বাকেরগঞ্জ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
বাকেরগঞ্জ
বাখরগঞ্জ
শহর
বাকেরগঞ্জ বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
বাকেরগঞ্জ
বাকেরগঞ্জ
বাংলাদেশে বাকেরগঞ্জ শহরের অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২২°৩২′২৮″ উত্তর ৯০°২০′১৯″ পূর্ব / ২২.৫৪১১২৭° উত্তর ৯০.৩৩৮৪৭৯° পূর্ব / 22.541127; 90.338479স্থানাঙ্ক: ২২°৩২′২৮″ উত্তর ৯০°২০′১৯″ পূর্ব / ২২.৫৪১১২৭° উত্তর ৯০.৩৩৮৪৭৯° পূর্ব / 22.541127; 90.338479
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগবরিশাল বিভাগ
জেলাবরিশাল জেলা
উপজেলাবাকেরগঞ্জ উপজেলা
শহর প্রতিষ্ঠা১৭৪০
প্রাক্তন জেলা শহর১৮০১
উপজেলা শহর৭ই নভেম্বর ১৯৮২
পৌরশহর১৯৯০
সরকার
 • ধরনপৌরসভা
 • শাসকবাকেরগঞ্জ পৌরসভা
 • পৌরমেয়রমোঃ লোকমান হোসেন ডাকুয়া [১]
আয়তন
 • মোট১১.৮৮ কিমি (৪.৫৯ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা
 • মোট১৯,৪৯২
 • জনঘনত্ব১৬০০/কিমি (৪২০০/বর্গমাইল)
সময় অঞ্চলবাংলাদেশ সময় (ইউটিসি+৬)


বাকেরগঞ্জ বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল বিভাগের একটি শহর। এটি বরিশাল জেলার অন্তর্গত বাকেরগঞ্জ উপজেলার প্রশাসনিক সদরদপ্তর ও প্রধান শহর। বাকেরগঞ্জ শহরটি শ্রীমন্ত নদীর তীর ঘেষে গড়ে ওঠা একটি জনবহুল এবং ব্যবসা কেন্দ্র হিসেবে সু-পরিচিত। একসময় এটি ছিল বাকেরগঞ্জ নামক একটি জেলার প্রধান শহর।

নামকরণ[সম্পাদনা]

স্বাধীন বাংলার নবাব আলীবর্দী খান এর আমলে বুজুর্গ উমেদপুরে আগা বাকের খান নামে এক প্রভাবশালী জমিদার ছিলেন। ঢাকার জমিদার আগা বাকের খান এ অঞ্চলে ১৭৪১ খ্রিস্টাব্দে নিজ নামে একটি গঞ্জ বা হাট প্রতিষ্ঠা করেন। তার নাম অনুসারে বাকেরগঞ্জের নামকরণ করা হয় বাকেরগঞ্জ। ব্রিটিশ সরকার সেসময় বাকেরগঞ্জ জেলা নামে একটি জেলা প্রতিষ্ঠা করে। বর্তমানে আগা বাকের খান এর স্মৃতি বিজড়িত বাকেরগঞ্জ নামটি বাকেরগঞ্জ উপজেলাতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। [২]


ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রাচীনকাল হতে স্বাধীনচেতা জমিদারের স্মৃতির চারণভূমি, প্রাগৈতিহাসিক সুপ্রাচীন এই জনপদ বাকেরগঞ্জ।শায়েস্তা খাঁ এবং তার পুত্র বুজর্গ উমেদ খানের আবাস ভূমি, বার আউলিয়াদের পূন্য ভূমি।বাকেরগঞ্জে ইংরেজ, পর্তুগীজ ও ফরাসি বেনিয়া গোষ্ঠী বাণিজ্যিক কেন্দ্র করে উপমহাদেশে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিল। তৎকালীন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর বিরুদ্ধে স্বাধীকার আদায়ের দাবীতে জনাব আইনউদ্দিন সিকদার এবং নলচিড়ার ইমামউদ্দিন, নিয়ামতি ইউনিয়নের বারসামানের নেতৃত্বে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং শেষ পর্যন্ত ইংরেজদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে পলাশী থেকে আগত একদল সৈ‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌ন্য এ অঞ্চলের জনগণকে নিয়ে শরিকলে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে পরাজিত ও নিহত হন। বাকেরগঞ্জ বর্তমানে বরিশাল জেলার একটি উপজেলা এবং এর প্রধান শহরের নাম। তবে বহুপূর্বে ১৭৪০ সালে এটি বাকলা জনপদের অন্তর্গত বুজুর্গ উমেদপুর পরগণার কেন্দ্র ও একটি বিখ্যাত বন্দর ছিল। ছোট এই শহরটি শ্রীমন্ত নদীর তীরে অবস্থিত। সেই জেলা পরবর্তীতে বরিশাল নিয়ে যাওয়া হয়। আগা বাকের খান নামে এক প্রভাবশালী জমিদার ছিলেন যার নামে এ অঞ্চলের নামকরণ হয়। তিনি এখানে ব্যাবসা বানিজ্য শুরু করেন। এখানে ধীরে ধীরে ব্যবসা বানিজ্য প্রসার লাভ করতে থাকে। চাকরীজীবি, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন শ্রেনীর পেশাজীবি লোকের বসবাস বৃদ্ধি পেয়ে বাকেরগঞ্জ শহরে পরিনত হয়। পরবর্তীতে ১৭৯৭ সালে এই নামে বৃটিশ সরকার এতদঞ্চলে একটি জেলা গঠন করেন এবং বাকেরগঞ্জ বন্দরটি জেলার সদর দপ্তরে বা জেলা শহরে পরিণত হয়। ১৮০১ সালে বাকেরগঞ্জের সাথে যোগাযোগের নদী নাব্যতা হারালে বরিশাল (বা গিরদে বন্দর) শহরে বাকেরগঞ্জ জেলার সদরদপ্তর স্থাপিত হয়। সদর দপ্তর বরিশাল হলেও জেলার নাম বাকেরগঞ্জই থেকে যায় [৩] বাখরগঞ্জ গেজেটিয়ার ১৯৮৪ প্রতিবেদন অনুযায়ী বাখরগঞ্জ সদর মহকুমায় যে ৫টি থানার নাম পাওয়া যায় তার একটি বাখরগঞ্জ বা বাকেরগঞ্জ।১৮৭৪ সালে বাকেরগঞ্জ থানা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। ১৯৮২ সালে মান উন্নীত থানা হিসেবে এর কার্যক্রম শুরু হয়। বাকেরগঞ্জ জেলা নামটি ১৭৯৭ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত ছিল। ১৯৯৩ সালে বরিশাল বিভাগ সৃষ্টির ফলে বাকেরগঞ্জ নামটি জেলা থেকে বাদ দেয়া হয়। জেলা সদর বরিশালের নামে বিভাগের নামকরণ করা হয়। [৪] ১৯৮২ সালের ৭ নভেম্বর তারিখে থানাটি উপজেলায় উন্নীত হয় এবং বাকেরগঞ্জ শহরটি উপজেলা শহরে পরিণত হয়।[৫] ১৯৯০ ইং সালে বাকেরগঞ্জ পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হলে বাকেরগঞ্জ পৌরশহরের মর্যাদা লাভ করে।

মুক্তিযুদ্ধে বাকেরগঞ্জ[সম্পাদনা]

স্বাধীনতা যুদ্ধে বাকেরগঞ্জের ইতিহাস হাজার বছরের স্বাধীকারের ইতিহাস। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ ই মার্চের ভাষনে সাড়া দিয়ে রংগশ্রী ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গো-হাট ময়দানে স্থানীয় আনসার কমান্ডার ও তার কয়েকজন সহযোগীদের নেতৃত্বে বাহাদুরপুর সমাজকল্যান ক্লাবের ৫০/৬০জন সদস্য বাঁশের লাঠি হাতে নিয়ে ১২ মার্চ নিজেদের  আত্মরক্ষার  প্রয়োজনে সর্বপ্রথম ট্রেনিং করে।৭ মার্চ ভাষনের  পরের দিন  বোয়ালিয়া বাজারে কালাচাদ দাসের দোকানের সামনে মুক্তিকামী জনতা পাকিস্তানি পতাকা পুড়িয়ে ফেলে।২২ মার্চ থেকে  বাহাদুরপুর ক্লাবের সামনে  নিয়মিত বাংলাদেশী পতাকা  উত্তোলন করা হয়, যা  উড়তে দেখেছেন অনেকেই । ইতিমধ্যে বরিশার জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ একটি মুক্তিযোদ্ধা সহায়তা কমিটি গঠন করে পাঠানোর নির্দেশ দেন।সে অনুযায়ী ১৪টি  ইউনিয়নের  মুক্তিযোদ্ধা সহায়তা কমিটি এবং থানা কমিটি গঠন করা হয় ।উক্ত থানা কমিটি  ৬৯ এর ছাত্র সংগ্রাম কমিটিকে  সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত করে বিস্তারিত তথ্যাবলীসহ বরিশাল সদর গার্লস স্কুলের ক্যাম্পে প্রেরণ করা হয়।দীর্ঘ এক মাস যাবৎ হানাদার  বাহিনী বরিশাল অঞ্চলে ঢোকার চেষ্টা করেও বাকেরগঞ্জের সাহসী মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিঘাতে প্রবেশ করতে পারেনি।ইতোমধ্যে  প্রভুদের গন্ধ পেয়ে  আওয়ামীলীগ ও  ছাত্রলীগের বিরুদ্ধচক্র গোপনে মুক্তিকামী সংগ্রামী দামাল ছেলেদের তালিকা প্রস্তত করে।অন্যদিকে বাকেরগঞ্জের এম.এন.এ  জনাব মুজিবুর রহমান মোল্লার বাড়িতে কয়েকদিন মুক্তিবাহিনীরা হানা দেয়।এইজন্য যে, তিনি যাতে বাংলাদেশের আনুগত্য স্বীকার করেন। একদিন তিনি স্বেচ্ছায় কালো ব্যাচ ধারণ ও স্বাধীন বাংলার পতাকা খয়রাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সামনে উত্তোলন করে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে‌ “জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু” শ্লোগান দেয়। এর পর তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, আমরা বাংগালী বাংলাদেশকে ভালবাসি, তাই বাংলার স্বার্থে আমি তোমাদের সাথে একাত্ত্বতা ঘোষনা করলাম।এমনি করে মুসলিমলীগ, পি ডি পি,জামায়াত ইসলামী,  নেজাম ইসলামী দলের লোকেরা বিভিন্ন সময়,পাক হানাদার বাহিণী অত্র এলাকায় আসার পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত ওয়াদা করে আসছিল।তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদের আওয়ামীলীগের সদস্য জনাব মোজাম্মেল হোসেন সিকদার, ছাত্র  নেতা খান আলতাফ হোসেন ভুলু, জনাব  শওকত হোসেন ও অন্যান্য নেতৃস্থানীয় আওয়ামীলীগ কর্মীদের আহ্বানে খয়রাবাদ  হাইস্কুলের কক্ষে  গোপন একটি মিটিং করা হয় ।ঐ  সময় পাদ্রীশিবপুরের ট্রেনিং এর কথা বলা হয় যে,  তোমরা ট্রেনিং এ যাবে এবং ঐ  দিনই  ট্রেনিং এর সময় পাদ্রীশিবপুরের ট্রেনিং ক্যাম্পটি ধংস করে দেবে এবং এই দায়িত্ব দেয়া হয়  বাহাদুরপুরের মুজিবুর রহমানকে ।কিন্তু তিনি উক্ত প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। ইতোমধ্যে পাক হানাদার বাহিনী ২৬ এপ্রিল ঝুনাহার থেকে কামান ছুড়তে ছুড়তে বরিশালে প্রবেশ করে ।এরপর একটা হেলিকপ্টার ও জঙ্গী বিমানের সহায়তায়  বিনা বাধায় বরিশাল শহর দখল করে নেয় ।পাক হানাদার বাহিনী আসার সাথে সাথে এদেশীয়  দোসরদের সহায়তায় অত্যাচার চালাতে থাকে, হত্যা করে অসংখ্য মানুষ, আহত হয় অনেকে ।তখন বরিশাল শহর জনশূন্য হয়ে পড়ে ।২৬ এপ্রিলে বরিশালে পাকহানাদার বাহিনী ঢোকার কিছু সময় পরেই ইতিহাসের পাতা থেকে খুঁজে বের করে বাকেরগঞ্জের পথ ।  ৩টি গানবোটসহ বিকাল ৫ টায় বাকেরগঞ্জ বন্দরে এসে পৌছে ।বেপরোয়া কামান ও সেলিংয়ের শব্দে বাকেরগঞ্জ বন্দরের রোকজন বাড়ী ঘর যাবতীয় সবকিছু ছেড়ে জীবনের ভয়ে নারী পুরুষ,আবাল,বৃদ্ধ সবাই ৮/১০ মাইল দূরে গ্রামে গিয়ে আশ্রয় নেয়, সমস্ত রাত দিন হাজার হাজার কামান সেলিং এর শব্দে বাকেরগঞ্জে আকাশ, বাতাস, মাটি, পানি, মানুষ থর থর করে কাপতে থাকে ।৭১ এর ০৯ মাস  বাকেরগঞ্জের প্রত্যেকটি মানুষের আলাদা একটি ইতিহাস আছে ।নিরীহ মানুষদের হত্যা, অবিচার, অত্যাচার, নারী নির্যাতন, লুন্ঠন,রাহাজানি, অবিরাম ধারায় শুরু হয়েছিল।পশ্চিমাদের পা চাটা মীরজাফরের দল ও পাক হানাদার বাহিনীর ধ্বংস লীলা প্রতিরোধ করার জন্য ক্যাপ্টেন নাসিরউদ্দিন এর নেতৃত্বে একটি বাহীনী এবং পরবর্তিতে ছাত্রনেতা রফিকুল ইসলাম জাফরের নেতৃত্বে  একটি বাহিনী গড়ে উঠে । উল্লেখিত বাহিনীতে অত্র এলাকার যুবক, ছাত্র,আনসার, ই পি আর, পুলিশ, সেনাবাহিনীর লোকজন  সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করেন ।অন্যদিকে মুক্তিবাহিনীর বিরুদ্ধে  এদেশীয় দালালদের  সহযোগিতায় দেশদ্রোহিতার জন্য মামলা দায়ের করা হয় ।বাকেরগঞ্জ থানার  বিভিন্ন এলাকার মুক্তিকামী জনতা পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে  রুখে দাড়ায় এবং দেশকে  স্বাধীন করার জন্য  জীবনকে বাজি রেখে  হাসতে হাসতে দলে দলে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিতে থাকে । পাশাপাশি পাক হানাদার বাহিনী ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর জন্য দেশীয় দোসরদের সহায়তায় গরীব লোকদের লোভ লালসা দেখিয়ে চাকুরীর কথা বলে  রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস ইসলামী শব্দের সাথে সংগতি রেখে সৃষ্টি করে বিভিন্ন বাহিনী ।অপর দিকে পাক হানাদার বাহিনী  দেশীয় দোসরদের মদদপুষ্ট হয়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায় । গুলি করে আগুনে পুড়িয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে অসংখ্য মানুষ।বাকেরগঞ্জ  থানায় পাক হানাদার বাহিনী স্থায়ীভাবে ঘাটি করে তাদের বর্বরতার অধ্যায় শুরু করে । ২৭ এপ্রিল বিকেপি হাইস্কুল এলাকায় ও উত্তর দাড়িয়াল বারইপাড়ায় তারা ব্যাপক লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং চার জনকে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে এবং ১৩ই মে নন্দপাড়া, কুসংগল ও বোয়ালিয়া এলাকায় ৫ জন নিরপরাধ বাংগালিকে হত্যা করে ।যার মধ্যে শ্রদ্ধেয় শিক্ষক জনাব রাধেরশ্যাম মাষ্টার ছিলেন ।৫ জুন দেশীয় দোসরদের সহায়তায় পাক হানাদার বাহিনী  খয়রাবাদ ও গারুড়িয়া  বাজার এলাকায় এক নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায় ।অত্র এলাকার এক প্রবীন  ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন লোক সর্বজন নন্দিত  জনাব মানিক লাল চক্রবর্তীসহ ঐদিন ৪ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়  এবং বহু নারীর ইজ্জত হরণ ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে বহু ক্ষতি সাধন করে।১৪জন জমিদারের আবাসভূমি  কলসকাঠীতে ১৪ই মে ২৮০জনকে পাশবিক অত্যাচারের মাধ্যমে হত্যা এবং বহু নারীর ইজ্জত হরণ করে ও কয়েকজনকে ধরে নিয়ে যায়, শত শত  বাড়ী ঘরে অগ্নিসংযোগ করে যা ইতিহাসের এক করুণতম ঘটনা ।  সর্বশেষ পাক হানাদার বাহিনী আক্রমন করে  শ্যামপুর মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্পে অর্থাৎ ক্যাপ্টেন নাসিরের ঘাটিতে ।১৫ই নভেম্বর বিকাল ৫ ঘটিকায় একটা যাত্রীবাহি লঞ্চে করে বরিশাল থেকে অতিরিক্ত পাক বাহিনীর দল আসে।১৬ই নভেম্বর সুভহেসাদেকের সময় পাক হানাদার বাহিনীর ধ্বনী শোনা যায়।এপর শ্যামপুর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে স্থানীয় দালালদের সহযোগিতায় আক্রমন করা হয়।শ্যাপুরের এই আক্রমনে অনেক পাক হানাদার বাহিনী মারা যায় এবং মুক্তিযোদ্ধোদের মধ্যে ১২জন শহীদ হন ।বাকেরগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধারা ক্যাপ্টেন শাহজাহান ওমরের বাহিনীর  সাথে   এ জেলায় সবচেয়ে ভয়াবহ  চাচৈরের  সন্মুখ  যুদ্ধে বিশেষ কৃতিত্ব ও দক্ষতার পরিচয়  দেন ।এই যুদ্ধে বাকেরগঞ্জের  কোন যোদ্ধাই শহীদ হন নাই তবে অনেকে আহত  হয়েছেন ।৪ ডিসেম্বর  সূর্য ডোবার সাথে সাথেই নাসির বাহিণী, জাফর বাহিনী এবং ওমর সাহেব আহত অবস্থায়  পাদ্রীশিবপুর গীর্জায় অবস্থান করেন ।এদের নেতৃত্বে  প্রায় ২/৩শ  মুক্তিযোদ্ধাকে  হানাদার  মুক্ত  করার দুর্জয় সংকল্প  নিয়ে  বাকেরগজ্ঞে গ্রুপ ভাগ হয়ে তিন দিক থেকে  অবস্থান  নেয় ।রাত  ৫.৩০ মি: পজিশন নেওয়া হয়,  দীর্ঘ  ৫৭ ঘন্টা  একটানা থেমে থেমে বিরামহীনভাবে যুদ্ধ চলে ।বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কুখ্যাত টেডা মালেক  তার বাসার ছাদের উপর  এক অভিনব কায়দায়  বাংকার তৈরী করে সেখান থেকে  বহুদূর পর্যন্ত র্দষ্টিতে দেখা যেত ।যার ফলে কোনক্রমেই  এম্বুস নিয়ে আগানো  সম্ভব ছিল না ।পরের দিন তিন দিক থেকে শুরু হয় সাড়াশি আক্রমণ ।পরের দিন সকালে পঞ্চল আলী মর্টার নিয়ে  হাইস্কুলের নিকট, বর্তমান  মুক্তিযোদ্ধা সংসদের  সামনে টার্গেট করে ওসির বাসার  বাংকার লক্ষ্য করে  আক্রমন করে ।প্রথমবারের অঘাতে  বাংকারের তেমন কোন  ক্ষতি হয় নাই ।২য় বার বাংকারের অর্ধেক ভেংগে যায় ।  ফলে কুখ্যাত শয়তানের সহোদর নরপিশাচেরা ওপর ধেকে নেমে আসার সাথে সাথে বীর মুক্তিযোদ্ধারা থানার মধ্যে ঢুকে পড়ে  এবং তারা আত্মসমর্পন করতে বাধ্য হয় ।এর ফলে আনুমানিক ৯/১০টার  মধ্যে  ৭ই ডিসেম্বর বাকেরগঞ্জ পাক হানাদার বাহিনীর পতন হয় এবং আকাশে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করা হয় ।বাকেরগঞ্জ হানাদার মুক্ত হওয়ার সংবাদ  মুহুর্তের মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে ।প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে হাজার হাজার জনতা জমায়েত হয় ।তাদের জয়বাংলা স্লোগানে  বাকেরগঞ্জ আকাশ বাতাস প্রকম্পিত হয়ে ওঠে ।সেদিনের যুদ্ধে রাজাকার, আল বদর, আল  শামস, পুলিশ, ইপিআরসহ মোট ১৭জন নিহত হয় । পুলিশ, ইপিআর, আল শামস, আল বদরসহ বহু কুখ্যাত লোক মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে গ্রেফতার হয় ।বাকেরগঞ্জ মুক্ত করার যুদ্ধে  পাক হানাদার বাহিনীর গুলিতে ২জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন ।এরা হলেন মীর মোস্তফা হোসেন সিন্টু, মোহাম্মদ শাহজাহান এবং বহু মুক্তিযোদ্ধা আহত হন । [৬]

খেলাধুলা[সম্পাদনা]

প্রাচীনকাল থেকেই বাকেরগঞ্জের জনগোষ্ঠী ক্রীড়ামোদী। এখানে প্রতিবছরই বিভিন্ন টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। এখানকার জনপ্রিয় খেলার মধ্যে বর্তমানে ক্রিকেট ও ফুটবলের আধিপত্য দেখা গেলেও অন্যান্য খেলাও পিছিয়ে নেই। বাকেরগঞ্জে বেশ কয়েকটি খেলার মাঠ রয়েছে। এর মধ্যে বাকেরগঞ্জ জে এস ইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ উপজেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। প্রতি বছর এ মাঠে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও ইউনিয়ন পর্যায়েও ফুটবল, ক্রিকেট, হাডুডু খেলা/ প্রতিযোগিতা প্রচলিত রয়েছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে নদীবহুল উপজেলা হিসেবে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয় প্রতি বছরেই।  [৭]

সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

বাকেরগঞ্জ অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি ও ভৌগলিক অবস্থান এ অঞ্চলের মানুষের ভাষা ও সংস্কৃতি গঠনে ভূমিকা রেখেছে। এ অঞ্চলে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে, ধর্ম প্রচারের জন্য , রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য বাঁ বসবাসের জন্য যে সব মণীষী বা মানবপ্রেমী এখানে এসেছিলেন তাঁদের সংস্পর্শে এ অঞ্চলের ভাষা প্রভাবিত হলেও বাংলা ভাষা এখানে নিজস্ব বৈশিষ্ট নিয়ে শাণিত হয়েছে। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত এই উপজেলার ভাষা ঢাকার সাথে কোন কোন অংশে ব্যপক মিল আছে এবং উচ্চারণেও প্রায় সমতূল। "ক" স্থানে "অ" এবং "অ" স্থানে "হ" উচ্চারণ প্রায়ই হয়ে থাকে। "ধ" স্থানে "দ", "ভ" স্থানে "ব" ইত্যাদি। এখানকার কথ্য ভাষায় "হ" এর প্রতি অহেতুক দুর্বার আকর্ষণ এবং "স" এর প্রতি চরম অণীহা পরিলক্ষিত হয়। "কি কর" শব্দে "কি অর" অথবা " কি হর" এরুপ উচ্চারণ করা হয়। ঘ, ধ, ব -এ তিন বর্ণের উচ্চারণ নেই বললেই চলে। "বেটা" স্থলে "বেডা", "ফাটা" স্থলে "ফাডা", "যাব" স্থলে "যামু", "খাব" স্থলে "খামু", "বসব" স্থলে "বসমু", "হাট" স্থলে "আট" ব্যবহৃত হয়। মূল শব্দের সাথে অতিরিক্ত বর্ণ যোগ করেও উচ্চারণ করা হয়। যেমন মেয়েকে- মাইয়া, কবরকে- কয়বর, আজানকে আয়জান ইত্যাদি। ভাষার একটি আলতো টান আদব-কায়দা, আদর-স্নেহ ও বিনয়ের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। যেমন- 'রইশ্যা (রশিদ) মোগো পোলার চেয়েও বেশী'। এখানে রশিদকে আদর স্নেহ প্রকাশে 'রইশ্যা' বলা হয়েছে। আঞ্চলিক ভাষায় কাব্যিক শব্দের আধিক্য লক্ষ্য করা যায়। যেমন- মুই, মোরা প্রাচীন কাব্যে ব্যবহৃত ব্রজ ভাষা (হিন্দি থেকে আগত), মনু (ব্রাহ্মণ পুত্রকে আদর করে সম্বোধনকরণ অর্থে), পোলা- মালাবার ঊপকূলে ইসলামের অনুসারী মোপালাদের অপভ্রংশ শব্দ। এ অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষায় বহু বিদেশী শব্দ প্রচলিত। যেমন- কুত্তা (হিন্দি), বিলই (ওলন্দাজ), জাম্বুরা, ইন্দুর (অস্ট্রিক) ইত্যাদি।    

খাবার[সম্পাদনা]

এ উপজেলার জনগণ খুবই আরাম প্রিয় ও ভোজন বিলাসী। তেলে-ঝালে রকমারী সুস্বাদু খাবার পরে একটা মিষ্টান্ন না হলে তৃপ্তি আসে না। এখানে খেজুরের রস, গুড়, নারিকেল, দুধ, ছানার তৈরী পিঠার প্রকার প্রায় 'শ' খানেকের কাছাকাছি। খানেওয়ালাদের এখানে খুব কদর। ভাল খাওয়ার জন্য এরা ঋণ পর্যন্ত করতে পারে। পারিবারিক জীবন এখানে খুবই ঘণিষ্ট, আন্তরিক এবং অসম্ভব অতিথিপরায়ণ। [৮]


নদ-নদী[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের সবচেয়ে নদীবহুল উপজেলা বাকেরগঞ্জ। ১০ টি নদী যথা- তুলাতলি, শ্রীমন্ত, কারখানা, তেতুলিয়া, বিষখালী, পায়রা, পান্ডব, গোমা, রাঙ্গাবালিয়া ও খয়রাবাদ  এ উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীগুলো ছাড়াও অসংখ্য খাল ও নালা এ অঞ্চলে জালের মত ছড়িয়ে আছে। এক সময় এ নদীই ছিল এ অঞ্চলে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। বর্তমানেও এ নদীগুলোর মাধ্যমে একস্থান থেকে অন্যস্থানে যাতায়াত ও মালামাল আনা-নেয়া করা হয়। প্রতিনিয়ত জোয়ার ভাটা হয় এসব নদীতে। তবে এসব নদী ভাংগনে অনেক পরিবার আজ ভিটে-মাটিহীন। এত নদী থাকার সুফলও অনেক। নদী বিধৌত পলি জমে মাটি উর্বর বিধায় এ উপজেলায় প্রচুর ধান জন্মে। এককালে এ অঞ্চলকে বাংলাদেশের শস্য ভান্ডার বলা হত।  বর্তমানে এসব নদী ও খালের পানি দ্বারা কৃষিকাজ করা হয়। অধিকন্তু অনেক মাছ পাওয়া যায়। কথিত আছে- ধান, নদী, খাল- এই তিনে বরিশাল। মূলত বরিশালের বেশিরভাগ নদীই বাকেরগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। [৯]

যোগাযোগ[সম্পাদনা]

  • সড়ক পথে:

বিভাগীয় শহর বরিশাল - থেকে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক পথে বাস যোগে সরাসরি বাকেরগঞ্জ  বাসষ্ট্যান্ড যাওয়া যায়। এ পথে বরিশাল শহর হতে বাকেরগঞ্জ শহরের দূরত্ব ২০ কিলোমিটার। এছাড়াও আন্তঃযোগাযোগ ও অন্যান্য স্থানের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাস, রিকশা, সিএনজি, মোটর গাড়ি ইত্যাদি জনপ্রিয় যানবাহন।

  • নদী পথে:

বরিশাল হতে নদী পথে দূরত্ব ৩৩ কিলোমিটার। এ ব্যবস্থায় মালামাল পরিবহন করা যায়।

[১০]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

বাকেরগঞ্জ শহরের স্বাক্ষরতার হার হলো শতকরা ৭৫.৩ ভাগ। বাকেরগঞ্জ শহরে ০২টি ডিগ্রী কলেজ,০৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়,০২টি দাখিল মাদ্রাসা সহ বিভিন্ন কিন্ডার গার্ডেন স্কুল,নূরাণী মাদ্রাসা,এতিমখানা ও হেফজখানা রয়েছে যেখানে আধুনিক ও দ্বীনি শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

ভৌগোলিক উপাত্ত[সম্পাদনা]

বাকেরগঞ্জ শহরের অবস্থানের অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ হল ২২°৩২′২৮″ উত্তর ৯০°২০′১৯″ পূর্ব / ২২.৫৪১১২৭° উত্তর ৯০.৩৩৮৪৭৯° পূর্ব / 22.541127; 90.338479। সমুদ্র সমতল থেকে শহরটির গড় উচ্চতা ৭ মিটার। বাকেরগঞ্জ শহরটি শ্রীমন্ত নদীর পাড়ে অবস্থিত। বাকেরগঞ্জ শহরের উত্তর ও পূর্ব দিকে রয়েছে খ্যাতনামা তুলাতলী নদী।

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের আদমশুমারি ও গৃহগণনা-২০১১ অনুযায়ী বাকেরগঞ্জ শহরের মোট জনসংখ্যা ১৯,৪৯২ জন যার মধ্যে ৯,৬৫২ জন পুরুষ এবং ৯,৮৪০ জন নারী। এ শহরের পুরুষ এবং নারী অনুপাত ৯৮:১০০। [১১]

প্রশাসন[সম্পাদনা]

বাকেরগঞ্জ শহর বাকেরগঞ্জ পৌরসভা নামক একটি স্থানীয় সরকার সংস্থা(পৌরসভা) দ্বারা পরিচালিত হয় যা ৯টি ওয়ার্ড এবং ১৭টি মহল্লায় বিভক্ত। ১১.৮৮ বর্গ কি.মি. আয়তনের বাকেরগঞ্জ শহরের ৬.২২ বর্গ কি.মি. বাকেরগঞ্জ পৌরসভা দ্বারা শাসিত হয়। এ পৌর শহরের নাগরিকদের পৌরসেবা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদান করাই এ সংস্থার কাজ। বর্তমানে এ পৌরসভা ’খ’ শ্রেনীভূক্ত। অফিসিয়াল সকল কার্যক্রম সম্পাদিত করে থাকে। এ পৌর শহর উন্নয়নে রাস্তাঘাট, ড্রেন ও সেতু নির্মান সহ মসজিদ-মাদ্রাসা,মন্দীর এবং পুকুরের ঘাট মেরামত বা সংস্কার কিংবা নির্মানের মত কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এমনকি ব্যাবসায়ীদের সুবিধার্থে শহরের ব্যবসায়িক প্রানকেন্দ্রগুলোতে এখানকার মেয়র কাউন্সিলর বৃন্দরা আইনগত ভাবে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের বিভিন্ন সমস্যাবলী সালিশী ব্যাবস্থার মাধ্যমে সমাধান করে থাকে। শুধু তাই নয় বাকেরগঞ্জ পৌরসভা নাগরিকদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করনের লক্ষ্যে টিকাদান প্রক্রিয়া চালু রেখেছে। তাছাড়াও নাগরিক সনদ, জন্ম-মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশ সনদ, ট্রেড লাইসেন্স জাতীয় সেবা পৌরসভা দৈনন্দিন দিয়ে থাকে। পৌরকর, বিভিন্ন হাট-বাজার, ষ্ট্যান্ড ইজারার মাধ্যমে পৌরসভা নিজস্ব তহবিলে অর্থ সংস্থান করে থাকে।যার মাধ্যমে, নাগরিক সেবাকে আরও গতিশীল করা হয়েছে।এমনকি বিভিন্ন স্কুল,কলেজ,মাদ্রাসা,মন্দির সহ দরিদ্র লোকদের আর্থিক সহযোগিতা সেবার মাধ্যমে নাগরিক সেবার মানকে তরান্বিত করে থাকে।[১২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "বাকেরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১২-০৪ 
  2. "বাকেরগঞ্জ নামকরণের পটভূমি"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১২-০৪ 
  3. "বাকেরগঞ্জ শহর স্থাপনের ইতিহাস"। বরিশালপিডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১২-০৪ 
  4. "বাকেরগঞ্জ শহরের পটভূমি"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১২-০৪ 
  5. "বাকেরগঞ্জ শহরের পরিবর্তন"। বরিশালপিডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১২-০৪ 
  6. "মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-বাকেরগঞ্জ"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১২-০৪ 
  7. "খেলাধুলা ও বিনোদন"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১২-০৪ 
  8. "বাকেরগঞ্জ-ভাষা ও সংষ্কৃতি, ইতিহাস,ঐতিহ্য পরিচিতি"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১২-০৪ 
  9. "বাকেরগঞ্জ অঞ্চলের নদী পরিচিতি"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১২-০৪ 
  10. "বাকেরগঞ্জ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা-মাধ্যম"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১২-০৪ 
  11. "Urban Centers in Bangladesh"। Population & Housing Census-2011 [আদমশুমারি ও গৃহগণনা-২০১১] (PDF) (প্রতিবেদন)। জাতীয় প্রতিবেদন (ইংরেজি ভাষায়)। ভলিউম ৫: Urban Area Rport, 2011। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। মার্চ ২০১৪। পৃষ্ঠা ১৭১। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১২-০৪ 
  12. "এক নজরে পৌরসভা"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১২-০৪