সুরিন্দর খান্না

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সুরিন্দর খান্না
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামসুরিন্দর চমনলাল খান্না
জন্ম৩ জুন, ১৯৫৬
দিল্লি, ভারত
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
ভূমিকাউইকেট-রক্ষক
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ২৮)
৯ জুন ১৯৭৯ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
শেষ ওডিআই১২ অক্টোবর ১৯৮৪ বনাম পাকিস্তান
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই
ম্যাচ সংখ্যা ১০
রানের সংখ্যা ১৭৬
ব্যাটিং গড় ২২.০০
১০০/৫০ -/২
সর্বোচ্চ রান ৫৬
বল করেছে -
উইকেট -
বোলিং গড় -
ইনিংসে ৫ উইকেট -
ম্যাচে ১০ উইকেট -
সেরা বোলিং -
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৪/৪
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৬ জুলাই ২০২০

সুরিন্দর চমনলাল খান্না (এই শব্দ সম্পর্কেউচ্চারণ ; ইংরেজি: सुरिन्दर खन्ना; জন্ম: ৩ জুন, ১৯৫৬) দিল্লি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক ভারতীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। ভারত ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৭০-এর দশকের শেষার্ধ্ব থেকে ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়কালে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে দিল্লি দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মাঝারিসারিতে ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন তিনি।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৭৬-৭৭ মৌসুম থেকে ১৯৮৭-৮৮ মৌসুম পর্যন্ত সুরিন্দর খান্না’র প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। দক্ষ উইকেট-রক্ষক ও মাঝারিসারির দর্শনীয় ব্যাটসম্যান ছিলেন তিনি। ১৯৭০-এর দশকের শেষদিক থেকে ১৯৮০-এর দশকের সূচনাকাল পর্যন্ত দিল্লি দলের প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন।

রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতায় দিল্লি দলের পক্ষে খেলেছেন সুরিন্দর খান্না। ১৯৭৬ সালে তার অভিষেক ঘটে। ১৯৭৮-৭৯ বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত মৌসুমে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত খেলায় কর্ণাটকের বিপক্ষে উভয় ইনিংসে শতরান করেন। ১১১ ও ১২৮ রান সংগ্রহের ফলে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন। ঐ মৌসুমে ৭৩.০০ গড়ে ৬৫৭ রান তুলেন ও জাতীয় প্রতিযোগিতায় দিল্লির প্রথম শিরোপা বিজয়ে সবিশেষ ভূমিকা রাখেন।

উইকেট-রক্ষণে দক্ষতা প্রদর্শনের পাশাপাশি মাঝারিসারির মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে মেলে ধরতে সচেষ্ট ছিলেন। অনেকগুলো বছর দিল্লির প্রধান চালিকাশক্তি ছিলেন এবং সত্তুরের দশকের শেষদিক থেকে আশির দশকের সূচনাকাল পর্যন্ত দলের সফলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে দশটিমাত্র একদিনের আন্তর্জাতিকে সুরিন্দর খান্না। ৯ জুন, ১৯৭৯ তারিখে বার্মিংহামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিকে অভিষেক ঘটে তার। ১২ অক্টোবর, ১৯৮৪ তারিখে কোয়েটায় স্বাগতিক পাকিস্তান দলের বিপক্ষে সর্বশেষ ওডিআইয়ে অংশ নেন তিনি। তাকে কোন টেস্টে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেয়া হয়নি।

১৯৭৯ সালে ইংল্যান্ড সফর থেকে নিয়মিত উইকেট-রক্ষক সৈয়দ কিরমাণীকে বাদ দেয়া হলে সুরিন্দর খান্না’র সুযোগ আসে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেকে মেলে ধরার। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ১৯৭৯ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের দ্বিতীয় আসরে ভারতের উইকেট-রক্ষক হিসেবে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বিশ্বকাপের তিনটি খেলায় অংশ নিলেও তেমন সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি তিনি। ফলে, ভরত রেড্ডিকে তার স্থলাভিষিক্ত করে টেস্ট অভিষেকের সুযোগ দেয়া হয়। প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলোয় তিনি ভালো খেলতে পারেননি। ছয় খেলার চার ইনিংসে মাত্র ৪১ রান তুলতে সক্ষম হন। এরফলে, ভারত দল থেকে তাকে বাদ দেয়া হয়।

এশিয়া কাপ[সম্পাদনা]

সৈয়দ কিরমাণী ও ভরত রেড্ডি কার্যতঃ ভারতের দুই শীর্ষ উইকেট-রক্ষকে পরিণত হওয়ায় সুরিন্দর খান্না’র খেলোয়াড়ী জীবন শেষ হয়ে যায়। তাসত্ত্বেও, দিল্লির পক্ষে তিনি তার খেলার ধারা অব্যাহত রাখেন ও তার সহজাত খেলা একদিনের আন্তর্জাতিকের উপযোগী ছিল।

ফলশ্রুতিতে, এপ্রিল, ১৯৮৪ সালে শারজায় অনুষ্ঠিত রথম্যান্স এশিয়া কাপের জন্যে ভারত দলে তাকে ফিরিয়ে আনা হয়। নিচুমূখী রানের খেলায় শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেন। ভারত প্রতিযোগিতার শিরোপা জয় করে ও তিনি অপ্রত্যাশিতভাবে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন।[১]

একই বছরের অক্টোবর মাসে ভারত দল পাকিস্তান গমন করে। প্রথম ওডিআইয়ে সফরকারীরা ৪৬ রানে পরাভূত হয়।[২] এ খেলার পর তাকে দলের বাইরে রাখা হয় ও আর তাকে ভারতের পক্ষে খেলতে দেখা যায়নি।

অবসর[সম্পাদনা]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হলেও দিল্লির পক্ষে রানের ফল্গুধারা অব্যাহত রাখেন। পাঁচ সহস্রাধিক প্রথম-শ্রেণীর রান তুলে খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি টানেন। তন্মধ্যে, ১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে হিমাচলপ্রদেশের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ অপরাজিত ২২০ রান তুলেন। অবসর গ্রহণকালীন রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতায় ৪৮.৬৫ গড়ে ৪৩৩০ রান করেন।

১৯৯১ থেকে ১৯৯২ সময়কালে এডিনবরার স্টুয়ার্টস মেলভিল রয়্যাল হাই সিসিতে পেশাদারী পর্যায়ে অংশ নেন। তন্মধ্যে, ১৯৯১ সালে ৯১.৫০ গড়ে ১০৯৮ রান তুলেছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি এআইআরের স্টুডিওতে খেলাকালীন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।

সম্মাননা[সম্পাদনা]

ওডিআইয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচ
ক্রমিক প্রতিপক্ষ মাঠ তারিখ অবদান ফলাফল
শ্রীলঙ্কা শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়াম, শারজাহ ৮ এপ্রিল, ১৯৮৪ ১ ক্যাচ; ৫১* (৬৯ বল: ৬x৪)  ভারত ভারত ১০ উইকেটে বিজয়ী।[৩]
পাকিস্তান শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়াম, শারজাহ ১৩ এপ্রিল, ১৯৮৪ ৫৬ (৭২ বল: ৩x৪, ২x৬); ২ স্ট্যাম্পিং  ভারত ৫৪ রানে বিজয়ী।[৪]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]