ডেনিস ব্রুকস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ডেনিস ব্রুকস
ডেনিস ব্রুকস.jpg
১৯৪৭ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে ডেনিস ব্রুকস
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামডেনিস ব্রুকস
জন্ম(১৯১৫-১০-২৯)২৯ অক্টোবর ১৯১৫
লিডস, ইয়র্কশায়ার, ইংল্যান্ড
মৃত্যু৯ মার্চ ২০০৬(2006-03-09) (বয়স ৯০)
নর্দাম্পটন, নর্দাম্পটনশায়ার, ইংল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম
ভূমিকাব্যাটসম্যান
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
একমাত্র টেস্ট২১ জানুয়ারি ১৯৪৮ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৩৪-১৯৫৯নর্দাম্পটনশায়ার
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৫২৫
রানের সংখ্যা ১৭ ৩০৮৭৪
ব্যাটিং গড় ৮.৫০ ৩৬.১০
১০০/৫০ -/- ৭১/১৫২
সর্বোচ্চ রান ১০ ২৫৭
বল করেছে - ১৫৮
উইকেট -
বোলিং গড় - ৪২.৬৬
ইনিংসে ৫ উইকেট - -
ম্যাচে ১০ উইকেট - -
সেরা বোলিং - ১/৭
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১/- ২০৫/
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

ডেনিস ব্রুকস (ইংরেজি: Dennis Brookes; জন্ম: ২৯ অক্টোবর, ১৯১৫ - মৃত্যু: ৯ মার্চ, ২০০৬) লিডসের কিপাক্সে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা ছিলেন।[১] ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ ঘটে তার। পরিশীলিত ও নিয়মিতভাবে দলের ব্যাটিং উদ্বোধনে নামতেন ব্রুকস। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে নর্দাম্পটনশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। এছাড়াও নর্দাম্পটনশায়ারের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। প্রথম পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে নর্দাম্পটনশায়ারকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৮২ থেকে ১৯৮৪ সময়কালে ক্লাবের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়াও শান্তিবিষয়ক বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন ডেনিস ব্রুকস।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

লিডসের কিপাক্সে ডেনিস ব্রুকস জন্মগ্রহণ করেন। কিপাক্স কাউন্সিল স্কুলে অধ্যয়ন করেন তিনি। বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন ক্রিকেট ও ফুটবলে অংশগ্রহণের পাশাপাশি দলের অধিনায়কেরও দায়িত্ব পালন করতেন। কিশোর অবস্থাতেই ক্লাব ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেন ও সকলের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন।

কাউন্টি ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৩৪ সালে নর্দাম্পটনশায়ারে যোগ দেন। একই বছরে ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে তার প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর। ঐ সময়ে দলটি বেশ দূর্বলমানের ছিল। মে, ১৯৩৫ সাল থেকে চার বছর ধরে লাগাতার কোন খেলায় জয়লাভে ব্যর্থ হয়। এছাড়াও কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের তালিকায় ১৯৩৪ সাল থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত প্রত্যেক বছরই নীচেরসারিতে অবস্থান করতো। সাত বছর নবম স্থানে ও দুইবার নীচের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করে। ব্রুকস খুব দ্রুত দলের নিয়মিত খেলোয়াড়ে পরিণত হন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে তার খেলোয়াড়ী জীবনে বিঘ্নের সৃষ্টি ঘটে। বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি আরএএফে সার্জেন্ট ইনস্ট্রাক্টরের দায়িত্ব পালন করেন।

তার ব্যাটিংশৈলী বাস্তবিকই বেশ উঁচুমানের ছিল। যুদ্ধের পরবর্তী ১০ বছর তার ব্যাটিং গড় জাতীয় পর্যায়ে শীর্ষে বা এর কাছাকাছি অবস্থান করছিল।

টেস্ট ক্রিকেট[সম্পাদনা]

দূর্ভাগ্যবশতঃ একটির অধিক টেস্ট খেলার সুযোগ ঘটেনি তার। ১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। প্রথম টেস্টের পর আঙ্গুলে ফাটল ধরলে আকস্মিকভাব সফর শেষ করতে হয় তাকে।

১৯৪৯ সালে নর্দাম্পটনসের ভাগ্যের পুণরুজ্জ্বীবন ঘটে। এসময়ে ফ্রেডি ব্রাউন নর্দাম্পটনশায়ারের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছিলেন। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের ঐ মৌসুমে দলটি পঞ্চম স্থান দখল করেছিল। ১৯৫০-এর দশকের শুরুর দিকে বয়োঃজ্যেষ্ঠ পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে ব্রুকস নিয়মিতভাবে অধিনায়ক ব্রাউনের পাশে থেকে দল পরিচালনায় অগ্রসর হতেন। ১৯৫৩ সালে ব্রাউন তার খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ফলশ্রুতিতে ব্রুকস দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এরফলে প্রথম পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে কাউন্টি দলের অধিনায়কের মর্যাদা লাভ করেন ডেনিস ব্রুকস। দলটিতে তখন ফ্রাঙ্ক টাইসন, কিথ অ্যান্ড্রুজ, জক লিভিংস্টোন, জ্যাক মানিং ও জর্জ ট্রাইবের ন্যায় খেলোয়াড়দের উজ্জ্বল পদচারণা ছিল। তার নেতৃত্বে সফলতম সময় অতিক্রমণ করে দলটি। ১৯৫৪ ও ১৯৫৫ সালে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপে সপ্তম, ১৯৫৬ সালে চতুর্থ ও ১৯৫৭ সালে ক্লাবের ইতিহাসে দ্বিতীয় স্থানে পৌঁছে। তবে ১৯৫৮ সালে শৌখিন ক্রিকেটার রমন সুব্বা রাও তার পরিবর্তে দলের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

অবসর[সম্পাদনা]

১৯৫৯ সালের পর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেন ডেনিস ব্রুকস। তবে, ঐ বছরই জেন্টলম্যানের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত খেলায় প্লেয়ার্সের প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এটিই প্লেয়ার্সের পক্ষে তার একমাত্র অংশগ্রহণ ছিল।

অর্জনসমূহ[সম্পাদনা]

১৯৫৭ সালে উইজডেন কর্তৃক ব্রুকসকে অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে মনোনীত করা হয়।[২]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ১৭বার সহস্রাধিক রান ও ছয়বার দুই সহস্রাধিক রানের কোটা অতিক্রম করেন। ১৯৪৯ সালে গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২৬৭ রান সংগ্রহ করেন তিনি। ৭১টি প্রথম-শ্রেণীর সেঞ্চুরি করেছেন। ১৬টি কাউন্টি দলের বিপক্ষে কমপক্ষে একটি সেঞ্চুরি তুলেছেন।

নর্দাম্পটনশায়ারের সদস্য থাকা অবস্থায় বেশ কয়েকটি রেকর্ড গড়েন। তন্মধ্যে, সর্বাধিক ৪৯২ খেলায় অংশগ্রহণ; সর্বাধিক ২৮,৯৮০ রান; সর্বাধিক ৬৭টি সেঞ্চুরি ও এক মৌসুমে ১৯৫২ সালে ২,১৯৮ রান করেছেন।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

অবসর পরবর্তীকালে নর্দাম্পটনশায়ার দ্বিতীয় একাদশের অধিনায়কত্ব করেন। নর্দাম্পটনশায়ারকে প্রশিক্ষণ দেন ও স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেট হন। ১৯৮২ থেকে ১৯৮৫ সময়কালে নর্দাম্পটনশায়ারের সভাপতি মনোনীত হন।

৯০ বছর বয়সে ৯ মার্চ, ২০০৬ তারিখে নর্দাম্পটনে ডেনিস ব্রুকসের দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Bateman, Colin (১৯৯৩)। If The Cap Fits। Tony Williams Publications। পৃষ্ঠা 34। আইএসবিএন 1-869833-21-X 
  2. "Wisden Cricketers of the Year" (English ভাষায়)। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০২-২১ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]