কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ একটি পৌরাণিক যুদ্ধ মহাভারতে যার বর্ণনা আছে। একই পরিবার উদ্ভূত পাণ্ডব ও কৌরব শিবিরের মধ্যে। এই যুদ্ধের বাণী হলো ধর্মের জয় ও অধর্মের বিনাশ। পাণ্ডবরা ন্যায়, কর্তব্য ও ধর্মের পক্ষ। অন্যদিকে কৌরবরা অন্যায়, জোর-জবরধস্তি ও অধর্মের পক্ষ। কথিত আছে খ্রিস্টপূর্ব ৫০০ - ৬০০ অব্দে বর্তমান ভারতের হরিয়ানায় এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ১৮দিন।

কাহিনী[সম্পাদনা]

এ যুদ্ধের কাহিনীর শুরু রাজসিংহাসনের অধিকার নিয়ে। পিতৃসত্য পালনের স্বার্থে শান্তনুর পুত্র দেবব্রত আজীবন বিবাহ করেন নি, রাজসিংহাসনে বসেন নি। এবম্বিধ প্রতিজ্ঞার শান্তনুর নাম হয়েছিল ভীষ্ম। ভীষ্ম রাজদণ্ড গ্রহণ না করায় তার কনিষ্ঠ ভ্রাতা বিচিত্রবীর্য রাজ্য পরিচালনা করতেন। বিচিত্রবীর্যের দুই পুত্রের নাম ধৃতরাষ্ট্রপাণ্ডু।, বিচিত্রবীর্যের উত্তরাধিকারী ছিলেন জ্যেষ্ঠ ধৃতরাষ্ট্র। কিন্তু তিনি ছিলেন জন্মান্ধ। বিচিত্রবীর্যের পর সিংহাসন আরোহন করেন পাণ্ডু। কিন্তু পাণ্ডুর অকালমৃত্যু হলে প্রশ্ন ওঠে কে হবে পরবর্তী রাজা : পাণ্ডুর পুত্র, না ধৃতরাষ্ট্রের পুত্র। এই প্রশ্ন ঘিরে পারিবারিক বিবাদ নানা ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে পর্যবসিত হয় এবং যুদ্ধে জয়ী হয় পাণ্ডব পক্ষ। রাজদণ্ড লাভ করেন পাণ্ডুপুত্র যুধিষ্ঠির।, এ যুদ্ধে ধৃতরাষ্টের জ্যেষ্ঠপুত্র দুর্যোধন সহ একশত পুত্রের জীবনাবসান হয়। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের শ্রীকৃষ্ণ অস্র ধারণ করেনি তবে তিনি পাণ্ডবদের পক্ষে অর্জুনের যুদ্ধরথের সারথী হন। আবার অন্য দিকে কুরুপক্ষকে তিনি নারায়ণী সেনা দিয়ে সাহায্য করেন।

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে ভীষ্ম কৌরব সেনাবাহিনীর সেনাপতি নিয়োজিত হন। কর্ণ দ্রৌপদীর সঙ্গে অশ্লীল আচরণ করেছিলেন এই অভিযোগে ভীষ্ম কর্ণকে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধা দেন। আসলে তিনি কুন্তীর কন্যাবস্থায় পুত্রলাভের কথা জানতেন। তিনি চান নি কর্ণ আপন ভাইদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করুক। যুদ্ধের একাদশতম দিনে ভীষ্ম শরশয্যায় শায়িত হন এবং ত্রয়োদশ দিনে দ্রোণ সেনাপতি হন। চতুর্দশ দিন শেষ হয় চক্রব্যূহে অর্জুনপুত্র অভিমন্যুর মৃত্যু দিয়ে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]