মঠবাড়িয়া উপজেলা

স্থানাঙ্ক: ২২°১৭′২৬″ উত্তর ৮৯°৫৮′৪″ পূর্ব / ২২.২৯০৫৬° উত্তর ৮৯.৯৬৭৭৮° পূর্ব / 22.29056; 89.96778
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মঠবাড়িয়া
উপজেলা
মঠবাড়িয়া বরিশাল বিভাগ-এ অবস্থিত
মঠবাড়িয়া
মঠবাড়িয়া
মঠবাড়িয়া বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
মঠবাড়িয়া
মঠবাড়িয়া
বাংলাদেশে মঠবাড়িয়া উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২২°১৭′২৬″ উত্তর ৮৯°৫৮′৪″ পূর্ব / ২২.২৯০৫৬° উত্তর ৮৯.৯৬৭৭৮° পূর্ব / 22.29056; 89.96778 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশবাংলাদেশ
বিভাগবরিশাল বিভাগ
জেলাপিরোজপুর জেলা
মঠবাড়িয়া উপজেলামঠবাড়িয়া থানা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯০৪ সালে।
পিরোজপুর ৩ আসনমঠবাড়িয়া উপজেলায় বর্তমানে ১টি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন রয়েছে। এগুলো হচ্ছে -মঠবাড়িয়া পৌরসভা,আমড়াগাছিয়া,টিকিকাটা,তুষখালী,দাউদখালী,ধানীসাফা,বড় মাছুয়া,বেতমোর রাজপাড়া,মঠবাড়িয়া,মিরুখালী,শাপলেজা এবং হলতা গুলিশাখালী ইউনিয়ন।
সরকার
 • রাজনীতিবিদমহিউদ্দিন আহমেদ (১৯২৫-১৯৯৭) - রাজনীতিবিদ;
আয়তন
 • মোট৩৪৪.২৪ বর্গকিমি (১৩২.৯১ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (বাংলাদেশের আদমশুমারি ও গৃহগণনা-২০১১)[১]
 • মোট২,৬২,৮৪১
 • ক্রমপুরুষ ১,২৮,৮৪৫ জন এবং মহিলা ১,৩৩,৯৯৬ জন।
 • জনঘনত্ব৭৬০/বর্গকিমি (২,০০০/বর্গমাইল)
সাক্ষরতার হার
 • মোট৭০%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড৮৫৬৬ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
১০ ৭৯ ৫৮
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

মঠবাড়িয়া, বাংলাদেশের পিরোজপুর জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা

ভৌগোলিক অবস্থান ও পরিচিতি[সম্পাদনা]

মঠবাড়ীয়ার ভৌগোলিক অবস্থানঃ বিষুব রেখার উত্তরেঃ ২২ ডিগ্রী - ০৯ মিঃ উত্তর অক্ষাংশ হতে ২২ ডিগ্রী - ২৪ মিঃ উত্তর অক্ষাংশ পর্যন্ত। এবং গ্রীনিচের পূর্বেঃ ৮৯ ডিগ্রী - ৫২ মিঃ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ হতে ৯০ ডিগ্রী - ০৩ মিঃ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত।

এ উপজেলার সীমারেখাঃ উত্তরে - পিরোজপুর সদর উপজেলা, ভান্ডারিয়া উপজেলা এবং পূর্বে - কাঁঠালিয়া উপজেলা এবং বামনা উপজেলা, দক্ষিণে - পাথরঘাটা উপজেলা, এবং পশ্চিমে - মোরেলগঞ্জ উপজেলা, শরণখোলা উপজেলাবলেশ্বর নদ

প্রতিষ্ঠাকাল[সম্পাদনা]

প্রশাসন মঠবাড়িয়া থানা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯০৪ সালে।

মঠবাড়িয়া উপজেলার ইতিহাস[সম্পাদনা]

মঠবাড়িয়ার প্রাচীন ইতিহাস মূঘল আমলে থেকেই গ্রোথিত । সুবেদার মুর্শিদ কুলি খাঁ আগা বাকের খাঁ কে পাঠিয়েছিলেন কির্তন খোলা নদীর তীর ঘেষে চন্দ্রদ্বীপের এলাকায় যা আগাঁ বাকের তাঁর নামানুসারে বাকের গঞ্জে নাম করন করা হয় । এই বাকের গঞ্জের মৌজায় আরো নিচূ এলাকায় মঠবাড়িয়ার হিন্দু অধ্যুষিত মঠ সমারোহে এর নামকরণ করা হয় মঠবাড়িয়া । মঠবাড়িয়া থানা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯০৪ সালে।মঠবাড়িয়া উপজেলায় বর্তমানে ১টি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন রয়েছে।এগুলো হচ্ছে -মঠবাড়িয়া পৌরসভা,আমড়াগাছিয়া,টিকিকাটা,তুষখালী,দাউদখালী,ধানীসাফা,বড় মাছুয়া,বেতমোর রাজপাড়া,মঠবাড়িয়া,মিরুখালী,শাপলেজা এবং হলতা গুলিশাখালী ইউনিয়ন। কৃতি সন্তানদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন শহীদ নূর হোসেন (১৯৬১ - ১০ নভেম্বর ১৯৮৭) - রাজনৈতিক কর্মী।

মহিউদ্দিন আহমেদ (১৯২৫-১৯৯৭) - রাজনীতিবিদ; খান সাহেব হাতেম আলী জমাদার (১৮৭২-১৯৮২) - বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইন সভার সদস্য; মেজর (অবঃ) মেহেদী আলী ইমাম (মৃত্যুঃ ১৯৯৬) - স্বাধীনতাযুদ্ধের বীর সেনানী, বীরবিক্রম; করপোরাল আব্দুস সামাদ (মৃত্যু ২০১৮) - আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ৮ নং আসামী; গনপতি হালদার- ১৯৭১ সালের শহীদ। কালে ভাদ্রে আরো অনেক কবি,সাহিত্যিক,রাজনীতিবিদ সাংবাদিক,বৈজ্ঞানিক,অর্থনীতিবিদ,শিক্ষক, ইঞ্জিনিয়ার,খেলোয়ার,নাট্যকার,শিল্পপতি, দেশে-বিদেশে অনেক সুনামের সাথে জীবন জীবিকা নির্বাহ করছেন ।

জলাশয় বলেশ্বরী, কচা ও পোনা নদী উল্লেখযোগ্য।

প্রাচীন নিদর্শনাদি ও প্রত্নসম্পদ সোনাখালী জমিদারবাড়ী ও সাপলেজা কুঠিবাড়ী উল্লেখযোগ্য।

ঐতিহাসিক ঘটনাবলি উপজেলার তুষখালীতে খাজনা বৃদ্ধির প্রতিবাদে ১৮৩০ সাল থেকে ১৮৭০ সাল পর্যন্ত ইজারাদারদের বিরুদ্ধে কৃষক বিদ্রোহ সংগঠিত হয়। ১৯৭১ সালের মে মাসে ঝাটিপুনিয়া নামক স্থানে রাজাকারবাহিনী ১২ জন মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করে।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন বধ্যভূমি ১।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদ ৭২০, মন্দির ২০, তীর্থস্থান ১। বন্দর জামে মসজিদ, সাফা জামে মসজিদ, মঠবাড়ীয়ার হরিমন্দির উল্লেখযোগ্য।

শিক্ষার হার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড় হার ৬২.৮%; পুরুষ ৬২.৮%, মহিলা ৩৭.২%। কলেজ ৫, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৪৭, প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৯৫, স্যাটেলাইট স্কুল ৭, মাদ্রাসা ১৮২। উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: মঠবাড়ীয়া সরকারি ডিগ্রি কলেজ, মহিউদ্দীন মহিলা কলেজ, কে.এম লতিফ ইনস্টিটিউশন (১৯২৮), গুলশাখালী জি.কে ইউনিয়ন হাইস্কুল, বড় মাছুয়া ইউনাইটেড হাইস্কুল, নলী ভিম চন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয় (১৯২৮)।

পত্র-পত্রিকা ও সাময়িকী পাক্ষিক: মঠবাড়ীয়া সমাচার।

সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান লাইব্রেরি ৫, ক্লাব ১৯, সিনেমা হল ১, নাট্যদল ১।

জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ৫৯.৮৯%, অকৃষি শ্রমিক ৪.৪৯%, ব্যবসা ১২.৮১%, পরিবহণ ও যোগাযোগ ১.৮৬%, চাকরি ৭.১০%, নির্মাণ ১.৩৬%, ধর্মীয় সেবা ০.২৪%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ২.১৩% এবং অন্যান্য ১০.১২।

কৃষিভূমির মালিকানা ভূমিমালিক ৬৫.১৬%, ভূমিহীন ৩৪.৮৪%। শহরে ৫৪.০৪% এবং গ্রামে ৬৬.৩২% পরিবারের কৃষিজমি রয়েছে।

প্রধান কৃষি ফসল ধান, গম, আখ, শাকসবজি, ডাল।

বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় ফসলাদি পান, পাট, তিল, সরিষা।

প্রধান ফল-ফলাদি আম, নারিকেল, কাঁঠাল, কলা, সুপারি, আমড়া।

যোগাযোগ বিশেষত্ব পাকারাস্তা ৩৯ কিমি, আধা-পাকারাস্তা ১২ কিমি, কাঁচারাস্তা ৪২০ কিমি; নদীপথ ৮ নটিক্যাল মাইল।

বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় সনাতন বাহন পাল্কি।

শিল্প ও কলকারখানা বরফকল, স’মিল, রাইস মিল।

কুটিরশিল্প তাঁতশিল্প, মৃৎশিল্প, বাঁশের কাজ, লোহার কাজ, বিড়ি কারখানা, ওয়েল্ডিং কারখানা।

হাটবাজার ও মেলা হাটবাজার ৩১, মেলা ৩। মঠবাড়ীয়া, তুষখালী ও বড় মাছুয়া হাট এবং পহেলা বৈশাখের মেলা (মঠবাড়ীয়া বন্দর) উল্লেখযোগ্য।

প্রধান রপ্তানিদ্রব্য সুপারি, নারিকেল।

বিদ্যুৎ ব্যবহার এ উপজেলার সবক’টি ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পল্লিবিদ্যুতায়ন কর্মসূচির আওতাধীন। তবে ১০.৪৬% পরিবারের বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

পানীয়জলের উৎস নলকূপ ২৭.৬৫%, পুকুর ৬৩.৭৩%, ট্যাপ ৫.৯৬% এবং অন্যান্য ২.৬৬%।

স্যানিটেশন ব্যবস্থা এ উপজেলায় ৩৫.৪৮% (গ্রামে ৩১.৯৯% ও শহরে ৬৯%) পরিবার স্বাস্থ্যকর এবং ৫৬.৬০% (গ্রামে ৫৯.৯১% ও শহরে ২৪.৭৫%) পরিবার অস্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিন ব্যবহার করে। ৭.৯২% পরিবারের কোনো ল্যাট্রিন সুবিধা নেই।

স্বাস্থ্যকেন্দ্র হাসপাতাল ১, পল্লী স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ৪৯, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ২, পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র ৭।

এনজিও ব্র্যাক, আশা, প্রশিকা।

মঠবাড়িয়া থানা

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ[সম্পাদনা]

মঠবাড়িয়া উপজেলায় বর্তমানে ১টি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন রয়েছে। সম্পূর্ণ উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম মঠবাড়িয়া থানার আওতাধীন।

পৌরসভা:
ইউনিয়নসমূহ:

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী মঠবাড়িয়া উপজেলার মোট জনসংখ্যা ২,৬২,৮৪১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১,২৮,৮৪৫ জন এবং মহিলা ১,৩৩,৯৯৬ জন। মোট পরিবার ৬১,১৮৭টি।[২]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী মঠবাড়িয়া উপজেলার সাক্ষরতার হার ৬১.৭%।[২]

  • সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় : ১১৫টি
  • বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় : ৮৪ টি
  • জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয় : ৭ টি
  • উচ্চ বিদ্যালয় : সহশিক্ষা ৩৫টি, বালিকা ৫টি
  • দাখিল মাদ্রাসা : ৩২টি
  • আলিম মাদ্রাসা : ৯টি
  • ফাজিল মাদ্রাসা : ৭টি
  • কামিল মাদ্রাসা : ১টি
  • কলেজ : সহপাঠ ৭টি, বালিকা ১টি

কৃতি ব্যক্তি[সম্পাদনা]

চঞ্চল কর্মকার

  • শহীদ নূর হোসেন (১৯৬১ - ১০ নভেম্বর ১৯৮৭) - রাজনৈতিক কর্মী।
  • মহিউদ্দিন আহমেদ (১৯২৫-১৯৯৭) - রাজনীতিবিদ;
  • খান সাহেব হাতেম আলী জমাদার (১৮৭২-১৯৮২) - বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইন সভার সদস্য;
  • মেজর (অবঃ) মেহেদী আলী ইমাম (মৃত্যুঃ ১৯৯৬) - স্বাধীনতাযুদ্ধের বীর সেনানী, বীরবিক্রম;
  • করপোরাল আব্দুস সামাদ (মৃত্যু ২০১৮) - আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ৮ নং আসামী;
  • এবিএম ইউসুফ (মৃত্যু ১৯৯৭)- স্বাধীনতাযুদ্ধের বীর সেনানী, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ২ নং বৈরী সাক্ষি।
  • গনপতি হালদার- ১৯৭১ সালের শহীদ।
  • শহীদ জিয়াউজ্জামান-১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন।
  • ডা:মো:ইমাদুল হক বাংলাদেশের দন্ত চিকিৎসক সার্জন এবং লেখক।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

কৃষি[সম্পাদনা]
  • মোট জমির পরিমাণ : ২৩,৫০০ হেক্টর
  • নিট ফসলি জমি : ২২,০০০ হেক্টর
  • মোট ফসলি জমি : ৩৯,১৬০ হেক্টর

বিবিধ[সম্পাদনা]

স্বাস্থ্য[সম্পাদনা]
  • উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স : ১টি
  • উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র : ১২টি

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন ২০১৪)। "এক নজরে মঠবাড়ীয়া"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ১ এপ্রিল ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মার্চ ২০১৫ 
  2. "ইউনিয়ন পরিসংখ্যান সংক্রান্ত জাতীয় তথ্য" (PDF)web.archive.org। Wayback Machine। সংগ্রহের তারিখ ২০ নভেম্বর ২০১৯ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]