নগেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

নগেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় (অক্টোবর ১৮৪৩ ― জুন ১৯১৩) একজন বাঙালি পণ্ডিত, সমাজসেবী ও লেখক।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

নগেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় হুগলী জেলাবাঁশবেড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম দ্বারকানাথ তর্কচূড়ামণি। বাল্যে মাতৃপিতৃহীন হয়ে কাকার কাছে প্রতিপালিত হন। কৃষ্ণনগরে এসে স্কুলে পড়ার সময় শিক্ষক রামতনু লাহিড়ীর সংস্পর্শে এসে ব্ৰাহ্মধর্মে আকৃষ্ট হয়ে উপবীত ত্যাগ করেন। ফলে তার পারিবারিক মাসোহারা বন্ধ হয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত পিতৃসম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হন। ১৮৬২ সালে প্রবেশিকা পাশ করে অর্থাভাবে পড়াশুনা ছেড়ে শিক্ষকতার কাজ নেন।

সামাজিক অবদান[সম্পাদনা]

নগেন্দ্রনাথ কৃষ্ণনগরে প্রতিষ্ঠিত ব্ৰাহ্মসমাজের আচাৰ্য পদ লাভ করেন মাত্র ১৮ বছর বয়সে। ১৮৭১ সালে কৃষ্ণনগর থেকে কলকাতায় আসেন ও ১৮৭৮ সালে সাধারণ ব্ৰাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠায় অন্যতম অগ্রণী ভূমিকা নেন এবং প্রচারক পদে বৃত হন। এককালে ব্ৰাহ্মধর্ম-প্রচারক হিসাবে কেশবচন্দ্র সেনের পরই তার নাম করা হত। দেশে রাজনৈতিক চেতনা সঞ্চারকল্পে হিন্দুমেলায় স্বদেশগ্ৰীতি বিষয়ে বক্তৃতা করেন। বিধবা-বিবাহ প্র্রচলনের সমর্থক ছিলেন এবং নিজে উদ্যোগী হয়ে কৃষ্ণনগরে এক বিধবার বিবাহ দিয়েছিলেন। ‘ভারত-সভা’ প্ৰতিষ্ঠার সময় থেকে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। যুবকদের আধ্যাত্মিক উন্নতির চেষ্টায় নিজগ্রামে ‘ছাত্ৰ-সমাজ’ প্ৰতিষ্ঠা করেন। প্রভাকর’, ‘বঙ্গদর্শন’, ‘সাধারণী’ প্রভৃতি পত্রিকাতে তিনি লিখতেন।

রচিত গ্ৰন্থ[১][সম্পাদনা]

  • মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত
  • ধর্ম জিজ্ঞাসা
  • থিয়োডর পার্কারের জীবনী
  • সাকার ও নিরাকার উপাসনা
  • অনন্তের উপাসনা

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]