সময়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
চিরায়ত বলবিদ্যা
\mathbf{F} = \frac{\mathrm{d}}{\mathrm{d}t}(m \mathbf{v})
নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র
চিরায়ত বলবিদ্যার ইতিহাস
একটি পকেট ঘড়ি, সময় পরিমাপ করতে ব্যবহৃত একটি যন্ত্র।

সময় সম্বন্ধে একাধিক স্বতন্ত্র মতবাদ রয়েছে। একটি মতানুসারে সময় মহাবিশ্বের মৌলিক কাঠামোর একটি অংশ যেটি একটি বিশেষ মাত্রা এবং যেখানে ভৌত ঘটনাসমূহ একটি ক্রমধারায় ঘটে। এটি বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি যা আইজ্যাক নিউটনের তত্ত্বসম্মত। এই মতানুসারে সময় একটি ভৌত রাশি, যা পরিমাপযোগ্য।

হিন্দু ধর্মে সময়[সম্পাদনা]

বৃত্তকার সময়[সম্পাদনা]

এই নিয়মিত সময় আমাদের বর্তমান দিনে নিয়ে এসেছে। কিন্তু হিন্দুরা এটাকে অন্যভাবে দেখে। অন্য এক বিশ্বব্রহ্মান্ডের সময় হিসেবে। হিন্দুরা বিশ্বাস করে চারটি যুগে। এগুলো অনেক অনেক সময় ধরে থাকে। এই চার যুগের নাম- সত্য যুগ, ত্রেতা যুগ, দ্বাপর যুগ এবং কলি যুগ। এবং এই বিশ্বের জন্য এই বৃত্ত কোনোদিনও শেষ হয় না এবং শুরুও হয়নি। এটা জন্ম নেয়নি শেষ হবার জন্য আবার শেষ হবে না জন্ম নেবার জন্য।

সময় হচ্ছে ঈশ্বর[সম্পাদনা]

হিন্দুদের সময় সংস্কৃতে কাল বলা হয়। এটা ঈশ্বরের একটা অংশ। এটা শুরু হয় যখন ঈশ্বর সকল কিছুকে চালু করে এবং শেষ হয় যখন তিনি এটা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। এবং এটাই হচ্ছে অচল হবার সময়। ঈশ্বর সময়ের বাহিরে। সময় চিরন্তর এবং সকল সময় চলছে, কিন্তু তিনি এটার মধ্যে থাকেন না। অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যত তার ভিতরেই আছে।

কালচক্র[সম্পাদনা]

ভগবান তৈরি করেছেন সময়ে চক্র অথবা কালচক্র। এটা দিয়ে তিনি ভাগ করেছেন এবং সময়কে একটা গণনার মধ্যে রেখেছেন। ভগবান এই সময় ব্যবহার করে জন্ম এবং মৃত্য দেখিয়েছেন। সেখানে বয়স্ক থেকে মৃত্যু আছে তার সৃষ্টিতে। যখন আমরা সময়ের বাহিরে আসব, তখন আমরা মারা যেতে পারবো না। মৃত্যু দিয়ে কিন্তু শেষ হয়না এই চক্রের কারণ তারপর আসে পরের জন্ম এবং এটা চলতেই থাকে। এটা আবার সত্যি যে এই বিশ্বব্রহ্মান্ড নিজে একটা রিদমে চল।

হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী, সকল মৃত্যুপ্রাপ্ত ব্যক্তি ৪টি সময়ের মধ্যে দিয়ে যায়। এই চক্র পুর্ণ হয় যখন এক কল্প শেষ হয়। এক কল্প ১০,০০০ ঐশ্বরিক বৎসর অথবা ১০,০০০,০০০ বছর। এটাকে চার ভাগ করে তৈরি হয়েছে চারটি যুগ।

এই চার যুগের নাম, সত্য যুগ, ত্রেতা যুগ, দ্বাপর যুগ এবং কলি যুগ। সত্য যুগ চলেছে ৪০০০ ঐশ্বরিক বছর ধরে। তারপরে ত্রেতা ৩০০০ ঐশ্বরিক বৎসর। দ্বাপর চলে ২০০০ ঐশ্বরিক বৎসর এবং কলি চলবে ১০০০ ঐশ্বরিক বৎসর ধরে। প্রথম তিনটি চলে গিয়েছে। এই চারটি ভাগ কিসের জন্য করা হয়েছে তা ঠিক বলা যায় না। কারণ বৈজ্ঞানিক মতে এটা সত্যি হিসেবে প্রমাণ হয়নি।

এই চার ভাগে দেখা গিয়েছে কিভাবে মানুষের পরিবর্তন হয়েছে। তাদের নিজেদেরকে ভুলে গিয়ে তারা পাপের দিকে ধাবিত হয়েছে। হিন্দু ধর্মের বিশ্বাস যে পৃথিবীতে ৫ প্রকারের মানুষের শরীর। এগুলো হচ্ছে- অন্নমায়াস্ক, প্রাণমায়াস্ক, মনমায়াস্ক, ভিগনামায়াস্ক এবং আনন্দমায়াস্ক (annamayakosa, pranamayakosa, manomayakosa vignanamayakosa, anandamayakosa) যেগুলোর মানে-

  • অন্নমায়াস্ক- অমার্জিত শরীর
  • প্রাণমায়াস্ক- নিশ্বাসের শরীর
  • মনমায়াস্ক- মানসিক শরীর
  • ভিগনামায়াস্ক- বুদ্ধিমান শরীর
  • আনন্দমায়াস্ক- সুখি শরীর

আরেক মতে জানতে পারা যায় যে সত্য যুগে পুর্ণ সত্য ছিলো। ত্রেতাতে ১/৪ হারিয়েছে। তারপর দ্বাপরে ১/২ হারিয়েছে এবং কলিতে ১/৪ বাকি আছে। পাপ দিয়ে পুর্ণ করা হবে এই যুগে।

একক[সম্পাদনা]

সময়ের একক
একক মানদণ্ড মন্তব্য
ইউক্টোসেকেন্ড ১০−২৪ এস (10−24 s)
জেপ্টোসেকেন্ড ১০−২১ এস (10−21 s)
এটোসেকেন্ড ১০−১৮ এস (10−18 s) ক্ষুদ্রতম সময় যা বর্তমানে প্রয়োগ করা হয়
ফেমটোসেকেন্ড ১০−১৫ এস (10−15 s) দ্রুতগামী লেজাররশ্মিতে প্রয়োগ করা হয়
পিকোসেকেন্ড ১০−১২ এস (10−12 s)
ন্যানোসেকেন্ড ১০−৯ এস (10−9 s)
মাইক্রোসেকেন্ড ১০−৬ এস (10−6 s)
মিলিসেকেন্ড ০.০০১ এস (0.001 s)
সেকেন্ড ১ এস (1 s) এসআই ভিত্তিতে একক
মিনিট ৬০ সেকেন্ড
ঘন্টা ৬০ মিনিট
দিন ২৪ ঘন্টা
সপ্তাহ ৭ দিন এর আরেক নাম 'সেননাইট' (sennight)
পক্ষ ১৪ দিন ২ সপ্তাহ (বাংলা সংস্কৃতিতে ১৫ দিন)
চান্দ্র মাস ২৭.২ - ২৯.৫ দিন চান্দ্র মাসের অনেক ধরণের সংজ্ঞা রয়েছে
মাস ২৮ থেকে ৩১ দিন বাংলা সংস্কৃতিতে শ্রাবণ মাস ৩২ দিন
ফিসক্যাল ইয়ার বা ত্রি-মাস ৩ মাস
অর্ধ-বৎসর ৬ মাস
বছর ১২ মাস
সাধারণ বছর ৩৬৫ দিন ৫২ সপ্তাহ + ১ দিন
অধিবর্ষ ৩৬৬ দিন ৫২ সপ্তাহ + ২ দিন
ট্রপিক্যাল ইয়ার ৩৬৫.২৪২১৯ দিন[১] গড়
গ্রীগোরিয়ান বর্ষ ৩৬৫.২৪২৫ দিন[২] গড়
অলিম্পিয়াড চতুঃবর্ষীয় চক্র
লাসট্রাম ৫ বছর কাল এর অন্য নাম পেনটাড বা লাষ্টার
দশক ১০ বছর কাল
যুগ ১২ বছর কাল
ইন্ডিকশন ১৫ বছরের সময়কাল
জেনারেশন ১৭ - ৩৫ বছর প্রায়
জয়ন্তী (বাইবেলে বর্ণিত)]] ৫০ বছর হীরক জয়ন্তীঃ ৬০ বছর, রজত-জয়ন্তীঃ ২৫ বছর
শতাব্দী বা শতক ১০০ বছর
মিলেনিয়াম ১,০০০ বছর
এক্সাসেকেন্ড ১০১৮ এস (1018 s) অনুমিত করা হয় যে ৩২ বিলিয়ন বছর, দ্বিগুণেরও বেশী সময়
বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের বর্তমানে বয়স থেকে
বিশ্বতত্ত্বীয় দশক ভ্যারিজ বিগ ব্যাং সংজ্ঞার উপর নির্ভরশীল

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. McCarthy, Dennis D.; Seidelmann, P. Kenneth (2009)। Time: from Earth rotation to atomic physics। Wiley-VCH। পৃ: 18। আইএসবিএন 3-527-40780-4 , Extract of page 18
  2. Jones, Floyd Nolen (2005)। The Chronology Of The Old Testament (15th সংস্করণ)। New Leaf Publishing Group। পৃ: 287। আইএসবিএন 0-890-51416-X , Extract of page 287