বিষয়বস্তুতে চলুন

পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার

(সোমপুর মহাবিহার থেকে পুনর্নির্দেশিত)
সোমপুর মহাবিহার
বিহারের কেন্দ্রীয় মঠের দৃশ্য
ধর্ম
অন্তর্ভুক্তিবৌদ্ধধর্ম
ফেরকামহাযান
জেলানওগাঁ
অঞ্চলরাজশাহী
মালিকানাবাংলাদেশ সরকার
পরিচালনা সংস্থাবাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন
অবস্থাপর্যটন কেন্দ্র
বৌদ্ধ বিহার
অবস্থান
অবস্থানপাহাড়পুর, বদলগাছী, নওগাঁ, বাংলাদেশ
দেশবাংলাদেশ
এলাকাবদলগাছী, নওগাঁ, বাংলাদেশ
স্থানাঙ্ক২৫°০১′৫২″ উত্তর ৮৮°৫৮′৩৮″ পূর্ব / ২৫.০৩১১° উত্তর ৮৮.৯৭৭৩° পূর্ব / 25.0311; 88.9773
স্থাপত্য
স্থাপত্য শৈলীপাল স্থাপত্য
প্রতিষ্ঠাতাধর্মপাল
অর্থায়নেধর্মপাল
প্রতিষ্ঠার তারিখ৮ম শতাব্দী
উচ্চতা৮০ ফু (২৪ মি)
ধরনপ্রত্নতাত্ত্বিক
মানদণ্ড১, ২, ৪
পর্যাদাপ্রাপ্ত হয়১৯৮৫ (৯ম অধিবেশন)
সূত্র নং৩২২
রাষ্ট্রবাংলাদেশ
অঞ্চলএশিয়া-প্রশান্ত
বিহার প্রাঙ্গণ

পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার বা সোমপুর মহাবিহার বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার, যেটি বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামে অবস্থিত। এটি পাল রাজবংশের দ্বিতীয় রাজা ধর্মপাল (৭৮১-৮২১) অষ্টম শতকের শেষ দিকে বা নবম শতকে এই নির্মাণ করেন। ১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দে স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম এই বিশাল স্থাপনা আবিষ্কার করেন।

ইউনেস্কোর মতে পাহাড়পুর বিহার বা সোমপুর বৌদ্ধ বিহার দক্ষিণ হিমালয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৌদ্ধ বিহার। আয়তনে এর সাথে ভারতের নালন্দা মহাবিহারের তুলনা হতে পারে। এটি ৩০০ বছর ধরে বৌদ্ধদের অতি বিখ্যাত ধর্ম শিক্ষাদান কেন্দ্র ছিল। শুধু উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকেই নয়, বরং চীন, তিব্বত, মায়ানমার (তদানীন্তন ব্রহ্মদেশ), মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া প্রভৃতি দেশের বৌদ্ধরা এখানে ধর্মজ্ঞান অর্জন করতে আসতেন। খ্রিস্টীয় দশম শতকে বিহারের আচার্য ছিলে অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান। ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের স্বীকৃতি প্রদান করে।

অবস্থান ও আয়তন

[সম্পাদনা]
পাহাড়পুর বোদ্ধবিহার।

পুণ্ড্রবর্ধনের রাজধানী পুন্ড্রনগর (বর্তমান মহাস্থান) এবং অপর শহর কোটিবর্ষ (বর্তমান বানগড়)-এর মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত ছিল সোমপুর মহাবিহার। এর ধ্বংসাবশেষটি বর্তমান বাংলাদেশের বৃহত্তর রাজশাহীর অন্তর্গত নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামে অবস্থিত। অপরদিকে জয়পুরহাট জেলার জামালগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে এর দূরত্ব পশ্চিমদিকে মাত্র ৫ কিলোমিটার। এর ভৌগোলিক অবস্থান ২৫°০´ উত্তর থেকে ২৫°১৫´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°৫০´ পূর্ব থেকে ৮৯°১০´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত। গ্রামের মধ্যে প্রায় ০.১০ বর্গ কিলোমিটার (১০ হেক্টর) অঞ্চল জুড়ে এই পুরাকীর্তিটি অবস্থিত। প্রত্নতাত্ত্বিক এই নিদর্শনটির ভূমি পরিকল্পনা চতুর্ভূজ আকৃতির। এটি বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের প্লাবন সমভূমিতে অবস্থিত, প্লাইস্টোসীন যুগের বরেন্দ্র নামক অনুচ্চ এলাকার অন্তর্ভুক্ত। মাটিতে লৌহজাত পদার্থের উপস্থিতির কারণে মাটি লালচে। অবশ্য বর্তমানে এ মাটি অধিকাংশ স্থানে পললের নিচে ঢাকা পড়েছে। পার্শ্ববর্তী সমতল ভূমি থেকে প্রায় ৩০.৩০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত পাহাড়সদৃশ স্থাপনা হিসেবে এটি টিকে রয়েছে। স্থানীয় লোকজন একে গোপাল চিতার পাহাড় আখ্যায়িত করত; সেই থেকেই এর নাম হয়েছে পাহাড়পুর, যদিও এর প্রকৃত নাম সোমপুর বিহার

আবিষ্কারের প্রেক্ষাপট

[সম্পাদনা]
সোমপুর মহাবিহার, বাংলাদেশ।
সোমপুর মহাবিহারের একাংশের ছবি।
সোমপুর মহাবিহার প্রাঙ্গণের দেয়াল

ভারতীয় উপমহাদেশে ইংরেজদের আগমনের পর তাঁরা সকল স্থানে জরিপ কাজ চালানো শুরু করেন। পূর্ব ভারতে জরিপ কাজ পরিচালনা করেন বুকানন হ্যামিল্টন; যিনি ১৮০৭ থেকে ১৮১২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে কোনো এক সময়ে পাহাড়পুর পরিদর্শন করেন। এটিই ছিল পাহাড়পুরে প্রথম প্রত্নতাত্ত্বিক পরিদর্শন। এরপর এই প্রত্নস্থল পরিদর্শনে আসেন ওয়েস্টম্যাকট। এঁরা দেশে ফিরে তাঁদের অভিজ্ঞতা সংবলিত বিবরণ পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ করেন। এরই সূত্র ধরে ১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দে আলেকজান্ডার কানিংহাম এই ঐতিহাসিক স্থানটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের পর এই জমিটি ব্যাপক হারে খনন করার প্রতি তিনি আগ্রহ দেখান। কিন্তু জমির মালিক বলিহারের তদানীন্তন জমিদার তাঁকে এই কাজে বাধা দেন। তাই তিনি বিহার এলাকার সামান্য অংশে এবং পুরাকীর্তির কেন্দ্রীয় ঢিবির শীর্ষভাগের সামান্য অংশে খনন কাজ চালিয়েই অব্যাহতি দেন। এই খননকার্যের সময় কেন্দ্রীয় ঢিবির অংশে চারপাশে উদ্গত অংশবিশিষ্ট একটি বর্গাকার ইমারত আবিষ্কার করেন যার দৈর্ঘ্য ছিল ২২ ফুট।[] অবশেষে ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দের প্রত্নতাত্ত্বিক আইনের আওতায় এই স্থান ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসাবে ঘোষিত হয়।

ইতিহাস ও পটভূমি

[সম্পাদনা]

৭ম শতাব্দীর মাঝামাঝিতে হিউয়েন সাং পুন্ড্রবর্ধনে আসেন, তবে তার বিস্তারিত বিবরণে সোমপুরের বিহার ও মন্দিরের কোন উল্লেখ নেই। গোপালের পুত্র ধর্ম পাল (৭৮১ - ৮২২ খ্রি) সিংহাসনে আরোহণ করে দীর্ঘকাল রাজত্ব করেন ও রাজ্যকে বাংলা বিহার ছাড়িয়ে পাকিস্তানের উত্তর - পশ্চিম সীমান্তের গান্ধার পর্যন্ত বিস্তৃত করেন। সম্রাট ধর্মপাল অনেক নিষ্ঠাবান বৌদ্ধ ছিলেন ও তিনিই বিক্রমশীলা ও সোমপুর বিহার প্রতিষ্ঠা করেন। অন্য মতে, বিখ্যাত তিব্বতীয় ইতিহাস গ্রন্থ "পাগ সাম জোন ঝাং" এর লেখক অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে ধর্মপালের পুত্র দেবপাল (৮১০-৮৫০)[] কর্তৃক সোমপুরে নির্মিত বিশাল বিহার ও সুউচ্চ মন্দিরের উল্লেখ করেছেন। সোমপুর বিহারের ভিক্ষুরা নালন্দা, বুদ্ধগয়া প্রভৃতি ভারতীয় বিভিন্ন বৌদ্ধ তীর্থস্থানে অর্থ ও ধন রত্ন দান করতেন বলে বিভিন্ন লিপিতে উল্লেখ করা আছে, যা ১০ম - ১১শ শতাব্দীতে সমৃদ্ধশীল অবস্থার ইঙ্গিত বহন করে। এছাড়া ৯ম শতাব্দী পর্যন্ত পাল রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় সোমপুর বিহার ছাড়াও অগ্রপুর (রাজশাহীর অগ্রাদিগুণ), উষ্মপুর, গোটপুর, এতপুর ও জগদ্দল ( রাজশাহীর জগদল) বিহারের উল্লেখ পাওয়া যায়। ৯ম শতাব্দীর শেষভাগে গুর্জর রাজ প্রথম ভোজ ও মহেন্দ্র পাল, পাল সাম্রাজ্যের বিশেষ ক্ষতিসাধন করেন। পরে ১০ম শতাব্দীর শেষভাগে পাল বংশীয় রাজা মহীপাল (৯৯৫ - ১০৪৩) সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধার করেন ও সোমপুর বিহার মেরামত করেন। কিন্তু মহীপাল ও তার পুত্র নয়াপালের মৃত্যুর পর আবার পাল বংশের পতন শুরু হয়। এই সুযোগে মধ্যভারতের চেদীরাজ কর্ণ, চোলরাজ রাজেন্দ্র ও দিব্বো নামের এক দেশীয় কৈবর্ত সামন্ত নরপতি পর পর বরেন্দ্রভূমি আক্রমণ করেন। নালন্দায় পাহাড়পুর মন্দির ও বিহার ধ্বংসের উল্লেখ সম্ভবত এ সময়ের আক্রমণের। ১১শ শতাব্দীতে পাল বংশীয় রামপাল হৃতরাজ্য পুনরুদ্ধার করেন। ১২শ শতাব্দীতে দাক্ষিণাত্যের কর্ণাট থেকে আগত সেন রাজারা বাংলা দখল করেন। সে রাজদের আমলে সোমপুর রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা হারায়। এ সময় শেষবারের মত সোমপুরের পতন শুরু হয়। সেন শাসনের ফলে পতনের দ্বারপ্রান্তে থাকা এই বিহার সম্পর্কে একজন পণ্ডিত লিখেছেন, "পাহাড়পুরের বিহার ও মঠের ধ্বংসাবশেষগুলো বড় আকারের ধ্বংসের কোনও স্পষ্ট চিহ্ন বহন করে না। বিহার পরিত্যাগ বা ধ্বংসের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানের পতনের অবশ্যই মুসলিম আক্রমণের ফলে সৃষ্ট ব্যাপক অস্থিরতা ও জনসংখ্যার বাস্তুচ্যুতির প্রভাব ছিল।[]

সোমপুর মহাবিহারের ধ্বংস ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বিশ্লেষণ :

সোমপুর মহাবিহার (বর্তমানে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার) প্রাচীন বাংলার অন্যতম প্রধান বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র ছিল। পাল রাজবংশের অধীনে নির্মিত এই মহাবিহার জ্ঞান, ধর্ম ও সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে খ্যাত ছিল। তবে ১১শ থেকে ১৩শ শতকের মাঝে একাধিক আক্রমণ ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের প্রভাবে এই সমৃদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র ধীরে ধীরে ধ্বংসের মুখে পড়ে যায়।

১. মুসলিম আক্রমণ ও বাহ্যিক আগ্রাসন

মুসলিম সেনাপতি ও আক্রমণ: ১২০৪-১২শ শতকের প্রথম দিকে তুর্কি সেনাপতি মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজির বাহিনী বাংলার বিভিন্ন শিক্ষাকেন্দ্র—নালন্দা, ওদন্তপুরীসহ—আক্রমণ করে।

অনেক গবেষক মনে করেন, বখতিয়ার খলজির শাসনামলে এই অঞ্চলের অনেক বিহার ও মন্দির ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিল, যদিও সোমপুর মহাবিহারের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রমাণ কিছুটা বিতর্কিত।

আক্রমণের সময় লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও বৌদ্ধ ভিক্ষুদের গণহত্যা সংঘটিত হয়, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটির মূল্যবান গ্রন্থাগার, শিল্পকর্ম ও স্থাপত্য নিদর্শন ধ্বংস হয়ে যায়।

সোমপুর মহাবিহারের প্রবেশদ্বারের সিঁড়ি

২. অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও স্থানীয় শাসকদের ভূমিকা

স্থানীয় রাজনীতির প্রভাব: কিছু প্রাচীন শিলালিপি ও ঐতিহাসিক দলিল অনুযায়ী, স্থানীয় হিন্দু শাসকরা ও রাজনীতিক দ্বন্দ্বও সোমপুর মহাবিহারের ধ্বংসের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

ঐতিহাসিক কিছু সূত্রে উল্লেখ আছে যে, রাজা জাতবর্মা বা সমমানের কোনো স্থানীয় নেতার আক্রমণে মঠের প্রধান প্রতীক ও মঠাধ্যক্ষকে হত্যার ঘটনা ঘটে, যার ফলে বিহারের স্থায়িত্ব ভঙ্গ হয়।

অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও শাসনের হস্তক্ষেপের কারণে শিক্ষাকেন্দ্রটি অপরিকল্পিতভাবে অবহেলিত ও পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে।

1. ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ক্ষয়:

সোমপুর মহাবিহারের ধ্বংসের ফলে প্রাচীন বাংলায় বৌদ্ধ ধর্মের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হারিয়ে যায়। বহু মূল্যবান ধর্মীয় গ্রন্থ, শিলালিপি ও শিল্পকর্ম মুছে যায় যা পূর্ব এশিয়ার জ্ঞান ও সংস্কৃতির এক অপূরণীয় অংশ ছিল।

এই ধ্বংস প্রক্রিয়া শুধু একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান না, বরং এক সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক ঐতিহ্যের পতনেরই পরিচায়ক।

পাহাড়পুর সোমপুর মহাবিহারের ভাঙা উপরের অংশ

2. অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও রাজনৈতিক অস্থায়িত্ব:

স্থানীয় শাসন ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে, বহিরাগত আগ্রাসনের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাও বিহারের অবক্ষয়কে ত্বরান্বিত করে।

এই প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদে বাংলায় ও ভারতের বৌদ্ধ শিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থা ও সাংস্কৃতিক পরিচিতিতে গভীর প্রভাব ফেলে।

সোমপুর মহাবিহারের ধ্বংসের ঘটনা একদিকে মুসলিম বাহিনীর আক্রমণের ফলাফল হিসেবে তফসিল করা হলেও, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও স্থানীয় শাসকদের অস্থিরতা ও অবহেলারও এতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে।

বাহ্যিক আগ্রাসন: বখতিয়ার খলজির শাসনামলে বাহ্যিক আক্রমণ ও ধ্বংসযজ্ঞ সংঘটিত হলেও,

অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব: স্থানীয় শাসকদের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও হস্তক্ষেপও শিক্ষাকেন্দ্রের অবক্ষয়ে ভূমিকা রাখে।

এই দুই ন্যারেটিভ একত্রে বিবেচিত হলে দেখা যায় যে, সোমপুর মহাবিহারের ধ্বংস শুধুমাত্র একধরনের বাহ্যিক আক্রমণ নয়, বরং এক বহুমুখী এবং জটিল প্রক্রিয়া, যার ফলে এই প্রাচীন শিক্ষাকেন্দ্র চিরতরে অমোঘ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ থেকে হারিয়ে যায়।

প্রত্নতাত্ত্বিক খনন

[সম্পাদনা]

পাহাড়পুরের প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্যকে দুভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমত বাংলাদেশের স্বাধীনতাপূর্বকালীন সময়ে মূলত ব্রিটিশ যুগে, এবং দ্বিতীয়ত স্বাধীনতা-উত্তর কালে আশির দশকে। ১৮৭৯ সালে কানিংহাম প্রথম উদ্যোগটি নেন। কিন্তু বলিহারের জমিদারের বিরোধিতায় কেবলমাত্র কেন্দ্রীয় ঢিবির শীর্ষভাগ খনন করে তাঁকে থেমে যেতে হয়। এ খননে চারপাশে উদগত অংশযুক্ত প্রায় ৭মি উঁচু একটি কক্ষ আবিষ্কৃত হয়। এর দীর্ঘদিন পর ১৯২৩ সালে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, বরেন্দ্র গবেষণা পরিষদ ও ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের যৌথ প্রচেষ্টায় এবং দিঘাপতিয়ার জমিদার পরিবারের সদস্য শরৎ কুমার রায়ের অর্থানুকূল্যে পুনরায় খননকাজ শুরু হয়। এ বছর ঐতিহাসিক ডি.আর.ভান্ডারকরের নেতৃত্বে প্রত্নস্থলটির দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে খনন পরিচালিত হলে উত্তর-দক্ষিণে বিন্যস্ত একসারি কক্ষ এবং চত্বরের অংশবিশেষ পাওয়া যায়। রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯২৫-২৬ সালে খনন করে কেন্দ্রীয় ঢিবির উত্তরে প্রধান সিঁড়ি, পোড়ামাটির ফলকচিত্র শোভিত দেয়াল ও প্রদক্ষিণ পথসহ উত্তর দিকের মন্ডপ বা হল ঘর আবিষ্কার করেন। ফলে প্রথমবারের মত এ বিহারের ভূমিপরিকল্পনা ও দেয়ালচিত্রণ সম্বন্ধে ধারণা পাওয়া যায়। ১৯৩০-৩১ এবং ১৯৩১-৩২ সালে জি.সি.চন্দ্র বিহারের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ ও সংলগ্ন চত্বর খনন করেন। ১৯৩৩-৩৪ সালে কাশিনাথ দীক্ষিতের তত্ত্বাবধানে ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ পুনরায় খনন করে। এতে বিহার ও মন্দিরের অবশিষ্ট অংশ এবং সত্যপীরের ভিটায় একগুচ্ছ স্তূপসহ একটি তারা মন্দিরের ধ্বংশাবশেষ পাওয়া যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রফিক মোঘল পূর্ব বাহুর কয়েকটি কক্ষে গভীর উৎখনন পরিচালনা করেন।

স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে ১৯৮১-৮৩ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ 'নতুন তথ্যের অনুসন্ধান এবং ইতোপূর্বে দীক্ষিতের আবিষ্কৃত কক্ষসমূহের প্রাপ্ত নিদর্শনাবলী সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া'র উদ্দেশ্যে দ্বিতীয় পর্যায়ের খনন কাজ শুরু করে। ১৯৮৭-৮৯ সালে পুনরায় খনন পরিচালিত হয় বিহার অঙ্গন থেকে অপ্রয়োজনীয় জঞ্জাল ও পূর্ববর্তী খননের স্তূপীকৃত মাটি অপসারণ করে সুশৃঙ্খল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, যেন বিহারে বিদ্যমান জলাবদ্ধতা দূরীভূত হয় এবং লবণাক্ততা হ্রাস পায়।

স্থাবর স্থাপত্য নিদর্শনসমূহ

[সম্পাদনা]

বিহার

[সম্পাদনা]
পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারে সূর্যদয়ে

বৌদ্ধ বিহারটির ভূমি-পরিকল্পনা চতুষ্কোনাকার। উত্তর ও দক্ষিণ বাহুদ্বয় প্রতিটি ২৭৩.৭ মি এবং পূর্ব ও পশ্চিম বাহুদ্বয় ২৭৪.১৫ মি। এর চারদিক চওড়া সীমানা দেয়াল দিয়ে ঘেরা ছিল। সীমানা দেয়াল বরাবর অভ্যন্তর ভাগে সারিবদ্ধ ছোট ছোট কক্ষ ছিল। উত্তর দিকের বাহুতে ৪৫টি এবং অন্য তিন দিকের বাহুতে রয়েছে ৪৪টি করে কক্ষ। এই কক্ষগুলোর তিনটি মেঝে আবিষ্কৃত হয়েছে। প্রতিটি মেঝে বিছানো ইঁটের ওপর পুরু সুরকী দিয়ে অত্যন্ত মজবুত ভাবে তৈরি করা হয়েছিলো। সর্বশেষ যুগে ৯২টি কক্ষে মেঝের ওপর বিভিন্ন আকারের বেদী নির্মাণ করা হয়। এ থেকে অনুমান করা যায় যে, প্রথম যুগে সবগুলো কক্ষই ভিক্ষুদের আবাসকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হলেও পরবর্তীকালে কিছু কক্ষ প্রার্থনাকক্ষে রুপান্তর করা হয়েছিলো।

পাহাড়পুরের সোমপুর মহাবিহারের ধ্বংসাবশেষের ওপর সূর্যের আলো

কক্ষগুলোর প্রতিটিতে দরজা আছে। এই দরজাগুলো ভেতরের দিকে প্রশস্ত কিন্তু বাইরের দিকে সরু হয়ে গেছে। কোন কোন কক্ষে কুলুঙ্গি পাওয়া যায়। কুলুঙ্গি সংবলিত কক্ষগুলোর মেঝেতে দৈনন্দিন ব্যবহারযোগ্য বেশ কিছু দ্রব্যাদি পাওয়া যায়। ভেতরের দিকে কক্ষগুলোর দৈর্ঘ্য ৪.২৬ মি এবং প্রস্থ ৪.১১ মি। কক্ষের পেছনের দিকের দেয়াল অর্থাৎ সীমানা দেয়াল ৪.৮৭মি এবং সামনের দেয়াল ২.৪৪মি চওড়া। কক্ষগুলোর সামনে ২.৫ মি. প্রশস্ত টানা বারান্দা আছে। ভেতরের দিকের উন্মুক্ত চত্বরের সাথে প্রতিটি বাহু সিঁড়ি দিয়ে যুক্ত।

বিহারের উত্তর বাহুর মাঝ বরাবর রয়েছে প্রধান ফটক। এর বাইরের ও ভেতরের দিকে একটি করে স্তম্ভ সংবলিত হলঘর এবং পাশে ছোট ছোট কুঠুরি আছে। এই কুঠুরিগুলো বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হত। প্রধান ফটক এবং বিহারের উত্তর-পূর্ব কোনের মাঝামাঝি অবস্থানে আরও একটি ছোট প্রবেশ পথ ছিলো। এখান থেকে ভেতরের উন্মুক্ত চত্বরে প্রবেশের জন্য যে সিঁড়ি ব্যবহৃত হত তা আজও বিদ্যমান। উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিম বাহুতেও অনুরুপ সিঁড়ির ব্যবস্থা ছিলো। এদের মাঝে কেবল পশ্চিম বাহুর সিঁড়ির চিহ্ন আছে। উত্তর বাহুর প্রবেশ পথের সামনে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত একটি পুকুর ছিল। ১৯৮৪-৮৫ সালের খননে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী প্রথম নির্মাণ যুগের পরবর্তী আমলে এ পুকুর খনন করা হয় এবং এসময় এ অংশের সিঁড়িটি ধ্বংস করে দেয়া হয়। পরবর্তীকালে পুকুরটি ভরাট করে দেয়া হয়।

কেন্দ্রীয় মন্দির

[সম্পাদনা]

বিহারের অন্তর্বর্তী স্থানের উন্মুক্ত চত্বরের মধ্যবর্তী স্থানে রয়েছে কেন্দ্রীয় মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ। এখন এটি ২১মি উঁচু হলেও মূল মন্দিরটি কমপক্ষে ৩০ মি উঁচু ছিল। তিনটি ক্রমহ্রাসমান ধাপে ঊর্ধ্বগামী এ মন্দিরের ভূমি-পরিকল্পনা ক্রুশাকার। প্রতিটি ক্রুশবাহুর দৈর্ঘ্য-প্রস্থ ১০৮.৩ মি ও ৯৫.৪৫মি। কুশের মধ্যবর্তী স্থানে আরও কয়েকটি অতিরিক্ত দেয়াল কৌণিকভাবে যুক্ত। মূল পরিকল্পনাটির কেন্দ্রে দরজা-জানালা বিহীন একটি শূন্যগর্ভ চতুষ্কোণাকার প্রকোষ্ঠ আছে। এই প্রকোষ্ঠটি মন্দিরের তলদেশ থেকে চূড়া পর্যন্ত বিস্তৃত। মূলতঃ এ শূন্যগর্ভ প্রকোষ্ঠটিকে কেন্দ্র করেই সুবিশাল এ মন্দিরের কাঠামো নির্মিত। এ কক্ষের চারদিকে মন্দিরের দ্বিতীয় ধাপে চারটি কক্ষ ও মন্ডপ নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলেই মন্দিরটি ক্রুশাকার ধারণ করেছে। মন্দির পরিকল্পনার সমান্তরালে দেয়াল পরিবেষ্টিত প্রদক্ষিণ পথ আছে। অনুরুপভাবে প্রথম ধাপে দ্বিতীয় ধাপের প্রদক্ষিণ পথের দেয়ালের চারদিকে চারটি কক্ষ যুক্ত করে ক্রুশাকৃতি বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে এবং এর সমান্তরালে প্রদক্ষিণ পথ নির্মাণ করা হয়েছে। প্রথম ধাপের সমান্তরালে মন্দিরের ভিত্তিভূমির পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকে দেয়াল তৈরি করা হয়েছে। উত্তর দিকের মধ্যবর্তীস্থলে সিঁড়ি ছিল। পরবর্তিতে এ সিঁড়ি ধ্বংস করে তার উপর কিছু নতুন কাঠামো নির্মাণ করা হয়।

কেন্দ্রীয় শূন্যগর্ভ কক্ষে একটি ইঁট বাধানো মেঝে আবিষ্কৃত হয়েছে। এ মেঝে কক্ষের বাইরে চারদিকের কক্ষ ও মন্ডপের প্রায় একই সমতলে অবস্তথিত। কিন্তু চারদিকের কক্ষগুলো থেকে কেন্দ্রীয় এ কক্ষে যাওয়ার কোন পথ বা দরজা নেই এবং আগে ছিলো,পরে বন্ধ করা হয়েছে এমন কোন প্রমাণও পাওয়া যায় না। কক্ষে মূর্তি রাখার বেদী বা কুলুঙ্গী কিছুই নেই। তাই অনুমিত হয় ফাঁপা এ দন্ডটি মন্দিরের সুউচ্চ দেয়ালগুলোর সুদৃঢ় নির্মাণের জন্য একটি উপকরণ ছিল। মূর্তিগুলো সম্ভবত এর চারদিকের কক্ষগুলোতে স্থাপন করা হয়েছিলো। মন্দিরের শীর্ষদেশের কোন নিদর্শন নেই বিধায় এর ছাদ সম্বন্ধে সুস্পষ্ট কিছু বলা যায় না।

কেন্দ্রীয় শূন্যগর্ভ কক্ষটির দেয়াল নিরাভরণ কিন্তু প্রতিটি ধাপের দেয়ালগুলোর বহির্ভাগ উদগত কার্নিশ, অলংকৃত ইঁট এবং সারিবদ্ধ পোড়ামাটির ফলকচিত্র দ্বারা সজ্জিত। ক্রুশাকার পরিকল্পনার বর্ধিত অংশগুলোর সংযোগস্থলে কার্নিশের প্রান্ত পর্যন্ত পানি নিষ্কাশন নালার ব্যবস্থা আছে। পাথর নির্মিত এ নালাগুলোর মুখ গর্জনরত সিংহের মুখের অবয়বে নির্মিত। ভিত্তিভূমির দেয়ালের বহির্দেশে ৬৩টি কুলুঙ্গি আছে। এর প্রতিটিতে একটি করে পাথরের ভাস্কর্য ছিলো।

উন্মুক্ত অঙ্গন

[সম্পাদনা]

বিহারের মধ্যবর্তী উন্মুক্ত অঙ্গনে আরও কিছু ইমারতের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। এদের মাঝে বেশ কিছু ইমারতের বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। অঙ্গনের দক্ষিণ-পূর্বাংশে ভোজনশালা ও রন্ধনশালা অবস্থিত। এ দুটি স্থাপনার মাঝে ৪৬মি দীর্ঘ ইট বাঁধানো একটি নর্দমা আছে এবং এর কাছে এক সারিতে তিনটি কূপ আছে। এছাড়াও রয়েছে কিছু নিবেদন স্তূপ, প্রশাসনিক ভবন, কেন্দ্রীয় মন্দিরের প্রতিকৃতি ইত্যাদি। নিবেদন স্তূপগুলোর মাঝে দক্ষিণ-পূর্বাংশে অবস্থিত স্তূপটি ১৬কোণ বিশিষ্ট নক্ষত্র আকৃতির। অনুচ্চ একটি মঞ্চের মাঝে সংস্থাপিত এ স্তূপটির সংলগ্ন স্থানে রয়েছে একটি পাকা কূপ। অন্যান্য নিবেদন স্তূপগুলো বিক্ষিপ্তভাবে নির্মিত। চত্বরের উত্তর-পূর্বাংশের ইমারতগুলো সম্ভবত প্রশাসনিক এবং অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হত।

স্নানাগার ও শৌচাগার

[সম্পাদনা]

এটি মূলত বিহারের বাইরের অবস্থিত স্থাপনা। বিহারের দক্ষিণ দেয়াল হতে ২৭মি দক্ষিণে অবস্থিত একটি মঞ্চে অনেকগুলো স্নানাগার ও শৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছিলো। মঞ্চটি পূর্ব-পশ্চিমে ৩২মি দীর্ঘ ও উত্তর-দক্ষিণে ৮.২৩ মি. প্রশস্ত। এটি বিহারের ১০২ নম্বর কক্ষ থেকে একটি উঁচু বাধানো পথ দ্বারা সংযুক্ত। এই পথের নিচে বিহার দেয়ালের সমান্তরালে ১.৯২মি চওড়া এবং ২.৫ মি. উঁচু একটি ভল্টযুক্ত খিলান রয়েছে। সম্ভবত বিহারের বহির্ভাগে অবাধে চলাচল এবং চারদিকে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার জন্য এইরুপ করা হয়েছিলো।

সংলগ্ন স্থাপনাসমূহ

[সম্পাদনা]
আকাশ থেকে তোলা দৃশ্য।

স্নানঘাট

[সম্পাদনা]

বিহারের দক্ষিণ-পূর্ব কোণ থেকে প্রায় ৪৯মি দক্ষিণে প্রায় ৩.৫মি প্রশস্ত স্নানঘাট অবস্থিত। এর দুপাশে প্রতিটি দেয়াল ১.৫মি প্রশস্ত। খাড়াভাবে ইট স্থাপিত করে এ ঘাটটি নির্মাণ করা হয়েছিলো আর এর সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ধাপে বিরাটকার পাথর ছিল। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ঘাটটি ঢালু হয়ে প্রায় ১২ মি. নিচে নেমে গিয়েছে। ঘাটের উপর পুরু বালির স্তর ছিল। এ থেকে অনুমান করা হয়, এ ঘাট জলাশয় বিশেষতঃ নদীর সাথে সম্পৃক্ত ছিল।

গন্ধেশ্বরী মন্দির

[সম্পাদনা]

স্নানঘাট থেকে ১২ মি. পশ্চিমে পূর্বমুখী একটি ইমারত পাওয়া গেছে যাকে স্থানীয় ভাবে বলা হয় গন্ধেশ্বরীর মন্দির। এর দৈর্ঘ্য ৬.৭ মি. ও প্রস্থ ৩.৫ মি.। এর সম্মুখ দেয়ালের ইটে পূর্ণ প্রস্ফুটিত পদ্মসহ বিভিন্ন ধরনের ফুলের নকশা এবং গাঁথুনিতে ব্যবহৃত উপাদান দেখে মনে হয় এদেশে মুসলমান যুগের প্রথম এ ইমারতটি নির্মিত হয়েছিলো। এতে একটি চতুষ্কোণ হলঘর রয়েছে। হলঘরের মধ্যবর্তী স্থানে অষ্টকোণাকৃতি একটি স্তম্ভের নিম্নাংশ পাওয়া যায়। পশ্চিমের উদগত একটি দেয়ালের বাইরের দিকে ১.৪ মি. বাহু বিশিষ্ট বর্গাকার একটি পূজার কক্ষ রয়েছে। তাছাড়া হলঘরের চারটি কুলুঙ্গিতেও মূর্তি স্থাপনের ব্যবস্থা আছে। মন্দিরের সামনে একটি চত্বর আছে। এর মেঝে খাড়া ভাবে স্থাপিত ইট দিয়ে গাঁথা এবং গাঁথুনি পাহাড়পুরের অন্যান্য স্থাপত্য-নিদর্শন থেকে পৃথক।

পাহাড়পুর জাদুঘরে সংরক্ষিত মূর্তি

[সম্পাদনা]
  • বেলে পাথরের চামুণ্ডা মূর্তি
  • লাল পাথরের দণ্ডায়মান শীতলা মূর্তি
  • কৃষ্ণ পাথরের বিষ্ণুর খণ্ডাংশ
  • কৃষ্ণ পাথরের দণ্ডায়মান গণেশ
  • বেলে পাথরের কীর্তি মূর্তি
  • দুবলহাটির মহারাণীর তৈলচিত্র
  • হরগৌরীর ক্ষতিগ্রস্ত মূর্তি
  • কৃষ্ণ পাথরের লক্ষ্মী নারায়ণের ভগ্ন মূর্তি
  • কৃষ্ণ পাথরের উমা মূর্তি
  • বেলে পাথরের গৌরী মূর্তি
  • বেলে পাথরের বিষ্ণু মূর্তি
  • নন্দী মূর্তি
  • কৃষ্ণ পাথরের বিষ্ণু মূর্তি
  • সূর্য মূর্তি
  • কৃষ্ণ পাথরের শিবলিঙ্গ
  • বেলে পাথরের মনসা মূর্তি

জনপ্রিয় মাধ্যমে

[সম্পাদনা]

সোমপুর বিহার নিয়ে বেশকিছু ভিডিও তথ্যচিত্র নির্মাণ হয়েছে। ২০১৬ সালের ঈদুল আযাহায় চ্যানেল আই-তে রাজিব হাসানের রচনা ও পরিচালনায় চাঁদের শহর নামে একটি বিশেষ টেলিফিল্ম প্রচার হয়, যার সম্পূর্ণ গল্প ও চিত্রায়ন সোমপুর বিহারকে ঘিরে হয়।

চিত্রশালা

[সম্পাদনা]
Stairway beside the entrance gate of the Somapura Mahavihara ruins in Paharpur, Bangladesh.
View of the Somapura Mahavihara ruins seen through tree leaves in Paharpur, Bangladesh.
Broken upper section of the Somapura Mahavihara ruins in Paharpur, Bangladesh.
Sunlight falling over the Somapura Mahavihara ruins in Paharpur, Bangladesh.

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. পাহাড়পুর - বাংলাপিডিয়া নিবন্ধ; লেখক: মোঃ শফিকুল আলম
  2. "সোমপুর বিহার : ভুলে যাওয়া এক সভ্যতা"Daily Nayadiganta (নয়া দিগন্ত) : Most Popular Bangla Newspaper। ১ জানুয়ারি ১৯৭০। ২৬ মার্চ ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ মার্চ ২০২৩
  3. Dutt, Sukumar (১৯৮৮) [First published 1962]। Buddhist Monks and Monasteries of India: Their History and Their Contribution to Indian Culture। Delhi: Motilal Banarsidass। পৃ. ৩৭৬। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-২০৮-০৪৯৮-২

আরো পড়ুন

[সম্পাদনা]
  • বাংলাদেশের প্রাচীন কীর্তি, প্রথম খণ্ড , আ কা মো যাকারিয়া, জুন ১৯৮৫
  • পাহাড়পুর- মোঃ মোশারফ হোসেন, মো শফিকুল আলম (প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত)
  • মহাস্থান, ময়নামতি, পাহাড়পুর- ডক্টর নাজিমুদ্দিন আহমেদ
  • বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক সমীক্ষামালা-২, স্থাপত্য- বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]