পাথরঘাটা উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
পাথরঘাটা
উপজেলা
পাথরঘাটা বরিশাল বিভাগ-এ অবস্থিত
পাথরঘাটা
পাথরঘাটা
পাথরঘাটা বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
পাথরঘাটা
পাথরঘাটা
বাংলাদেশে পাথরঘাটা উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২২°২′৫৬″ উত্তর ৮৯°৫৮′৮″ পূর্ব / ২২.০৪৮৮৯° উত্তর ৮৯.৯৬৮৮৯° পূর্ব / 22.04889; 89.96889স্থানাঙ্ক: ২২°২′৫৬″ উত্তর ৮৯°৫৮′৮″ পূর্ব / ২২.০৪৮৮৯° উত্তর ৮৯.৯৬৮৮৯° পূর্ব / 22.04889; 89.96889 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ বরিশাল বিভাগ
জেলা বরগুনা জেলা
আয়তন
 • মোট ৩৮৭.৩৬ কিমি (১৪৯.৫৬ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট ২,২৫,৫২৭
 • ঘনত্ব ৫৮০/কিমি (১৫০০/বর্গমাইল)
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট ৬৫%
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড ৮৭২০
ওয়েবসাইট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

পাথরঘাটা উপজেলা বাংলাদেশের বরগুনা জেলার অন্তর্গত একটি প্রশাসনিক এলাকা। যার দক্ষিণে বিস্তৃত রয়েছে বঙ্গোপসাগরের সুবিস্তৃত জলরাশি।

এ উপজেলার অধিবাসীদের প্রধান পেশা মৎস্য আহরণ। এখানে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের মস্য অবতরণ ও পাইকারী বাজার রয়েছে।

দর্শণীয় স্থানঃ লালদিয়া সমুদ্রসৈকত, হরিণঘাটা বন, ইকো-পার্ক।

অবস্থান[সম্পাদনা]

এই উপজেলাটির পূর্বে বিষখালী নদী, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পশ্চিমে বলেশ্বর নদীসুন্দরবন এবং উত্তরে বামনামঠবাড়িয়া উপজেলা অবস্থিত।

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

পাথরঘাটা উপজেলা ০৭ টি ইউনিয়ন ও ০১ টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত।

  • ইউনিয়নগুলো হলঃ
  1. রায়হানপুর ইউনিয়ন
  2. নাচনাপাড়া ইউনিয়ন
  3. চরদুয়ানী ইউনিয়ন
  4. পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন
  5. কালমেঘা ইউনিয়ন
  6. কাকচিড়া ইউনিয়ন
  7. কাঠালতলী ইউনিয়ন
  • পৌরসভা হল :
  1. পাথরঘাটা পৌরসভা

ইতিহাস[সম্পাদনা]

পাথরঘাটার পূর্ব নাম বাধাঘাটা। তবে পাথরঘাটা নামকরণের সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে প্রায় তেমন কিছুই জানা যায় না। তবে জনশ্রুতি রয়েছে যে, এ উপজেলার ভূ-অভ্যন্তরে বিদ্যমান পাথরের অিস্তত্ব থেকেই পাথরঘাটা নামকরণের সূচনা হয়েছিল। ১৯০৩ সনে এ নামকরণ সূত্রপাতঘটে মর্মে ধারণা করা হয়। তৎকালীন বৃটিশ আমলে চট্রগ্রাম মাইজ ভান্ডার শরীফ থেকে বাগেরহাটের খাজা খান জাহান আলী নদীপথে অলৌকিকভাবে বাগেরহাটে পাথর ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় বিশখালী এবং বলেশ্বর নদীর মোহনায় এক রাতের জন্য ঘাটি স্থাপন করেছিলেন। উক্ত পাথরের কিয়দংশ এখানে রয়ে যায়। সে কারণেই এলাকাটি পাথরঘাটি নামে পরিচিতি লাভ করে। পরবর্তীতে পাথরঘাটি নামটি পাথরঘাটা নামে নবরূপ লাভ করে। এরপর থেকে মঠবাড়িয়া-বামনা-বেতাগী এলাকার কিছু লোকজন এখানে এসে সুন্দরী গাছের বাগান কেটে বসবাস শুরু করে। এরপর বৃটিশ সরকার ১৯১০ সনে এলাকার জায়গা জমির উপর নামজারী করে ১৯১৩ সনে ক্ষুদবার বন্যায় এসব এলাকার বসতিদের ভাসিয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ১৯২৬ সনে বৃটিশ সরকার ঢাকা এবং ফরিদপুর থেকে ব্যবসায়ীদের এনে পাথরঘাটা বাজারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তৈরী করেন। উল্লেখযোগ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল দর্জি ও মিষ্টির দোকান। ১৯৪৭ সনের পর যখন ইংরেজ শাসন আমলের পরিসমাপ্তি ঘটে তখন থেকে পটুয়াখালী সাব ডিভিশনের বাকেরগঞ্জ মহাকুমার আওতায় এ এলাকার শাসনভার চলে। পরে ১৯৭১ এর স্বাধীনতার পর এলাকার কিছু কিছু রাস্তাঘাটের উন্নয়ন সাধিত হলেও ১৯৮৫ সালে যখন এরশাদ সরকার উপজেলা পদ্ধতি প্রবর্তন করেন তখন থেকেই এ এলাকার সড়ক যোগাযোগের সূত্রপাত ঘটে। তৎপূর্বে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার একমাত্র মাধ্যম ছিল নৌ-পথের পান্সী নৌকা। পাথরঘাটা নামের স্বার্থকতার প্রমাণস্বরূপ এখনো পাথরঘাটার মাটির তলদেশে পাথরের অসিতত্ব বিদ্যমান। যে কারণে এ এলাকায় ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করা সম্ভব হয় না। ২২-২৪ ফুট গভীরে পাথরের সন্ধান মেলে। এলাকার আদিবাসীরা বসতি স্থাপনের প্রাক্কালে বড় বড় গাছ কেটে বসত-বাটী তৈরী করেছিল। সেসব গাছের গোড়ার অংশ এখনো মাটির নীচে পাওয়া যায়, যা মাটির গভীর থেকে উত্তোলন করে এলাকার লোকজন জ্বালানী কাঠের চাহিদা মেটায়।        

০৭ টি ইউনিয়ন নিয়ে এ উপজেলার যাত্রা হলেও বিগত কয়েক বছর পূর্বে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন এবং কালমেঘা ইউনিয়নের কিয়দাংশ নিয়ে পাথরঘাটা পৌরসভার সূচনা হয়।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

জনসংখ্যা (২০১১)[১]

• মোট      ২,২৫,৫২৭
• ঘনত্ব         ৫৮০/কিমি২ (১৫০০/বর্গমাইল)

শিক্ষা[সম্পাদনা]

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

পাথাঘাটা উপজেলার অর্থনৈতিক কর্মকান্ড মূলতঃ মৎস্য আহরণ ও কৃষি নির্ভর। এখানে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের মৎস অবতরণ ও পাইকারী বাজার আছে।সারাদেশে এ মাছ সরবরাহের ব্যবস্থা আছে। মাছ সংরক্ষণের জন্য আছে বরফকল। এছাড়াও এখানকার মানুষ কৃষি কাজের সাথেও জড়িত। ধান,আলু,ডাল,সূর্যমুখী,আখ,মরিচ ইত্যাদি নানা অর্থকরী ফসল উৎপাদনের সাথে এখানকার মানুষ প্রত্যক্ষ ভাবে যুক্ত। এসব সংরক্ষণের জন্য একটি হিমাগারের ব্যবস্থা রয়েছে।কৃষি ব্যবস্থার একটি বড় সমস্যা হল লবণাক্ততা। তা সত্তেও এখানকার উৎপাদিত চাল, আলু,ডাল এখানকার চাহিদা মিটিয়ে অন্যান্য অঞ্চলে রপ্তানি করা হয়।

তথ্যসুত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে পাথরঘাটা উপজেলা"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগৃহীত ১২ মার্চ, ২০১৫ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

রাজধানী ঢাকা থেকে বাস ও নৌ যোগাযোগ