পিটার স্লিপ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
পিটার স্লিপ
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামপিটার রেমন্ড স্লিপ
জন্ম (1957-05-04) ৪ মে ১৯৫৭ (বয়স ৬২)
পেনোলা, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া
ডাকনামসোন্ডা
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি লেগব্রেক গুগলি
ভূমিকাঅল-রাউন্ডার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৩০৩)
১০ মার্চ ১৯৭৯ বনাম পাকিস্তান
শেষ টেস্ট১২ জুন ১৯৯০ বনাম পাকিস্তান
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৭৬/৭৭ – ১৯৯২/৯৩সাউথ অস্ট্রেলিয়া
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ১৪ ১৭৫ ৩৩
রানের সংখ্যা ৪৮৩ ৮২০১ ৯৫৬
ব্যাটিং গড় ২৪.১৫ ৩৪.৮৯ ৩৮.২৪
১০০/৫০ -/৩ ১৫/৪০ ১/৪
সর্বোচ্চ রান ৯০ ১৮২ ১০৯
বল করেছে ২৯৮২ ২৮০৬৩ ১৬৮
উইকেট ৩১ ৩৬৩
বোলিং গড় ৪৫.০৬ ৩৯.৩৯ ৪৪.২৫
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট -
সেরা বোলিং ৫/৭২ ৮/১৩৩ ২/৫৮
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৪/- ১০৪/১ ১২/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২৭ নভেম্বর ২০১৮

পিটার রেমন্ড স্লিপ (ইংরেজি: Peter Sleep; জন্ম: ৪ মে, ১৯৫৭) দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার পেনোলা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক অস্ট্রেলীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৭৯ থেকে ১৯৯০ সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়া দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাত ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে লেগ ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন ‘সোন্ডা’ ডাকনামে পরিচিত পিটার স্লিপ

ঘরোয়া ক্রিকেট[সম্পাদনা]

কিশোর অবস্থাতেই ১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে পিটার স্লিপের। নিজস্ব দ্বিতীয় খেলায় অংশ নিয়ে কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে ডেভিড হুকসের সাথে ১৫৯ রানের জুটি গড়েছিলেন তিনি।[১] ১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে ৪০ গড়ে ৩৬৩ রান তুলেন তিনি।

১৯৭৮-৭৯ মৌসুমে নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে ৬/৯৪ বোলিং পরিসংখ্যানের পাশাপাশি ৯১ রান তুললে টেস্ট দলে অংশগ্রহণের বিষয়ে আলাপ-আলোচনা চলতে থাকে।[২] এরপর কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে ১৩ ওভার বোলিং করে ৫/২৪ পান।[৩]

এ পর্যায়ে বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেট খেলার জন্য পিটার স্লিপকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। ঐ গ্রীষ্মে শিল্ডের খেলায় অংশ নিয়ে ৩৫ ঊর্ধ্ব গড়ে প্রায় ছয়শত রান ও ২৩ গড়ে ৪২ উইকেট পেয়েছিলেন। স্বভাবতঃই দল নির্বাচকমণ্ডলী পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলার জন্য অস্ট্রেলিয়া দলে তাকে নিতে বাধ্য হয়।

টেস্ট ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ১৪ টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন পিটার স্লিপ। ১০ মার্চ, ১৯৭৯ তারিখে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয় তার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৫-১ ব্যবধানে সিরিজ পরাজয়বরণের পর দল নির্বাচকমণ্ডলী পিটার টুহি, ব্রুস ইয়ার্ডলিফিল কার্লসনকে দল থেকে বাদ দেয়ার চিন্তা করেন। তাদের পরিবর্তে ডেভ হোয়াটমোর, ট্রেভর লাফলিন ও পিটার স্লিপকে দলে নেয়া হয়।[৪] এরপর অবশ্য লাফলিন নাম প্রত্যাহার করে নেন ও ওয়েন ক্লার্ককে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছিল।

রডনি হগঅ্যালান হার্স্টের মারাত্মক বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়া দল বেশ শক্ত অবস্থানে ছিল। দলের সংগ্রহ এক পর্যায়ে ৩০৫/৩ হলেও ৩১০ রানে অল-আউট হয়ে যায়। ফলে পাকিস্তান দল জয়ে সক্ষমতা দেখায়। স্লিপ ১/১৬ ও ১/৬২ এবং ১০ ও ০ রান তুলেন।[৫][৬] খেলার এ ফলাফলে দল নির্বাচকমণ্ডলী বেশ ক্ষুদ্ধ হন। পুরো গ্রীষ্মকাল জুড়ে ব্যাপক পরিবর্তনের ঢেউ এ খেলার পরে দেখা যায়। গ্রেইম উড, ওয়েন ক্লার্ক, জিম হিগস ও পিটার স্লিপকে বাদ দিয়ে রিক ডার্লিং, ট্রেভর লাফলিন, ব্রুস ইয়ার্ডলি ও জিওফ ডাইমককে দলে আনা হয়।[৭]

ঐ বছরে বর্ষসেরা শেফিল্ড শিল্ড খেলোয়াড় হিসেবে তাকে মনোনীত করা হয়।[৮] ঐ গ্রীষ্মে ৩২ গড়ে ৬৫৭ রান ও ২৭ গড়ে ৪৭ উইকেট পেয়েছিলেন তিনি। তবে, এরপর অবশ্য আর তাকে এক মৌসুমে এতোগুলো উইকেট লাভে দেখা যায়নি।

ভারত গমন, ১৯৭৯[সম্পাদনা]

১৯৭৯ সালে ভারত গমনের জন্য পিটার স্লিপকে দলে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। অস্ট্রেলিয়ার ঐ দলে তিনজন স্পিনারের অন্যতম ছিলেন তিনি। অপর স্পিনারদ্বয় ছিলেন - জিম হিগস ও ব্রুস ইয়ার্ডলি।[৯] এরফলে, ল্যাঙ্কাশায়ার লীগের সাথে তার চুক্তি ভঙ্গ হয় ও স্লিপ জরিমানার সম্মুখীন হন।[১০]

ভারতে পিটার স্লিপ ধীরলয়ে যাত্রা শুরু করেন। এরপর দক্ষিণ অঞ্চলের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট পান।[১১] ক্যানবেরা টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাধারণমানের বলে তিনজন ব্যাটসম্যানকে আউট করেন যা গাভাস্কারের মানের ব্যাটসম্যানেরা তা থেকে দূরে থাকতেন। খারাপ বলে উইকেট লাভে তিনি হয়তোবা সন্তুষ্ট, তবে, স্পিন বোলিংয়ের বিপক্ষে রুখে দাঁড়ানো ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে তার বোলিংয়ের যোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।[১২]

এরপর মধ্য অঞ্চলের বিপক্ষে ৫/৭১ ও অর্ধ-শতকের ইনিংস খেলেন। ফলশ্রুতিতে, তৃতীয় টেস্ট খেলার জন্য অস্ট্রেলীয় দলে পিটার স্লিপকে রাখা হয়।[১৩][১৪] তৃতীয় টেস্টে খেলার সুযোগ না পেলেও চতুর্থ টেস্ট খেলেন তিনি। কোন উইকেট পাননি পিটার স্লিপ। তবে, দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৪ রান তুলে অস্ট্রেলিয়াকে ড্রয়ের দিকে নিয়ে যান। এ রান সংগ্রহকালে ডেভ হোয়াটমোরের সাথে ৭৬ ও জিওফ ডাইমকের সাথে ৫১ রানের জুটি গড়েছিলেন।[১৫][১৬] সমসাময়িক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তিনি তার জীবনে ৬৪ রানের বেশী রান আর তুলতে পারবেন না।[১৭]

অসুস্থতার কবল থেকে ব্রুস ইয়ার্ডলি ফিরে আসলে পঞ্চম টেস্টে পিটার স্লিপকে দ্বাদশ ব্যক্তির ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়।[১৮] ষষ্ঠ টেস্টে তাকে খেলানো হলেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি ও মাত্র চার রান তুলতে পেরেছিলেন। পুরো খেলা জুড়ে তিনি পেটের ব্যথায় আক্রান্ত ছিলেন।[১৯][২০]

টেস্টে প্রত্যাখ্যাত[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসার পর টেস্ট দল থেকে তাকে বাইরে রাখা হয়। তার পরিবর্তে রে ব্রাইট, জিম হিগস ও ব্রুস ইয়ার্ডলিকে স্পিনার হিসেবে দলে স্থলাভিষিক্ত করা হয়। ১৯৮১ সালে ইংল্যান্ড সফরে তাকে দলে রাখা হয়নি। ঐ গ্রীষ্মে ৪১ গড়ে ৬৬৩ রান ও ৩৪ গড়ে ২২ উইকেট পেলেও তিনি উপেক্ষার পাত্রে পরিণত হন। তাসত্ত্বেও, ১৯৮১-৮২ মৌসুমে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার শেফিল্ড শিল্ডের শিরোপা বিজয়ে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন।

পাকিস্তান গমন, ১৯৮২[সম্পাদনা]

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ধারাবাহিক সাফল্য লাভের প্রেক্ষিতে দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন পিটার স্লিপ। ফলশ্রুতিতে ১৯৮২ সালে কিম হিউজের নেতৃত্বে পাকিস্তান গমনের জন্য অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্যরূপে মনোনীত করা হয়।[২১] ব্রুস ইয়ার্ডলির অসুস্থতার কারণে দ্বিতীয় টেস্টে অংশগ্রহণ করেন তিনি। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১৫৮ রান খরচায় ১ উইকেট ও ৩০ রান তুলতে পেরেছিলেন।[২২][২৩] তৃতীয় টেস্টে টেরি অল্ডারম্যানকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়।[২৪] ১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে দূর্দান্ত খেলেন। ৪৪ গড়ে ৭৯৩ রান তুলেন তিনি।

অ্যাশেজ সিরিজ, ১৯৮৬-৮৭[সম্পাদনা]

১৯৮৬-৮৭ মৌসুমের অ্যাশেজ সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে পরের খেলায় অংশ নেন। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাকে অন্তর্ভূক্ত করা হলেও দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে ঠাঁই হয় তার।[২৫] তৃতীয় টেস্টে খেলার সুযোগ ঘটে পিটার স্লিপের। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ৪/১৩২ পান।[২৬] চতুর্থ টেস্টে ১/৬১ ও ১৬ রান তুলেন তিনি।[২৭] তাসত্ত্বেও, পঞ্চম টেস্টের জন্য তাকে দলে রাখা হয়। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫/৭২ বোলিং পরিসংখ্যান গড়ে অস্ট্রেলিয়ার জয়ে প্রভূতঃ ভূমিকা রাখেন।[২৮] ১৯৮৬-৮৭ মৌসুমের ঐ সিরিজে দ্বিতীয় ইনিংসে নিজস্ব সেরা বোলিং পরিসংখ্যান ৫/৭২ পেলে ইংল্যান্ড দল ৩২০ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রা টপকাতে ব্যর্থ হয়েছিল।

১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে সফরকারী ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজে দশ উইকেট লাভের চার টেস্ট পর সৌভাগ্যবশতঃ পুণরায় খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুমের গ্রীষ্মে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন তিনি। প্রথম ইনিংসে কোন উইকেটের সন্ধান পাননি পিটার স্লিপ। তবে, ৩৯ রানের ইনিংস খেলেন যা দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছিল। এরফলে অস্ট্রেলিয়া দল কষ্টার্জিত জয় তুলে আনতে সমর্থ হয়।[২৯][৩০]

দ্বিতীয় টেস্টে ১/১০৯ ও ৩/৬১ পান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে ৬২ রান তুলেন।[৩১] তৃতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে খেলোয়াড়ী জীবনের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৯০ রান তুলেন। তবে, বল হাতে ০/৩১ ও ৩/১০৭ লাভ করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ২০ রান তুলে খেলাটিকে ড্রয়ের দিকে নিয়ে আসতে সমর্থ হন।[৩২] দ্বি-শতবার্ষিকী টেস্টে ২/১১৪ করেন। এরপর অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে ৪১ রান তুলেন। এ সংগ্রহটি দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ ছিল।[৩৩]

পাকিস্তান গমন, ১৯৮৮[সম্পাদনা]

১৯৮৮ সালে পাকিস্তান গমনের পূর্ব-পর্যন্ত পিটার স্লিপকে দলে খেলানো হয়নি। ঐ সফরের প্রস্তুতিমূলক খেলায় বিসিসিপি একাদশের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট পান।[৩৪] তবে, দল নির্বাচকমণ্ডলী প্রথম টেস্ট খেলার জন্য টিম মেকে প্রাধান্য দেয়।[৩৫] সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাকে দলে ভেড়ানো হয়। প্রথম ইনিংসে তিনি দুই উইকেট দখল করেন।[৩৬]

১৯৮৯-৯০ মৌসুমে গ্রীষ্মকালে পরবর্তী টেস্টে অংশগ্রহণ করেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। প্রথম ইনিংসে ৪৭ রানের ইনিংস খেলার পর পাঁচ উইকেট দখল করেন তিনি। খেলোয়াড়ী জীবনের শেষ টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে অংশ নেন। খেলায় তিনি দুই উইকেট পান ও সর্বমোট ২০ রান তুলেন।[৩৭]

লীগ ক্রিকেট[সম্পাদনা]

ইংল্যান্ডের পেশাদার লীগ ক্রিকেটে নিয়মিতভাবে অংশগ্রহণ করতেন পিটার স্লিপ। খেলোয়াড়ী জীবনের শেষদিকে ল্যাঙ্কাশায়ারের দ্বিতীয় একাদশের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করতেন। ১৯৯১ সালে ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে ১,৬২১ রান তুলেন। এরফলে ৪০ বছর আগেকার এভারটন উইকসের গড়া ল্যাঙ্কাশায়ার লীগের ব্যাটিং রেকর্ড ভঙ্গ হয়ে যায়। ১৯৫০-এর দশকের পর ১৯৯৫ সালে রিশ্টনকে লীগের শিরোপা লাভে সহায়তা করেন তিনি। চ্যাম্পিয়নশীপে ল্যাঙ্কাশায়ারের অধিনায়ক-কোচের দায়িত্ব পালন করেন। এ সময়ে উদীয়মান তরুণ অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফকে প্রভূতঃ সহায়তা করেন পিটার স্লিপ।

১৯৯১-৯২ মৌসুমে পিটার স্লিপকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের বছর হিসেবে সাউথ অস্ট্রেলিয়া কর্তৃপক্ষ দ্বিতীয়বারের মতো ঘোষণা করে। ১৯৯০-৯১ মৌসুমে ডেভিড হুকসকে প্রথমবারের মতো এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।[৩৮] সাম্প্রতিক বছরগুলোয় মাউন্ট গ্যাম্বিয়ার ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনে ইয়াল ক্রিকেট ক্লাবের অধিনায়ক-কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর সাউথ অস্ট্রেলিয়ান গ্রেড ক্রিকেট লীগে টি ট্রি গালি ক্রিকেট ক্লাবে স্থানান্তরিত হন।

খেলার ধরন[সম্পাদনা]

সোন্ডা ডাকনামে পরিচিত পিটার স্লিপের বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেট চলাকালীন জাতীয় পর্যায়ে অভিষেক ঘটে। যদিও তার ক্রীড়াশৈলী সর্বোচ্চ মানের ছিল না, তবুও পিটার স্লিপ জনসমক্ষে প্রচার করতেন যে, বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেটে খেলার জন্য তাকে বাৎসরিক $১৫,০০০ ডলার লাভের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।[৩৯] লেগ স্পিনার হিসেবে তাকে সর্বদাই দলে আসা-যাওয়ার পালায় থাকতে হতো। খুব কমই উপর্যুপরী দুই খেলায় অংশ নিতে পেরেছেন তিনি।

তৎকালীন অস্ট্রেলীয় স্পিনারদের রাজত্বকালে ৪০ ঊর্ধ্ব গড়ে বোলিং করেছেন। তুলনান্তে, ২০০৬ সালে প্রথম পছন্দের লেগ স্পিনার শেন ওয়ার্নস্টুয়ার্ট ম্যাকগিলের গড় ৩০-এর নীচে ছিল। এছাড়াও, টম হোগান, মারে বেনেট, টনি মানক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো তার খেলোয়াড়ী জীবনকে তুলনামূলকভাবে ধীরগতিসম্পন্ন বোলার হিসেবে উল্লেখ করেছে।[৪০] এছাড়াও পিটার স্লিপ স্বয়ং তার টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনকে মিশ্রমানেররূপে উল্লেখ করেছেন।[৪১]

অবসর[সম্পাদনা]

ল্যাঙ্কাশায়ারের রিশ্টনে দি উইকেটস শিরোনামে একটি হোটেলের স্বত্ত্বাধিকারী ছিলেন পিটার স্লিপ। ২০০৯ সাল পর্যন্ত এটি চালু ছিল।

খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসরগ্রহণ করার পর অনেকগুলো বছর কোচের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০১৪ সালে ড্যারেন লেহম্যান ক্রিকেট একাডেমির ওয়েবসাইট থেকে জানানো হয় যে তিনি পরবর্তী চার বছরের জন্য ব্যাটিং ও বোলিং কোচের দায়িত্ব পালন করবেন।[৪২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Hookes humbles Qld."The Canberra Times। ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৭। পৃষ্ঠা 48। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০১৪ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  2. "NSW caught napping by Sleep."The Canberra Times। ২০ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯। পৃষ্ঠা 16। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০১৪ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  3. "SOUTH AUSTRALIA v QUEENSLAND Peter Sleep sparks debacle."The Canberra Times। ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯। পৃষ্ঠা 8 Section: SPORT। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০১৪ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  4. "SPORTS SECTION."The Canberra Times। ৬ মার্চ ১৯৭৯। পৃষ্ঠা 1 Section: SPORTS SECTION। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০১৪ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  5. [১]
  6. "Sarfraz Nawaz, 9–86, turns Test."The Canberra Times। ১৬ মার্চ ১৯৭৯। পৃষ্ঠা 35। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০১৪ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  7. "Four dropped from Australia's team."The Canberra Times। ১৭ মার্চ ১৯৭৯। পৃষ্ঠা 41। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০১৪ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  8. "$1,000 umpires' award to Sleep."The Canberra Times। ১২ মার্চ ১৯৭৯। পৃষ্ঠা 21। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০১৪ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  9. "Wood back for tour of India."The Canberra Times। ১৯ জুলাই ১৯৭৯। পৃষ্ঠা 30। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০১৪ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  10. "CRICKET WILLIS AND BOTHAM HIT BACK."The Canberra Times। ২ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯। পৃষ্ঠা 22। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০১৪ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  11. [২]
  12. "OVERSEAS SPORT CRICKET Test worry."The Canberra Times। ১০ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯। পৃষ্ঠা 14। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০১৪ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  13. "CRICKET Australians lead Central Zone."The Canberra Times। ২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯। পৃষ্ঠা 38। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০১৪ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  14. Australia vs Central Zone 1979
  15. [৩]
  16. "CRICKET Australia 413, forces Test to be drawn."The Canberra Times। ১৯ অক্টোবর ১৯৭৯। পৃষ্ঠা 22। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০১৪ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  17. "CRICKET Team effort by Australia highlight of Test draw."The Canberra Times। ২০ অক্টোবর ১৯৭৯। পৃষ্ঠা 37। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০১৪ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  18. "CRICKET Yardley fit to play in Test."The Canberra Times। ২৬ অক্টোবর ১৯৭৯। পৃষ্ঠা 22। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০১৪ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  19. "CRICKET Indians pile on runs in Test."The Canberra Times। ৪ নভেম্বর ১৯৭৯। পৃষ্ঠা 30। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০১৪ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  20. [৪]
  21. "Kim Hughes to lead Pakistan-tour team."The Canberra Times। ২৬ মার্চ ১৯৮২। পৃষ্ঠা 22। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০১৪ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  22. [৫]
  23. "CRICKET Yardley ill, Sleep may be named."The Canberra Times। ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৮২। পৃষ্ঠা 28। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০১৪ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  24. "CRICKET Test recall for Terry Alderman."The Canberra Times। ১৪ অক্টোবর ১৯৮২। পৃষ্ঠা 28। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০১৪ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  25. "'Unlucky' Hughes dropped Test selectors recall Sleep."The Canberra Times। ২৫ নভেম্বর ১৯৮৬। পৃষ্ঠা 24। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০১৪ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  26. [৬]
  27. [৭]
  28. [৮]
  29. [৯]
  30. "Border: More work yet."The Canberra Times। ৮ ডিসেম্বর ১৯৮৭। পৃষ্ঠা 22। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০১৪ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  31. [১০]
  32. [১১]
  33. [১২]
  34. [১৩]
  35. "Pakistan fights back in 1st Test."The Canberra Times। ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮৮। পৃষ্ঠা 24। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০১৪ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  36. [১৪]
  37. [১৫]
  38. Grose, J. (1990) Hookesy – David Hookes Testimonial Year, South Australian Cricket Association: Adelaide.
  39. Australian Cricket, "People...", March 1979, p. 5.
  40. "Another Wasim hat-trick"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ৪ মে ২০১৮ 
  41. "The Saturday Interview with Peter Sleep (8 Aug 1998)" The Lancashire Evening Telegraph at Cricinfo accessed 20 Nov 2014
  42. "Coaching Staff" at Darren Lehman Cricket Academy ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৯ নভেম্বর ২০১৪ তারিখে accessed 20 Nov 2014

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]