অমানুষ (চলচ্চিত্র)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
অমানুষ
অমানুষ (চলচ্চিত্র).jpg
পরিচালকশক্তি সামন্ত
প্রযোজকশক্তি সামন্ত
রচয়িতাশক্তিপদ রাজগুরু
শ্রেষ্ঠাংশেশর্মিলা ঠাকুর
উত্তম কুমার
উৎপল দত্ত
সুরকারশ্যামল মিত্র
মুক্তি
  • ২১ মার্চ ১৯৭৫ (1975-03-21)
দৈর্ঘ্য১৫৩ মিনিট
দেশভারত
ভাষাবাংলা
হিন্দি

অমানুষ একটি জনপ্রিয় বাংলা-হিন্দি দ্বিভাষিক চলচ্চিত্র। এই ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৭৫ সালে। এই ছবির পরিচালক ছিলেন শক্তি সামন্ত। সুরকার ছিলেন শ্যামল মিত্র। এই ছবির মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেন উত্তম কুমার, শর্মিলা ঠাকুর, অনিল চট্টোপাধ্যায় এবং উৎপল দত্ত। এই সিনেমায় বাংলা এবং হিন্দিতে গাওয়া কিশোর কুমারের গানগুলি খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল তখনকারদিনে ।[১]

ছবিটির মূল কাহিনীকার শক্তিপদ রাজগুরু। তিনি দীর্ঘদিন সুন্দরবনের বাদাবন এলাকায় ছিলেন। সেখানকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনকে তুলে ধরেছিলেন তাঁর নয়া বসত উপন্যাসে। সেই উপন্যাস থেকেই শক্তি সামন্ত এই ছবি তৈরি করেন। পরে ছবিটি হিন্দিতেও তৈরি হয়। সেখানেও উত্তম কুমারের বিপরীতে ছিলেন শর্মিলা ঠাকুর।

কাহিনী[সম্পাদনা]

মধু (উত্তমকুমার) তার বড়লোক কাকার সাথে থাকে। সুন্দরবনের এই এলাকায় মূলত মৎসজীবীদের বাস। মধু সরল, মিশুকে, গরীবদরদি ছেলে। সে ভালবাসে ডাক্তার আনন্দবাবুর বোন লেখা (শর্মিলা ঠাকুর) কে। মধুর কাকার বাজার সরকার মহিম ঘোষাল (উৎপল দত্ত) আদতে কূটিল,লোভি ও লম্পট চরিত্র। সে চায় মধুকে বঞ্চিত করে সম্পত্তির দখল নিতে। মধু ও লেখার সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায় তৃতীয় মহিলা সৌরভীর প্রবেশে, আদতে যা ছিল মহিমেরই চক্রান্ত। মধুর কাকার রহস্যজনক মৃত্যুতে মধু দোষী সাব্যাস্ত হয় এবং জেল খেটে যখন সে বাইরে আসে দেখে সমস্ত সম্পত্তির মালিক হয়ে বসেছে তাদেরই একদা কর্মচারী মহিম ঘোষাল। যার জন্যে আজ তার এই পরিনতি সেই সৌরভী নিখোঁজ। তাকে লেখা অপমান করে তাড়িয়ে দিলেও এক গ্রাম্য সরল মেয়ে মাতন মধুবাবুকেতার ঘরে আশ্রয় দেয়। কারন একদিন এই মধু চৌধুরীর জন্যই বাঘের হাতে বাপ মা মরা মেয়েটা আশ্রয় পেয়েছিল। লেখার বিরহে মধু হতাশায় মদ্যপান শুরু করে। এসময় স্থানীয় থানায় নতুন দারোগা আসেন (অনিল চট্টোপাধ্যায়) যিনি সৎ এবং বুদ্ধিমান। তার চেষ্টাতেই ধরা পড়ে মধুর কাকার আসল হত্যাকারী ও সমস্ত চক্রান্তের নায়ক।

অভিনয়ে[সম্পাদনা]

সংগীত[সম্পাদনা]

সংগীত - শ্যামল মিত্র, কথা - ইন্দিভর

  • বিপিন বাবুর কারন সুধা

কন্ঠ - কিশোর কুমার

  • জানি না আজ যে আপন

কন্ঠ - আশা ভোঁসলে

  • যদি হই চোর কাঁটা

কন্ঠ - কিশোর কুমারআশা ভোঁসলে

  • কি আশায় বাঁধি খেলা ঘর

কন্ঠ - কিশোর কুমার

  • না না ওমন করে দাগা দিয়ে

কন্ঠ - আশা ভোঁসলে

ছবির শুটিং[সম্পাদনা]

এই ছবিটির শুটিং হয়েছিল সুন্দরবনের সন্দেশখালিতে। যে গ্রামে শুটিং হয়েছিল তার নাম ভাঙাতুষখালি। সিনেমায় সেই গ্রামের নাম দেখানো হয়েছিল ধনেখালি। শুটিং এর প্রয়োজনে এখানে প্রায় চল্লিশখানি ঘর, জমিদারবাড়ি, ডাক্তারখানা, বাজার, রাধাগোবিন্দর মন্দির, থানা , স্কুল তৈরি হয়। সেই রাধাগোবিন্দর মন্দির এবং উত্তমকুমার যে কাঠের বাংলোটীতে থাকতেন সেটি ভাঙাচোরা অবস্থায় আজো আছে। শুটিং চলাকালীন সহজেই গ্রা্মের লোকের সাথে মিশে যেতেন উত্তমকুমার। বাচ্চাদের কোলে নিতেন। মানুষকে অর্থ দিয়ে সাহায্য পর্যন্ত করেছেন। তাই তো আজো ২৪ শে জুলাই তার মৃত্যুদিনে সেখানে তার ছবিতে মালা দেয়া হয়, হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Nalin Mehta (২০০৮)। Television in India: Satellites, Politics and Cultural Change। Routledge। পৃষ্ঠা 155। আইএসবিএন 1134062133 

২. অস্থির কবি (কল্লোল চক্রবর্ত্তী) - বিখ্যাত মহানায়ক গবেষক, চিত্র সম্পাদক ও লেখক। ৩. উইকিপিডিয়া