পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী
Photo of Mamata Banerjee
দায়িত্ব
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

২০ মে, ২০১১ থেকে
প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থানমুখ্যমন্ত্রী আবাস, কলকাতা[১]
মনোনয়কপশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল
উদ্বোধনী ধারকপ্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ
গঠন১৫ অগস্ট, ১৯৪৭
(পশ্চিমবঙ্গের প্রধানমন্ত্রী পদে)
photo of Writers' Building
মহাকরণ, কলকাতা। ১৮শ শতাব্দীতে কোম্পানি শাসনকালে নির্মিত এই ভবনটিই ঐতিহ্যগতভাবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
photo of Prafulla Chandra Ghosh
১৯৪৭ সালে মহাকরণে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম প্রধানমন্ত্রী প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ
পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী ড. বিধানচন্দ্র রায়
State Emblem of India
ভারতের জাতীয় প্রতীক। ১৯৬৮ থেকে ১৯৭৭ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে মোট চারবার রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়েছিল।
photo of Jyoti Basu
ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী)-র নেতা জ্যোতি বসু দীর্ঘ ২৩ বছর একটানা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন ছিলেন। তিনি ভারতের দ্বিতীয় সর্বাধিক সময়কাল-ব্যাপী ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রী।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হলেন পূর্ব ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সরকার-প্রধান। ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, রাজ্যপাল রাজ্যের নিয়মতান্ত্রিক প্রধান হলেও প্রকৃত শাসনক্ষমতা মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই ন্যস্ত থাকে। নিয়মানুসারে, বিধানসভা নির্বাচনের পরে রাজ্যপাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দলকে (বা জোটকে) সরকার গঠনের আহ্বান জানান। রাজ্যপালই মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়োগ করেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভা তাঁদের কাজকর্মের জন্য রাজ্য বিধানসভার কাছে যৌথভাবে দায়ী থাকেন। বিধানসভায় আস্থাভোটে জয়লাভ করলে মুখ্যমন্ত্রী পাঁচ বছরের মেয়াদে তাঁর পদে আসীন থাকতে পারেন এবং তাঁর পদটিও কোনও মেয়াদের নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়।[২]

১৯৪৭ সালের ২০শে জুন বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভায় ভারতভাগের প্রেক্ষিতে বাংলার ভাগ্য নির্ধারিত হয়।[৩] আইনসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম লীগ প্রতিনিধিরা সমগ্র বাংলাকে পাকিস্তানভূক্ত করার পক্ষে রায় দেন। কিন্তু বাংলার হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ পশ্চিম অংশের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ৫৮-২১ ভোটে বাংলার পশ্চিম অংশকে ভারতভূক্তির পক্ষে রায় দেওয়ার ফলে বঙ্গভঙ্গ নিশ্চিত হয় ও 'পশ্চিমবঙ্গ'-এর জন্ম হয়। ৩রা জুলাই প্রফুল্লচন্দ্র সেনের নেতৃত্বে একাদশ সদস্য বিশিষ্ট 'পশ্চিমবঙ্গ'-এর প্রথম মন্ত্রীসভা শপথ নেন। প্রধানমন্ত্রী হন প্রফুল্লচন্দ্র সেন। অগস্ট মাসে ব্রিটিশ বাংলা প্রেসিডেন্সি আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে দুই নবগঠিত স্বাধীন রাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হয়। মুসলমান-প্রধান পূর্বাঞ্চল নিয়ে গঠিত হয় পাকিস্তানের পূর্ব বাংলা প্রদেশ এবং হিন্দু-প্রধান পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে গঠিত হয় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য। সেই সময় থেকে মোট আট জন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৪৭ সালের অগস্ট মাস থেকে ১৯৫০ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা পশ্চিমবঙ্গের প্রধানমন্ত্রী নামে অভিহিত হতেন। তারপরই "প্রধানমন্ত্রী" শব্দটির পরিবর্তে "মুখ্যমন্ত্রী" শব্দটি চালু হয়। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রথম প্রধানমন্ত্রী।[৪] তিনি মাত্র পাঁচ মাস ওই পদে আসীন ছিলেন। এরপর তাঁরই সহকর্মী ড. বিধানচন্দ্র রায় তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন এবং ১৯৬২ সাল পর্যন্ত টানা চোদ্দো বছর প্রথমে প্রধানমন্ত্রী ও পরে মুখ্যমন্ত্রীর পদ অলংকৃত করেন। ওই বছর ১ জুলাই তাঁর মৃত্যুর পর চলতি বিধানসভার অবশিষ্ট মেয়াদে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন প্রফুল্লচন্দ্র সেন। এরপর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুকালের জন্য অস্থির হয়ে ওঠে। ১৯৬৭ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত রাজ্যে মোট চারটি জোট সরকার গঠিত হয় এবং মোট তিনবার সীমিত সময়ের জন্য রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়। এরপর সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের মুখ্যমন্ত্রিত্বে কংগ্রেস পাঁচ বছরের পূর্ণ মেয়াদে পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিচালনা করে।[৫]

১৯৭৭ সালের নির্বাচনে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী)-র নেতৃত্বে বামফ্রন্ট বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। এরপর একটানা ২৩ বছর জ্যোতি বসু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘকালীন মুখ্যমন্ত্রিত্বের এটি একটি সর্বভারতীয় রেকর্ড। ২০১৮ সালে সিক্কিমের মুখ্যমন্ত্রী পবন কুমার চামলিং প্রথম এই রেকর্ড ভাঙতে সক্ষম হয়েছিলেন।[৬] জ্যোতি বসুর পদত্যাগের পর তাঁর উত্তরসূরি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য পরবর্তী এক দশক রাজ্যের কমিউনিস্ট সরকারের নেতৃত্ব দেন। ২০১১ সালের নির্বাচনে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত প্রগতিশীল জোট (ইউপিএ) বামফ্রন্টকে পরাজিত করে। ওই বছরই ১৯ মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তিনিই রাজ্যের বর্তমান তথা প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী। ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তৃণমূল কংগ্রেস ইউপিএ ছেড়ে বেরিয়ে আসে এবং পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এই নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস অধিকতর আসনে জয়লাভ করে পুনর্নির্বাচিত হয়।[৭][৮]

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীদের তালিকা[সম্পাদনা]

রাজনৈতিক দলগুলির রং-নির্দেশ
পশ্চিমবঙ্গের প্রধানমন্ত্রী[ক]
নং নাম মেয়াদ[৯] মেয়াদের দৈর্ঘ্য বিধানসভা
(নির্বাচন)
রাজনৈতিক দল[৫]
প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ ৩ জুলাই, ১৯৪৭ ১৪ অগস্ট, ১৯৪৭ ৪২ দিন শর্তাধীন প্রাদেশিক আইনসভা (১৯৪৭)[খ]
(জানুয়ারি, ১৯৪৬-এর নির্বাচন)
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস
(১) প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ ১৫ অগস্ট, ১৯৪৭ ২২ জানুয়ারি, ১৯৪৮ ১৬০ দিন প্রাদেশিক আইনসভা (১৯৪৭-৫২)[গ]
(জানুয়ারি, ১৯৪৬-এর নির্বাচন)
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস
বিধানচন্দ্র রায় ২৩ জানুয়ারি, ১৯৪৮ ২৫ জানুয়ারি, ১৯৫০ ২ বছর, ২ দিন
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী
নং[ঘ] নাম
বিধানসভা কেন্দ্র
মেয়াদ[ঙ] মেয়াদের দৈর্ঘ্য বিধানসভা[১০]
(নির্বাচন)
রাজনৈতিক দল[৫]
(জোট)
(২) ড. বিধানচন্দ্র রায়
বউবাজার[চ]
২৬ জানুয়ারি, ১৯৫০ ৩০ মার্চ, ১৯৫২ ১২ বছর, ১৫৬ দিন
(মোট: ১৪ বছর, ১৫৮ দিন)
বিধানসভা (১৯৪৬-৫২)[ছ]
(জানুয়ারি, ১৯৪৬-এর নির্বাচন)
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস
৩১ মার্চ, ১৯৫২ ৫ এপ্রিল, ১৯৫৭ প্রথম বিধানসভা (১৯৫২-৫৭)
(জানুয়ারি, ১৯৫২-এর নির্বাচন)
৬ এপ্রিল, ১৯৫৭ ২ এপ্রিল, ১৯৬২ দ্বিতীয় বিধানসভা (১৯৫৭-৬২)
(মার্চ, ১৯৫৭-এর নির্বাচন)
৩ এপ্রিল, ১৯৬২ ১ জুলাই, ১৯৬২ তৃতীয় বিধানসভা (১৯৬২–৬৭)
(ফেব্রুয়ারি, ১৯৬২-এর নির্বাচন)
প্রফুল্লচন্দ্র সেন[জ]
আরামবাগ পূর্ব
৯ জুলাই, ১৯৬২ ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৭ ৪ বছর, ২৩৪ দিন
অজয়কুমার মুখোপাধ্যায়
তমলুক
১ মার্চ, ১৯৬৭ ২১ নভেম্বর, ১৯৬৭ ২৬৫ দিন চতুর্থ বিধানসভা (১৯৬৭–৬৮)
(ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৭-এর নির্বাচন)
বাংলা কংগ্রেস
(যুক্তফ্রন্ট)
(১) প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ
ঝাড়গ্রাম
২১ নভেম্বর, ১৯৬৭ ১৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৮ ৯০ দিন
(মোট: ২৫০ দিন)
নির্দল
(প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট)
শূন্য পদ[ঝ]
(রাষ্ট্রপতি শাসন)
২০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৮ ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ ১ বছর, ৫ দিন বিলুপ্ত প্রযোজ্য নয়
(৪) অজয়কুমার মুখোপাধ্যায়
তমলুক
২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ ১৬ মার্চ, ১৯৭০ ১ বছর, ১৯ দিন পঞ্চম বিধানসভা (১৯৬৯-৭০)
(ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯-এর নির্বাচন)
বাংলা কংগ্রেস
(যুক্তফ্রন্ট)
পদ শূন্য[ঝ]
(রাষ্ট্রপতি শাসন)
১৯ মার্চ, ১৯৭০ ৩০ জুলাই, ১৯৭০ ১ বছর, ১৪ দিন প্রযোজ্য নয়
৩০ জুলাই, ১৯৭০ ২ এপ্রিল, ১৯৭১ অবলুপ্ত
(৪) অজয়কুমার মুখোপাধ্যায়
তমলুক
২ এপ্রিল, ১৯৭১ ২৮ জুন, ১৯৭১ ৮৭ দিন
(মোট: ২ বছর, ৬ দিন)
ষষ্ঠ বিধানসভা (১৯৭১)
(মার্চ, ১৯৭১-এর নির্বাচন)
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস
(গণতান্ত্রিক জোট)
শূন্য পদ[ঝ]
(রাষ্ট্রপতি শাসন)
২৯ জুন, ১৯৭১ ২০ মার্চ, ১৯৭২ ২৬৫ দিন অবলুপ্ত প্রযোজ্য নয়
সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়
মালদহ
২০ মার্চ, ১৯৭২ ৩০ এপ্রিল, ১৯৭৭ ৫ বছর, ৪১ দিন সপ্তম বিধানসভা (১৯৭২–৭৭)
(মার্চ, ১৯৭২-এর নির্বাচন)
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস
(প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক জোট)
শূন্যপদ[ঝ]
(রাষ্ট্রপতি শাসন)
৩০ এপ্রিল, ১৯৭৭ ২০ জুন, ১৯৭৭ ৫১ দিন অবলুপ্ত প্রযোজ্য নয়
জ্যোতি বসু
সাতগাছিয়া
২১ জুন, ১৯৭৭ ২৩ মে, ১৯৮২ ২৩ বছর, ১৩৭ দিন অষ্টম বিধানসভা (১৯৭৭–৮২)
(জুন, ১৯৭৭-এর নির্বাচন)
ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী)
(বামফ্রন্ট)
২৪ মে, ১৯৮২ ২৯ মার্চ, ১৯৮৭ নবম বিধানসভা (১৯৮২–৮৭)
(মে, ১৯৮২-এর নির্বাচন)
৩০ মার্চ, ১৯৮৭ ১৮ জুন, ১৯৯১ দশম বিধানসভা (১৯৮৭–৯১)
(মার্চ, ১৯৮৭-এর নির্বাচন)
১৯ জুন, ১৯৯১ ১৫ মে, ১৯৯৬ একাদশ বিধানসভা (১৯৯১–৯৬)
(মে, ১৯৯১-এর নির্বাচন)
১৬ মে, ১৯৯৬ ৫ নভেম্বর, ২০০০ দ্বাদশ বিধানসভা (১৯৯৬–২০০১)
(মে, ১৯৯৬-এর নির্বাচন)
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য
যাদবপুর
৬ নভেম্বর, ২০০০ ১৪ মে, ২০০১ ১০ বছর, ১৮৮ দিন
১৫ মে, ২০০১ ১৭ মে, ২০০৬ ত্রয়োদশ বিধানসভা (২০০১–০৬)
(মে, ২০০১-এর নির্বাচন)
১৮ মে, ২০০৬ ১৩ মে, ২০১১ চতুর্দশ বিধানসভা (২০০৬–১১)
(এপ্রিল-মে, ২০০৬-এর নির্বাচন)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
ভবানীপুর
২০ মে, ২০১১ ২৫ মে, ২০১৬ ৮ বছর, ২৬ দিন চতুর্দশ নির্বাচন (২০১১–১৬)
(এপ্রিল–মে, ২০১১-এর নির্বাচন)
সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস[ঞ]
২৬ মে, ২০১৬ বর্তমান ষোড়শ বিধানসভা (২০১৬–২১)
(এপ্রিল-মে ২০১৬-এর নির্বাচন)

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. বিধানসভার ওয়েবসাইটে ১৯৫০-এর পূর্ববর্তী পদাধিকারীদের ইংরেজিতে "প্রিমিয়ারস অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল" (ইংরেজি: "Premiers of West Bengal") বলে উল্লেখ করা হলেও,[৯] টাইমস অফ ইন্ডিয়া পত্রিকায় দেখানো হয়েছে যে, সেই সময় তাঁদের সর্বজনীনভাবে "পশ্চিমবঙ্গের প্রধানমন্ত্রী" (ইংরেজি:"Prime Ministers of West Bengal") নামে অভিহিত করা হত।[৪]
  2. এই আইনসভাটি বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভার বাংলার হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ পশ্চিম অংশের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ছিল। এই আইনসভার একাদশ সদস্য বিশিষ্ট একটি মন্ত্রীসভা ৩ জুলাই ১৯৪৭ শপথ গ্রহণ করে।
  3. এই আইনসভাটি হল দেশবিভাজনের পর সৃষ্ট ৯০-সদস্যবিশিষ্ট একটি খণ্ডিত আইনসভা। পূর্বতন বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভার পশ্চিমবঙ্গীয় নির্বাচনী কেন্দ্রগুলিকে নিয়ে এই আইনসভাটি গঠিত হয়। পূর্বতন আইনসভাটি ভারত সরকার আইন, ১৯৩৫ মোতাবেক গঠিত হয়েছিল। এটি ভারতীয় সংবিধান-সম্মত আইনসভা নয়। কারণ, এই আইনসভার কার্যকালে উক্ত সংবিধানের খসড়া রচনার কাজ চলছিল।[৫]
  4. বন্ধনীর মধ্যে উল্লিখিত নম্বরটি নির্দেশ করছে পদাধিকারী মুখ্যমন্ত্রী পূর্বেও মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।
  5. মুখ্যমন্ত্রীর কার্যকালের মেয়াদ-সংক্রান্ত তথ্য মূলত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ওয়েবসাইট থেকে গৃহীত হলেও,[৯] নিশ্চিত ভুলগুলি (প্রধানত ১৯৬৯ থেকে ১৯৭১ সালের মধ্যবর্তী সময়ের) একই ওয়েবসাইটে প্রদত্ত একটি ঐতিহাসিক প্রবন্ধের সাহায্যে সংশোধন করে নেওয়া হয়েছে।[৫]
  6. ১৯৫২ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ড. বিধানচন্দ্র রায় কোনও বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করেননি। তৃতীয় বিধানসভায় তাঁর কার্যকালের শেষ তিন মাস তিনি চৌরঙ্গি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করেন।
  7. ভারতের সংবিধান প্রবর্তনের পর এবং ১৯৫২ সালে স্বাধীন ভারতের প্রথম নির্বাচনের আগে পর্যন্ত প্রাদেশিক আইনসভাটি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা হিসেবে কাজ করছিল।[৫]
  8. কোনও কোনও সূত্রের মতে, ১৯৬২ সালের ২ থেকে ৮ জুলাই তারিখ পর্যন্ত প্রফুল্লচন্দ্র সেন অন্তর্বর্তীকালীন মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।[১১]
  9. ভারতীয় সংবিধানের ৩৫৬ ধারা অনুযায়ী, "রাজ্য সরকার সংবিধান মোতাবেক কার্য পরিচালনায় অক্ষম হলে" রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হতে পারে। প্রায়শই যখন কোনও দল বা জোট বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়, তখন এই ধারা জারি হয়। কোনও রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলে সেই রাজ্যের মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়া হয়। এই কারণে মুখ্যমন্ত্রীর পদটি শূন্য থাকে এবং রাজ্যের রাজ্যপাল প্রশাসনিক দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নেন। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে নিজের কাজ করেন। কোনও কোনও ক্ষেত্রে, বিধানসভাও ভেঙে দেওয়া হয়।[১২]
  10. মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম ১৬ মাস সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস ও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের জোট সরকারের নেতৃত্ব দেন। ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তৃণমূল কংগ্রেস সংযুক্ত প্রগতিশীল জোট ত্যাগ করে। সেই সময় জাতীয় কংগ্রেসের মন্ত্রীরাও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর শুধুই তৃণমূল কংগ্রেসের মন্ত্রীরাই তাঁর মন্ত্রীসভার সদস্য ছিলেন।[৭]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Arshad Ali. "Mamata may move to new CM's residence — British-era bungalow". The Indian Express. 8 October 2013. Archived on 19 July 2014.
  2. ইন্ট্রোডাকশন টু দ্য কনস্টিটিউশন অফ ইন্ডিয়া (ইংরেজি), দুর্গাদাস বসু, লেক্সিসনেক্সিস বাটারওয়ার্থস, ওয়াধা, নাগপুর, ১৯৬০, ২০শ সংস্করণ, ২০১১ পুনর্মুদ্রণ, পৃ. ২৪১, ২৪৫আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৮০৩৮-৫৫৯-৯। টীকা: এই গ্রন্থে সাধারণভাবে ভারতীয় রাজ্যগুলির কথা আলোচিত হয়েছে। নির্দিষ্টভাবে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও তা সমান প্রযোজ্য।
  3. বন্দ্যোপাধ্যায়, শেখর (২০০৯)। Decolonization in South Asia: Meanings of Freedom in Post-independence West Bengal, 1947–52। রাউটলেজ। আইএসবিএন 9781134018239। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মার্চ ২০১৯ 
  4. Saibal Sen. "Post-Independence, a Prime Minister for Bengal!". The Times of India. 15 August 2013. Archived on 16 July 2018.
  5. Origin and Growth of the West Bengal Legislative Assembly. West Bengal Legislative Assembly. Retrieved on 27 July 2018.
    Note: In case of an error, please click the "Origin & Growth" button in the top left of the website.
  6. "Pawan Kumar Chamling crosses Jyoti Basu’s record as longest-serving Chief Minister ". The Hindu. 29 April 2018.Archived on 31 July 2018.
  7. Shiv Sahay Singh. "Congress quits Mamata Ministry". The Hindu. 22 September 2012. Archived on 26 July 2018.
  8. Subrata Nagchowdhury. "Behind Mamata Banerjee’s landslide victory in Bengal, old ghosts versus new promise". The Indian Express. 20 May 2016. Archived on 26 July 2018.
  9. Premiers/Chief Ministers of West Bengal. West Bengal Legislative Assembly. Archive link from 12 March 2016.
  10. Brief Information on Previous Assemblies. West Bengal Legislative Assembly. Archive link from 12 March 2016.
  11. List of Chief Ministers of West Bengal. Panchayat & Rural Development Department, Hooghly. Retrieved on 27 July 2018. Archived on 27 July 2018.
  12. Amberish K. Diwanji. "A dummy's guide to President's rule". Rediff.com. 15 March 2005. Archived on 16 August 2017.

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]