়। অনেক শাখাপ্রশাখাবিশিষ্ট নদী দ্বারা গঠিত হয় বলে এ বদ্বীপের বাইরের অংশ উত্তল দেখায়। সিন্ধু, গঙ্গা-পদ্মা-মেঘনা, নীল, হোয়াংহো, পো, রাইন প্রভৃতি নদীর বদ্বীপ এ শ্রেণিভুক্ত।

২.  পাখির পা সদৃশ বদ্বীপ (Birds Foot Delta) : যেসব বদ্বীপ দেখতে পাখির আয়ের আঙ্গুলের মতো, তাকে পাখীর পা সদৃশ বদ্বীপ বলে। মোহনার কাছে ছোট ছোট শাখানদীর খাতসমূহের উভয় তীরে সূক্ষ পলি সঞ্চিত হয়ে বদ্বীপগুলোলম্বা হয়ে সামনের দিকে বাড়তে থাকে এবং ক্রমান্বয়ে পাখির আঙ্গুলের মতো আকৃতি প্রাপ্ত হয়। এ বদ্বীপগুলো অপেক্ষাকৃত সূক্ষ্ণ কণাবিশিষ্ট শিলা ও বালুকাচূর্ণ, পলি প্রভৃতি সঞ্চিত হয়ে গঠিত হয়। মিসিসিপি নদীর মোহানায় এরূপ বদ্বীপ দেখা যায়।

৩. হ্রদ বদ্বীপ (Lacustrine Delta) : হ্রদের স্থির পনিতে পতিত হওয়া নদী মোহনায় পলি সঞ্চিত হয়ে যে বদ্বীপ গঠিত হয়, তাকে হ্রদ বদ্বীপ বলে। কাস্পিয়ান সাগরে পতিত উরাল, ভল্গা নদীর মোহনায় গঠিত দ্বীপ এর উদাহরণ।

৪.  মোহনা বদ্বীপ (Estuarine Delta) : যেসব নদীর মোহনায় সমুদ্রস্রোত ও জোয়ারভাটার প্রকোপ বেশি, সেসব স্থানে সমুদ্রের বেশ গভীরে নদীবাহিত পলিগুলো ধীরগতিতে সঞ্চিত হয়ে যে বদ্বীপ গঠিত হয়, তাকে মোহনা বদ্বীপ বলে। সমুদ্রস্রোত ও জোয়ারভাটার কারণে সেখানে বদ্বীপ গঠনে অনেক বেশি সময় লাগে।

৫. সামুদ্রিক বদ্বীপ (Marine Delta) : মোহনায় নদীর স্রোত সমুদ্রের পানিতে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে নদীবাহিত পলি, বালি, কর্দম প্রভৃতি সঞ্চিত হয়ে বদ্বীপ গঠিত হয়, েতাকে সামুদ্রিক বদ্বীপ বলে। এরূপ বদ্বীপ গঠনের জন্য সমুদ্র শান্ত ও স্থলভাগ দ্বারা বেশিস্টত হতে হয়ে। যেমন- বঙ্গোপসাগর, ভূমধ্যসাগরে পতিত বিভিন্ন নদীর মোহনায় গঠিত বদ্বীপ।

৬. কাসপেট বদ্বীপ (Cuspate Delta) : নদীর মোহনায় অনুকূল অবস্থা বিরাজ করলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে নদীস্রোত সোজাসোজি সমুদ্রের মধ্যে অনেকদূর পর্যন্ত প্রবাহিত হয়। এরূপ ক্ষেত্রে সমুদ্রের তীরে স্রোতপ্রবাহের উভয়পাশে পলি সঞ্চিত হযে ত্রিকোণাকার বদ্বীপ সৃষ্টি করে। এরূপ বদ্বীপকে কাসপেট বদ্বীপ বলে। ইতালির টাইবার নদীর মোহনায় এরূপ বদ্বীপ দেখা যায়।

৭.  পাখা বদ্বীপ (Fan Delta) : কখনো কখনো স্রোতের সামনে পলি সঞ্চিত হয়ে পাখার আকৃতিতে বদ্বীপের সৃষ্টি হয় এবং স্থলভাগ সামনির দিকে সম্প্রসারিত হয়। এক্ষেত্রে প্রধান নদী দ্বিধাবিভক্ত হয়ে উক্ত বদ্বীপের উভয় পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়। প্রধান নদীর সাথে উপনদী যেখানে মিলিত হয় যেখানেও উপনদী দ্বারা বাহিত পলি সঞ্চিত হয়ে পাখার আকৃতিবিশিষ্ট বদ্বীপ সৃষ্টি হতে দেখা যায়। ইউরোপের রাইন নদীর মোহনায় এবং বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগরের উপকূলে গঙ্গা-পদ্মা-মেঘনার প্রবাহ দ্বারা সৃষ্ট বদ্বীপ এর উদাহরণ।

তথ্যের উৎস :

  • আলম. কে. আশরাফুল, ২০১৪। বৈশ্বিক পরিবেশের প্রাকৃতিক ভূগোল, পারফেক্ট পাবলিকেশন্স, ঢাকা, বাংলাদেশ।

গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা বদ্বীপ[সম্পাদনা]

গঙ্গা বদ্বীপ মূলত ভারতের ভাগীরথী-হুগলী নদীরেখা ও বাংলাদেশের পদ্মা-মেঘনা নদীরেখার অন্তরবর্তী অংশকে বোঝায়। কিন্তু বদ্বীপ অঞ্চলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক ব্যাপার। সে হিসেবে ভাগীরথী নদীর পশ্চিমে বাঁকুড়া, বর্ধমান, হুগলী, হাওড়া ও মেদিনীপুর জেলার এক বিরাট অংশ গঙ্গা বদ্বীপের অন্তর্ভুক্ত করা যায়। অনুরূপভাবে, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় উচ্চভূমি ও দক্ষিণ-পূরবের পাহাড়ী অঞ্চল ব্যাতীত বাকি অংশকে সাধারণভাবে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের অন্তর্ভুক্ত করা যায়।

গঠনের ইতিহাস : গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা বদ্বীপ বোর-হোল সমীক্ষা থেকে অতদঅঞ্চলের প্লাইসটোসিনের শেষ এবং হলোসিন উপযুগের জটিল পললায়ন সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য জানা গেছে। ক্রিয়াশীল পাঁচটি প্রধান উপাদান অতদঅঞ্চলে পলল এবং পললায়নের হারের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে। এগুলো হলো :

১.  প্লাইসটোসিন উপযুগের শেষের দিকে ১৮,০০০ বছর আগে সমুদ্র সমতল বর্তমান অবস্থানের তুলনায় ক্রমশ ১৩০ মিটার নিচে নেমে গিয়েছিলো।

২.  পরবর্তীতে হলোসিন উপযুগে সমুদ্র সমতল বর্তমান অবস্থানে উন্নীত হয়েছে।

৩.  সে সময়কালে বঙ্গ-সিলেট অববাহিকা অক্ষের কেন্দ্র বছরে ২-৪ মিলিমিটার হারে অবনতমত হচ্ছে (এবং সম্ভবত উত্তর ও দক্ষিণদিকে আরও বেশি)। একারণে প্রান্তদেশ অপেক্ষা কেন্দ্রের নিকট হলোসিন পললের পুরুত্ব বেশি।

৪.  হলোসিন উপযুগের শুরুতে জলবায়ু এখনকার তুলনায় আর্দ্র ছিলো, এ কারণে নদীগুলো অধিক পরিমাণে বালিময় পলল বহন করতো।

৫.  হলোসিন উপযুগে ব্রহ্মপুত্র এবং গঙ্গা একাধিকবার তাদের গতিপথ পরিবর্তন করেছে।

আন্তঃহৈমবাহিক উষ্ণ সময়কালের পূর্ববর্তী শেষ বরফ যুগে ১২০,০০০ বছর পূরবে সমুদ্র সমতল বর্তমান অবস্থানের কাছাকাছি থেকে ধীরে ধীরে নিচে নামতে থাকে এবং ৩০,০০০ বছর পূরবে বর্তমানের তুলনায় প্রায় ৭০ মিটার নিচে নেমে যায়। সমুদ্র সমতল নিচে নেমি যাওয়ার কারণে নদীগুলো বিদ্যমান ভূদৃশ্যকে গভীরভাবে কেটে প্রবাহিত হয়। সুতরাং নদীগুলোর মধ্যবর্তী ভূমিরূপের যে পলল দেখা যায়, সেগুলো বিচূর্ণীভূত ও জারিত (oxidised) হয় এবং মৃত্তিকা গঠিত হয়। Goodbred and Kuehl এসব প্লাইসটোসিন ভূপৃষ্ঠকে বাংলাদেশে বর্তমান ভূপৃষ্ঠের ১০-৪৫ মিটার নিচে এবং পশ্চিম বাংলায় স্থানীয়ভাবে উদ্ভেদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন (Brammer, 2012)।

৩০,০০০ থেকে ১৮,০০০ বছর আগে সমুদ্র সমতলের পতন খুবই দ্রুত হয় এবং তৎকালীন নদীগুলো অধিকতর গভীরভাবে প্লাইসটোসিন পৃষ্ঠ কেটে প্রবাহিত হয়। বর্তমানের তুলনায় সে সময়ের জলবায়ু ছিলো শীতলতর ও শুষ্কতর এবং গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের প্রবাহগতি ও পলল বোঝা বর্তমানের তুলনায় সম্ভবত অনেক সকম ছিলো। পশ্চিম বাংলায় গঙ্গা প্লাবনভূমির কতিপয় মৃত্তিকায় ২৩,০০০ বছর পূরবের ক্যালক্রেইটের (calcrete- কঠিন চুনের সঞ্চয়) উপস্থিতি দ্বারা প্লাইসটোসিন উপযুগের শেষ সময়কালের শুষ্কতর জলবায়ু শনাক্ত করা যায়।

শেষ হিমযুগের অবসানের পর বর্তমান সময়ের প্রায় ১৮,০০০ বছর আগে সমুদ্র সমতল দ্রুত উপরে উঠতে থাকে এবং প্রায় ১১,০০০ বছর আগে বর্তমান অবস্থানের তুলনায় প্রায় ৫৫ মিটার নিচে অবস্থান করে। প্রথম দিকে জলবায়ু ছিলো অপেক্ষাকৃত শুষ্ক এবং সেই সাথে নদীর প্রবাহ ও পলল বোঝাও কম ছিলো। মৌসুমি জলবায়ু পুনরায় শুরু হয় এবং প্রায় ১১,০০০ থেকে ৭,০০০ বছরের মধ্যে এমন একটি সময়কাল আসে যখন বৃষ্টিপাত ও নদীর পলল বোঝা বর্তমানের তুলনায় অনেক বেড়ে গিয়েছিলো। প্রায় ১১,০০০ বছর পূরবে সমুদ্র সমতল ধীরে ধীরে উপরে উঠতে থাকে েএবং প্রায় ৬,৫০০ বছর আগে বর্তমান অবস্থানের কাছাকাছি চলে আসে (Brammer, 2012)।

হলোসিন পললায়ন (Holocene Sedimentation) : সবর্শেষ বরফ যুগের চূড়ান্ত পরযায়ে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনার উপকূলরেখার অবস্থান সুস্পষ্টভাবে জানা যায়নি। এটি ধরে নেয়া হয় যে, বেঙ্গল ফ্যান বর্তমান উপকূলরেখার দক্ষিণে ছিলো, কিন্তু বঙ্গোপসাগরের একটি সংকীর্ণ অংশ সম্ভবত সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড থেকে সিলেট অববাহিকার দিকে বর্ধিত ছিলো। প্রায় ১৪,০০০ বছর পূর্বে সমুদ্র সমতলের দ্রুত উত্থান উপকূল রেখাকে এখনকার অবস্থানের তুলনায় দেশের ভিতরের দিকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ঠেলে দেয়। প্রায় ৭,০০০ বছর আগে উন্মুক্ত প্লাইসটোসিন ভূদৃশ্যের মধ্যে কর্তিত উপত্যকাগুলো উচ্চ নির্গমন ক্ষমতাসম্পন্ন নদী বাহিত বালি দ্বারা মোহনা দ্রুতই ভরাট হয়ে যায় । বর্তমান সময়ের প্রায় ৭,০০০ বছর আগে সমুদ্র সমতলের উচ্চতা বৃদ্ধির হার হ্রাস পায় এবং যখন পলল সরবরাহের হার সমুদ্র সমতল উত্থানকে অতিক্রম করে যায়, তখন এটি বদ্বীপ সঠনের অবস্থা সৃষ্টি করে, কিন্তু গুডব্রেড বলেন যে, যখন সমুদ্র সমতল উত্থানের হার বছরে ১ সেন্টিমিটার ছিলো, তখন বদ্বীপের গঠন শুরু হয়েছিলো (Goodbred 200৩; Brammer, 2012)। পরবর্তীতে, বালি ও পলির মিশ্রিত পলল সঞ্চিত হয়ে বঙ্গোপসাগরের দিকে বদ্বীপ পৃষ্ঠ অগ্রসর হয় এবং জলাভূমি ও পরিত্যাক্ত নদীখাতে পিট ভিত (peat bed) তৈরি হয়। বাংলাদেশের প্রায় সমগ্র প্লাবনভূমির নিচে হলোসিন পলল রয়েছে, সম্ভাব্য ব্যতিক্রম হচ্ছে প্রাচীন হিমালয় পাদদেশীয় সমভূমি, যা সম্ভবত প্লাইসটোসিন উপযুগের।

উপকূলীয় এলাকা (Coastal area) : বঙ্গ অববাহিকার অবিরত ভূগাঠনিক অবনমনের কারণে বদ্বীপ বরাবর পলি সংযোজন হারের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে। মেঘনা মোহনায় অবস্থিত ভোলা দ্বীপেহেলোসিন পললের ভিত্তি ৪৮০ মিটার গভীর রয়েছে, অপরদিকে, পশ্চিম বাংলার ভাগিরথী-হুগলী নদীর প্লাবনভূমিতে হলোসিন পলল মাত্র ১-৩ মিটার পুরু এবং সেখানে স্থানীয়ভাবে প্লাইসটোসিন পৃষ্ঠের উদ্ভেদ (outcrop) রয়েছে (Brammer, 2012)।

গঙ্গা জোয়ার প্রভাবিত প্লাবনভূমির এখনকার বহুবৃত্তচাপীয় উপকূলরেখা, তরুণ মেঘনা মোহনার প্লাবনভূমি এবং বিভিন্ন কোণ যেখানে প্রতিটি বৃত্তচাপের পশ্চাত দিয়ে শাখা নদীগুলো উপকূলের দিকে প্রবাহিত হয়, এসবই গঙ্গা নদীর প্রধান থাত ও এর সাথে সম্পর্কিত বদ্বীপগুলোর পূবর্দিকে স্থানান্তরের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ভূগর্ভস্থ পিট স্তরের রেডিওকারবন বয়োঃনিরূপনের ওপর ভিত্তি করে এলিসন ও অন্যান্য (২০০৩) গঙ্গার প্রাক্তন তিনটি বদ্বীপ এবং এখনকার গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের প্রাথমিক বয়স নির্ধারণ করেছেন (Brammer, 2012)।

১.  ৫,০০০-২,৫০০ বছর আগে পশ্চিমাংশের বদ্বীপের সাথে সম্পর্কিত ঙ্গাখাত সম্ভবত বর্তমানের ভাগিরথী-হুগলী নদী দিয়ে প্রবাহিত হতো।

২.  ৪,০০০-১,৮০০ বছর আগে দ্বিতীয় বদ্বীপ গঠনের সময় গঙ্গার প্রধান স্রোতধারা সম্ভবত গড়াই-মধুমতি-হরিণঘাটা নদীগুলো দিয়ে প্রবাহিত হতো।

৩.  ১,৮০০-২০০ বছর আগে তৃতীয় বদ্বীপ (কুয়াকাটা উপদ্বীপ) গঠনের সাথে আড়িয়াল খাঁ নদীর সংযোগ রয়েছে।

৪.  অতীতে ২০০ বছর আগে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র এখনকার মেঘনা মোহনায় মিলিত হয়েছে।

বোর-হোল অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে এলিসন ও অন্যান্য বলেন যে, প্রতিটি বদ্বীপের ক্রমবৃদ্ধির সময় সক্রিয় নদীগুলোর মুখে পলিময় সঞ্চয়ের প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়, যা এখনকার মেঘনায় ঘটছে। প্রতিটি পূরবমুখী স্থানান্তরের পর সক্রিয় বদ্বীপে পুরাতন পলিময় পলল জোয়ার প্রভাবিত শাখা নদীগুলোর মিহি পললের নিচে চাপা পড়ে (Brammer, 2012)।

তথ্যের উৎস :

  • Brammer, Hugh (2012). The Physical Geography, The University Press Ltd., Dhaka, ISBN: 9789845030493.
  • Khan, Aftab Alam (2010). Earthquake, Tsunami and Geology of Bangladesh, University Grants Commission of Bangladesh, Dhaka. Bangladesh, ISBN : 984-300-002703-0.
  • Rashid, Haron Er (1991). Geography of Bangladesh, The University Press Ltd., Dhaka, Bangladesh.
  • আলম, কে. আশরাফুল (২০১৬)। আধুনিক ভূরূপবিজ্ঞান, পারফেক্ট পাবলিকেশন্স, ঢাকা, বাংলাদেশ।
  • আলম, কে. আশরাফুল (২০১৪)। বৈশ্বিক পরিবেশের প্রাকৃতিক ভূগোল, পারফেক্ট পাবলিকেশন্স, ঢাকা, বাংলাদেশ।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]