কংস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

কংস দুষ্ট প্রকৃতির প্রজাপীরনকারী ভোজবংশীয় রাজা ছিলেন। তিনি মগধের রাজা জরাসন্ধের দুই কন্যা অস্তিপ্রাপ্তিকে বিবাহ করেন। তিনি জরাসন্ধের সহায়তায় বৃদ্ধ পিতা রাজা উগ্রসেনকে বন্দি করে মথুরার রাজা হন। এসময় কংসের বোন দেবকীর সঙ্গে বসুদেবের বিবাহ হয়। বিবাহে উপস্থিত থাকা কালে তিনি দৈববাণী শুনতে পান যে দেবকীর অষ্টম সন্তান তাকে বধ করবে। তাই তিনি দেবকী ও বাসুদেবকে কারাসুদ্ধ করেন। কারাগারে এঁদের পর পর সাতটি সন্তান হয়, তাদের সকলকে কংস হত্যা করেন। ভাদ্র মাসের কৃষ্ণা অষ্টমী তিথিতে মধ্যরাতে কৃষ্ণ নামে অষ্টম পুত্রের জন্ম হয়। বংশ রক্ষার জন্য বসুদেব তক্ষুনি কৃষ্ণকে গোকুলে গোপরাজ নন্দের ঘরে গোপনে রেখে দেন। সেই রাতেই নন্দের স্ত্রী যশোদার এক কন্যা যোগমায়া জন্মগ্রহণ করে। বসুদেব কৃষ্ণকে যশোদার ঘরে রেখে সদ্যোজাত কন্যা যোগ্মায়াকে নিয়ে মথুরায় প্রত্যাবর্তন করেন। কংস তখন যোগমায়াকে পাথরে নিক্ষেপ করে হত্যা করতে আদেশ দেন, কিন্তু যোগমায়া নিক্ষিপ্ত অবস্থায় আকাশে উঠে গিয়ে বলেন, তোমারে বধিবে যে, গোকুলে বাড়িছে সে

কংস কৃষ্ণকে অনুসন্ধান করে হত্যা করার অনেক চেষ্টা করেন, কিন্তু সব ব্যর্থ হয়ে যায়। এর পর কংস যজ্ঞ করে কৌশলে কৃষ্ণকে মথুরায় আনয়ন করেন। এই অনুষ্ঠানে কংসের মল্লযোদ্ধারা কৃষ্ণের হাতে নিহত হয়। এতে কংস অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে দুই ভাই কৃষ্ণ ও বলরামকে নির্বাশনে পাথাবার আদেশ দেন। এছাড়া তিনি নন্দকে বন্দি এবং উগ্রসেন ও বসুদেবকে হত্যা করার নির্দেশ দেন। এই আদেশ শোনার সঙ্গে সঙ্গে কৃষ্ণ কংসকে আক্রমণ করেন এবং সিংহাসন থেকে ছূঁড়ে মেরে হত্যা করেন। কংসের আট ভাই বাধা দিলে বলরাম তাদের হত্যা করেন। পরে কৃষ্ণ মাতামহ উগ্রসেনকে সিংহাসনে বসিয়ে মথুরায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন।