বিষয়বস্তুতে চলুন

দ্বারকানাথ মিত্র

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
দ্বারকানাথ মিত্র

দ্বারকানাথ মিত্র (১৮৩৩  - ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৮৭৪) ছিলেন এক খ্যাতনামা আইনজীবী এবং কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি।

জন্ম ও সংক্ষিপ্ত জীবনী

[সম্পাদনা]

দ্বারকানাথের জন্ম অবিভক্ত বাংলার অধুনা পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার আগুন্সি গ্রামে। তার পিতা ছিলেন হুগলি আদালতের মোক্তার হরচন্দ্র মিত্র। [] স্কুলের পড়াশোনা হুগলি কলেজিয়েট স্কুলে। তিনি গণিত ও ইংরাজী সাহিত্যে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। [] হুগলি স্কুল ও কলেজের কৃতী ছাত্র ছিলেন। ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন সর্বোচ্চ পারিতোষিক 'লাইব্রেরি মেডেল' প্রাপ্ত হন। পরীক্ষায় তার উত্তরপত্র ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে এডুকেশন রিপোর্টে ছাপা হয়েছিল। ওই সময় কলকাতার অন্যতম ম্যাজিসেট্রট কিশোরীচাঁদ মিত্রের অধীনে তিনি দ্বিভাষীর পদ গ্রহণ করেন। পরে তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে আইন পড়া শেষ করে ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে সদর দেওয়ানী আদালতে যোগ দেন। মাত্র চৌত্রিশ বৎসর বয়সে প্রথম দেশীয় বিচারপতি শম্ভুনাথ পণ্ডিতের মৃত্যুর পর ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হন।[] ভারতের ভাইসরয় লর্ড নর্থব্রুক দ্বারকা নাথ মিত্রকে তার দেখা সবচেয়ে কৃতি ব্যক্তি হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন এবং, তার সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন এই বলে যে, যে যদি তাকে গ্ল্যাডস্টোন এবং লো-এর সাথে এক ত্রয়ী-তে রাখা হয় ... তবে তার মধ্যে তিনি কোনভাবে কম প্রতিভাবান হবেন না। []

অবদান

[সম্পাদনা]

পিণ্ডদানের অধিকার দায়ভাগ-শাসিত উত্তরাধিকারক্রমের ভিত্তি, এই তত্ত্ব তিনিই বাংলাদেশের আইনে প্রথম প্রচলিত করেন। ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে নীলকর সাহেব হিলের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলায় ঠাকুরানির দাসীর পক্ষে বিনা ফি'তে ওকালতি করে জয়ী হয়ে বিখ্যাত হন। হিন্দু পেট্রিয়ট পত্রিকার সম্পাদক হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব থাকায় ক্রমে প্রজাদের (রায়তদের) রক্ষাকর্তা হয়ে ওঠেন। []

তিনি মাত্র ৪১ বৎসর বয়সে ১৮৭৪ খ্রিস্টাব্দের ২৫ শ ফেব্রুয়ারি প্রয়াত হন।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, আগস্ট ২০১৬, পৃষ্ঠা ৩০৮, ৩০৯ আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-১৩৫-৬ উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; আলাদা বিষয়বস্তুর সঙ্গে "সংসদ" নামটি একাধিক বার সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে
  2. Buckland, C. E. (১৯০১)। Bengal under the Lieutenant-Governors (Vol II)। S. K. Lahiri & Co.। পৃ. ১০৩৭–১০৩৯। সংগ্রহের তারিখ ১৬ মে ২০১৬
  3. Majumdar, Bimanbehari; Mazumdar, B. B. (১৯৬৪)। "Judiciary and Public Life in India in the Nineteenth Century": ১৮০। জেস্টোর 41854028 {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  4. Banerjee, Anil Chandra (২০০৩)। English Law in India। Abhinav Publications। পৃ. ২৪৫। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১৭০১৭১৮৩৬। সংগ্রহের তারিখ ১৬ মে ২০১৬