শ্যামল মিত্র
শ্যামল মিত্র | |
|---|---|
![]() | |
| প্রাথমিক তথ্য | |
| জন্ম | ১৪ জানুয়ারী ১৯২৯ নৈহাটি, উত্তর চব্বিশ পরগনা, পশ্চিমবঙ্গ |
| মৃত্যু | ১৫ নভেম্বর ১৯৮৭ |
| ধরন | বাংলা ক্লাসিকাল গান |
| পেশা | নেপথ্য গায়ক, সঙ্গীত পরিচালক |
| কার্যকাল | ১৯৪৯ - ১৯৮৭ |
শ্যামল মিত্র (১৪ জানুয়ারি ১৯২৯ – ১৫ নভেম্বর ১৯৮৭) পশ্চিম বাংলার এক প্রখ্যাত গায়ক, সুরকার ও সঙ্গীত শিল্পী। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের সবচেয়ে জনপ্রিয় গায়কদের অন্যতম। তার অনেক গান আজও বাঙালি শ্রোতাদের কাছে আদৃত। তার সুর করা জনপ্রিয় চলচ্চিত্র হল আনন্দ আশ্রম ও অমানুষ। তার পুত্রের নাম সৈকত মিত্র।[১]
জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবন
[সম্পাদনা]শ্যামল মিত্রের জন্ম ব্রিটিশ ভারতের অবিভক্ত চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটিতে। অবশ্য তাঁদের আদি নিবাস ছিল হুগলি জেলার শিয়াখালার নিকটবর্তী পাতুল গ্রামে। পিতা ছিলেন নৈহাটির খ্যাতনামা চিকিৎসক সাধনকুমার মিত্র। তিনি চাইতেন শ্যামল তার মত একজন চিকিৎসক হন। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই শ্যামল মিত্র খুব গান ভালবাসতেন। মাতা প্রতিভাময়ী এবং স্থানীয় গায়ক মৃণালকান্তি ঘোষের অনুপ্রেরণায় সঙ্গীতেই আকৃষ্ট হন এবং সেই মতো সঙ্গীত শিক্ষা চলতে থাকে। ভারতীয় গণনাট্য সংঘের সদস্যরা প্রায়ই তাঁদের বাড়িতে বাবার কাছে আসতেন। তাদের সূত্রে তরুণ শ্যামল মিত্রের যোগাযোগ ঘটে সলিল চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি ভগিনী রেবাকে নিয়ে ভারতীয় গণনাট্য সংঘ আয়োজিত পথসভায় প্রথম গাইলেন ও আলোর পথযাত্রী।
শ্যামলের প্রাথমিক শিক্ষা স্থানীয় স্কুলে। হুগলি মহসিন কলেজ থেকে আই.এ এবং কলকাতার বঙ্গবাসী কলেজ থেকে বি.এ পাশ করেন। তার সঙ্গীত শিক্ষার গুরু সুধীরলাল চক্রবর্তী পরে শেখেন সতীনাথ মুখোপাধ্যায়ের কাছে।
সঙ্গীত জীবন
[সম্পাদনা]১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে শ্যামল মিত্র প্রথম রেকর্ড করেন সুধীরলাল চক্রবর্তীর সুরে। বিখ্যাত সুরকার সুবল দাশগুপ্ত, অনুপম ঘটক, হিমাংশু দত্ত, রবীন চট্টোপাধ্যায়ের সুরে অনেক গান গেয়েছেন। তার রেকর্ডের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার হাজার। প্রথম প্লে ব্যাক গায়ক হিসেবে ১৯৪৮ সালে 'সুনন্দার বিয়ে'তে সাড়া ফেলেন । অনেক ছবির সংগীত পরিচালক ছিলেন তিনি। হিন্দি চলচ্চিত্রে বেশ কয়েকটি হিন্দি গানের সুরও তার দেওয়া।[২]
শ্রেষ্ঠ গান সমূহ
[সম্পাদনা]- ১. স্মৃতি তুমি বেদনার (১৯৫২)
- ২. আমার এই যৌবন (১৯৫৩)
- ৩. ছিপখান তিন দাঁড় (১৯৫৪)
- ৪. ও শিমূল বন (১৯৫৪)
- ৫. যদি ডাকো এপার হতে (১৯৫৪)
- ৬. এমন দিন আসতে পারে (১৯৫৪)
- ৭. মহুল ফুলে জমেছে মৌ (১৯৫৪)
- ৮. সারাবেলা আজি কে ডাকে (১৯৫৫)
- ৯. চৈতি রাতের পূর্ণিমা চাঁদ (১৯৫৫)
- ১০. ঐ ঝিরি ঝিরি পিয়ালের কুঞ্জে (১৯৫৬)
- ১১. আমার স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা(১৯৫৬)
- ১২. নীল আকাশের ঐ কোলে (১৯৫৬)
- ১৩. তুমি আর আমি (১৯৫৭)
- ১৪. সেদিনের সোনাঝরা সন্ধ্যা (১৯৫৭)
- ১৫. কার মঞ্জীর বাজে (১৯৫৮)
- ১৬. চোখের নজর কম হলে (১৯৫৮)
- ১৭. পুতুল নেবে গো (১৯৫৮)
- ১৮. তরীখানি ভাসিয়ে দিলাম (১৯৫৯)
- ১৯. নাম রেখেছি বনলতা (১৯৬১)
- ২০. আহা ওই আঁকা বাঁকা যে পথ (১৯৬২)
- ২১. যা রে যা যা পাখি (১৯৬২)
- ২২. যদি কিছু আমারে (১৯৬৩)
- ২৩. জীবন খাতার প্রতি পাতায় (১৯৬৩)
- ২৪. আমি চেয়ে চেয়ে দেখি (১৯৬৩)
- ২৫. গানে ভুবন ভরিয়ে দেবে (১৯৬৩)
- ২৬. দোলে দোদুল দোলে (১৯৬৩)
- ২৭. দূর নয় বেশি দূর ঐ (১৯৬৩)
- ২৮. আমি তোমার কাছেই ফিরে (১৯৬৪)
- ২৯. ডেকোনা মোরে ডেকোনা (১৯৬৪)
- ৩০. এ যেন অজানা এক পথ (১৯৬৫)
- ৩১. কেন তুমি ফিরে এলে (১৯৬৫)
- ৩২. তোমার সমাধি ফুলে ফুলে ঢাকা (১৯৬৫)
- ৩৩. নয়ন ভরা জল গো (১৯৬৬) (নজরুলগীতি)
- ৩৪. নূরজাহান নূরজাহান(১৯৬৬)(নজরুলগীতি)
- ৩৫. ধরো কোন এক শ্বেত পাথরের (১৯৬৬)
- ৩৬. এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে (১৯৬৬)
- ৩৭. কী নামে ডেকে (১৯৬৭)
- ৩৮. যাক ধুয়ে যাক (১৯৬৯)
- ৩৯. ধিন তাক কুরুর ধিন তাক (১৯৬৯)
- ৪০. চলে যে যায় দিন দিন দিন (১৯৬৯)
- ৪১. ওগো সুরঙ্গনা (১৯৬৯)
- ৪২. তোমাদের ভালবাসা (১৯৬৯)
- ৪৩. সে বিনে আর জানে না (১৯৬৯)
- ৪৪. তোমারি পথপানে চাহি (১৯৭০)
- ৪৫. ঝিরি ঝিরি বাতাস (১৯৭০)
- ৪৬. রাজার পঙ্খী উইড়্যা গেলে (১৯৭০)
- ৪৭. আহা মরি মরি (১৯৭৩)
- ৪৮. দেখুক পাড়া পড়শীতে (১৯৭৩)
- ৪৯. ভোলা মন মন আমার (১৯৭৩)
- ৫০. আমার মনটা টানে (১৯৭৩)
- ৫১. কথা কিছু কিছু (১৯৭৭)
- ৫২. তিনটি মন্ত্র নিয়ে (১৯৭৭)
- ৫৩. শুভ্র শঙ্খ রবে (মহালয়া)
- ৫৪. অলকে কুসুম না দিও (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
- ৫৫. তুমি একটু কেবল বসতে (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
- ৫৬. চোখের আলোয় (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
- ৫৭. আবার এসেছে আষাঢ় (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
- ৫৮. আমার জীবনপাত্র উছলিয়া (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
- ৫৯. কিছু বলব বলে (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
- ৬০. না না না গো না (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
- ৬১. হে মাধবী দ্বিধা কেন (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
- ৬২. জানি তোমার অজানা (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
- ৬৩. ওগো শান্ত পাষাণ (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
- ৬৪. আনমনা আনমনা (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
- ৬৫. মুখখানি করো (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
- ৬৬. আমি চঞ্চল হে (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
- ৬৭. বহুযুগের ওপার হতে (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
- ৬৮. এই করেছ ভালো (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
- ৬৯. অশ্রু নদীর সুদূর পারে (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
- ৭০. যে কাঁদনে হিয়া (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
- ৭১. তারে দেখাতে পারিনি (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
- ৭২. দিনের পরে যায় দিন (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
- ৭৩. আমার নাই বা হল (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
- ৭৪. অনেক দিনের শূন্যতা (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
- ৭৫. সুখহীন নিশিদিন (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
- ৭৬. কেন আমায় পাগল করে (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
- ৭৭. মরু বিজয়ের কেতন (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
- ৭৮. এ শুধু অলস মায়া (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
- ৭৯. বজ্র মানিক দিয়ে (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
- ৮০. তার হাতে ছিলো (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ সৈকত মিত্র। "গানের জন্য ছেলেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন বাবা"। আনন্দবাজার পত্রিকা। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জানুয়ারী ২০১৮।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|সংগ্রহের-তারিখ=এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) - ↑ দ্বিতীয় খন্ড, অঞ্জলি বসু সম্পাদিত (২০০৪)। সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান। কলকাতা: সাহিত্য সংসদ। পৃ. ৩৩৯।
{{বই উদ্ধৃতি}}:|প্রথমাংশ=প্যারামিটারে সাধারণ নাম রয়েছে (সাহায্য)
