বিনু মানকড়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
বিনু মানকড়
Vinoo Mankad.jpg
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নাম মালবন্তরায় হিম্মতলাল মানকড়
জন্ম (১৯১৭-০৪-১২)১২ এপ্রিল ১৯১৭
জামনগর, নয়ানগর রাজ্য, কাঠিয়ার এজেন্সি, বোম্বে প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু ২১ আগস্ট ১৯৭৮(১৯৭৮-০৮-২১) (৬১ বছর)
বোম্বে, মহারাষ্ট্র, ভারত
ডাকনাম বিনু
ব্যাটিংয়ের ধরন ডানহাতি
বোলিংয়ের ধরন স্লো লেফট আর্ম অর্থোডক্স
সম্পর্ক অশোক মানকড় (পুত্র), অতুল মানকড় (পুত্র)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৩০)
২২ জুন ১৯৪৬ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৯ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছর দল
১৯৩৫–১৯৩৬ পশ্চিম ভারত
১৯৩৬–১৯৪২ নয়ানগর
১৯৩৬–১৯৪৬ হিন্দু
১৯৪৩–১৯৪৪ মহারাষ্ট্র
১৯৪৪–১৯৫১ গুজরাট
১৯৪৮–১৯৪৯ বাংলা
১৯৫০–১৯৫১ সৌরাষ্ট্র
১৯৫১–১৯৫৬ বোম্বে
১৯৫৬–১৯৬২ রাজস্থান
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৪৪ ২৩৩
রানের সংখ্যা ২,১০৯ ১১,৫৯১
ব্যাটিং গড় ৩১.৪৭ ৩৪.৭০
১০০/৫০ ৫/৬ ২৬/৫২
সর্বোচ্চ রান ২৩১ ২৩১
বল করেছে ১৪,৬৮৬ ৫০,১২২
উইকেট ১৬২ ৭৮২
বোলিং গড় ৩২.৩২ ২৪.৫৩
ইনিংসে ৫ উইকেট ৩৮
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৮/৫২ ৮/৩৫
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৩৩/– ১৯০/–
উৎস: ক্রিকইনফো, ৩১ আগস্ট ২০১৭

মালবন্তরায় হিম্মতলাল মানকড় (এই শব্দ সম্পর্কে উচ্চারণ ; জন্ম: ১২ এপ্রিল, ১৯১৭ - মৃত্যু: ২১ আগস্ট, ১৯৭৮) বোম্বে প্রেসিডেন্সির জামনগর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ভারতীয় ক্রিকেটার ছিলেন। ভারত ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন বিনু মানকড়। দলে তিনি মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও স্লো লেফট আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শিতা দেখিয়েছেন তিনি।

তাঁর সন্তান অশোক মানকড়ও ভারতের পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। আরেক সন্তান রাহুল মানকড় প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলেছেন।

খেলোয়াড়ী জীবন[সম্পাদনা]

ভারতের পক্ষে ৪৪ টেস্টে অংশ নেন তিনি। ৩১.৪৭ গড়ে ৫ সেঞ্চুরি সহযোগে ২১০৯ রান সংগ্রহ করেন। তন্মধ্যে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২৩১ করেন। এছাড়াও ৩২.৩২ গড়ে ১৬২ উইকেট পেয়েছেন তিনি। তন্মধ্যে আটবার পাঁচ উইকেট লাভ করেন। টেস্ট ক্রিকেট জীবনে তিনজন ক্রিকেটারের একজন হিসেবে শুরু থেকে শেয পর্যন্ত প্রত্যেক অবস্থানে ব্যাট করেছেন।

১৯৫২ সালে লর্ডসে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অবিস্মরণীয় ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন। ৭২ ও ১৮৪ রান তুলে উভয় ইনিংসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। এছাড়াও প্রথম ইনিংসে ৭৩ ওভারে ৫/১৯৬ লাভ করেন। তাস্বত্ত্বেও ইংল্যান্ড খুব সহজেই জয় পায়। পুরো সিরিজে ভারত দল নাস্তানাবুদ হলেও তিনি স্বীয় প্রতিভায় ভাস্বর ছিলেন। প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে একই টেস্টে শতরান ও পাঁচ উইকেট প্রাপ্তির ঘটনাটি ত্রিশ বছরের অধিককাল টিকেছিল এবং প্রথম ভারতীয় হিসেবে এ অর্জনের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। এছাড়াও ইংল্যান্ডের বাইরে তিন বিদেশী খেলোয়াড় হিসেবে কিথ মিলার এবং স্যার গ্যারি সোবার্সের সাথে তিনিও ব্যাটিং ও বোলিং উভয় বিভাগে অনন্য সাধারণ অবদান রাখায় লর্ডসের অনার্স বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

অর্জনসমূহ[সম্পাদনা]

১৯৫৬ সালে পঙ্কজ রায়ের সাথে উদ্বোধনী জুটিতে ৪১৩ রান করে বিশ্বরেকর্ড গড়ে ব্যাপক পরিচিতি পান। তাঁদের গড়া এ রেকর্ডটি ৫২ বছর অক্ষত ছিল যা পরবর্তীতে ২০০৭-০৮ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্বোধনী জুটিতে গ্রেইম স্মিথনিল ম্যাকেঞ্জি ৪১৫ রান তুলে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েন।[১] ঐ টেস্টে তাঁর সংগৃহীত ২৩১ রানের তৎকালীন রেকর্ডটি পরবর্তীকালে ১৯৮৩ সালে সুনীল গাভাস্কার অপরাজিত ২৩৬* রান তুলে ভেঙ্গে ফেলেন।

১৯৯৩ সালে ভারত সরকার নাগরিক সম্মাননা হিসেবে তাঁকে পদ্মভূষণ পদবীতে ভূষিত করে।[২]

বিতর্ক[সম্পাদনা]

১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া সফরে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টে বিল ব্রাউনকে রান আউট করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন। রান-আপে থাকাকালীন নন-স্টাইকার্স প্রান্তে অবস্থানরত ব্যাটসম্যান স্থান ছেড়ে চলে গেলে তিনি উইকেট ভেঙ্গে ফেলেন। সফরের শুরুতে অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে খেলাকালীন ব্রাউনকে একইভাবে আউট করেছিলেন তিনি। এ ঘটনাটি অস্ট্রেলীয় গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয় ও এ পন্থায় আউট করার ফলে 'মানকড়ীয়' পন্থারূপে ক্রিকেট বিশ্বে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে।[৩] কিন্তু, ডন ব্র্যাডম্যান তাঁর আত্মজীবনীতে মানকড়ের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন। কেননা, মানকড় ব্রাউনকে আউট করার পূর্বে সতর্ক করেছিলেন।[৩] তবে, ১৯৮৭ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে সেলিম জাফরকে এ পন্থায় আউট করার সূবর্ণ সুযোগ পেয়েও কোর্টনি ওয়ালশ তা গ্রহণ করেননি।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. South Africa set new opening mark BBC News retrieved 1 March 2008
  2. "Padma Awards" (ইংরেজি ভাষায়)। Ministry of Home Affairs, Government of India। ২০১৫। সংগৃহীত জুলাই ২১, ২০১৫ 
  3. Frindall, Bill (২০০৯)। Ask Bearders (ইংরেজি ভাষায়)। BBC Books। পৃ: 131–132। আইএসবিএন 978-1-84607-880-4 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]