হুগলী জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(হুগলী থেকে পুনর্নির্দেশিত)
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
হুগলী জেলা
হুগলী
পশ্চিমবঙ্গের জেলা
পশ্চিমবঙ্গে হুগলীর অবস্থান
পশ্চিমবঙ্গে হুগলীর অবস্থান
দেশভারত
রাজ্যপশ্চিমবঙ্গ
প্রশাসনিক বিভাগবর্ধমান
সদরদপ্তরচুঁচুড়া
সরকার
 • লোকসভা কেন্দ্রআরামবাগ (১টি বিধানসভা কেন্দ্র পশ্চিম মেদিনীপুরে ), হুগলি, শ্রীরামপুর (২টি বিধানসভা কেন্দ্র হাওড়ায়)
 • বিধানসভা আসনহরিপাল, তারকেশ্বর, পুরশুড়া, আরামবাগ (ত.জা.), গোঘাট(ত.জা.), খানাকুল, সিঙ্গুর, চন্দননগর, চুচুঁড়া, বলাগড় (ত.জা.), পাণ্ডুয়া, সপ্তগ্রাম, ধনেখালি(ত.জা.), উত্তরপাড়া, শ্রীরামপুর, চাঁপদানি, চণ্ডীতলা, জাঙ্গীপাড়া
জনসংখ্যা (২০০১)
 • মোট৫০,৪১,৯৭৬
জনতাত্ত্বিক
 • সাক্ষরতা৭৫.৫৯ শতাংশ
 • লিঙ্গানুপাতপুরুষ ৫১.৩৫ শতাংশ, মহিলা ৪৮.৬৫ শতাংশ
প্রধান মহাসড়কNH 2, NH 6, Grand Trunk Road
গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত১,৫০০ মিমি
ওয়েবসাইটদাপ্তরিক ওয়েবসাইট

হুগলী জেলা ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্গত বর্ধমান বিভাগের একটি জেলা। হুগলী নদীর নামে এর নামকরণ করা হয়েছে। জেলাটির সদর চুঁচুড়া-তে অবস্থিত। জেলাটির চারটি মহকুমা রয়েছে: চুঁচুড়া সদর, চন্দননগর, শ্রীরামপুর, ও আরামবাগ। 0 চুু

ব্যান্ডল গির্জা

হুগলী জেলার ভাষাসমূহ ২০১১ [১].[২]

  বাংলা (৮৭.৪৯%)
  হিন্দী (৭.৭৭%)
  উর্দু (১.৭২%)
  সাঁওতালী (২.৩৭%)
  অন্যান্য (০.৬৫%)
হুগলী জেলা মানচিত্র.jpg

চুঁচুড়া শহরের বর্তমানে হুগলি ডিস্ট্রিক্ট এর সবচেয়ে বড় হসপিটাল বর্তমান.

ইতিহাস[সম্পাদনা]

বর্ধমানের দক্ষিণাংশকে বিচ্ছিন্ন করে ১৭৯৫ সালে ইংরেজরা প্রশাসনিক কারণে হুগলি জেলা তৈরি করে ছিল। হাওড়া তখনও হুগলী জেলার অংশ ছিল। জেলা বলতে কতগুলি থানার সমষ্টি। মহকুমার ধারণা তখনও জন্ম নেয়নি। এই জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে হাওড়া স্বতন্ত্র জেলা হিসাবে দেখা দিয়েছিল ১৮৪৩ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারি। ১৮৭২ সালের ১৭ই জুন ঘাটাল ও চন্দ্রকোনা থানা মেদিনীপুরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল।

হুগলী ইমামবাড়া

প্রাচীনকালে সুহ্ম বা দক্ষিণ রাঢ়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল হুগলি জেলা। নদী, খাল, বিল অধ্যুষিত এই অঞ্চল ছিল কৈবর্ত ও বাগদিদের আবাসস্থল। এদের উল্লেখ রয়েছে রামায়ন, মহাভারত, মনুসংহিতা এবং পঞ্চম অশোকস্তম্ভ লিপিতে। মৎস্য শিকারই ছিল এদের প্রধান জীবিকা।

১৪৯৫ সালে বিপ্রদাস পিল্লাই রচিত মনসামঙ্গল কাব্যে হুগলী নামের উল্লেখ দেখা যায়। এর থেকে বোঝা যায় জেলার নামকরণ বিদেশীকৃত নয়। কারণ এই রচনা কালের ২২ বছর পর পর্তুগিজরা বাংলায় প্রবেশ করেছিল। ১৫৯৮ সালে রচিত আবুল ফজলের আইন-ই-আকবরি গ্রন্থেও হুগলি নামের স্পষ্ট উল্লেখ আছে। ত্রিবেনীতে অবস্থিত জাফর খাঁর মসজিদ ও তার মাদ্রাসায় উল্লিখিত প্রতিষ্ঠা তারিখ থেকে অনুমান করা যায় ১২৯৮ সালে জেলার উত্তারংশ মুসলমান শাসনভুক্ত হয়েছিল। ত্রিবেনী ও সাতগাঁ(সংস্কৃতে সপ্তগ্রাম)পরে ছিল স্থানীয় মুসলমান শাসকদের সদর কার্যালয়। সাতগাঁয়ে এই সময় কার একটা টাঁকশাল ছিল। ১৫১৭ সালে পর্তুগিজরা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে বঙ্গদেশে প্রবেশ করে। ১৫৩৬ সালে সুলতান মাহমুদ শাহের দেওয়া সনদের বলে পর্তুগিজরা ব্যবসা শুরু করে সপ্তগ্রামে। ষোড়শ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে পলি জমে সরস্বতী নদীর নাব্যতা নষ্ট হয়ে ভাগীরথীর খাতে এই প্রবাহ পরিবর্তিত হলে পর্তুগিজরা ভাগীরথীর তীরে হুগলি বন্দর গড়ে তোলে। ১৮২৫ সালে ওলন্দাজ ও ১৬৩৮ ইংরেজ এই বন্দরে ব্যবসা শুরু করেছিল। ওলন্দাজরা পরে চুচুঁড়ার দখল পায় নবাবদের আনুকূল্যে। ১৮২৫ সালের ৭ই মে চুচুঁড়া ইংরেজদের দখলে আসে। চুচুঁড়ার নিকটবর্তী চন্দননগর ছিল ফরাসীদের দখলে। ১৮১৬ সালের পর থেকে চন্দননগর নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে ফরাসীদের হাতে ছিল। ১৯৫০ সালের ২রা মে এই শহর ভারত সরকারের কর্তৃত্বাধীন আসে। আর শ্রীরামপুর নগরী ছিল ১৭৫৫ থেকে ১৮৪৫ পর্যন্ত দিনেমারদের দখলে।

অর্থনীতি ও শিল্পে উন্নত হলেও জেলার ৫০ % মানুষ কৃষির উপর নিরভারশীল। সমগ্র আরামবাগ মহকুমা ও জাঙ্গীপারা, পাণ্ডুয়া, ধনিয়াখালি এগুলি কৃষি ভিত্তিক। এছাড়াও সপ্তগ্রাম বর্তমানে আদিসপ্তগ্রাম, ব্যান্ডেল ও হুগলী ছিল পোর্তুগিজদের উপনিবেশ।

ভাষা[সম্পাদনা]

পশ্চিমবঙ্গকে পাঁচটি উপভাষা অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। সমগ্র হুগলি জেলা রাঢ়ী উপভাষা অঞ্চলের মধ্যে অবস্থান করে। বর্ধমান, বীরভূম, হাওড়া, নদিয়া, কলকাতা, মুর্শিদাবাদ জেলা জুড়ে রাঢ়ী অঞ্চলের বিস্তার। স্থানভেদে রাঢ়ী উপভাষার রূপভেদ আছে। রাঢ়ীকে মূল দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে – পশ্চিম রাঢ়ী ও পূর্ব রাঢ়ী। হুগলি জেলা পূর্ব রাঢ়ীর অন্তর্গত। পূর্ব রাঢ়ীর উপরেই বাংলা মান্যভাষা প্রতিষ্ঠিত। উপভাষা যেমন জেলা ভেদে ভিন্নতা চোখে পড়ে, তেমনি জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মধ্যে পার্থক্য লক্ষ করা যায়। রাঢ়ীর বিভাষা (Sub-dialect) অঞ্চল হল হুগলি। মৌখিক উপভাষা স্থানভেদে যেমন ভিন্ন হয় তেমনি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থানের কারণে আলাদা হতে পারে। হুগলির সীমানায় বর্ধমান, বাঁকুড়া, নদীয়া, উত্তর ২৪ পরগণা, মেদিনীপুর ও হাওড়া জেলা অবস্থান করছে, তাই ওই সমস্ত জেলার ভাষার প্রভাব সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলিতে পড়েছে। আদীবাসী অধুষ্যিত অঞ্চলে সাঁওতাল, কোঁড়া, মুণ্ডারি ভাষা প্রচলিত। শহরাঞ্চলে হিন্দিভাষীর বসবাস দেখা যায়।

গ্রীয়ারসন সাহেব প্রথম বাংলা উপভাষা অঞ্চলকে জরিপ করেন। তিনি সমগ্র বাংলাকে দুটি ভাগে ভাগ করেন। Western ও Estern। প্রথমটির কেন্দ্র কলকাতা, দ্বিতীয়টির ঢাকা। হুগলি নদীর তীরবর্তী হুগলি জেলার ভাষাকেই পশ্চিমা উপভাষার আদর্শ রূপ বলে অভিমত জানিয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ-পশ্চিম ভাগে বর্ধমান বিভাগের অন্তর্গত একটি বিস্তৃত সমভূমি অঞ্চলের নাম রাঢ়। এর সীমানা পশ্চিমে ছোটনাগপুর মালভূমির প্রান্তভাগ থেকে পূর্বে গাঙ্গেয় বদ্বীপ অঞ্চলের পশ্চিম সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত। এই অঞ্চল ঈষৎ ঢেউ খেলানো ও এর ঢাল পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে।

‘রাঢ়’ শব্দটি এসেছে সাঁওতালি ভাষার ‘রাঢ়ো’ শব্দটি থেকে, যার অর্থ ‘পাথুরে জমি’। অন্যমতে, গঙ্গারিডি রাজ্যের নাম থেকে এই শব্দটি উৎপন্ন। সুপ্রাচীনকাল থেকেই এই অঞ্চল বাংলার সাংস্কৃতিক জগতের অন্যতম প্রধান অবদানকারী।

প্রাচীন সংস্কৃত সাহিত্যেও রাঢ়ের উল্লেখ পাওয়া যায়। মহাভারতে সুহ্ম ও তাম্রলিপ্তকে পৃথক করে দেখা হলেও গুপ্ত শাসনে রচিত দণ্ডীর ‘দশকুমারচরিত’-এ বলা হয়েছে ‘সুহ্মেষু দামলিপ্তাহ্বয়স্য নগরস্য’। অর্থাৎ দামলিপ্ত (তাম্রলিপ্ত) সুহ্মেরই একটি নগর ছিল। ধোয়ীর পবনদূত কাব্যে রাঢ় প্রসঙ্গে বলা হয়েছে – গঙ্গাবীচিপ্লুত পরিসরঃ সৌধমালাবতংসো বাস্যতুচ্চৈ স্তুয়ি রসময়ো বিস্ময়ং সুহ্ম দেশঃ। অর্থাৎ, ‘যে-দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল গঙ্গাপ্রবাহের দ্বারা প্লাবিত হয়, যে দেশ সৌধশ্রেণীর দ্বারা অলংকৃত, সেই রহস্যময় সুহ্মদেশ তোমার মনে বিশেষ বিস্ময় এনে দেবে।’ পরবর্তীকালে রচিত ‘দিগ্বিজয়-প্রকাশ’-এ বলা হয়েছে – গৌড়স্য পশ্চিমে ভাবে বীরদেশস্য পূর্বতঃ। দামোদরোত্তরে ভাগে সুহ্মদেশঃ প্রকীর্তিতঃ। অর্থাৎ, গৌড়ের পশ্চিমে, বীরদেশের (বীরভূম) পূর্বে, দামোদরের উত্তরে অবস্থিত প্রদেশই সুহ্ম নামে খ্যাত।

এই সব বর্ণনার প্রেক্ষিতে বর্তমান হুগলি জেলাকেই প্রাচীন রাঢ়ের কেন্দ্রস্থল বলে অনুমান করা হয় এবং এর সীমানা বীরভূম থেকে মেদিনীপুর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল বলে ধারণা।

হুগলি জেলার ভাষায় ক্রিয়ার সাথে 'উনি'বা 'লুম'প্রত্যয় যুক্ত হতে দেখা যায়। যেমন - খাবুনি,যাবুনি,করবুনি,শোবুনি,খেলুম, গেলুম ইত্যাদি। কখনো ক্রিয়ার সংক্ষিপ্ত রূপের প্রয়োগ ঘটে। যেমন - চললাম> চললুম> চননু,বননু,করনু ইত্যা। কিছু শব্দ প্রয়োগ এখানের আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরেছে। যেমন - বাকুল(বাড়ির অন্দরমহল),মোদ্দার (দরজার চৌকা), লাদ (গরু বা মহিষের বিষ্ঠা),পাট-সারা (কাজ শেষ করা) ইত্যাদি।

মহকুমা[সম্পাদনা]

Subdivision of Hooghly District.jpg

হুগলি জেলা নিম্নলিখিত প্রশাসনিক মহকুমাগুলিতে বিভক্ত:[৩]

মহকুমা সদর
আয়তন
কিমি
জনসংখ্যা
(২০১১)
গ্রামীণ
জনসংখ্যা %
(২০১১)
শহরাঞ্চলীয়
জনসংখ্যা %
(২০১১)
চুঁচুড়া হুগলি-চুঁচুড়া ১,১৪৮.১৫ ১,৬৫৭,৫১৮ ৬৮.৬৩ ৩১.৩৭
চন্দননগর চন্দননগর ৫০৮.০৮ ১,১২৭,১৭৬ ৫৮.৫২ ৪১.৪৮
শ্রীরামপুর শ্রীরামপুর ৪২২.৪৫ ১,৪৬৯,৮৪৯ ২৬.৮৮ ৭৩.১২
আরামবাগ মহকুমা আরামবাগ ১,০৫৮.৮৭ ১,২৬৪,৬০২ ৯৪.৭৭ ৫.২৩
হুগলি জেলা চুঁচুড়া ৩,১৪৯.০০ ৫,৫১৯,১৪৫ ৬১.৪৩ ৩৮.৫৭

জনপরিসংখ্যান[সম্পাদনা]

হুগলি জেলায় ধর্ম (২০১১)[৪]
হিন্দুধর্ম
  
৮২.৮৯%
ইসলাম
  
১৫.৭৭%
খ্রিস্টধর্ম
  
০.১৩%
শিখধর্ম
  
০.০৫%
বৌদ্ধধর্ম
  
০.০৩%
জৈনধর্ম
  
০.০৪%
অন্যান্য
  
১.১০%

হুগলি জেলার ভাষা (২০১১)[১][২]

  বাংলা (৮৭.৪৯%)
  হিন্দি (৭.৭৭%)
  উর্দু (১.৭২%)
  সাঁওতালি (২.৩৭%)
  অন্যান্য (০.৬৫%)

বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

এই তালিকাটি সেই সকল বিশিষ্ট ব্যক্তিদের যাঁরা অথবা যাঁদের পূর্বপুরুষ হুগলী জেলার মানুষ:

  • হাজি মুহাম্মদ মহসিন-জন্ম ১৭৩২ মৃত্যু ১৮১২ । বাংলার একজন জনহিতৈষী, দানবীর ও একজন শিক্ষানুরাগি ব্যক্তি ।
  • কানাইলাল দত্ত- জন্মস্থান চন্দননগর৷ তিনি ভারতের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব এবং অগ্নিযুগের বিপ্লবী ছিলেন।
  • রামগোপাল ঘোষ- তাঁর পূর্বপুরুষের আদিবাস ছিল মগরার নিকট বাগাটিতে৷ তিনি ছিলেন ইয়ং বেঙ্গল গ্রুপের একজন নেতা, একজন সফল ব্যবসায়ী, বাগ্মী ও একজন সমাজ সংস্কারক। তাঁকে "ভারতের ডেমোস্থেনেস" বলা হয়। রামজীবন ঘোষ জন এলিয়ট ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুনকে মেয়েদের স্কুল প্রতিষ্ঠায় সাহায্যকারী অন্যতম ব্যক্তি ছিলেন।
  • আশাপূর্ণা দেবী- তাঁর পূর্বপুরুষের আদিবাস বেগমপুর ৷ তিনি ছিলেন বিশিষ্ট ভারতীয় বাঙালী ঔপন্যাসিক, ছোটোগল্পকার ও শিশুসাহিত্যিক।
  • ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়- জন্মস্থান খন্যান৷ তিনি একজন বাঙালী ধর্মপ্রচারক, তিনি বেশ কয়েকটি পত্রিকা প্রকাশ ও পরিচালনা করেছিলেন । তিনি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ছিলেন ।
  • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়- তাঁর পূর্বপুরুষরা হুগলী জেলার দেশমুখো গ্রামের মানুষ ছিলেন৷ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন উনিশ শতকের বিশিষ্ট বাঙালী ঔপন্যাসিক। বাংলা গদ্য ও উপন্যাসের বিকাশে তার অসীম অবদানের জন্যে তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অমরত্ব লাভ করেছেন। তাঁকে সাধারণত প্রথম আধুনিক বাংলা ঔপন্যাসিক হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে গীতার ব্যাখ্যাদাতা হিসাবে, সাহিত্য সমালোচক হিসাবেও তিনি বিশেষ খ্যাতিমান। তিনি বাংলা ভাষার আদি সাহিত্যপত্র বঙ্গদর্শনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। তিনি ছদ্মনাম হিসেবে "কমলাকান্ত" নামটি বেছে নিয়েছিলেন। তাঁকে "বাংলা উপন‍্যাসের জনক" বলা হয়।
  • রামনিধি গুপ্ত- জন্ম ত্রিবেণীর নিকটে চাঁপতায় ৷ তিনি সাধারণত নিধু বাবু নামে পরিচিত, বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের একজন মহান সংস্কারক। তাঁর পূর্ব পর্যন্ত টপ্পা এক ধরনের অরুচিকর গান হিসেবে বিবেচিত হতো । তার গানের ভক্তরা অধিকাংশই সেকালের ধনাঢ্য সম্ভ্রান্ত ছিলেন। পরবর্তীকালে, ভগিনী নিবেদিতা তার লেখা গানের প্রভূত প্রশংসা করেছিলেন। এদেশে তিনিই প্রথম ইংরেজি অভিজ্ঞ কবিয়াল এবং প্রথম স্বাদেশিক সঙ্গীতের রচয়িতা।
  • দ্বারকানাথ মিত্র- জনাই-এর বিখ্যাত মিত্র পরিবারের সন্তান৷ তিনি কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী ও বিচারপতি ছিলেন৷
  • প্যারীচাঁদ মিত্র- তাঁর পূর্বপুরুষের আদিনিবাস ছিল হুগলী জেলায়৷ তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ঔপন্যাসিক৷ তাঁর ছদ্মনাম "টেকচাঁদ ঠাকুর"৷
  • নবগোপাল মিত্র- কোন্নগর এর বিখ্যাত মিত্র বংশের সন্তান৷ তিনি ছিলেন একাধারে একজন ভারতীয় নাট্যকার, কবি, প্রাবন্ধিক, দেশপ্রেমিক এবং অন্যদিকে হিন্দু জাতীয়তাবাদের প্রতিষ্ঠাকর্তাদের মধ্যে অন্যতম। হিন্দু জাতীয়তাবাদ সৃষ্টির পটভূমিকায় যে অগ্রগামী প্রতিষ্ঠান রাজনারায়ণ বসু উদ্বোধন করেছিলেন, সেই হিন্দু মেলা তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এছাড়া তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ন্যাশনাল প্রেস, ন্যাশনাল পেপার, ন্যাশনাল সোসাইটি, ন্যাশনাল স্কুল, ন্যাশনাল থিয়েটার, ন্যাশনাল স্টোর, ন্যাশনাল জিমন্যাসিয়াম এবং ন্যাশনাল সার্কাস; এগুলোর জন্যে তাঁর ডাকনাম দেওয়া হয়েছিল 'ন্যাশনাল মিত্র'।
  • ভূদেব মুখোপাধ্যায় - আদিবাস খানাকুল থানার অন্তর্গত নতিবপুর৷ তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট লেখক এবং শিক্ষাবিদ।
  • রাজা রামমোহন রায়- পৈতৃক নিবাস হুগলী জেলার রাধানগর৷ তিনি ছিলেন ব্রাহ্মসভার প্রতিষ্ঠাতা এবং বাঙালী দার্শনিক। তৎকালীন রাজনীতি, জনপ্রশাসন, ধর্মীয় এবং শিক্ষাক্ষেত্রে তিনি উল্লেখযোগ্য প্রভাব রাখতে পেরেছিলেন। তিনি সবচেয়ে বেশি বিখ্যাত হয়েছেন, সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত করার প্রচেষ্টার জন্য। তাঁকে "ভারতীয় নবজাগরণের জনক" বলা হয়৷
  • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর- তাঁর পূর্বপুরুষের আদিবাস হুগলী জেলার অন্তঃপাতী বনমালিপুর গ্রাম৷ তিনি উনবিংশ শতকের একজন বিশিষ্ট বাঙালী শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক ও গদ্যকার।
  • এয়ার মার্শাল সুব্রত মুখার্জী- তাঁর আদিবাস হুগলী জেলায়৷ তিনি ছিলেন ভারতীয় হিসাবে দেশের বিমান বাহিনীর প্রথম চীফ অব দ্যা এয়ার স্টাফ বা বিমান বাহিনীর প্রধান কর্মকর্তা; তাঁর পূর্বের প্রধানগণ সবাই ব্রিটিশ ছিলেন। তিনি সতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় এর পুত্র৷
  • স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়- তাঁর পূর্বপুরুষের গ্রাম জিরাট৷ তিনি "বাংলার বাঘ" নামে খ্যাত৷ তিনি ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এর ভাইস-চ্যান্সেলর৷
  • শিবচন্দ্র দেব- জন্মস্থান কোন্নগর৷ তিনি নব্যবঙ্গ দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন৷ তিনি কোন্নগরের প্রভূত উন্নতি করেন৷ তাঁর প্রচেষ্টায় কোন্নগরে রেলওয়ে স্টেশন, পোস্ট অফিস, বাঙলা বিদ্যালয়, ইংরাজী বিদ্যালয়, ডিসপেন্সারী, ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়৷
  • নীলমণি দাশ- আদিনিবাস হুগলী জেলায়৷ তিনি ছিলেন একজন খ্যাতনামা বাঙালী ব্যায়ামবিদ। হিন্দু মহাসভার একটি অনুষ্ঠানে তিনি দেহসৌষ্ঠব প্রদর্শন, লোহা বাঁকানো, বিম ব্যালেন্সিং প্রভৃতি খেলা দেখান এবং "আয়রন-ম্যান" (লৌহমানব) উপাধি লাভ করেন৷ তিনি শারীরশিক্ষক হিসাবে ক্যালকাটা অ্যাকাডেমি, ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট, অল ইন্ডিয়া রেডিও সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি বেশ কিছু বই এবং চার্ট লিখেছিলেন। তার প্রতিষ্ঠিত সংস্থা "আইরনম্যান হেলথ হোম"৷
  • নগেন্দ্রনাথ বসু- জন্মস্থান মাহেশ , শ্রীরামপুর৷ তিনি বাংলা বিশ্বকোষের সংকলক, বাংলা ভাষায় প্রথম বিশ্বকোষ এবং হিন্দিতে প্রথম বিশ্বকোষের লেখক, পাশাপাশি প্রত্নতাত্ত্বিক ও ইতিহাসবিদও ছিলেন।
  • বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় - তৎকালীন বিহারে জন্মগ্রহণ করলেও তাঁর আদিবাস হুগলী জেলার শিয়াখালা৷ তিনি একজন বাঙালী কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও কবি। তিনি "বনফুল" ছদ্মনামেই অধিক পরিচিত।
  • অমিয় চক্রবর্তী - জন্মস্থান শ্রীরামপুর৷ তিনি ছিলেন একজন বাঙালী সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ , শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি এবং সৃজনশীল গদ্যশিল্পী৷ তিনি শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
  • গোবিন্দ অধিকারী - জন্মস্থান হুগলী জেলার জাঙ্গিপাড়া৷ তিনি ছিলেন উনিশ শতকের একজন যাত্রার অভিনেতা এবং গীতিকার।
  • প্যারীমোহন সেনগুপ্ত- জন্মস্থান হুগলী জেলার গোপীনাথপুর৷ তিনি ছিলেন বিশিষ্ট কবি, প্রবন্ধকার ও শিশুসাহিত্যিক।
  • হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়- জন্মস্থান হুগলী জেলার রাজবলহাট এর নিকট গুলিটা গ্রাম৷ পৈতৃক নিবাস হুগলী জেলার উত্তরপাড়া৷ মধুসূদনের পরবর্তী কাব্য রচয়িতাদের মধ্যে ইনি সে সময় সবচেয়ে খ্যাতিমান ছিলেন। বাংলা মহাকাব্যের ধারায় হেমচন্দ্রের বিশেষ দান হচ্ছে স্বদেশ প্রেমের উত্তেজনা সঞ্চার৷
  • শিশির কুমার মিত্র- জন্মস্থান কোন্নগর৷ তিনি ছিলেন একজন পদার্থবিদ। অবিভক্ত ভারতে বেতার যোগাযোগ সম্পর্কিত গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাদান শুরু হয় ডক্টর শিশির কুমার মিত্রের হাত ধরে।
  • পণ্ডিত মধুসূদন গুপ্ত- জন্মস্থান বৈদ্যবাটি৷ তিনি ছিলেন একজন অনুবাদক এবং আয়ুর্বেদাচার্য। তিনি ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দে সুশ্রুতের পর প্রথম ভারতীয় হিসাবে পাশ্চাত্যরীতিতে শব ব্যবচ্ছেদ করেন।
  • অরবিন্দ ঘোষ- ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করা এই বিপ্লবী-সাধকের পৈতৃক বাসস্থান কোন্নগর৷ তিনি ছিলেন কোন্নগর এর বিখ্যাত ঘোষ বংশের সন্তান৷ তিনি ছিলেন একজন রাজনৈতিক নেতা, বিপ্লবী , আধ্যাত্মসাধক এবং দার্শনিক।
  • ডাঃ কৃষ্ণধন ঘোষ- তৎকালীন বিহারে জন্মগ্রহণ করা এই ব্যক্তি কোন্নগর এর বিখ্যাত ঘোষ বংশের সন্তান৷ তিনি কেডি ঘোষ নামেও পরিচিত৷ তিনি ছিলেন একজন বাঙালী ডাক্তার এবং বাঙালী হিসেবে তিনিই প্রথম এমডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি শ্রীঅরবিন্দ, বারীন্দ্রকুমার ঘোষ এবং মনমোহন ঘোষ এর পিতা৷
  • মোহিতলাল মজুমদার- পৈতৃক বাসস্থান হুগলী জেলার বলাগড়৷ তিনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন বিখ্যাত বাঙালী কবি এবং সাহিত্য সমালোচক। এছাড়াও তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রবন্ধকার ছিলেন।
  • মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিকি- বিশিষ্ট ইসলামি পীর (সুফি বা সাধক) ও সমাজ সংস্কারক, দাদাহুজুর নামেই তিনি বেশি পরিচিত । জাঙ্গিপাড়া সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের অন্তর্গত ফুরফুরা গ্রামে তাঁর মাজার বা সমাথি রয়েছে।
  • অশোক মিত্র- জনগণনাতত্ত্ববিদ, প্রশাসক, সমাজবিজ্ঞানী, গবেষক, প্রাবন্ধিক, শিল্প ঐতিহাসিক ও শিল্প সমালোচক।

প্রসিদ্ধ স্থান[সম্পাদনা]

  • ফুরফুরা শরীফ  : জাঙ্গিপাড়া সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের অন্তর্গত ফুরফুরা গ্রামে বিখ্যাত পির (সুফি বা সাধক) আবুবকর সিদ্দিক বা দাদাহুজুরের জন্ম । তিনি একজন সমাজসংস্কারক বা মোজাদ্দেদ ছিলেন । বর্তমানে ফুরফুরা হুগলী, হাওড়া, ঊঃ ও দঃ চব্বিশ পরগনা প্রভৃতি জেলার মানুষের কাছে পবিত্র স্থান বলে পরিচিত।বছরে একবার তিনদিনব্যাপী মহফিল বা পীরমেলা হয় ।
  • হুগলী ইমামবাড়া  :
  • ব্যান্ডল চার্চ  :
  • কামারপুকুর
  • তারকেশ্বর

শিক্ষা ও স্বাস্থব্যবস্থা[সম্পাদনা]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

প্রশিদ্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান :[সম্পাদনা]

নিম্নে হুগলি জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বর্তমান পরিসংখ্যান দেওয়া গেল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংখ্যা মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ০৩ মহাবিদ্যালয় ২৭ মুক্ত মহাবিদ্যালয় ০৬ প্রাথমিক বিদ্যালয় ৩০২৭ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৩৬৫ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় ২৮০

স্বাস্থ্য পরিষেবা[সম্পাদনা]

নিচের সারণিতে (সকল তথ্য সংখ্যায়) ২০১৪ সালের হিসেব অনুযায়ী হুগলি জেলার হাসপাতাল, স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও উপকেন্দ্রগুলিতে প্রাপ্ত স্বাস্থ্য পরিষেবা ও রোগীর সংখ্যা দেওয়া হল:[৬]

মহকুমা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, পশ্চিমবঙ্গ সরকার অন্যান্য
রাজ্য
সরকারি
বিভাগসমূহ
স্থানীয়
সংস্থা
কেন্দ্রীয়
সরকারি
বিভাগ /
পিএসইউ
এনজিও /
নেসরকারি
নার্সিং
হোম
মোট মোট
শয্যাসংখ্যা
মোট
চিকিৎসকের
সংখ্যা*
অন্তর্বিভাগীয়
রোগী
বহির্বিভাগীয়
রোগী
হাসপাতাল
গ্রামীণ
হাসপাতাল
ব্লক
প্রাথমিক
স্বাস্থ্যকেন্দ্র
প্রাথমিক
স্বাস্থ্যকেন্দ্র
চুঁচুড়া ২৪ - - - ৩১ ৬১ ১,০৯১ ১০৮ ৯৪,২১৩ ১,৮৩০,৩৫৮
চন্দননগর - - - - ৪১ ৫৩ ৮২৮ ৫৬ ৭০,৭২৪ ১,১০৫,০৬০
শ্রীরামপুর ১২ - - - ৮০ ৯৯ ১,৮৯৪ ৮৫ ৬৩,৬১৯ ১,২৫২,৯৪১
আরামবাগ ১৬ - - - ৩৫ ৫৮ ৯১৯ ৫৭ ৮৩,৪৬৯ ১,৭৪৩,৭১৯
হুগলি জেলা ১০ ৬০ - - - ১৮৭ ২৭১ ৪,৭৩২ ৩০৬ ৩১২,০২৫ ৫,৯৩২,০৭৮

.* নার্সিং হোম বাদে

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. http://www.censusindia.gov.in/2011census/C-16.html
  2. "DISTRIBUTION OF THE 22 SCHEDULED LANGUAGES-INDIA/STATES/UNION TERRITORIES - 2011 CENSUS" (PDF)। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মার্চ ২০১৬  উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ অবৈধ; আলাদা বিষয়বস্তুর সঙ্গে "censusindia" নাম একাধিক বার সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে
  3. "District Statistical Handbook 2014 Hooghly"Table 2.2, 2.4(a)। Department of Statistics and Programme Implementation, Government of West Bengal। ২১ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৬ অক্টোবর ২০১৮ 
  4. "District Census 2011"। Census2011.co.in। ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  5. সীতাপুর এন্ডাওমেন্ট,TwoCircles.net ।
  6. "District Statistical Handbook 2014 Hooghly"Table 3.1, 3.3। Department of Statistics and Programme Implementation, Government of West Bengal। ২১ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৬ অক্টোবর ২০১৮ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]