নীলমণি দাশ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
নীলমণি দাশ
নীলমণি দাশ.jpg
লৌহমানব নীলমণি দাশ, ৪৪ বছর বয়েসে
জন্ম(১৯১১-০৩-০৩)৩ মার্চ ১৯১১
মৃত্যু১৭ মার্চ ১৯৯১(1991-03-17) (বয়স ৮০)
জাতীয়তাভারতীয়
পেশাব্যায়ামবীর
দাম্পত্য সঙ্গীরেবা দাশ
সন্তানস্বপন দাশ
পিতা-মাতানিবারণচন্দ্র দাস
মৃণালিনী দেবী

নীলমণি দাশ (৩ মার্চ ১৯১১ - ১৭ মার্চ ১৯৯১) একজন খ্যাতনামা বাঙালি ব্যায়ামবিদ। হিন্দু মহাসভার একটি অনুষ্ঠানে তিনি দেহসৌষ্ঠব প্রদর্শন, লোহা বেঁকানো, বিম ব্যালেন্সিং প্রভৃতি খেলা দেখান এবং আয়রনম্যান উপাধি লাভ করেন। শারীরশিক্ষক হিসাবে ক্যালকাটা অ্যাকাডেমি, ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট, অল ইন্ডিয়া রেডিও সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি বেশ কিছু বই এবং চার্ট লিখেছিলেন। তার প্রতিষ্ঠিত সংস্থা আইরনম্যান হেলথ হোম।[১]

প্রথম জীবন[সম্পাদনা]

নীলমণি দাশের পরিবারের আদি নিবাস ছিল হুগলী জেলায়। তার পিতামহ মতিলাল দাশ ১৮৭৩ সালে ম্যালেরিয়ার উপদ্রব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য হুগলী জেলার পৈতৃক গ্রাম থেকে কলকাতায় চলে আসেন। তিনি মানিকতলা অঞ্চলের টিকিয়াপাড়ায়, যা বর্তমানে আমহার্স্ট রো নামে পরিচিত, চার কাঠা জমি কেনেন। সেই সময় টিকিয়াপাড়া ছিল বনজঙ্গালপূর্ণ ও জনবিরল। তিনি মাটির দেওয়াল ও খোলার চাল যুক্ত দু'টি কাঁচা ঘর সংবলিত একটি গৃহ নির্মাণ করেন। তিনি বন্ধকীর ব্যবসা করতেন। কালক্রমে তার দুই পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। অবস্থার উন্নতি হলে তিনি কাঁচার ঘরের স্থানে পাকা বাড়ি নির্মাণ করেন।

কনিষ্ঠ পুত্র নিবারণচন্দ্র দাশ এন্ট্রান্স পরীক্ষায় পাশ করার পূর্বেই মতিলালের মৃত্যু হয়। পিতার মৃত্যুর পর নিবারণচন্দ্রের কঠোর জীবন সংগ্রাম শুরু হয়। নিবারণচন্দ্র ছিলেন ভীষণ খামখেয়ালি ও প্রচন্ড জেদী। তবে তিনি প্রত্যহ ব্যায়াম ও জিমন্যাস্‌টিক্‌স চর্চা করতেন। তিনি বেনিয়াপুকুরের জনৈক ধনী ব্যক্তির কন্যা মৃণালিনী দেবীকে বিবাহ করেন। কালক্রমে তাদের পাঁচ পুত্র ও দুই কন্যার জন্ম হয়। ১৯১১ সালের ৩ মার্চ নিবারণচন্দ্র দাশ ও মৃণালিনী দেবীর পুত্র নীলমণি দাশের জন্ম হয়।

নীলমণির ডাকনাম ছিল নীলু। শৈশবে তিনি অত্যন্ত দুরন্ত প্রকৃতির ছিলেন। মদন মিত্র লেনের একটি পাঠশালায় তার বিদ্যাভ্যাস শুরু হয়। পাঠশালার পর্ব শেষ হলে তিনি হেদুয়ার নিকটবর্তী অ্যাংলো বেঙ্গলি স্কুলে ভর্তি হন। এই সময় পিতা নিবারণচন্দ্র তার খামখেয়ালিপনার কারণে স্কুলের বেতন দিতে অসমর্থ হলে নীলমণির লেখাপড়া সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। কিছুদিন বাড়িতে বসে থাকার পর তিনি রাণী ভবানী স্কুলে ভর্তি হন। সেখানে তার বিদ্যাচর্চা ভালই চলছিল। তার পিতা হঠাত চাকরি থেকে পদত্যাগ করলে তার লেখাপড়ায় আবার ছেদ পড়ে। প্রায় এক বছর নীলমণি বাড়িতে বসে পুরনো পাঠক্রম এবং নতুন পাঠক্রমের অনুশীলন করেন। ১৯২৬ সালে নিবারণচন্দ্র নতুন চাকরি যোগাড় করলে নীলমণি বাড়ির পাশেই ক্যালকাটা অ্যাকাডেমিতে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হন। এরপর থেকে নীলমণির শিক্ষাজীবন স্থিতিশীল হয়। লেখাপড়া, খেলাধূলা ও শরীরচর্চাতে তিনি সম্পূর্ণরূপে মনোনিবেশ করেন।

ছোট থেকেই নীলমণির ফুটবল খেলায় ভীষণ আগ্রহ ছিল। কিন্তু খেলতে নেমে দশ পনেরো মিনিটের মধ্যেই হাঁপিয়ে পড়তেন। ফুসফুসের ক্ষমতা বাড়াবার জন্য তিনি দৌড় অভ্যাস করেন। বিভিন্ন দৌড় প্রতিযোগিতা বিশেষ করে দূরপাল্লার দৌড় প্রতিযোগিতায় তিনি অংশগ্রহণ করেন। এর ফলে তিনি ফুটবল খেলায় পারদর্শী হয়ে ওঠেন। দুরন্ত খেলোয়াড় ছিলেন বলে আশুতোষ শীল লেনের ভারতমাতা ক্লাবের সতীর্থদের কাছে তিনি অ্যাটিলা বলে পরিচিত হন। এই সময়ে একটি ফুটবল প্রতিযোগিতায় ভারতমাতা ক্লাব একটি মুসলমান দলের মুখোমুখি হয় বাগমারির কাছে মল্লিক লজের মাঠে। ওই খেলায় ভারতমাতা ক্লাব বিপক্ষ দলের বিরুদ্ধে ৪-০ গোলে এগিয়ে গেলে বিপক্ষ দলের উত্তেজিত সমর্থক ও খেলোয়াড় রেফারিকে ও ভারতমাতা ক্লাবের খেলোয়াড়দের আক্রমণ করে। বাকি খেলোয়াড়রা মারমুখী জনতার ঘেরাটোপ থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও নীলমণি তা পারেননি। উত্তেজিত জনতার তাকে বেধড়ক মারতে শুরু করে এবং তিনি বাঁচাও বাঁচাও বলে আর্তচিত্কার করতে থাকেন। তার আর্ত চিত্কার শুনে নিকটবর্তী এক আখড়া থেকে অনুশীলনরত কুস্তিগীররা ছুটে আসেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ঋষি ঘোষ ও প্রকাশ ঘোষ। তাদের দেখে আক্রমণকারীরা পালিয়ে যায়। ঋষি ঘোষ তখন নীলমণির রোগাপটকা চেহারা দেখে বিদ্রূপ করে বলেন শরীর মজবুত না করলে কখনই আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে তিনি লড়তে পারবেন না। ব্যায়াম আর কুস্তি করে শরীর তৈরী করে তবেই তিনি দু ঘা খেয়ে দশ ঘা দিতে পারবেন।

মেজর ডাঃ ফণীন্দ্রকৃষ্ণ গুপ্ত নীলমণিকে শরীরচর্চার পাশাপাশি মনের চর্চার নির্দেশ দেন

এই ঘটনা নীলমণির জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বন্ধুবান্ধবদের অলক্ষ্যে তিনি শরীরচর্চা শুরু করেন। পিতার একজোড়া লোহার ডাম্বেল ছিল। তাই দিয়ে তিনি বাড়িতেই পিতার তত্ত্বাবধানে শরীরচর্চা শুরু করেন। ১৯২৭ সাল। নীলমণি তখন সপ্তম শ্রেণীতে। তিনি ক্যালকাটা অ্যাকাডেমির শরীর শিক্ষক সুবল বিশ্বাসের অধীনে কিছুদিন শরীরচর্চা করেন। এরপর তিনি সিমলা ব্যায়াম সমিতিতে ভর্তি হয়ে ব্যায়াম শিক্ষক ডাঃ নারায়ণচন্দ্র দাসের অধীনে ব্যায়াম শিক্ষা করতে থাকেন। নীলমণির মধ্যে সুপ্ত প্রতিভার আভাস পেয়ে সিমলা ব্যায়াম সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ যতীন্দ্রনাথ বসু ওরফে ক্ষুদিবাবু নীলমণির ব্যায়ামচর্চার জন্য একটি পৃথক ঘরের ব্যবস্থা করে দেন। সিমলা ব্যায়াম সমিতিতে অনুশীলন কালে নীলমণি ঋষি ঘোষ ও প্রকাশ ঘোষকে শিক্ষকরূপে পান। এই সময়ে ডাঃ নিবারণচন্দ্র ঘোষের মাধ্যমে নীলমণি তার গুরু মেজর ডাঃ ফণীন্দ্রকৃষ্ণ গুপ্তের সংস্পর্শে আসেন। প্রথম সাক্ষাতেই নীলমণি ডাঃ গুপ্তকে নিজের গুরুর আসনে অধিষ্ঠিত করেন। মেজর গুপ্ত নীলমণিকে শরীরচর্চার পাশাপাশি মনের চর্চার করতে নির্দেশ দেন। তিনি বিশ্বাস করতেন মনকে বাদ দিয়ে শরীরচর্চা হয় না। এবং মনের চর্চার জন্য প্রয়োজন ভালো বই পড়া। তিনি নীলমণিকে বেশ কিছু বই পড়তে বলেন এবং বইগুলো কোন গ্রন্থাগারে পাওয়া যাবে সেই সন্ধানও দিয়ে দেন। নীলমণি গুরুর নির্দেশ মত শরীরচর্চার পাশাপাশি মনের চর্চার জন্য বই পড়তে থাকেন। তিনি বেশ কিছু গ্রন্থাগারের সদস্য হন। রামমোহন লাইব্রেরি ও অমল লাইব্রেরীতে তিনি নিত্য যাতায়াত করতে থাকেন। তার সব চেয়ে প্রিয় গ্রন্থ ছিল স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা। যে সব স্থানে তিনি শরীরচর্চার উল্লেখ পেতেন সেগুলো নিজের খাতায় টুকে রাখতেন। সপ্তম শ্রেণীতে তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন। নীলমণির মেধাবী ছিলেন বলে প্রধান শিক্ষক পরাণ ভট্টাচার্য তাকে অর্ধ অবৈতনিক করে দেন।

ব্যায়ামের সাথে সাথে নীলমণি লাঠিখেলা, মুষ্টিযুদ্ধ, জুজুত্সু, সাঁতার ও জিমন্যাসটিক্‌স্‌ চর্চা করতে থাকেন। তিনি লাঠিখেলা শেখেন বঙ্গীয় ব্যায়াম সমিতির প্রতিষ্ঠাতা বিপ্লবী পুলিনবিহারী দাস ও সিমলা ব্যায়াম সমিতির অমল বসুর কাছে। মুষ্টিযুদ্ধ শেখেন স্কুল অফ ফিজিক্যাল কালচারের প্রতিষ্ঠাতা জগৎকান্ত শীলের ও কেমব্রিজ ব্লু অশোক চ্যাটার্জির কাছে। সাঁতার শেখেন হেদুয়ার সেন্ট্রাল সুইমিং ক্লাবে। ফুটবল খেলা শেখেন বিখ্যাত খেলোয়াড় বলাই চ্যাটার্জির কাছে। শরীরচর্চা ও খেলাধূলার পাশাপাশি তিনি এন.সি.সি., রেড ক্রশ ও সিভিল ডিফেন্সেও আগ্রহের সাথে অংশগ্রহণ করতেন। ম্যাট্রিক পরীক্ষা এগিয়ে আসলে ক্যালকাটা অ্যাকাডেমির শিক্ষকরা তাকে নানাভাবে সাহায্য করতে থাকেন। তার কোন গৃহশিক্ষক ছিল না। নিবারণচন্দ্র নিজেই তাকে ইংরেজি ও অঙ্ক করাতেন। এক প্রতিবেশিনী নীলমণির ম্যাট্রিকের প্রস্তুতির জন্য তাকে তার বাড়ির একটি ঘর ছেড়ে দেন। ১৯৩০ সালে চারটি বিষয়ে লেটার নিয়ে নীলমণি ক্যালকাটা অ্যাকাডেমি থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন।[১]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

বঙ্গীয় প্রাদেশিক হিন্দু মহাসভার সভাপতি রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় নীলমণি দাশকে আয়রনম্যান বা লৌহমানব উপাধিতে ভূষিত করেন

ম্যাট্রিক পাশ করার পার নীলমণি বিজ্ঞান নিয়ে বঙ্গবাসী কলেজে ভর্তি হন। মেধাবী ছাত্রদের নিয়ে গঠিত 'বি সেকশনে' তিনি স্থান পান। ১৯৩২ সালে তিনি আই.এস.সি পাশ করেন। তার ইচ্ছা ছিল ডাক্তার হওয়ার। কিন্তু ডাক্তারি পড়ার খরচ যোগাবার সামর্থ্য ছিল না নীলমণির পিতার। তাই বাধ্য হয়েই নীলমণি বঙ্গবাসী কলেজে বি.এস.সির পরিবর্তে বি.এ. শাখায় ভর্তি হন। বঙ্গবাসী কলেজে পড়ার সময়ে তিনি আন্তঃকলেজ মুষ্টিযুদ্ধ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। সেই সময়ে তিনি বাংলার বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেহসৌষ্ঠব ও ব্যায়াম প্রদর্শন করেন। তিনি কলেজে থাকাকালীন ক্যালকাটা অ্যাকাডেমিতে মাসিক দশ টাকা মাইনেতে ব্যায়াম শিক্ষকের চাকরিতে যোগ দেন। প্রতিদিন বিকেলে সেখানে তিনি ছাত্রদের ব্যায়াম শেখাতেন। এর পাশাপাশি তিনি ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি ইনসটিটিউটে মাসিক বার টাকা মাইনেতে শারীর শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। তার এই উপার্জনের মধ্যে থেকেই তিনি তার কলেজের বেতন, টিফিন, পড়াশোনার ও অন্যান্য হাতখরচ নির্বাহ করতেন। দু'টি প্রতিষ্ঠানে ব্যায়াম শিক্ষার পাঠ শেষ করে প্রতিদিন রাত আটটার সময় হিন্দু শিল্প বিদ্যালয়ের ব্যায়ামাগারে গিয়ে ব্যায়াম চর্চা করতেন। সতীর্থদেরও ব্যায়াম শিক্ষা দিতেন। এই সময়ে তিনি রাজাবাজার বিজ্ঞান কলেজের পার্শ্ববর্তী পার্শিবাগান লেনে এক বন্ধুর বাড়িতে কয়েকজন বন্ধুর সাথে মিলে 'শক্তি সমিতি' নামে এক শরীরচর্চার পরিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

১৯৩৫ সালে বিপ্লবী পুলীনবিহারী দাসের আহ্বানে তিনি বঙ্গীয় প্রাদেশিক হিন্দু মহাসভার সম্মেলনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেহ সৌষ্ঠবের খেলা দেখানোর জন্য মালাদায় যান। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডঃ বিনয়কুমার সরকার, বিধুশেখর শাস্ত্রী, সজনীকান্ত দাস, আশুতোষ লাহিড়ী, রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বলদেবানন্দ গিরি মহারাজ। অনুষ্ঠান শুরু হয় পুলীনবিহারী দাসের পরিচালনায় লাঠি ও অসি খেলার মধ্যে দিয়ে। এইসব খেলার মাঝে মাঝে নীলমণি দেহ সৌষ্ঠব প্রদর্শন, লোহা ব্যাঁকানো, বিম ব্যালান্সিং প্রভৃতি দুঃসাহসিক কসরত প্রদর্শন করেন। প্রদর্শনী সমাপ্ত হলে সভাপতি বলদেবানন্দ গিরি মহারাজ নীলমণিকে 'আয়রনম্যান' উপাধি দিতে চান। তার প্রস্তাবে উদ্যোক্তারা সম্মত হন। বঙ্গীয় প্রাদেশিক হিন্দু মহাসভার সভাপতি রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় সম্মেলনের পক্ষ থেকে নীলমণিকে 'আয়রনম্যান' উপাধিতে ভূষিত করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবাসী কলেজের ইতিহাসের অধ্যাপক মৃণালকান্তি বসু। তিনি অধ্যক্ষ গিরিশচন্দ্র বসুর কাছে নীলমণির কৃতিত্বের কথা প্রকাশ করেন এবং নীলমণির পড়াশোনা অবৈতনিক করার জন্য সফলভাবে সুপারিশ করেন। নীলমণি বঙ্গবাসী কলেজ থেকেই বি.এ. পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

স্নাতক হওয়ার পর নীলমণি কলেজ স্ট্রীটের ওয়াই.এম.সি.এ. থেকে ফিজিক্যাল ট্রেনিং নেন। তারপর কলকাতা ও বাংলার বিভিন্ন জেলায় এককভাবে বা কোন দলের সাথে ব্যায়ামের প্রদর্শনী করতে থাকেন। তার পাশাপাশি বাংলার যুবসমাজকে ব্যায়ামচর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে থাকেন। এরপর বঙ্গবাসী কলেজেই মাসিক পঁয়তাল্লিশ টাকা বেতনে শরীর শিক্ষক নিযুক্ত হন। সকাল এগারোটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত তিনি বঙ্গবাসী স্কুলের ছাত্রদের ব্যায়াম শিক্ষা দিতেন। একটা থেকে তিনটে পর্যন্ত বঙ্গবাসী কলেজে জিমনাসিয়ামের ক্লাস করাতেন। তিনটে থেকে ছ'টা পর্যন্ত বঙ্গবাসী স্কুলে দু'টি ফিজিক্যাল ট্রেনিংয়ের ক্লাস নিতেন। সন্ধ্যাবেলায় ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউটে ব্যায়াম শিক্ষা দিতেন। এছাড়াও বঙ্গবাসে সান্ধ্য কলেজে পার্টটাইম ব্যায়াম শিক্ষকতা করতেন।

উত্তরাধিকার[সম্পাদনা]

তার বহু ছাত্র পরবর্তীকালে শরীরচর্চার জগতে বিশেষ কৃতিত্ব দেখান। তার কৃতী ছাত্রদের মধ্যে ছিলেন নন্দকিশোর চক্রবর্তী, সুধীর ঘটক, সুনীল দাস, সচ্চিদানন্দ শেঠ, রবীন ঘোষ প্রমুখ। তারা বিভিন্ন দেহ সৌষ্ঠব প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করে সুনাম অর্জন করেন।

রচিত গ্রন্থাবলী[সম্পাদনা]

নীলমণি দাশ রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:

  • ব্যায়াম ও স্বাস্থ্য[২]
  • সচিত্র যোগব্যায়াম
  • ডাম্বেল-বারবেল ব্যায়াম
  • উচ্চতালাভের উপায়
  • প্রশান্তি লাভের উপায়

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. দ্বিতীয় খণ্ড, অঞ্জলি বসু সম্পাদিত (মে, ২০০৪)। সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান। কলকাতা: সাহিত্য সংসদ। পৃষ্ঠা ১৬৪।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  2. "ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ ইন্ডিয়া"opac.nationallibrary.gov.in। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুলাই ২০১৭ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]